<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বই আর বই &#187; অবসর প্রকাশনা</title>
	<atom:link href="http://boirboi.com/category/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%95/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://boirboi.com</link>
	<description>বাংলাদেশের বইয়ের জগত</description>
	<lastBuildDate>Wed, 07 Apr 2010 07:34:29 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.9.2</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 03 Mar 2010 02:24:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অবসর প্রকাশনা]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[শহীদ কাদরী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=438</guid>
		<description><![CDATA[বইটি নিয়ে মারুফ রায়হান বাংলামাটি এপ্রিল ২০০৯ সংখ্যায় &#8220;প্রিয়তমা স্বদেশের উদ্দেশে কবির চুম্বন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হাজারে হাজার নতুন বইয়ের জন্ম হয়ে থাকে, কিন্তু আমরা সানন্দে বলতে পারি না যে এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রন্থের জন্ম সার্থক হয়েছে। মাসব্যাপী হৈহুল্লোড় শেষে মার্চে এসে স্বল্প সংখ্যক বইকেই আমরা একুশের অর্জন হিসেবে শনাক্ত করতে সমর্থ [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বইটি নিয়ে মারুফ রায়হান <a href="http://www.banglamati.net/april-09/book.php" target="_blank">বাংলামাটি এপ্রিল ২০০৯ সংখ্যায় </a>&#8220;প্রিয়তমা স্বদেশের উদ্দেশে কবির চুম্বন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:</p>
<p>অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হাজারে হাজার নতুন বইয়ের জন্ম হয়ে থাকে, কিন্তু আমরা সানন্দে বলতে পারি না যে এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রন্থের জন্ম সার্থক হয়েছে। মাসব্যাপী হৈহুল্লোড় শেষে মার্চে এসে স্বল্প সংখ্যক বইকেই আমরা একুশের অর্জন হিসেবে শনাক্ত করতে সমর্থ হই; সামান্য কিছু গ্রন্থই আমাদের জন্য অসামান্য সুখকর সংবাদ হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষিতে নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে কবি শহীদ কাদরীর চতুর্থ বা সর্বশেষ কবিতাগ্রন্থ ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ আমাদের সাহিত্যের জন্যে একটি বড় সুসংবাদ। কারণ এই কবি তিন দশকেরও অধিককাল ধরে স্বেচ্ছানির্বাসিত জীবনযাপন করছেন স্বদেশের বাইরে; একইসঙ্গে বিবেচ্য বিষয় হলো এই তিন দশক ধরে বাংলা কবিতার পাঠকেরা তাঁর একটি গোটা কবিতার বই থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। তার ওপর আমরা জেনেছি যে সত্তর-ছুঁইছুঁই কবিকে প্রতি সপ্তাহে গুণে গুণে তিনদিন হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ চিকিৎসা নিতে হয় বিকল জোড়া-কিডনির সুশ্রূষায়। সব মিলিয়ে তাই কবিতার বই প্রকাশের ভেতর দিয়ে নিউইয়র্কবাসী শহীদ কাদরীর বাংলাদেশের কাব্যাঙ্গনে প্রত্যাবর্তন তাঁর সুহৃদ, আত্মীয় এবং কবিতানুরাগীদের জন্যে বড় আনন্দ সংবাদ। বইটি নিয়ে আলোচনায় প্রবেশের আগে সঙ্গত কারণেই আমরা একটু পিছনের দিকে ফিরে তাকাবো।</p>
