<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বই আর বই &#187; প্রকাশক</title>
	<atom:link href="http://boirboi.com/category/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%95/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://boirboi.com</link>
	<description>বাংলাদেশের বইয়ের জগত</description>
	<lastBuildDate>Wed, 07 Apr 2010 07:34:29 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.9.2</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>মূলধারা &#8216;৭১</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 07 Apr 2010 07:34:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[গবেষণা]]></category>
		<category><![CDATA[দি ইউনিভাসিটি প্রেস লি:]]></category>
		<category><![CDATA[মঈদুল হাসান]]></category>
		<category><![CDATA[মুক্তিযুদ্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=681</guid>
		<description><![CDATA[বইটি এই ওয়েবসাইটে গিয়ে বিনামূল্যে পড়তে পারেন অথবা ডাউনলোড করতে পারেন।
বইটির ওয়েব সংস্করণ নিয়ে ইউপিএল-এর প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ:
&#8220;www.profile-bengal.com ওয়েব সাইট-এ  মঈদুল হাসান রচিত মূলধারা: &#8216;৭১ পাঠকদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-কে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল।
কেননা ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বইটি <a href="http://www.profile-of-bengal.com/p-b/www.profile-bengal.com/muldhara/muldhara.html" target="_blank">এই ওয়েবসাইটে</a> গিয়ে বিনামূল্যে পড়তে পারেন অথবা ডাউনলোড করতে পারেন।<br />
বইটির ওয়েব সংস্করণ নিয়ে ইউপিএল-এর প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ:<br />
&#8220;www.profile-bengal.com ওয়েব সাইট-এ  মঈদুল হাসান রচিত মূলধারা: &#8216;৭১ পাঠকদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-কে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল।<br />
কেননা ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্ভরযোগ্য বিবরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। ১৯৯২ সালে বইটির ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। যে বইটি এখন ওয়েব সাইট-এ পরিবেশিত হয়েছে সেটি ঐ সংস্করণের ৫ম মুদ্রণ (২০০৮)। একটি বাণিজ্য-সফল বইয়ের সম্পূর্ণ অংশ কোন মূল্য ছাড়াই ওয়েব সাইট-এ উন্মুক্ত করে প্রত্যক্ষভাবেই প্রকাশক কিছুটা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিয়েছে।<br />
অন্যদিকে ওয়েব সাইট-এ মূলধারা: &#8216;৭১ উন্মুক্ত করার  পক্ষের কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমটি হলো সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষি  বৃহত্তর  পাঠকের কাছে সম্পূর্ন বইটি সহজলভ্য করা। দ্বিতীয়টি হলো, এর ফলে নতুন করে বইটির উপর যে সব আলোচনা শুরু হবে তা এই বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ অথবা অন্য আরো বই রচনার কাজে সহায়ক হতে পারে।<br />
এই বইতে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ও তার আগে-পিছের তাৎপর্যময় ঘটনার বিশ্লেষন ও বর্ণনা আছে &#8211; যা লেখা হয়েছিল ঐ সময়কার জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষিত গভীরভাবে গবেষণা ও অনুসন্ধান করে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক  ঘটনাবলীর  বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা এই বইটিকে করে তুলেছে একটি অনন্য দলিল। এটা এই লেখকের পক্ষে করা সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বেশ কিছু কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এবং প্রত্যক্ষভাবে না-হলেও তিনি অনেক ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন।<br />
মূলধারা: &#8216;৭১  প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে, বিশেষ করে মার্কিন সরকার ও ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, সম্প্রতিকালে বেশ কিছু দলিলপত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। কাজেই এই বই এবং সম্প্রতিকালের দলিলপত্র অবলম্বন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়ে নতুন তথ্য, প্রসঙ্গ ও বিবেচনা উঠে আসার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাও ক্ষীণ নয় যে, এই ওয়েব সংস্করণের ফলে বইটির আসন্ন ইংরেজি ভাষ্য পাঠকের মধ্যে  যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করবে।&#8221;</p>
<p><strong>প্রথম সংস্করণের ভূমিকা</strong><br />
সমকালীন ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর রাজনৈতিক ভাবাবেগ ও পক্ষপাতিত্ব প্রায়শ এক সাধারণ সমস্যা। যদি কোন কারণে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বর্ণনাকারীর কিছু সংস্রব ঘটে, তবে আত্মপ্রকাশের প্রবণতাও একটি অতিরিক্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিবরণ হারায় ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা। এই দ্বিবিধ বাধা অতিক্রমের জন্য যে নিরাসক্ত নিষ্ঠা ও সততা প্রয়োজন, তা সম্যক আয়ত্ত করার দাবী আমার নেই। তবে এই প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন ও যত্নবান থেকেছি বিনীতভাবে তার উল্লেখ রাখতে চাই।</p>
<p>এই গ্রন্হ মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও মূল ঘটনাধারাকে নিয়ে লেখা। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের যে সব নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে আমি জড়িত হয়ে পড়েছিলাম এবং এই সংগ্রামের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্হাপনার যে দিকগুলি সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম, সেগুলিকে ভিত্তি করেই ১৯৭২ সালে এই গ্রন্হের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। পরে সেই ভিত্তির সমপ্রসারণ ঘটে। মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার জটিল বিস্তার অনুধাবনের পক্ষে সহায়ক হতে পারে, মুখ্যত এই বিবেচনা থেকে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির উল্লেখ এই গ্রন্হে করা হয়েছে। কাজেই সমগ্র কর্মকাণ্ডের অনুপাতে এগুলির আপেক্ষিক গুরুত্ব নগণ্য বলে মনে করা হলে আমার কোন আপত্তি নেই। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার ব্যাপ্তি বিশাল, উপাদান অত্যন্ত জটিল এবং অসংখ্য ব্যক্তির আত্মত্যাগ ও অবদানে সমৃদ্ধ। এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ ও বিবরণ এই গ্রন্হের বর্তমান কলেবরে সম্ভব ছিল না। এর ফলে কারো অবদান খর্বিত বা অনুল্লেখিত হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তজ্জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। একাত্তুরের সংগ্রামের মূল উপাদান ও তথ্যাদি যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে, সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে এবং সময় ও ঘটনার পারম্পর্য অক্ষুণ্ন রেখে উপস্হাপন করাই এই গ্রন্হের প্রয়াস।</p>
<p>এই গ্রন্হের আলোচিত সময় ১৯৭১-এর মার্চ থেকে ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারীতে শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকাল পর্যন্ত। একাধিক কারণে এই সময়কে একটি অখণ্ড কাল হিসেবে আমি গণ্য করেছি। আগের ইতিহাসের সামান্য পটভূমি স্পর্শ করা ব্যতীত এই গ্রন্হের বর্ণনাকে উপরোক্ত সময়ের অনুশাসনে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। সম্ভবত এর ফলে এই সময়কে তার নিজস্ব আলোকে উপলব্ধি করা সহজতর হবে।</p>
<p>ঘটনার চৌদ্দ বছর পর এই রচনা সমাপ্ত হতে চলেছে। দীর্ঘকালের ব্যবধানে স্মৃতি প্রায়শই অনির্ভরযোগ্য। কাজেই এই গ্রন্হ রচনাকালে অসমর্থিত স্মৃতিকে পরিহার করার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। সৌভাগ্যক্রমে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং সেই ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে গ্রন্হ রচনার প্রথম উদ্যোগকালে, ১৯৭২ সাল থেকে পরবর্তী চার বৎসরে, বিক্ষিপ্তভাবে হলেও যে গবেষণার চেষ্টা আমি করেছিলাম তার ফলে দলিলপত্র, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত জার্নাল, মুদ্রিত তথ্য, ঘটনাপঞ্জি প্রভৃতি অনেক কাগজপত্র জমে ওঠে। এগুলি বিস্মৃতির ক্ষতিপূরণে বহুলাংশে সহায়ক হয়েছে। গত দু’বছরে এই গ্রন্হ রচনাকালে আরও কিছু নতুন তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। গ্রন্হে পরিবেশিত তথ্যাদির সূত্র বা উৎস কোন কোন ক্ষেত্রে অনুল্লেখিত থাকলেও এগুলির সত্যতা ও নিরপেক্ষতা যতদূর সম্ভব পুনর্বার যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছি। তৎসত্ত্বেও যদি তথ্যের কোন ভুলভ্রান্তি থাকে তার দায়িত্ব একান্ত ভাবেই আমার। গ্রন্হের পাদটীকায় ‘একান্ত সাক্ষাৎকার’ হিসাবে পরিবেশিত তথ্য ও অভিমতগুলি আজও অন্যত্র অপ্রকাশিত এবং বর্তমান রচনার জন্যই বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত।</p>
<p>এই গ্রন্হের রচনা, প্রকাশনা এবং বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি গবেষণাকালে যাঁদের অকৃপণ সহযোগিতায় আমি উপকৃত হয়েছি তাঁদের নামের তালিকা দীর্ঘ। এঁদের অনেকে আজ লোকান্তরিত। এঁদের সবার কাছে আমি ঋণ স্বীকার করি।<br />
মঈদুল হাসান<br />
ঢাকা, ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৮৫</p>
<p><strong>দ্বিতীয় সংস্করনের ভূমিকা</strong></p>
<p>এই গ্রন্হের প্রথম প্রকাশ ও বর্তমান সংস্করণের মাঝে বিশ্বে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্হার ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে যে বৈরিতামূলক ব্যবস্হা, ঠাণ্ডাযুদ্ধের যে উন্মত্ততা বহাল ছিল পৃথিবী জুড়ে, ইতিমধ্যে তার বহুলাংশের বিলোপ ঘটেছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। এই বিশাল পরিবর্তন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তির ক্ষেত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে, যা দু’বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। এই সংস্করণ প্রকাশকালে পরিস্হিতি ও দৃষ্টিভঙ্গির এ সমুদয় পরিবর্তনের মধ্যে যতখানি প্রাসঙ্গিক তা আমি বিবেচনায় রেখেছি। আমার মনে হয়েছে, এই সংস্করণে প্রথম প্রকাশের বর্ণনা ও যুক্তিবিন্যাস অনেকখানিই অপরিবর্তিত রাখা যায়। অপরিবর্তিত রাখার বড় কারণটি অবশ্য পদ্ধতিগত &#8211; মুক্তিযুদ্ধকে তার নিজস্ব সময়ের যুক্তিতে উপস্হাপন করার প্রয়োজন বোধহয় সব সময়েই থাকবে, অন্যদিকে যেমন বিভিন্ন সময় ও পরবর্তী অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধ উপস্হাপিত বা বিশ্লেষিত হতে পারে বিভিন্নভাবেই।</p>