<p>মধ্যপঞ্চাশে কয়েকটি কবিতাপ্রকাশের মধ্য দিয়ে সদ্যকৈশোর-উত্তীর্ণ কবি শহীদ কাদরীর তোলপাড়-তোলা আত্মপ্রকাশ। একই সময়ে দুই অগ্রজ শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদের সঙ্গেও তাঁর সুখ্যাত সখ্যের শুরু। কবিতায় আধুনিক নগরজীবনের রূপকার শামসুর রাহমানের প্রথম গ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ষাট সালে। অন্যদিকে শহীদ কাদরীর প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘উত্তরাধিকার’ বেরোয় তার ঠিক সাত বছর পর। সেকালে এই দুই কবির কাব্যমানস ও কাব্যরসদ নিয়ে তুলনামূলক আলোচনার কারণেই হয়তো এই দু’জনকে অনেকে সমসাময়িক কবি বলে মনে করে থাকেন। প্রকৃত অর্থে এঁরা দু’জন যথাক্রমে পঞ্চাশ ও ষাট দশকের নতুনতম কবিতার উজ্জ্বলতম প্রতিনিধি। যে কোনো কবির ক্ষেত্রে অভিষেক গ্রন্থটি, আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, প্রবেশক কবিতাটি এক ধরনের ইশতেহার এবং কবিজন্ম-পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনার দাবী রাখে। সে-সূত্রে শামসুর রাহমানের ‘রূপালী স্নান’ কবিতাটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল জীবনানন্দ-জগৎ থেকে একজন রোম্যান্টিক কবির জন্ম হলেও এতে রয়েছে শুদ্ধতাবাদের সঙ্গে সমকালীনতার একটি মনকাড়া মিশেল। দুটি চরণ পাঠ করা যাক : ‘&#8230;যদিও আমার দরজার কোনে অনেক বেনামি/ প্রেত ঠোঁট চাটে সন্ধ্যায়, তবু শান্ত রূপালী স্বর্গ-শিশিরে স্নান করি আমি।’ অন্যদিকে শহীদ কাদরীর ‘উত্তরাধিকার’ কবিতাটি প্রবলভাবে ব্যক্তিত্বস্পৃষ্ট; এই কবি যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং দেশভাগের তিক্ত বেদনার্ত উত্তরাধিকার বহন করছেন সেটা তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রকাশিত কবিতাটিতে। বাস্তুহীন বেঁচে থাকার নিষ্করুণ অভিঘাত ঘটে সূচনাকালেই। প্রথম স্তবকটি লক্ষ্য করুন : ‘জন্মেই কুঁকড়ে গেছি মাতৃজরায়ন থেকে নেমেÑ/ সোনালি পিচ্ছিল পেট আমাকে উগ্ড়ে দিলো যেন/ দীপহীন ল্যাম্প্পোস্টের নিচে, সন্ত্রস্ত শহরে/ নিমজ্জিত সব কিছু, রুদ্ধচক্ষু সেই ব্ল্যাক-আউটে আঁধারে।’</p>
<p>এখন লক্ষণীয় হলো এই দুই শক্তিমান নাগরিক এবং আধুনিক কবিই নিজ অস্তিত্ব ও পারিপার্শ্ব সম্পর্কে অসন্তুষ্ট এবং কিছুটা বিপন্ন ও বিব্রত। তবে উভয় কবির প্রাথমিক কবিত্বশক্তির তুলনা করলে দেখবো একজনের ভেতর রয়েছে মিহি ভাবালুতা, অতিকথন এবং বাংলা কবিতা-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা; অন্যজন ঋজু, একচুল পরিমাণও বাড়তি শব্দ ব্যবহারে অসম্মত এবং পরিপূর্ণভাবে ভাবাবেগবর্জিত ও মননময়। পরবর্তীকালে আমরা পাশাপাশি সন্তোষ ও অপ্রাপ্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ করবো যে এই দুই শক্তিমানের একজন ক্রমশ নিজেকে বদলে ফেলে-ফেলে জনতার কবি হয়ে উঠছেন এবং হৃদয়ের সঙ্গে রাজপথকে জড়িয়ে নিয়েছেন। ক্রমান্বয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন স্বদেশের ‘দায়িত্বশীল’ প্রধান কবিকণ্ঠে। অপরজন তৃতীয় কাব্যটি প্রকাশের অব্যবহিত পর বেছে নেন স্বেচ্ছানির্বাসন, স্বদেশ থেকে বহুদূর চলে যান, এমনকি আপাতবিচারে কবিতাবিশ্ব থেকেও। কবিতাবিচার সংখ্যা দিয়ে হয় না এটা মানলেও যুদ্ধধ্বস্ত ও রক্তস্নাত একটি নতুন দেশের বয়সী হয়ে ওঠা এবং তার জনমানুষের মনোজগতে পরিবর্তনের পর্যায়টিতে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি শহীদ কাদরীর শুভানুধ্যায়ীদের জন্যে সকরুণ হয়ে ওঠে। তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন যে কবিতার পথে বুঝি আর কাদরীর পদচিহ্ন পড়বে না। যাহোক, ছত্রিশটি কবিতা মলাটবন্দি করে কবি তাঁর সপ্রেম সবিনয় নিবেদনের দৃষ্টান্ত রেখেছেন শেষাবধি।</p>