<p>কাজেই সংশোধন বা পরিবর্তন এই সংস্করণে বড় কিছু নেই। সংযোজন যতটুকু করা হয়েছে তা পূর্বে উল্লেখিত ঘটনা বা যুক্তিকে অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই। এ যাবত অপ্রকাশিত কিছু দলিল পরিবেশন করা হল এই সূত্রে। আর কিঞ্চিৎ পরিমার্জনা করা হয়েছে কিছু ভাষার।</p>
<p>লেখক<br />
জানুয়ারী ১৯৯২</p>
<p>মূলধারা: &#8216;৭১</p>
<p><strong>ওয়েব সংস্করণ</strong></p>
<p>www.profile-bengal.com ওয়েব সাইট-এ  মঈদুল হাসান রচিত মূলধারা: &#8216;৭১ পাঠকদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-কে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল।</p>
<p>কেননা ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্ভরযোগ্য বিবরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। ১৯৯২ সালে বইটির ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। যে বইটি এখন ওয়েব সাইট-এ পরিবেশিত হয়েছে সেটি ঐ সংস্করণের ৫ম মুদ্রণ (২০০৮)। একটি বাণিজ্য-সফল বইয়ের সম্পূর্ণ অংশ কোন মূল্য ছাড়াই ওয়েব সাইট-এ উন্মুক্ত করে প্রত্যক্ষভাবেই প্রকাশক কিছুটা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিয়েছে।</p>
<p>অন্যদিকে ওয়েব সাইট-এ মূলধারা: &#8216;৭১ উন্মুক্ত করার  পক্ষের কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমটি হলো সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষি  বৃহত্তর  পাঠকের কাছে সম্পূর্ন বইটি সহজলভ্য করা। দ্বিতীয়টি হলো, এর ফলে নতুন করে বইটির উপর যে সব আলোচনা শুরু হবে তা এই বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ অথবা অন্য আরো বই রচনার কাজে সহায়ক হতে পারে।</p>
<p>এই বইতে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ও তার আগে-পিছের তাৎপর্যময় ঘটনার বিশ্লেষন ও বর্ণনা আছে &#8211; যা লেখা হয়েছিল ঐ সময়কার জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষিত গভীরভাবে গবেষণা ও অনুসন্ধান করে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক  ঘটনাবলীর  বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা এই বইটিকে করে তুলেছে একটি অনন্য দলিল। এটা এই লেখকের পক্ষে করা সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বেশ কিছু কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এবং প্রত্যক্ষভাবে না-হলেও তিনি অনেক ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন।</p>
<p>মূলধারা: &#8216;৭১  প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে, বিশেষ করে মার্কিন সরকার ও ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, সম্প্রতিকালে বেশ কিছু দলিলপত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। কাজেই এই বই এবং সম্প্রতিকালের দলিলপত্র অবলম্বন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়ে নতুন তথ্য, প্রসঙ্গ ও বিবেচনা উঠে আসার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাও ক্ষীণ নয় যে, এই ওয়েব সংস্করণের ফলে বইটির আসন্ন ইংরেজি ভাষ্য পাঠকের মধ্যে  যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করবে।</p>
<p>মহিউদ্দিন আহমেদ<br />
প্রকাশক, ইউপিএল                                                                                <strong>প্রথম সংস্করণের ভূমিকা</strong><br />
সমকালীন ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর রাজনৈতিক ভাবাবেগ ও পক্ষপাতিত্ব প্রায়শ এক সাধারণ সমস্যা। যদি কোন কারণে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বর্ণনাকারীর কিছু সংস্রব ঘটে, তবে আত্মপ্রকাশের প্রবণতাও একটি অতিরিক্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিবরণ হারায় ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা। এই দ্বিবিধ বাধা অতিক্রমের জন্য যে নিরাসক্ত নিষ্ঠা ও সততা প্রয়োজন, তা সম্যক আয়ত্ত করার দাবী আমার নেই। তবে এই প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন ও যত্নবান থেকেছি বিনীতভাবে তার উল্লেখ রাখতে চাই।</p>
<p>এই গ্রন্হ মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও মূল ঘটনাধারাকে নিয়ে লেখা। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের যে সব নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে আমি জড়িত হয়ে পড়েছিলাম এবং এই সংগ্রামের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্হাপনার যে দিকগুলি সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম, সেগুলিকে ভিত্তি করেই ১৯৭২ সালে এই গ্রন্হের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। পরে সেই ভিত্তির সমপ্রসারণ ঘটে। মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার জটিল বিস্তার অনুধাবনের পক্ষে সহায়ক হতে পারে, মুখ্যত এই বিবেচনা থেকে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির উল্লেখ এই গ্রন্হে করা হয়েছে। কাজেই সমগ্র কর্মকাণ্ডের অনুপাতে এগুলির আপেক্ষিক গুরুত্ব নগণ্য বলে মনে করা হলে আমার কোন আপত্তি নেই। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার ব্যাপ্তি বিশাল, উপাদান অত্যন্ত জটিল এবং অসংখ্য ব্যক্তির আত্মত্যাগ ও অবদানে সমৃদ্ধ। এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ ও বিবরণ এই গ্রন্হের বর্তমান কলেবরে সম্ভব ছিল না। এর ফলে কারো অবদান খর্বিত বা অনুল্লেখিত হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তজ্জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। একাত্তুরের সংগ্রামের মূল উপাদান ও তথ্যাদি যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে, সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে এবং সময় ও ঘটনার পারম্পর্য অক্ষুণ্ন রেখে উপস্হাপন করাই এই গ্রন্হের প্রয়াস।</p>
<p>এই গ্রন্হের আলোচিত সময় ১৯৭১-এর মার্চ থেকে ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারীতে শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকাল পর্যন্ত। একাধিক কারণে এই সময়কে একটি অখণ্ড কাল হিসেবে আমি গণ্য করেছি। আগের ইতিহাসের সামান্য পটভূমি স্পর্শ করা ব্যতীত এই গ্রন্হের বর্ণনাকে উপরোক্ত সময়ের অনুশাসনে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। সম্ভবত এর ফলে এই সময়কে তার নিজস্ব আলোকে উপলব্ধি করা সহজতর হবে।</p>
<p>ঘটনার চৌদ্দ বছর পর এই রচনা সমাপ্ত হতে চলেছে। দীর্ঘকালের ব্যবধানে স্মৃতি প্রায়শই অনির্ভরযোগ্য। কাজেই এই গ্রন্হ রচনাকালে অসমর্থিত স্মৃতিকে পরিহার করার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। সৌভাগ্যক্রমে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং সেই ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে গ্রন্হ রচনার প্রথম উদ্যোগকালে, ১৯৭২ সাল থেকে পরবর্তী চার বৎসরে, বিক্ষিপ্তভাবে হলেও যে গবেষণার চেষ্টা আমি করেছিলাম তার ফলে দলিলপত্র, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত জার্নাল, মুদ্রিত তথ্য, ঘটনাপঞ্জি প্রভৃতি অনেক কাগজপত্র জমে ওঠে। এগুলি বিস্মৃতির ক্ষতিপূরণে বহুলাংশে সহায়ক হয়েছে। গত দু’বছরে এই গ্রন্হ রচনাকালে আরও কিছু নতুন তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। গ্রন্হে পরিবেশিত তথ্যাদির সূত্র বা উৎস কোন কোন ক্ষেত্রে অনুল্লেখিত থাকলেও এগুলির সত্যতা ও নিরপেক্ষতা যতদূর সম্ভব পুনর্বার যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছি। তৎসত্ত্বেও যদি তথ্যের কোন ভুলভ্রান্তি থাকে তার দায়িত্ব একান্ত ভাবেই আমার। গ্রন্হের পাদটীকায় ‘একান্ত সাক্ষাৎকার’ হিসাবে পরিবেশিত তথ্য ও অভিমতগুলি আজও অন্যত্র অপ্রকাশিত এবং বর্তমান রচনার জন্যই বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত।</p>
<p>এই গ্রন্হের রচনা, প্রকাশনা এবং বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি গবেষণাকালে যাঁদের অকৃপণ সহযোগিতায় আমি উপকৃত হয়েছি তাঁদের নামের তালিকা দীর্ঘ। এঁদের অনেকে আজ লোকান্তরিত। এঁদের সবার কাছে আমি ঋণ স্বীকার করি।<br />
মঈদুল হাসান<br />
ঢাকা, ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৮৫</p>
<p><strong>দ্বিতীয় সংস্করনের ভূমিকা</strong></p>
<p>এই গ্রন্হের প্রথম প্রকাশ ও বর্তমান সংস্করণের মাঝে বিশ্বে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্হার ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে যে বৈরিতামূলক ব্যবস্হা, ঠাণ্ডাযুদ্ধের যে উন্মত্ততা বহাল ছিল পৃথিবী জুড়ে, ইতিমধ্যে তার বহুলাংশের বিলোপ ঘটেছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। এই বিশাল পরিবর্তন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তির ক্ষেত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে, যা দু’বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। এই সংস্করণ প্রকাশকালে পরিস্হিতি ও দৃষ্টিভঙ্গির এ সমুদয় পরিবর্তনের মধ্যে যতখানি প্রাসঙ্গিক তা আমি বিবেচনায় রেখেছি। আমার মনে হয়েছে, এই সংস্করণে প্রথম প্রকাশের বর্ণনা ও যুক্তিবিন্যাস অনেকখানিই অপরিবর্তিত রাখা যায়। অপরিবর্তিত রাখার বড় কারণটি অবশ্য পদ্ধতিগত &#8211; মুক্তিযুদ্ধকে তার নিজস্ব সময়ের যুক্তিতে উপস্হাপন করার প্রয়োজন বোধহয় সব সময়েই থাকবে, অন্যদিকে যেমন বিভিন্ন সময় ও পরবর্তী অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধ উপস্হাপিত বা বিশ্লেষিত হতে পারে বিভিন্নভাবেই।</p>
<p>কাজেই সংশোধন বা পরিবর্তন এই সংস্করণে বড় কিছু নেই। সংযোজন যতটুকু করা হয়েছে তা পূর্বে উল্লেখিত ঘটনা বা যুক্তিকে অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই। এ যাবত অপ্রকাশিত কিছু দলিল পরিবেশন করা হল এই সূত্রে। আর কিঞ্চিৎ পরিমার্জনা করা হয়েছে কিছু ভাষার।</p>
<p>লেখক<br />
জানুয়ারী ১৯৯২</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জিয়ল জখম</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%96%e0%a6%ae/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%96%e0%a6%ae/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 07 Apr 2010 01:17:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আগামী প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[শামীম আজাদ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=673</guid>
		<description><![CDATA[প্রচ্ছদ : পীযুষ দহিমশদার
বাংলামাটি, এপ্রিল ২০১০ সংখ্যায় মিলটন রহমান বইটি নিয়ে নীচের আলোচনা লিখেছেন:
ক.
’এই জগতের যে কোন বস্তুই কৃষ্ণগহ্বর হয়ে উঠতে পারে। আবার এই মহাজগৎটাই কৃষ্ণগহ্বরের অভ্যন্তরে অবস্থিত।’ স্টিফেন হকিং-এর এ কথায় কবিতার আলোচনা শুরু করা যাক। দৃশ্যতঃ কৃষ্ণগহ্বরের ভিতর বসেই আমরা নিয়ত খুঁজছি দূরের কৃষ্ণগহ্বরের ইঙ্গিত। যেখানে শূন্যতাও একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/' rel='bookmark' title='Permanent Link: অন্ধের আঙুলে এত জাদু'>অন্ধের আঙুলে এত জাদু</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রচ্ছদ : পীযুষ দহিমশদার<br />
<a href="http://www.banglamati.net/april-10/book.php" target="_blank">বাংলামাটি, এপ্রিল ২০১০ সংখ্যায় মিলটন রহমান বইটি নিয়ে নীচের আলোচনা লিখেছেন</a>:<br />
ক.<br />
’এই জগতের যে কোন বস্তুই কৃষ্ণগহ্বর হয়ে উঠতে পারে। আবার এই মহাজগৎটাই কৃষ্ণগহ্বরের অভ্যন্তরে অবস্থিত।’ স্টিফেন হকিং-এর এ কথায় কবিতার আলোচনা শুরু করা যাক। দৃশ্যতঃ কৃষ্ণগহ্বরের ভিতর বসেই আমরা নিয়ত খুঁজছি দূরের কৃষ্ণগহ্বরের ইঙ্গিত। যেখানে শূন্যতাও একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। জগতের গতি শক্তি যতই মন্থর হয়ে আসে ততই ভারী হয় শূন্যতা। তবে অনুসন্ধানে শূন্যতা-ঝামর-স্থান নির্মান করে অর্থদ্যোতনা। বাজে শঙ্ক-নিনাদ। শূন্যতার আয়োজনে জেগে ওঠে মোহন সময়; সমতায়। কৃষ্ণ-মোহন কিংবা গ্রহণ কালের একজন কবি যখন বলেন-</p>
<p>’আর এখন উড়ছে কেবল বালিহাঁস, পাতিহাঁস<br />
রন্ধ্রে রন্ধ্রে সজারুর মোহন কাঁটা<br />
জ্বলে চিত্ত জ্বলে রাগ<br />
জ্বলে সুগন্ধ বরাত<br />
অংগার ভেঙে ঢলে পড়েছে গুল্ম নির্যাস।’(নওবত/শামীম আজাদ)</p>
<p>আবার পড়ে নিই-</p>
<p>’পূর্ণ আপেলের গ্রামে ঝুলিতেছি<br />
প্রমত্ত ঝিনুকে জল কাটিতেছি<br />
শ’য়ে শ’য়ে পাথর গলে<br />
হয়ে গেছে পৌরানিক মানব<br />
সেই থেকে<br />
বসে আছি মেঘের ওপর<br />
দেহগত নুনে আর পলির ফাগুনে!’(জিয়ল জখম/চিহ্ন/শামীম আজাদ)</p>
<p>’জিয়ল জখম’-এর কবি শামীম আজাদ। ছত্রে ছত্রে ছড়িয়েছেন নিকট এবং দূরগামী সূর্যাস্তের তীব্র অথচ য়িষ্ণু রেখা, প্রযতœ সময়ের প্রতিভাষ, খণ্ডের সাথে অখণ্ডের এবং প্রকল্পতায় আলো-অন্ধকারে এঁকেছেন বিপরীত-জ্যোতির্ময় কোরাস।</p>
<p>এখন কবিতার পাঁজর খুলে দেখার সময়। অন্যজন কি রচনা করেছেন, সে তুলনায় না গিয়ে বরং কবি এবং তাঁর কবিতার পোষ্টমর্ডেম হওয়াই জরুরী মনে করি। কেননা এখন বিজ্ঞান- কবিতা-দর্শনের সম্পর্ক পরস্পরলগ্ন। কবির চিন্তা-দর্শন বিচারে বিজ্ঞান পরীাগার হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় বিচার্য্য কবি এবং কবিতা। যদিও একজন কবি দার্শনিক নন, তাঁর পরিচয় ’কবি’। কবিতার ’রস’ চিহ্নিত করনে বিজ্ঞান এবং দর্শনোপনীত হওয়া দরকার বলে আমি ভাবতে চাই<br />
খ.<br />
গ্রন্থের ত্রিশ পৃষ্ঠার ’ছায়াগুচ্ছ’ আলাদা আলোচনা করতে চাই। গুচ্ছ পরম্পরায় প্রেমপ্রবর্তনা এবং সময় নিপাতনে সিদ্ধ হয়ে নির্মিত হয়েছে কবিতা। প্রায় সব ক’টি তে জ্ব’লে উঠেছে সুনীল-রঙিন কাতরতা ।</p>
<p>’অচিরেই হবো মীন<br />
ঘুমাবো জলের নগর<br />
পিঠ ভরা চুল খুলে<br />
রঙধনু আঁশ মেলে<br />
জলের তপস্যা কলরব।</p>
<p>উঠান পিড়িতে দাঁড়াবে<br />
এসো পূর্ণিমা কিশোর।’(জিয়ল জখম/ছায়াগুচ্ছ-৩)</p>
<p>স্মৃতি উগরে দেবার প্রবনতা কবিতার মজ্জায় চির ধরায়। ভেঙে ফেলে যাবতীয় করণ-কৌশল। কবিতার জাত শত্রু বলে আধুনিক কবিতায় স্মৃতি-ভ্রমন-বৃত্তান্ত অত্যাল্প। অথচ কবি সে পথ পদ চিহ্ন হীন রাখেন নি।</p>
<p>’মানুষ চলে গেলে<br />
পালক ফেলে যায়<br />
জ্ঞাতি চিহ্ন খুঁড়ে খুঁড়ে<br />
পরশ বুলায়।( জিয়ল জখম/ছায়াগুচ্ছ-৪)</p>
<p>অথবা ছায়াগুচ্ছের বাইরে থেকে যদি পড়ি-</p>
<p>বিভার ছুরিতে শানে শৈশব<br />
জীবন, জামালপুর<br />
তুলট কাগজ স্বাদ<br />
আর প্রথম মতিচূর&#8230;.’(জিয়ল জখম/সোনার সেমিজ)</p>
<p>কবি এখানে নৃতাত্ত্বিক। মৃত্তিকার সন্তানেরা ক্রম-বিবর্তনে নিজের অবস্থানে স্মৃতি চিহ্ন খুঁড়ে এভাবে দাঁড়ায়। স্মৃতি-বর্ণিত এ ক্যানভাস কাব্য-নন্দন বর্জিত নয়। আপাত সংকেত থেকে কবি নিজেকে যোগ্য করে তুলেছেন এখানে।</p>
<p>’ছুঁয়ে দেখো সৃষ্ট ওম প্রতিজ্ঞা<br />
আমার, কবোষ্ণ মন্দিরা<br />
ছোঁয়া পেলে শানিত হবো<br />
কলঙ্ক অভিধা’(জিয়ল জখম/ ছায়াগুচ্ছ-১৪)</p>
<p>ছায়াগুচ্ছের রক্তে উন্মত্ত-সঞ্চারী প্রেমনাদ এভাবে গীতলতায় অভিষিত হলো। কলঙ্ক অভিধা জেনেও জানালো নিজের মনস্তাপ। কবি কে আরো পড়ি এভাবে-’ কান্ত পিপড়েরা কি রতিক্রিয়া করে/এক জনমে ওষ্ঠাধর কত জখম ধরে? অথবা, ’ আধো রাত সরে গেলে/খোঁজো কার লতিকায় দূল?’ ছায়াগুচ্ছের শরীরে বিরাজিত য়, মৃত্যু, প্রেম এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সুর।<br />
গ.<br />
কবি শামীম আজাদ কবিতায় অবস্থান চিহ্নিত করেছেন দৃষ্টি সীমার বাইরে অসীমতায়। বৃত্তে আবর্তিত ঘূর্ণায়ন কেন্দ্র থেকে নিরুদ্দেশ মূখী নিজেকে তিনি আবিষ্কার করেন। প্রথমে অবস্থান প্রশ্ন বোধক হলেও-</p>
<p>’তবেই সিদ্ধান্ত নেবো<br />
কোথায় গ্রথিত হবো<br />
বাতাসে না নদে<br />
না চৌষট্টি চারুকলা দলে<br />
জলিষ্ণু জামালপুরে&#8230;..(জিয়ল জখম/জিয়ল জখম)</p>
<p>ঠিক কিছু কাল পরে কবি জেনে যান কোন নিরুদ্দেশে মেলেছেন পেখম-</p>
<p>’তুই মধ্যম<br />
আমি মধ্যমা<br />
আমি এন্তার গঙ্গা সিন্ধু<br />
তুই নর্মদা বিশুদ্ধ রক্তকণা<br />
কেউ কি জেনেছে এই অত্যাশ্চর্য খবর<br />
এই অসম্ভব!’</p>
<p>অসীমের পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে, জানিয়ে দেন নিজের পূর্বতন অবস্থান এভাবে-</p>
<p>’কখনো কি জানিবে কেহ<br />
একদিন আমাদের সুগন্ধ করেছিলো<br />
হাইবারনেশনে ভেগে আসা<br />
একদল বেহুশ কবিতা<br />
গোলাপী বকুল কথকতা।’ ( জিয়ল জখম/অবস্থান)</p>
<p>’আমি সমগ্রের অংশ নই, সমগ্রের সঙ্গে সম্মিলিত নই, সমগ্রের মধ্যে গৃহীত নই।’ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দার্শনিক সোরেন কিকগার্ড এভাবে বন্ধন হীন অসীম এর কথা বলেছিলেন। সেই থেকে বোধ করি আধুনিক বিচ্ছিন্নতা বোধের আরম্ভ। যে বোধ রোমান্টিকতা, বাস্তবতার বীজ বুনে দেয় চিন্তন ভূমিতে। সেই ভূমি চিন্তার কবি শামীম আজাদ অলৌকিক ডানায় বয়ে ’জিয়ল জখম’-এ জানিয়ে দেন নিজের ’অবস্থান’।</p>
<p>ঘ.<br />
একজন কবি’র জন্য সময় খন্ডিত করা জরুরী বলে জানি। তারও চেয়ে জরুরী খন্ডিত সময়ের খোল-নলচে খুলে খচিত সুবর্ণ তিলক এবং দগদগে ত চিহ্নিত করা। এ প্রক্রিয়ায় কাব্যচিত্রক মনন উৎসারিত যে ভাষিক জমিন তৈরী করেন তা হয়ে ওঠে কবিসময়ের বিস্তারিত ইলাস্ট্রেশন। কবি যখন বলেন-<br />
’পূর্ণিমার বাগান খুঁড়ে তুলে নেবো মুঠো পাপ&#8230;<br />
পাথর বগলে গাঁথা দুই হাত<br />
হায়! এই নিদয়া চুর ঘোড়া<br />
তবু তুলে নিতে চায় ঘনবদ্ধ<br />
কলিজার থোড়।</p>
<p>মাখিবো সারা অঙ্গে আমি<br />
কুফার কাফন<br />
তোমারে ভ্রমনে নেবো<br />
কোন এক অবধ্য নগর।’(জিয়ল জখম/আকাঙ্খা)</p>