<p>সুদীর্ঘ নীরবতার পর সপ্রতিভ ও স্বকীয়তায় প্রোজ্জ্বল কবি শহীদ কাদরীর নতুন কবিতার বই স্বাভাবিকভাবেই কবিতাপ্রেমীদের আগ্রহের কারণ হবে। এই গ্রন্থে কবির কণ্ঠে মূল যে-স্বরটি প্রকাশিত তার পর্যালোচনায় গেলে আমরা বুঝবো যে প্রবাসযাপনে বিপর্যস্ত এক প্রাজ্ঞ প্রবীণ তাঁর প্রিয়তমা মাতৃভূমির সুখস্মৃতিমগ্ন, যদিও তার ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে একইসঙ্গে গভীর অভিমান এবং প্রত্যাবর্তনের তৃষ্ণা। তবে সকল কিছু ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে স্বদেশভূমির জন্যে যুগপৎ শঙ্কা ও কল্যাণভাবনাই। ‘ভ্রাতৃরক্তে সিক্ত মাতৃভূমি’Ñ চরণধ্বনি প্রতিধ্বনিত তাঁর বেশ কিছু কবিতায়। বাঙালিত্ব নিয়ে তিনি গর্বিত ও সুখী হলেও বাঙালির নিষ্ঠুরতা তাঁকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বিমূঢ় কবির উচ্চারণ :<br />
তাদের পরনে ছিল ইউনিফর্ম,<br />
বুট, সৈনিকদের টুপি,<br />
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছিল,<br />
তারা ব্যবহার করেছিল এক্কেবারে খাঁটি বাঙালির মতো,<br />
বাঙলা ভাষা। অস্বীকার করার উপায় নেই ওরা মানুষের মতো<br />
দেখতে, এবং ওরা মানুষই,<br />
ওরা বাঙলার মানুষ&#8230;<br />
(হন্তারকদের প্রতি, পৃ. ২২)<br />
অন্তরে স্বদেশ চিরজাগরুক না থাকলে কবিতা কেন, কোনো শিল্পকর্মই সৃজন করা সম্ভবপর নয়। আমরা ভুলে যাচ্ছি না যে, ধর্মভেদনীতির ফলশ্র“তিতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়া এক দেশ থেকে অন্য দেশে কিছুটা বিলম্বে হলেও শেষ পর্যন্ত আসতে বাধ্য হন শহীদ কাদরীর পিতা। বালক কাদরীর হৃদয়ে যা গেঁথে দেয় অচিকিৎস্য গভীর ক্ষত। বহু বছর পরেও দীর্ঘ পরবাসজীবনের অন্তিমে তাঁর স্বগৃহে ফেরার কালে একই ক্ষত জীবন্ত হয়ে ওঠে। সৎ কবি বলেই তিনি এই গভীর সত্যটিকে আড়াল করেন না; বলেন, ‘যতবার আমি ঘরের নিকটবর্তী হই/ কুয়াশা আক্রান্ত সেই বারান্দায় রয়েছে দাঁড়ানো আজো/ একটি অস্পষ্ট ছায়ামূর্তিÑ একদা কৈশোরে/ যে আমাকে জানিয়েছিল বিদায়, সেই ছায়ামূর্তি/ আজো, এখনো, আমাকে লক্ষ্য ক’রে উড়িয়ে চলেছে একটি বিদায়ী রুমাল।’ তবু নিজের মাতৃভূমি তাঁর কাছে প্রিয়তমাতুল্যÑ বিব্রত ও রোরুদ্যমান সেই প্রিয়তমার উদ্দেশেই তিনি তাঁর ‘সংরক্ত চুম্বনের অন্তর্লীন আগুনগুলোকে’ পৌঁছে দিতে চান। তিনি জানেন পরবাসযাপন কত যন্ত্রণাদগ্ধ হতে পারে। বিজন বিভূঁইয়ের জীবন হয়ে ওঠে ‘বিব্রত’ ও ‘নতজানু’। ‘দেখতে শুনতে হুবহু বাঙালি কৈ ও মাগুর মাছের মতো কালো’ হলেও বর্ণবাদী দেশে কাকও মার্কিন নাগরিক বটে! বাংলা শব্দের জন্যে এমন সপ্রেম আর্তি শহীদ কাদরীতে আমরা আগে এত তীব্রভাবে পেয়েছি কি? ‘মার্কিনি ভাষায় কিচিরমিচির করা’ চড়–ইকে বাংলা বুলি শেখানোর জন্য তিনি ছটফট করে ওঠেন; একই কবিতার উপসংহারে তাঁর উচ্চারণ আর্তনাদের মতো শোনায় :</p>
<p>কাউকে বিশ্বাস নেই আর এই বিরূপ বিদেশে।<br />
তবু বলি: যদি পারো,<br />
হে নন্দিত মেঘ তুমি নেমে এসো<br />
শ্রাবণে শ্রাবণে তুমি, হে বন্ধু স্পন্দিত করে দাও<br />
এই অফুরান পরবাস।<br />
(প্রবাসের পঙক্তিমালা, পৃ. ৪৬)</p>