<p>এভাবে আজকের পৃথিবী, নাগরিকতা, সময় এবং ব্যক্তি দহনের কথা বলতে গিয়ে কবি মিশেল ফুকোর পাগলা গারদের মত ঘিরে রাখেন পাঠককে। ’জিয়ল জখম’- এর পুরো শরীরে ছোপ ছোপ রক্তের ছাপ। মাটির উপরে সচল যে ক্রিয়া; তার আমূলে নিয়ত বিধে যাওয়া তীরের ফলা, যা কিনা তীব্র আকাঙ্খায় কুড়িয়ে নেয়া। অনবরত খসে খসে শূন্যে মিশে যেতে ধ্যানস্ত কবি কে আরেকবার পড়ে নিই-</p>
<p>’হাড় ও কলিজা চেরা<br />
উত্তরীয় উজান<br />
কখনো নিই না তার নাম<br />
তবু, কন্টক মন্দিরা বাজে<br />
মৃত্যু সমান।’(জিয়ল জখম/স্থপতির স্তুতি)</p>
<p>’মৃত ঘোড়া আর মরুর প্রলয় বুকে ছুটিতেছি<br />
কোথায় লুকাই হায়<br />
দেহের অধিক এ ব্যাপক প্রণয়&#8230;’(অšে¦ষা)</p>
<p>’যে আমারে এখনো<br />
দেখো বর্ষার ফল<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
মনে করাতে পারি<br />
তোমাকেও চুড়ান্ত আকাল</p>
<p>তাহারে কি করে<br />
বাগানে প্রতঃরাশ সেরে<br />
তীব্র দ্বিপ্রহরের ঠোঁট দিয়ে চেড়ো!’(অবিশ্বাস)</p>
<p>’প্রতি রোমকূপে পরাজিত ঝড়<br />
পাঁজরের প্রতি মোড়<br />
জানে কি এ দেহ<br />
দ্রোহ ও দাহ সহবাসী<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
উত্তাল কাল<br />
কেন ফলিবে না<br />
এ বিদির্ণ শবের গভীরে!’(একেশ্বরী)</p>
<p>এ কবিতাগুলোর সাথে প্রায় সমান্তরাল পড়ে নেয়া যায় ’থেরাপিউটিক’, ’চন্দ্রভাষ্য’, ’হতাশা’, ’চলাচল’, ’প্রবাহ’ ’খুদের নগর’, ’লন্ডিনিয়াম’, ’দিকভ্রান্তি’ ’নাই’, এবং ’পোকা ও পাখোয়াজ’ ও অন্যান্য। কবি ব্যদনা-রস মিশ্রিত চোখ ফেলেছেন প্রতিভাষ পৃথিবীতে। আবিষ্কার করেছেন কৃষ্ণগহ্বর অভ্যন্তরে শূন্য অন্ধকার, জগতের বহুমাত্রিক ছন্দ-রূপ। কবি এসব অনুসন্ধান করেছেন খন্ড খন্ড সময়ের মধ্যে। তাই কবিতাগুলো আধুনিকান্তিকতারই চোখে হয়ে উঠেছে নানা ভাবে অর্থবহ। আমি তাঁর অনুরক্ত পাঠক হিসেবে বলতে পারি, শুধূ ভাষার আধুনিকত্বের কারণে নয়, বরং দর্শন, চিন্তা এবং কবিতার সম্মিলিত সঙ্গীতে কবিতাগুলো পাঠকের সঙ্গে দীর্ঘ সহবাসের দাবী রাখে।<br />
ঙ.<br />
আবেগ কবিতার প্রাচীনতম সহযাত্রী। ফলতঃ আবেগ কবিতার প্রধানতম রসায়ন। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে রসদ মিশ্রন ত্র“টি ঘটলেই সৃস্টি ব্যহত হয়। কবিতারসদ-এর েেত্রও একই নিয়ম বলে মনে করি। বিশ্বসাহিত্যে অনেক কবিতা এই মিশ্রন ত্রুটির কারণে পাঠক প্রিয় হয়েও মহাকালীন হতে পারেনি। একজন শিল্পী কে তাই রাস টেনে ধরতে হয় আবেগের। ’জিয়ল জখম’-এ রসদ ব্যবহারে শুনতে পাই কষ্টকল্পের পদধ্বনি। কবি কখনো কখনো আবেগাপ্লুত হলেও তাঁর বোধ ও গভীরতা থেকে একটি একটি হিরক তুলে এনে গেঁথেছেন মালা। এক একটি হিরক টুকরো ধারণ করেছে কবির ক্ষন মৈথুনে উঠে আসা ফ্যাকাশে হলদেটে পাতা, আকাঙ্খা,শোক,দুঃখ এবং বিস্ময়। সুরে বাঁধা যন্ত্র যেমন প্রতিক্ষা করে সুরের জন্য, আলোচ্য কবিও তেমনি এখানে প্রতিক্ষারত কাঙ্খিত ব্যদনার জন্য। এ অভিযাত্রায় বৃহৎ ও ুদ্রের এবং রূপ ও অরূপের সন্ধানে প্রায় আত্মবিলাপে মগ্ন তিনি। মৃত্যুতে ব্যক্তির আত্মবিলোপ ঘটে। তাই বোধ করি ’জিয়লজখম’-এর উৎসর্গে দেখি-’ভোঁ ভোঁ শবের বিছানায়/ পরাজিত মানুষেরা/মাছি হয়ে যায়&#8230;। প্রেম ও ভালবাসায় আত্মবিলোপ ঘটে সত্বার। আর এরই মাধ্যমে সৃষ্টি হয় দ্যুতিময় আত্মসমাহিত হিরক। আসুন ক’টি কবিতা পড়ে চিহ্নিত করি কবির আবেগ-দগ্ধ-ফলন হিরক-</p>
<p>’&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
ঠোঁটের সেগুন দেবো<br />
কবির ভূগোল দেবো&#8230;<br />
দহনের দোহাই লাগে, থাকো<br />
উজানের দেশে নেবো<br />
পক্ষির পালক পাবে<br />
সানকির ওম পাবে<br />
নফল প্রার্থনা হবে<br />
আমারে বিশ্বাস করো<br />
এ মুগ্ধ বিপাকে<br />
তোমারেই দেবো গো আমি এ পূর্ণিমা সকাল’( জিয়ল জখম/শুশ্রƒষা)</p>
<p>’তোমারে শুইয়ে দিবো ইঙ্গল মন্দির ঘরে রে বন্ধু<br />
আর না ঢুকিবে সূতানলী রাইতরে&#8230;.( অনুরোধ)</p>
<p>’কখনো কি এসেছিলে<br />
দীর্ঘ দাঁড়িয়েছিলে<br />
ঐ ধূপ-ধোঁয়া ঘিরে<br />
অঙ্গার বিষ মেখে<br />
কেঁদেছিলে?’ (অনিশ্চিত)</p>
<p>’মনা, কাঁদিবার সবটুকু ক্ষণ নিয়া<br />
সূর্যগত রাতে<br />
তরল নিঃশ্বাসে চাঁদ ভাঙ্গিয়া দিয়া<br />
সুশক্ত শীতের পিঠে<br />
গেছো যে চলিয়া রে&#8230;&#8230;’(&#8230;&#8230;নিঠুর কালিয়ারে)</p>
<p>কবিতার শুরুতে আবেগ উদ্বেল কবি-’এখানেই পাখির ছায়ার নিচে/ঘ্রান ছিলো/চিনিচূড় চম্পা/ রজবের চাঁদ আর রাজা শাইল স্বাদ’ বলে শেষে নিজেকে টেনে ধরেন এভাবে-’কিন্তু/দুধের নহর ছাড়া/বাদ বাকি সবই ছিলো মেদ’(কোমল কঙ্কাল)। অঘ্রানের অন্ধকারে হেঁটে যাওয়া কবির মনোভূমি শামূকচূড় দহনে পুড়তে পুড়তে যখন কবির মনভূমি দীর্ঘ দাঁড়ায়, তখন তাঁকে আমরা চিনে নিই। যিনি মহাকাশকে, বাতাসকে শুনিয়ে যান পাঁজর খোলার দেহলিজ-দহন আলাপ। তখন আর কবির দৃষ্টি থির থাকেনা। আকাশ ফুঁড়ে চলে মহাকাশের দিকে। সে যাত্রা কখনো স্বস্তি দেয় না, ফেলে না শীতল ছায়া। শুধু জানিয়ে দেয় একজন কবির মহাযাত্রা। যে কবি মৃত্যুর পরেও কবিতা তৈরী করবেন!<br />
চ.<br />
শূন্যতা, ক্ষয়, বিরহ, বিরংসা এবং তেজ জগতে অস্তিত্ব সঞ্চার করে। যে শূন্যতা আমি এবং আমরা বহন করি তা-ই অনন্তের অক্ষয় সম্ভাবনা এবং আশংকার চিহ্ন। কবি শামীম আজাদ নিজের সঙ্গে বয়ে যাওয়া গহ্বরের ভিতর কখনো শুনেছেন মোহন-সান্ধ্য বাঁশি, কখনো চিহ্নিত করেছেন নিজের ভেতর হিংস্র নখরে কাটা দগদগে ক্ষত। মোহান্ধ সময়ের করাত কিভাবে চিরে সুবর্ণ সুর। কত ত্যাগিলেও পাওয়া হয় না স্বর্ণালী ভোর, তা কবি ফোটা ফোটা রক্তে এঁকেছেন ’জিয়ল জখম’-এ। আলোচনা শেষ করার আগে আরো ক’টি কবিতা পড়ে নেয়া যায়।</p>
<p>’রক্ত তুফান তোলা পাখি<br />
ঠোঁট রাখো ঘ্রানের ওপর<br />
নাভীমূল থেকে সেঁচে নাও বনাঞ্চল<br />
হাত থেকে ফেলে দাও লবঙ্গের লাল<br />
পাড়ি দাও দাউ দাউ উঠান’(পাথর পরাগ)</p>
<p>’তুমি হাঁটো উত্তরে আর<br />
আমি যে নৈঋতে<br />
জানিয়ো তবুরে বন্ধু<br />
কখোনই কোনো কিরিচ ছিলো না<br />
আমার পিরিতে।’(মধু শয়তান)</p>
<p>’&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
প্রেমাক্রান্ত মেঘেদের ছোটাছুটি<br />
বায়ুর বুননে ভেজা হাত<br />
হাতে লেগে থাকা চান্দের রুহানী<br />
রৌদ্র কচকচে বাড়িঘর<br />
আর আমি নড়ি না কণ্ঠা থেকে এ পা&#8212;’(স্বপ্নায়ন)</p>
<p>’স্নায়ূর পেখম খুলে<br />
জিয়ল জখম রেখে<br />
বসে যেতে চাই স্থির<br />
ক্ষয়িষ্ণু পৃথিবীর শৈশব সেতার’(স্যালি পম্ কেইটন ও শামসুর রাহমান)</p>
<p>’তুলে আনি তুষারের তূণ<br />
ভেঙে খেতে চাই রস জাগানিয়া<br />
মনোহর মেওয়া<br />
লাল লাল সরিষার দানা<br />
সব মীথ’(ইচ্ছা)</p>
<p>’শিথানে তষ্কর পাহাড় ত্যাজে দ্বৈতাচার<br />
পাথরের কাল গলে যায় প্রবল মায়ায়<br />
ইত্যাকার দাবদাহ সকলই বদলায়<br />
চুল হয়ে মেঘ হয়ে বীজ হয়ে কুসুমের সাথে জ্বলে জেগে রয়’(রাত্রিরাগ)</p>