<p>স্বাভাবিক ও সমীচীনই মনে হয় যখন কবি ঘুরে ঘুরে কবিতায় কথা বলেন দেশত্যাগের কারণ সম্মন্ধে, কৌশলে প্রকাশ করেন বন্ধুদের প্রতি তাঁর পুঞ্জিভূত তীব্র অভিমান। ‘স্বগতোক্তি’, ‘তাই এই দীর্ঘ পরবাস’, ‘স্বপ্নে-দুঃস্বপ্নে একদিন’Ñ এই তিনটি কবিতায় তার মাত্রা পায় চূড়ান্ত রূপ। তবু শেষ পর্যন্ত কবি-আত্মা দৃঢ়ভাবে জানায়Ñ ‘কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর’। নির্বাসন যে কত মর্মস্পর্শী ও ভয়াবহ হতে পারে তার প্রকৃত স্বরূপ কবি ছাড়া আর কে চেনাতে পারে! তার বিবরণ হয়ে উঠেছে স্বদেশপ্রেমী ও স্বদেশমুখি সমস্ত বাঙালি সত্তার নিবিড়তম উপলব্ধি। কী সাংকেতিক ও সাঙ্গীতিকই না এইসব উচ্চারণ : ‘জুঁই, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা কিংবা কাঠগোলাপ থেকে/ টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া অথবা ক্রিসেনথিমামে/ নিজস্ব শহর থেকে অচেনা ফুটপাথে/ এশিয়ার আকাশে ময়ূর নীল থেকে/ কুয়াশাচ্ছন্ন পাশ্চাত্যে/ না, কোনো নির্বাসনই/ কাম্য নয়/ আর।’ (কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর, পৃ. ৩৭)</p>
<p>শহীদ কাদরীর পূর্বের তিনটি গ্রন্থকে (উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা এবং কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই) পাশে রেখে যদি পড়ি ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ তবে নবযাত্রার এই বইটিতে কোমলগন্ধি লিরিকের সন্ধান পাবো। অক্ষরবৃত্তের শক্তি আমরা দেখেছি কাদরীতে। এমনকি অন্তমিল ও অন্তরমিলের যাদুও। চিত্রকল্পের চমৎকারিত্ব-ভরা তাঁর কবিত্বে মোহিত হয়েছি আমরা বহুবার। এই কবিতাগুলোয় প্রবলভাবে তার দেখা না মিললেও বুঝতে অসুবিধে হয় না যে সেই অভিন্ন পরাক্রম কবির কলম থেকেই নিঃসৃত হয়েছে এইসব বুদ্ধিদীপ্ত সুসম্পাদিত পঙ্ক্তিমালা। মিলের মিষ্টতা ও চিত্তাকর্ষক চিত্রকল্প থেকে অন্তত দু-একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চাই।<br />
১.<br />
বলতে পারো আমিও নাছোড়বান্দা<br />
নানা দেশে ও বিদেশে ঘুরে<br />
বিভিন্ন ধরনের ধান্দা জানা আছে আমারও<br />
অতএব বলছি, আবারো বলছি:<br />
আমি ভ্রম্যমাণ&#8230;<br />
(নিরুদ্দেশ যাত্রা, পৃ. ৬৪)</p>
<p>(বাঁকা হরফ ও নিম্নরেখা দিয়ে মিলগুলো দেখানো হয়েছে।)</p>
<p>২.<br />
তোমার জবার মতো চোখে রাঙা শ্রাবণের জল<br />
পালতোলা নৌকার মতন বাঁকাচোরা ঢেউয়ে ঢেউয়ে কম্পমান<br />
তোমার বিপদগ্রস্ত স্তন।<br />
(আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও, পৃ. ১৭)</p>
<p>৩.<br />
সেই এক সময় ছিল যখন বাংলা ভাষা থেকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল<br />
বাংলা ভাষাকেই। সরকারি উর্দিপরা বিদেশী সৈনিকের মতো ভারী বুট পরে<br />
সদর্পে কুচকাওয়াজ করে বেড়িয়েছে আমাদের অচেনা শব্দগুলো<br />
(একে বলতে পারো একুশের কবিতা, পৃ. ২০)</p>
<p>সাত সাগরের ক্ষুব্ধ তরঙ্গে আছড়ে পড়া হারিয়ে যাওয়া বাংলা কবিতার রাজপুত্র অন্তহীন নক্ষত্রবিহীন যাত্রা শেষে আবার ফিরে এসেছেন আপন মাতৃক্রোড়ে, নিজস্ব ঠিকানায়। ‘অন্তত আরো দুই সেকেন্ড আমাকে বাঁচতে দিন’Ñ না, এভাবে আর বলবেন না প্রিয় কবি। আপনি শতায়ু হোন বাংলা কবিতার স্বার্থেই। কবিকে আবারো বলি, অভিনন্দন, সুস্বাগতম।</p>
<p>প্রচ্ছদ : কাইয়ুম চৌধুরী</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সুকথাই চিয়াংমাই : থাইল্যান্ড ঘুরে বেড়ানো</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 03 Mar 2010 01:53:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অবসর প্রকাশনা]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মঈনুস সুলতান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=428</guid>
		<description><![CDATA[এই বইটি নিয়ে &#8220;মঈনুস সুলতানের সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত&#8221; শিরোনামে বাংলামাটি জুলাই ২০০৯ সংখ্যায় একটি আলোচনা প্রকাশ করে:
মঈনুস সুলতান বিগত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবে ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করে চলেছেন দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে। ভ্রমণপিপাসু এই কথাসাহিত্যিক মৌলভিবাজারের সন্তান। প্রকৃতই তিনি মৌ-লোভীÑ সৌন্দর্যের, শিল্পের এবং নতুনত্বের মধু তিনি পান করে চলেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে। এবারের বইমেলায় [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>এই বইটি নিয়ে &#8220;মঈনুস সুলতানের সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত&#8221; শিরোনামে <a href="http://www.banglamati.net/July-09/book.php" target="_blank">বাংলামাটি জুলাই ২০০৯ সংখ্যায়</a> একটি আলোচনা প্রকাশ করে:<br />
মঈনুস সুলতান বিগত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবে ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করে চলেছেন দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে। ভ্রমণপিপাসু এই কথাসাহিত্যিক মৌলভিবাজারের সন্তান। প্রকৃতই তিনি মৌ-লোভীÑ সৌন্দর্যের, শিল্পের এবং নতুনত্বের মধু তিনি পান করে চলেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে। এবারের বইমেলায় তাঁর যে ভ্রমণবৃত্তান্তটি বেরুলো (সুকথাই চিয়াংমাই : থাইল্যান্ডে ঘুরে বেড়ানো) তাতে সন্নিবেশিত দু’ডজনেরও বেশি স্বাদু রচনা থেকে যে কোনো একটি লেখা পড়লেই পাঠকের বুঝতে এতটুকু দেরি হবে না যে এই লেখক একজন অভিযানপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে সাহিত্যের সৌরভ পাওয়া যায়। সত্যি বলতে কি গত কয়েক দশক ধরে বাঙালির ভ্রমণ-পরিধি ও পিপাসা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। কিন্তু কয়জনা আর সে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন অন্যের সঙ্গে। বিচিত্র লেখা, নিয়মিত লেখা এবং লেখার প্রাসাদগুণÑ সব মিলিয়ে বাঙালি পাঠকের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন এই লেখক। আজকের প্রজন্মের পাঠকেরা অবশ্য জানেন না যে সত্তর ও আশির দশকে মঈনুস সুলতান বেশ কিছু ছোটগল্প লিখেছিলেন। এখন তাঁর ভ্রমণকাহিনীর ভেতরেই জায়গা করে নিচ্ছে গল্পের স্বাদ, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান।<br />
শুধু গল্পের কথাই বা বলি কেন, কবিতার সৌগন্ধও মেলে তাঁর লেখায়। মনোমুগ্ধকর কাব্যিক সব নাম দেন তাঁর রচনার। যেমন এই বইয়ের একটি লেখার শিরোনাম : নক্ষত্র নিহত হয় ইনতানন পাহাড়ে। এ তো কবিতারই পঙক্তি। তবে স্বপ্নলোকের কাব্য নয়, বাস্তবের কবিতালোক তিনি শব্দের ভেতর প্রকাশ করেছেন। সুদূর থাইল্যান্ডের একটি পাহাড়ে মধ্যরাত্তিরে উল্কাঝড়ের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক আশ্চর্য কাহিনীই তিনি শোনাতে চেয়েছেন এই কাব্যিক লেখায়। কবিতাগন্ধি শিরোনাম দেখে আমার মতো যাঁরা এই লেখা পড়তে শুরু করবেন তাঁদের বাস্তবিকই এক নিঃশ্বাসে শেষ করতে হবে ভ্রমণকাহিনীটি। ভ্রমণকাহিনীতে লেখকগণ যেন বেশি গুরুত্ব দেন দর্শনীয় স্থানসমূহকে। মঈনুস সুলতানের কাছে দুনিয়ার সুলতান হলো এর বৈচিত্র্যপ্রিয় মানুষ। আর সেইসঙ্গে নিসর্গ ও প্রকৃতির জলছবি তিনি আঁকেন একজন কবিরই একাগ্রতা ও নিষ্ঠায়। স্ত্রী হলেণ ও কন্যা কাজরি তাঁর