<p>এক টানে ’জিয়ল জখম’-এর কবিতাগুলো পড়া যায়। কবি চিন্তার মত বাক্যরাও ক্ষিপ্র গতির। তাই কিছু কবিতা উদ্বৃত হলো। মোট চুয়ান্ন টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত। আলোচ্য কবিতা বাদ দিয়ে অবশিষ্টগুলোও ব্যাখ্যাত হতে পারে। অতএব ’জিয়ল জখম’ বিষয়ে যে কোন সময় বিস্তারিত গদ্য লেখার ইচ্ছে রাখি। এ গ্রন্থের অন্যান্য কবিতাগুলো হলো- ’অনুপান’, ’অশ্লীল’, ’চৌষট্টি চারুলতা’, ’অনিদ্রা’, ’মনোবাঞ্জা’, ’মূল’, ’পছন্দ’, ’অধিবাস’, ’বন পোড়ে আগে’, ’অবশিষ্ট’, ’দিকভ্রান্তি’, ’নাই’, ’জল-শুশ্রƒশা’, ’পোকা ও পাখোয়াজ’, ’অভিলাষ’, ’অঙ্গ সংস্থান’, ’উপলব্দি’, ’কিশোরীআমানকার’, ’সাম্প্রতিক’, ’অতসী’,’দেহতত্ব’,’বিরহকণা’,’লন্ডিনিয়াম’,<br />
খুদের নগর’, ’জ্বলন্ত বর্ষা’, ’আশংকা’, ’প্রবাহ’, ’চলাচল’, ’হতাশা,’ ’হলদে পাখি’ এবং ’চন্দ্রভাষ্য’।</p>
<p>ছ.<br />
মেদহীন ’জিয়ল জখম’-এর কবিতার শরীর। বাহুল্য বর্জিত বক্র-রৈখিক কাঠামো কবি ভাবনা ধারণ করেছে প্রতিটি আঁশে। কবিতার নামকরণ হয়ে উঠেছে অনুকথায় পুরোকথা। কবিতার শিরোনাম একজন পাঠকের নাকে গন্ধ তুলে দেয় মিশেল মশলার।</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/' rel='bookmark' title='Permanent Link: অন্ধের আঙুলে এত জাদু'>অন্ধের আঙুলে এত জাদু</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%96%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কথা কালান্তরের, প্রগতির</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 18 Mar 2010 09:13:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়]]></category>
		<category><![CDATA[জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=641</guid>
		<description><![CDATA[প্রচ্ছদ : উত্তম সেন
বইটি নিয়ে আবু বকর সিদ্দিক মার্চ ১৮, ২০১০ তারিখের সংবাদ সাময়িকীতে &#8220;কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালান্তর দর্শন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:
কোনো আর্দশ বা বিশ্বাস চিরদিন একইরকম আবেদন রাখতে পারে না। এক কালের  নিশ্চিত বিশ্বাস সময়ের আবর্তে অন্য কালের মানুষের কাছে ধূসর হয়ে ওঠে।  সৃষ্টির রহস্য স্রষ্টার উপস্থিতি সম্পর্কিত শিরোধার্য সব বিশ্বাসও  [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রচ্ছদ : উত্তম সেন</p>
<p>বইটি নিয়ে আবু বকর সিদ্দিক মার্চ ১৮, ২০১০ তারিখের সংবাদ সাময়িকীতে &#8220;কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালান্তর দর্শন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:</p>
<p>কোনো আর্দশ বা বিশ্বাস চিরদিন একইরকম আবেদন রাখতে পারে না। এক কালের  নিশ্চিত বিশ্বাস সময়ের আবর্তে অন্য কালের মানুষের কাছে ধূসর হয়ে ওঠে।  সৃষ্টির রহস্য স্রষ্টার উপস্থিতি সম্পর্কিত শিরোধার্য সব বিশ্বাসও  অস্পৃৃশ্য বর্জনীয় হয়ে পড়ে পরবর্তী কোন প্রবক্তার অধিকতর গ্রহণযোগ্য ধর্ম  বা তত্ত্বের প্রচারণায়। মানুষের চিন্তার উন্নতি ও সূক্ষ্মতর বিচার  বিশ্লেষণের ক্ষমতাই যে এর মূলে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সভ্যতা, সংস্কৃতি  ও মনুষ্যত্ববোধের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শোষণের বিরোধী সংগ্রামে  অর্জিত বিজয়, সময়ের ব্যবধানে নতুন ধরনের শোষণ-নির্যাতনের সূত্রপাত করে। তাই  বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল বলে পরিচিত বিভিন্ন ধারণা, যেমন নারীবাদ, নতুন করে  বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন। প্রযুক্তির প্রসার, জ্ঞানের উপকরণ প্রাপ্তি আর  দূরত্ব ঘুচে যাওয়ায় মানুষ তার সঙ্কীর্ণ পরিচয়ের গ-ি পেরিয়ে অখ- পৃথিবীর  একজন হিসেবে নিজের ও অন্যের অবস্থা অত্যন্ত নির্মোহ দৃষ্টিতে বিচারের সুযোগ  পেয়েছে।<br />
কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর &#8216;কথা কালান্তরের, প্রগতির&#8217; বইয়ে এ রকমই কিছু  বিষয়ের অবতারণা করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এ বইটিতে লেখক যেভাবে নারীবাদ,  মৌলবাদ, ধর্ম ও স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছেন তা আমাদের এ ব্যাপারগুলো  নিয়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দেয়। নারী ও নারীবাদ নিয়ে কাজল  বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথাবিরোধী নির্মোহ আলোচনা যে কোন পাঠকেরই দৃৃষ্টি  কাড়বে।<br />
সারাধণভাবে ধরা হয় নারীরা ক্ষমতাহীন, পৃথিবীর মোট সম্পদের মাত্র একভাগ  নারীদের দখলে। এ বাস্তবতাটি মেনে নিয়েই কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় দেখাতে  চেয়েছেন অঙ্কের হিসাবে যাই হোক না কেন পর্দার আড়ালে ক্ষমতার জিয়ন কাঠিটির  নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নারীর দখলে। ছলা-কলা, বিলাসচাতুরীর মাধ্যমে নারী ক্ষমতা  যাদের হাতে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে। নারীর ক্ষমতার বাহ্যিক রূপটা স্পষ্ট না  হলেও ক্ষমতাধরকে নিয়ন্ত্রণ করাটা একেবারে সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রতীয়মান  চধৎধফরংব খড়ংঃ-এ দেখা যায় ঝধঃধহ, শহড়ষিবফমব ভড়ড়ফ খাওয়ার জন্য ঊাব-কে  প্ররোচিত করে। ঝধঃধহ হাজারটা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঊাব-এর যুক্তিকে ভোতা করে।  ঊাব শহড়ষিবফমব ঋড়ড়ফ খাওয়ার পর অফধস-কে খাওয়ানোর জন্য প্ররোচিত করে এবং  সফলও হয়। এখানে লক্ষ্যণীয় ঝধঃধহ, অফধস-কে প্রতারিত করতে পারবে না বলেই  ঊাব-কে বেছে নিয়েছিল। চধৎধফরংব খড়ংঃ-এ ঝধঃধহ-কে দেখানো হয়েছে মহাশক্তিধর  হিসেবে, এড়ফ আর ঈযৎরংঃ-এর পর সবচেয়ে শক্তিধর যে ঝধঃধহ সেও অফধস-কে বশ করতে  পারবে না বলে ধরে নিয়েছিল। আর ঊাব, ঈশ্বর যাকে নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছিল  অফধস-কে সঙ্গ দেয়ার জন্য, খুব সহজেই সে অফধস-কে বিপথে নিয়ে গেল। চধৎধফরংব  খড়ংঃ-এর ইড়ড়শ রী যাদের পড়া আছে তারা নিশ্চয়ই ঊাব-এর এই অপ্রকাশ্য শক্তি  নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না।<br />
কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় হেনরিক ইবসেনের ডলস হাউজ নাটকের নোরার চরিত্র  বিশ্লেষণ করেও নারীর এ অপ্রকাশ্য শক্তিকে দেখাতে চেয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন,  নোরা কোনো সফল ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ বা ব্যাংক ম্যানেজার না হয়েও &#8216;স্পষ্ট ও  পরিণত একজন অহংকারী তথা ক্ষমতার অধিকারী ও প্রয়োগকারী ব্যক্তি।&#8217; তিনি  লিখেছেন, &#8216;নোরারও রয়েছে টোরভা-ের মতোই ক্ষমতার বোধ। টোরভা-ের বোধের  পাশাপাশি তা আরও বিচক্ষণ ও বিস্তারিত খোলামেলা সংঘাত এড়াতে গিয়েই নোরার  ক্ষমতার রূপ ও স্থান ভিন্ন হয়ে দাঁড়ায়। তা যে কম এমন কথা বলা যাবে না।&#8217;<br />
তখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারী মুক্তির ধারণায় নোরার গৃহত্যাগের তাৎপর্য  অপরিসীম। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নারীমুক্তির  আন্দোলনে নোরার গৃহত্যাগের গুরুত্বের চেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন অন্যান্য  মানুষের মতো নোরার ক্ষমতার প্রতি সহজাত আকর্ষণকে। তিনি দেখিয়েছেন নোরা আর  তার স্বামীর মধ্যে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্বযুদ্ধ চলছিল তাতে অন্যকে নিজের হাতের  পুতুল বানানোর এক সচেতন বা অসচেতন স্পৃহা নোরার মধ্যেও সদা জাগরিত ছিল।  তাই, নিজেকে অন্যের হাতের পুতুল ভেবে নোরার গৃহত্যাগ পরিহাসেরই নামান্তর।<br />