ভ্রমণ-উপাখ্যানের দুই অনিবার্য চরিত্রÑ উভয়ের উপস্থিতি কখনো অনুঘটকের, কখনোবা তারা দস্তুতরমতো উপভোগ্য গল্পের অনুষঙ্গ। এই লেখাটিতে আমরা পাবো এক ঝাঁক কচ্ছপের দেখা যারা জলদূষণের কারণে জীবন বাঁচাতে উঠে এসেছে স্থলভাগে। আদিবাসী মানুষ এইসব কচ্ছপের জীবনরক্ষায় নিয়োজিত। কেবল প্রাণীই নয়, এখানকার মানুষ গাছ বাঁচানোর জন্যও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁরা গাছগুলোকে সন্ন্যাসীর মর্যদা দিয়ে গুঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে জোড় হাতে প্রণাম করেন। এখানকার বনানী সম্পর্কে লেখকের বিবরণ দারুণ। একটুখানি উদ্ধৃত করছি : ‘এখানে নির্জনতা এতই প্রখর যে বনজ পতঙ্গের শব্দরাজি অদৃশ্য কোনো করাতের মতো আমাদের কানের খাঁজে খাঁজে কেটে বসে যেতে থাকে’। শুরুতে কবিতার কথা বলেছিলাম। কবিতার মতো কিছু স্বপ্নাক্রান্ত পঙক্তির দেখা পাই এই লেখাতেই। তুলে দিচ্ছি : ‘ চোখ বন্ধ করতেই মনে ভেসে ওঠে একটি বৌদ্ধ স্তূপ, চত্বরে অতি ধীরে হাঁটছে জনাকয় সন্ন্যাসিনী তরুণী। স্তূপটি বুঝি মেঘে মেঘে আকাশ থেকে আকাশে ভেসে যাচ্ছে। সন্ন্যাসিনীদের পদতলে রাশি রাশি মুক্তা, পান্না, হীরকের মতো ঝরছে অজস্র নক্ষত্র। নক্ষত্রাঘাতে ঝলসে উঠছে শ্বেতবসনা সন্ন্যাসিনীদের চক্ষুযুগল।&#8230;’<br />
পাঁচ বছরে তেইশবার থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন লেখক, তাই তাঁর লেখায় রয়েছে বস্তুনিষ্ঠতা, শুদ্ধতা এবং ডিটেইলের কারুকাজ। বৌদ্ধমন্দির একটি বড় জায়গা নিয়ে উপস্থিত থাইল্যান্ডে। তাই স্বাভাবিকভাবে এই গ্রন্থের ভ্রমণরচনাসমূহের বেশ কটিতে রয়েছে তার বিশদ বিবরণ। পাশাপাশি চিয়াংমাইয়ের মসজিদের বর্ণনাও উঠে আসে তাঁর লেখায়। সেখানে আমরা দেখবো রোজার সময়ে বেলা দ্বিপ্রহরে ভক্ষণরত দম্পতিকে স্থানীয় বৃদ্ধ সন্ধ্যায় ইফতারির দাওয়াত দেন। সুকথাইয়ের প্রাচীন এক পুরাতাত্ত্বিক নগরীর শাপলা ফোটা জলাশয়ের পাশে মহাতাত বৌদ্ধস্তূপ পরিক্রমার যে শব্দছবি এঁকেছেন লেখক তাতে থাইল্যান্ড ভ্রমণের তৃষ্ণা বেড়ে যাবে অনেকের। প্রজাপতি নিয়ে একাধিক লেখা আছে এই বইয়ে। লেখাগুলো বইয়ের মূল্য যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে তেমনি বাড়িয়েছে এর রচয়িতার মর্যাদাও। মঈনুস সুলতান যে আর একশ’টা ভ্রমণবিদ থেকে আলাদা এবং লেখক হিসেবেও যে রয়েছে তাঁর অন্যরকম অবলোকনের অনুসন্ধিৎসু হৃদয়Ñ তারই যেন আনন্দময় দৃষ্টান্ত। এই বই নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর পাঠকের মজা নষ্ট করতে চাই না। আমি চাই পাঠকরা সরাসরি এই বইটি পাঠ করুন এবং এর মজা উপভোগ করুন। যারা থাইল্যান্ডে গেছেন বারবার, তাঁরাও যদি বইটি পড়েন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝবেন যে সত্যিকারের দর্শন এবং তা উপভোগের জন্য চাই দেখার মতো চোখ এবং স্পর্শ করার মতো মন। লেখকের চোখ দিয়ে থাইল্যান্ড দেখতে দেখতে এবং তাঁর শিল্পিত মন দিয়ে সে অভিজ্ঞতাগুলোকে স্পর্শ করে যেতে যেতে হৃদয়ের গভীর থেকে লেখকের প্রতি একগুচ্ছ লাল গোলাপের মতো ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। এমঈনুস সুলতানের সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত<br />
মঈনুস সুলতান বিগত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবে ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করে<br />