&#8220;তসলিমার &#8216;ক&#8217; নিয়ে দুঃখজনক ভ্রান্তি&#8221; প্রবন্ধে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়  সাহিত্যের স্রষ্টা এমন একজন নারীকে নিয়ে লিখেছেন যাকে নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক  হয়েছে বিস্তর। তসলিমার লেখায় বারবার উঠে এসেছে ধর্ম, মৌলবাদ,  সাম্প্রদায়িকতা, রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবনের খোলামেলা বর্ণনা, যা তাকে বারবার  করেছে বিতর্কিত। ফ্রান্সিস বেকন &#8216;ঙভ ঞৎঁঃয&#8217; প্রবন্ধে বলেছেন যে, নির্ভেজাল  সত্য (ঘধশবফ ঞৎঁঃয) আমাদের চোখকে ঝলসে দেয় এবং তা রূঢ়। সত্যে যদি মিথ্যার  খাঁদ মিশানো হয় তাহলে তা আর্কষণীয় হয়ে ওঠে। তসলিমার &#8216;ক&#8217;-তে তার ব্যক্তি  জীবনের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্কের খোলামেলা বর্ণনা হয় পাঠকের  চোখকে ঝলসে দিয়ে অন্ধ করেছে, অথবা এই আর্কষণীয় বর্ণনা পাঠককে এমন মুগ্ধতায়  ভরিয়েছে যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। তসলিমার  অধিকাংশ লেখা সম্পর্কে অবশ্য একই কথা প্রযোজ্য। ধর্ম নিয়ে তীব্র সমালোচনা  অথবা যৌন জীবন নিয়ে খোলামেলা বর্ণনা তসলিমার লেখাকে সাধারণ পাঠক হতে  প-িতমহল পর্যন্ত বিতর্কিত করেছে। আর এসবের ফলে তার বর্ণিত অনেক  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। এসব ব্যাপারে সামান্য সচেতনতা তার  লেখাকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা দিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বর্ণনাতেও লেখিকা  হতে পারত আরও সংযমী। কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আলোচনায় যে সব ব্যক্তি  তসলিমার লেখনিতে শুধু &#8216;আত্মযৌবনিক কামশাস্ত্র&#8217; খুঁজে পান, তাদের মৌলবাদ,  সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতিসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ যে সব বিষয়  নিয়ে তসলিমা লিখেছে সে দিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন।<br />
মৌলবাদের বিস্তার আর মতপ্রকাশের সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা বলেছেন তিনি,  আফ্রিকার মৌলবাদের বিস্তার নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনি দেখিয়েছেন আমাদের  দেশে যেখানে মৌলবাদ দ্রুত শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছে সেখানে অনেক  প্রগতিশীল বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবীও স্বাধীন মতপ্রকাশের অন্তরায় হয়ে  দাঁড়িয়েছে (&#8220;তসলিমার &#8216;ক&#8217; নিয়ে দুঃখজনক ভ্রান্তি&#8221; প্রবন্ধে)। ব্যক্তি  স্বাতন্ত্র্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে তাঁর আশাবাদ ইয়োরুবা  প্রবাদটির মতো, &#8216;কাউকে নিজের মতো করার প্রয়াস সে ব্যক্তিকে অপ্রীতিকর  ব্যক্তিতে পরিণত করে।&#8217;<br />
আলোচনার শুরুতে বলেছিলাম সমস্যাগুলোকে নির্মোহ, যুক্তিপূর্ণ দৃষ্টিতে বিচার  করতে হবে। কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নারীবাদ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে  ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বৈষম্য-বঞ্চনার বিরোধিতা  প্রতিবাদের ধারায় যে নারীবাদের জন্ম, তা নিজেই এখন অনেক বঞ্চনার জন্ম  দিচ্ছে। লেলিন যেমন বলেছিলেন &#8216;ঞযব ড়ঢ়ঢ়ৎবংংবফ ধৎব ঃযব ঢ়ড়ঃবহঃরধষ  ড়ঢ়ঢ়ৎবংংড়ৎং&#8217;। যে বাংলা ভাষার জন্য একসময় আমরা রক্ত দিয়েছি, সেই বাংলা ভাষাই  এখন সংবিধানের একমাত্র স্বীকৃত ভাষা, অথচ বাদবাকি ৪৬টি ভাষার কোনো  স্বীকৃতি দিচ্ছি না আমরা। আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা তাই অপরিসীম। কাজল  বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,<br />
&#8216;গোড়ামী, রক্ষণশীলতা ইত্যাদি প্রশ্নে আপন দেশবাসী কিংবা সম্প্রদায়কে কষাঘাত  করতে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুয়ের কেউই দ্বিধা করেননি। বেগম  রোকেয়ার  নারীবাদও এ কারণেই বিশিষ্ট, তা শুধু আঙুল  তুলেই শেষ করেনি;  নারীদের অনেক ব্যর্থতা, আপন সম্প্রদায়-সদস্যদেরও রোকেয়া একই উচ্চকণ্ঠে  নির্দেশ করেছেন।&#8217;<br />
[এক পূর্ণ গ্রাস : জন্মদিনে পুনর্দর্শন]<br />
বইটি প্রবন্ধ সংকলন হলেও কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় যে একজন কবি তার পরিচয় পাওয়া  যায় সহজেই। কোনো কোনো প্রবন্ধের ভাষা কাব্যধর্মী আবার কোনো কোনো বাক্য  গঠনে দেখা যায় কবিতার ভাষা। নিঃসন্দেহে কাব্যধর্মী ভাষা বইটিকে বিশিষ্টতা  দিয়েছে।<br />
নারী, নারীবাদ ও ক্ষমতা নিয়ে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনা অনেকেরই  গাত্রদাহের কারণ হতে পারে। তবে তিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ আলোচনা করেছেন তার  যথার্থ উপলব্ধিই হতে পারে বইটির জন্য সর্বোত্তম শুভ কামনা।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভাষা প্রসঙ্গ &#8211; বিতর্কের অন্তরালে</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 16 Mar 2010 11:33:19 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আহমদ শরীফ]]></category>
		<category><![CDATA[পারিজাত প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষাবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=484</guid>
		<description><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সমকামিতা:একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 10:28:30 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অভিজিৎ রায়]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[শুদ্ধস্বর]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=529</guid>
		<description><![CDATA[ বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে :
‘সমকামিতা’ বইটির নামকরণের মধ্যেই রয়েছে লেখকের অনুসন্ধিৎসু  			মননের এবং প্রথাভাঙ্গা বিষয়বস্তুর নির্দেশ। আধুনিক জীববিজ্ঞান এবং  			মনোবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক তথ্যের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এ বিষয়টির উদ্ভব  			এবং অস্তিত্বকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। বৈজ্ঞানিক আলোচনার পাশাপাশি লেখক  			আর্থ-সামাজিক, সমাজ-সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং মনোস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন  			দিক সুচারুভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রাণীজগতে সহস্রাধিক প্রজাতিতে যে [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong> বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে :</strong></p>