চলেছেন দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে। ভ্রমণপিপাসু এই কথাসাহিত্যিক মৌলভিবাজারের সন্তান। প্রকৃতই তিনি মৌ-লোভীÑ সৌন্দর্যের, শিল্পের এবং নতুনত্বের মধু তিনি পান করে চলেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে। এবারের বইমেলায় তাঁর যে ভ্রমণবৃত্তান্তটি বেরুলো (সুকথাই চিয়াংমাই : থাইল্যান্ডে ঘুরে বেড়ানো) তাতে সন্নিবেশিত দু’ডজনেরও বেশি স্বাদু রচনা থেকে যে কোনো একটি লেখা পড়লেই পাঠকের বুঝতে এতটুকু দেরি হবে না যে এই লেখক একজন অভিযানপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে সাহিত্যের সৌরভ পাওয়া যায়। সত্যি বলতে কি গত কয়েক দশক ধরে বাঙালির ভ্রমণ-পরিধি ও পিপাসা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। কিন্তু কয়জনা আর সে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন অন্যের সঙ্গে। বিচিত্র লেখা, নিয়মিত লেখা এবং লেখার প্রাসাদগুণÑ সব মিলিয়ে বাঙালি পাঠকের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন এই লেখক। আজকের প্রজন্মের পাঠকেরা অবশ্য জানেন না যে সত্তর ও আশির দশকে মঈনুস সুলতান বেশ কিছু ছোটগল্প লিখেছিলেন। এখন তাঁর ভ্রমণকাহিনীর ভেতরেই জায়গা করে নিচ্ছে গল্পের স্বাদ, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান।<br />
শুধু গল্পের কথাই বা বলি কেন, কবিতার সৌগন্ধও মেলে তাঁর লেখায়। মনোমুগ্ধকর কাব্যিক সব নাম দেন তাঁর রচনার। যেমন এই বইয়ের একটি লেখার শিরোনাম : নক্ষত্র নিহত হয় ইনতানন পাহাড়ে। এ তো কবিতারই পঙক্তি। তবে স্বপ্নলোকের কাব্য নয়, বাস্তবের কবিতালোক তিনি শব্দের ভেতর প্রকাশ করেছেন। সুদূর থাইল্যান্ডের একটি পাহাড়ে মধ্যরাত্তিরে উল্কাঝড়ের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক আশ্চর্য কাহিনীই তিনি শোনাতে চেয়েছেন এই কাব্যিক লেখায়। কবিতাগন্ধি শিরোনাম দেখে আমার মতো যাঁরা এই লেখা পড়তে শুরু করবেন তাঁদের বাস্তবিকই এক নিঃশ্বাসে শেষ করতে হবে ভ্রমণকাহিনীটি। ভ্রমণকাহিনীতে লেখকগণ যেন বেশি গুরুত্ব দেন দর্শনীয় স্থানসমূহকে। মঈনুস সুলতানের কাছে দুনিয়ার সুলতান হলো এর বৈচিত্র্যপ্রিয় মানুষ। আর সেইসঙ্গে নিসর্গ ও প্রকৃতির জলছবি তিনি আঁকেন একজন কবিরই একাগ্রতা ও নিষ্ঠায়। স্ত্রী হলেণ ও কন্যা কাজরি তাঁর ভ্রমণ-উপাখ্যানের দুই অনিবার্য চরিত্রÑ উভয়ের উপস্থিতি কখনো অনুঘটকের, কখনোবা তারা দস্তুতরমতো উপভোগ্য গল্পের অনুষঙ্গ। এই লেখাটিতে আমরা পাবো এক ঝাঁক কচ্ছপের দেখা যারা জলদূষণের কারণে জীবন বাঁচাতে উঠে এসেছে স্থলভাগে। আদিবাসী মানুষ এইসব কচ্ছপের জীবনরক্ষায় নিয়োজিত। কেবল প্রাণীই নয়, এখানকার মানুষ গাছ বাঁচানোর জন্যও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁরা গাছগুলোকে সন্ন্যাসীর মর্যদা দিয়ে গুঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে জোড় হাতে প্রণাম করেন। এখানকার বনানী সম্পর্কে লেখকের বিবরণ দারুণ। একটুখানি উদ্ধৃত করছি : ‘এখানে নির্জনতা এতই প্রখর যে বনজ পতঙ্গের শব্দরাজি অদৃশ্য কোনো করাতের মতো আমাদের কানের খাঁজে খাঁজে কেটে বসে যেতে থাকে’। শুরুতে কবিতার কথা বলেছিলাম। কবিতার মতো কিছু স্বপ্নাক্রান্ত পঙক্তির দেখা পাই এই লেখাতেই। তুলে দিচ্ছি : ‘ চোখ বন্ধ করতেই মনে ভেসে ওঠে একটি বৌদ্ধ স্তূপ, চত্বরে অতি ধীরে হাঁটছে জনাকয় সন্ন্যাসিনী তরুণী। স্তূপটি বুঝি মেঘে মেঘে আকাশ থেকে আকাশে ভেসে যাচ্ছে। সন্ন্যাসিনীদের পদতলে রাশি রাশি মুক্তা, পান্না, হীরকের মতো ঝরছে অজস্র নক্ষত্র। নক্ষত্রাঘাতে ঝলসে উঠছে শ্বেতবসনা সন্ন্যাসিনীদের চক্ষুযুগল।&#8230;’<br />