<p>‘সমকামিতা’ বইটির নামকরণের মধ্যেই রয়েছে লেখকের অনুসন্ধিৎসু  			মননের এবং প্রথাভাঙ্গা বিষয়বস্তুর নির্দেশ। আধুনিক জীববিজ্ঞান এবং  			মনোবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক তথ্যের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এ বিষয়টির উদ্ভব  			এবং অস্তিত্বকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। বৈজ্ঞানিক আলোচনার পাশাপাশি লেখক  			আর্থ-সামাজিক, সমাজ-সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং মনোস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন  			দিক সুচারুভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রাণীজগতে সহস্রাধিক প্রজাতিতে যে  			সমকামিতার অস্তিত্ব রয়েছে তা এখন অনেকেই জানেন। মানব সভ্যতাও কিন্তু এই  			ধারার ব্যতিক্রম নয়। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সভ্যতা থেকে শুরু করে  			প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় সমকামিতার অস্তিত্বের  			পাশাপাশি, আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাস থেকেও করা হয়েছে সমকামিতার উৎসের  			নিবিড় অনুসন্ধান।</p>
<p>কিন্তু  			সমকামী মানুষদের যাত্রাপথ এবং তাদের যৌনতার স্বীকৃতির ব্যাপারটি  			কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না। ইতিহাস এবং সমাজ পরিক্রমার পটভুমিকায় সারা  			বিশ্ব জুড়ে সংখ্যালঘু যৌনপ্রবৃত্তির মানুষগুলোর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এ  			বইয়ে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জীবনের যে স্বাভাবিক  			প্রবৃত্তিকে বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার এবং অজ্ঞানতার অপশাসনে এতোদিন  			দীর্ণ করে রাখা হয়েছিলো, লেখকের যুক্তিনিষ্ঠ লেখনীতে বাংলায় প্রথমবারের  			মতো প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো শক্তিশালী এক সামাজিক ট্যাবুকে।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 01:38:41 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আবদুল্লাহ আল-হারুন]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[র‌্যামন পাবলিশার্স]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=434</guid>
		<description><![CDATA[মৃত্যু নিয়ে যত কথা
মুনিয়া মাহমুদ
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় একটি ব্যতিক্রমি বই নজরে এসেছে । বইটি সম্পূর্ণ মৃত্যু বিষয়ে লেখা । মৃত্যু নিয়ে প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা আছে, নিকটজনের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে। তবে আমাদের মতো অনুন্নত দেশে মৃত্যু নিয়ে তেমন ব্যাপক গবেষণা হয়নি বা হওয়ার মতো পরিবেশ হয়তো সেখানে তৈরী হয়নি । আমরা [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>মৃত্যু নিয়ে যত কথা</strong><br />
মুনিয়া মাহমুদ<br />
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় একটি ব্যতিক্রমি বই নজরে এসেছে । বইটি সম্পূর্ণ মৃত্যু বিষয়ে লেখা । মৃত্যু নিয়ে প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা আছে, নিকটজনের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে। তবে আমাদের মতো অনুন্নত দেশে মৃত্যু নিয়ে তেমন ব্যাপক গবেষণা হয়নি বা হওয়ার মতো পরিবেশ হয়তো সেখানে তৈরী হয়নি । আমরা সম্পূর্ণ ধর্মীয় আলোকে মৃত্যুকে দেখি এবং সেটা কারো কারো মনে মৃত্যুভীতির সৃষ্টি করে । সেজন্য আমরা কখনই আমাদের মৃতু্যূর কথা নিজেরাও ভাবতেও পারি না । বা আলোচনাও করতে চাই না । আমাদের অবচেতন মন সবসময় মৃত্যুকে এড়িয়ে চলে । দূরের কেউ মারা গেলে ‘ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না লিল্লাহে রাজেউন’ বলেই মনকে খালাস করে দেই, আর কাছের কেউ হলে শোকের সাগরে ডুবে যাই ।<br />
আবদুল্লাহ আল-হারুনের জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে বইটি সম্পূর্ণ মৃত্যুবিষয়ক একটি পাঠযোগ্য বই । মৃত্যু নিয়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল সহ অসংখ্য সাহিত্যিক অনেক কথাই লিখেছেন কিন্তু বাংলা ভাষায় লেখা একটি পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুবিষয়ক গবেষণামূলক বই এই প্রথম আমার চোখে পড়লো।<br />
বইটিতে বাস্তব জ্ঞানের ভিত্তিতে মৃত্যুকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে । অনেক রোগী আছেন যাদেরকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছেন, যাদের ব্রেন ডেড হয়ে গিয়েছে, অলৌকিকভাবে তাদের জ্ঞান ফিরে এসেছে এবং তারা যা বলেছে ওই মৃতপ্রায় সময়টি সম্পর্কে তা অবিশ্বাস্য রকম সত্য। নিখুঁতভাবে তারা বর্ণনা করেছে এবং তা মিলে গিয়েছে ওই সময়কার ঘটনার সাথে । পৃথিবীতে ফিরে এসে বেশীর ভাগই মানুষ খুশি হয়েছে, তবে যারা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, তারা ফিরে এসে প্রচন্ড ব্যথার মুখোমুখি হতে চাননি । তাদের কাছে ওই সময়টাই ছিলো এক স্বর্গীয় সময় ।<br />
বইটিতে মৃত্যুর বিভিন্ন পর্যায় পুংখানুপুঙ্খরুপে বর্ণনা করা হয়েছে । প্রথম পর্যায়ে রোগীর রোগকে অস্বীকৃতি, ডাক্তারকে অবিশ্বাস, দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীর ক্রোধ ‘কেন তারই এই রোগ হোল, অন্য কারো হলো না কেন ?’ তৃতীয় পর্যায়ে সবকিছু মেনে নেয়া ও চতুর্থ পর্যায়ে বিষাদগ্রস্ত হওয়া, পঞ্চম ও শেষ পর্যায়ে মৃত্যুকে স্বীকৃতি দেয়া, ইত্যাদি।<br />
আবদুল্লাহ আল-হারুন দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশী সময় ধরে জার্মানীতে আছেন এবং উনি একজন হজপিস কর্মী । ইউরোপ ও আমেরিকাতে হজপিস সংগঠন মূলত একটি সমাজসেবামূলক মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র যা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গীর্জা কর্তৃক চালিত । হজপিস সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে একজন মৃতপথযাত্রী মানুষকে হাত ধরে জীবনের অন্য প্রান্তে শান্তির সাথে পৌছে দেয়া । একজন মানুষের যখন মৃত্যুসময় ঘনিয়ে আসে এবং ডাক্তারের ভাষায় তার বেঁেচ থাকার আর কোন সম্ভাবনাই নেই তখন তারা হজপিস ভবনে এসে হজপিস কর্মীদের অসীম ধৈর্য, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সেবায় জীবনের শেষ মুহুর্তগুলো সেখানে কাটান । সেখানে তাদেরকে কোন মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয় না । তাদেরকে বলা হয় যে তাদের জীবন পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একটি নতুন জীবনের দ্বারপ্রান্তে তারা এখন এসে উপস্থিত হয়েছেন । মৃত্যুর সময়ে রোগীর কথা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে একজন হজপিস কর্মী শোনেন এবং মৃত্যু পরবর্তী তার ছেলেমেয়েদের কাছে বা বিশেষ কারো কাছে মৃতের শেষ ইচ্ছা জানান । এসম্মন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা বইটিতে দেয়া হয়েছে । হজপিস কর্মী হিসাবে লেখক তার অসীম ভালোবাসায় অসংখ্য মৃত্যুপথযাত্রীকে জীবন মরণের মধ্যবর্তী নড়বড়ে, ঝুলন্ত সেতু পার করিয়ে দিয়েছেন।<br />