পাঁচ বছরে তেইশবার থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন লেখক, তাই তাঁর লেখায় রয়েছে বস্তুনিষ্ঠতা, শুদ্ধতা এবং ডিটেইলের কারুকাজ। বৌদ্ধমন্দির একটি বড় জায়গা নিয়ে উপস্থিত থাইল্যান্ডে। তাই স্বাভাবিকভাবে এই গ্রন্থের ভ্রমণরচনাসমূহের বেশ কটিতে রয়েছে তার বিশদ বিবরণ। পাশাপাশি চিয়াংমাইয়ের মসজিদের বর্ণনাও উঠে আসে তাঁর লেখায়। সেখানে আমরা দেখবো রোজার সময়ে বেলা দ্বিপ্রহরে ভক্ষণরত দম্পতিকে স্থানীয় বৃদ্ধ সন্ধ্যায় ইফতারির দাওয়াত দেন। সুকথাইয়ের প্রাচীন এক পুরাতাত্ত্বিক নগরীর শাপলা ফোটা জলাশয়ের পাশে মহাতাত বৌদ্ধস্তূপ পরিক্রমার যে শব্দছবি এঁকেছেন লেখক তাতে থাইল্যান্ড ভ্রমণের তৃষ্ণা বেড়ে যাবে অনেকের। প্রজাপতি নিয়ে একাধিক লেখা আছে এই বইয়ে। লেখাগুলো বইয়ের মূল্য যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে তেমনি বাড়িয়েছে এর রচয়িতার মর্যাদাও। মঈনুস সুলতান যে আর একশ’টা ভ্রমণবিদ থেকে আলাদা এবং লেখক হিসেবেও যে রয়েছে তাঁর অন্যরকম অবলোকনের অনুসন্ধিৎসু হৃদয়Ñ তারই যেন আনন্দময় দৃষ্টান্ত। এই বই নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর পাঠকের মজা নষ্ট করতে চাই না। আমি চাই পাঠকরা সরাসরি এই বইটি পাঠ করুন এবং এর মজা উপভোগ করুন। যারা থাইল্যান্ডে গেছেন বারবার, তাঁরাও যদি বইটি পড়েন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝবেন যে সত্যিকারের দর্শন এবং তা উপভোগের জন্য চাই দেখার মতো চোখ এবং স্পর্শ করার মতো মন। লেখকের চোখ দিয়ে থাইল্যান্ড দেখতে দেখতে এবং তাঁর শিল্পিত মন দিয়ে সে অভিজ্ঞতাগুলোকে স্পর্শ করে যেতে যেতে হৃদয়ের গভীর থেকে লেখকের প্রতি একগুচ্ছ লাল গোলাপের মতো ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 20 Feb 2010 11:38:35 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অবসর প্রকাশনা]]></category>
		<category><![CDATA[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়]]></category>
		<category><![CDATA[রচনাবলী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=159</guid>
		<description><![CDATA[

Related posts:উপন্যাস সমগ্র &#8211; একাদশ খন্ড
বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড



Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/' rel='bookmark' title='Permanent Link: উপন্যাস সমগ্র &#8211; একাদশ খন্ড'>উপন্যাস সমগ্র &#8211; একাদশ খন্ড</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae/' rel='bookmark' title='Permanent Link: বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড'>বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

Related posts:উপন্যাস সমগ্র &#8211; একাদশ খন্ড
বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড



Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%b6-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/' rel='bookmark' title='Permanent Link: উপন্যাস সমগ্র &#8211; একাদশ খন্ড'>উপন্যাস সমগ্র &#8211; একাদশ খন্ড</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae/' rel='bookmark' title='Permanent Link: বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড'>বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড</a></li>
</ol>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