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে আর কিছু না থাক, অন্তত একটা ক্ষেত্রে আমরা মাথা উচুঁ করে বলতে পারি যে আমাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন এখনো অটুঁট রয়েছে। আমাদের কেউ মারা যাওয়ার সময় ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীতে বাসা এখনও ভর্তি হয়ে যায় যেটা গোটা ইউরোপ, আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বে প্রায়ই অনুপস্থিত । পশ্চিমা বিশ্বে বুড়ো-বুড়িরা তাদের শেষকৃত্য সম্পাদনের খরচাপাতি আগেভাগেই বিভিন্ন ফিউনেরাল হোমকে দিয়ে যায় কারণ তারা ভালো মতোই জানে যে তার মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদেরও কোন খবর থাকবে না। আর মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌছে সংগত কারণেই হজপিস ছাড়া আর কোন গতি থাকে না এই অসহায় মানুষদের ।<br />
বইটির শেষে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মারণ ব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত আনা মারির মৃত্যুর সাথে যুদ্ধের অসীম সাহসের কাহিনী । ক্যান্সারের সাথে সাড়ে চার বছর যুদ্ধের পর তিনি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন কিন্তু মৃত্যুকে একটুও ভয় না করে এক পৃথিবীতে থেকে বিদায় নিয়ে অন্য পৃথিবীতে যাওয়ার ব্যপারে তিনি বরঞ্চ একটু কৌতূলীই ছিলেন এবং সে কারণেই প্রশান্তির সাথে অন্যলোকে পাড়ি জমান ।<br />
আনা মারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর তার কাজকর্মের পরিধি বাড়িয়ে দিলেন কারণ তিনি জানেন যে তাঁর সময় সীমিত । এই সময়ে তিনি মনকে নিরুদ্বেগ রাখার জন্য নানা ধরনের ব্যায়াম ও যোগাসন করতেন । তিনি একজন রোগীর মতো জীবন যাপন করতেন না । এ সময়ে তার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো স্বামী ও মেয়েদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি । নিঃসন্দেহে এ দিক থেকে আনা মারি ভাগ্যবতি ছিলেন । আনা মারির অসম্ভব মনের জোর ছিল এবং তিনি নতুন ক্যামোথেরাপি গ্রহণ করেন নি । নতুন ক্যামো গ্রহণ করলে তিনি হয়তো আরো কিছু বেশী দিন বাঁচতেন কিন্তু তিনি সেটা না করে বাসায় প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে থাকলেন। আনা মারির শেষ সময়ে তাকে বিদায় দেয়াটা তার স্বামী ও মেয়েদের জন্য মোটেও কঠিন মনে হয়নি । তারা আনা মারির অমানুষিক কষ্ট দেখে ভাবতো যে একমাত্র মৃত্যুই তাকে পরম শান্তি দিতে পারে । আনা মারিকে চিরবিদায় দেয়াটা সবাই মনের দিক থেকে মেনে নিয়েছিল ।<br />
আনা মারির মৃত্যুর মুহুর্তটি, শেষদিনগুলি, শেষ মুহুর্তগুলি , মৃত্যুর পরের দিনগুলি, শেষকৃত্য সহ আনা মারির মেয়েদের কথা আবদুল্লাহ আল-হারুনের হৃদয়স্পর্শী সহজবোধ্য ভাষায় খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে যা একজন পাঠকের মনোযোগ অন্যদিকে ধাবিত করবার অবকাশ রাখে না । তবে আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেখকের সাথে একমত নই যখন উনি বলেছেন মৃত্যুকে ভয়ের কিছু নেই এবং মৃত্যুকে পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা ইত্যাদি ইত্যাদি । কারণ আমার মতে মৃত্যু ও ভয় একই বৃন্তে অবস্থানকারী । তবে জন্মিলে মরিতে হয়, এটা ধ্র“ব সত্য । অপ্রিয় হলেও সত্য যে দূরারোগ্য ব্যাধি হলে অমানুষিক শারীরিক কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য তখন মৃত্যুই একজন ব্যক্তির কাম্য হয়ে যায় । এখন অনেকেই মৃত্যুর আগে লাইফ সাপোর্ট না দেয়ার জন্য লিখিত আবেদন করে রাখেন ।<br />
মৃত্যুভীতি মানবজীবনের এক স্বাভাবিক অনুভূতি। এটা না থাকলে পৃথিবীতে মানুষে মানুষে হানাহানি আরো বাড়তো । মৃত্যুভীতি না থাকলে কেউ আর খাবার-দাবার কন্ট্রোল করতো না । ডায়াবেটিস রোগীরা ইচ্ছামতো মিষ্টি খেত আর বলতো মরবোই যখন খেয়েই মরি ! এত খাদ্যসচেতনতা কারো মধ্যেই আসতো না যদি মানুষের এই পৃথিবীতে বাঁচার আকুতি না থাকতো । মোটকথা মৃত্যুভয় না থাকলে কোন সভ্যতা গড়ে উঠতো না । ছোটবেলায় পড়া এক জাপানি উপকথা এই মুহুর্তে আমার মনে আসছে । মৃত্যুদেবতা একজনের সামনে আসলে সে মৃত্যুদেবতাকে অনুরোধ করে তাকে মৃত্যু না দিতে । মৃত্যুদেবতা রাজী হয় এবং তাকে একটা দ্বীপে ফেলে আসে যেখানে সে হাজার হাজার বছর কোন মৃত্যুর মুখোমুখি হবে না । শ শ বছর বাচঁতে বাচঁতে সে রীতিমতো মহাবিরক্ত । আর সে বাচঁতে চায় না । একদিন সে মৃত্যুদেবতাকে বলল, আমি মৃত্যু চাই। মৃত্যুদেবতা তাকে বলল তুমি দ্বীপের বাইরে যাও । সে একটা নৌকা নিয়ে সমুদ্র পার হতে গেলো । মাঝ সমুদ্রে প্রচন্ড ঝড় উঠলো । নৌকা ডুবোডুবো । সে মৃত্যুভয়ে চিৎকার করছে, আমাকে বাচাঁও, আমাকে বাচাঁও ! আমি মরতে চাই না । মৃত্যুদেবতা তখন হাসে আর বলে তুমি তো এই চেয়েছিলে, বাছা !<br />
যেহেতু লেখক খুব অল্পসময়ের মধ্যে বইটি বের করেছেন, কিছু কিছু বানান ভুল লক্ষনীয় । আশা করি বইটির পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো সংশোধিত করা হবে । প্রচ্ছদটি বইটির নামকরণ ও উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয়। লেখকের কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই বই । সবশেষে বলতে চাই জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে একটি সংগ্রহে রাখার মতোই বই এবং আমি এই বইটির বহুল সাফল্য কামনা করি ।<br />
প্রচ্ছদ: সুকন্যা আইন, সোহেল রানা রিপন ।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 03 Mar 2010 02:24:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অবসর প্রকাশনা]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[শহীদ কাদরী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=438</guid>
		<description><![CDATA[বইটি নিয়ে মারুফ রায়হান বাংলামাটি এপ্রিল ২০০৯ সংখ্যায় &#8220;প্রিয়তমা স্বদেশের উদ্দেশে কবির চুম্বন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হাজারে হাজার নতুন বইয়ের জন্ম হয়ে থাকে, কিন্তু আমরা সানন্দে বলতে পারি না যে এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রন্থের জন্ম সার্থক হয়েছে। মাসব্যাপী হৈহুল্লোড় শেষে মার্চে এসে স্বল্প সংখ্যক বইকেই আমরা একুশের অর্জন হিসেবে শনাক্ত করতে সমর্থ [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বইটি নিয়ে মারুফ রায়হান <a href="http://www.banglamati.net/april-09/book.php" target="_blank">বাংলামাটি এপ্রিল ২০০৯ সংখ্যায় </a>&#8220;প্রিয়তমা স্বদেশের উদ্দেশে কবির চুম্বন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:</p>
<p>অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হাজারে হাজার নতুন বইয়ের জন্ম হয়ে থাকে, কিন্তু আমরা সানন্দে বলতে পারি না যে এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রন্থের জন্ম সার্থক হয়েছে। মাসব্যাপী হৈহুল্লোড় শেষে মার্চে এসে স্বল্প সংখ্যক বইকেই আমরা একুশের অর্জন হিসেবে শনাক্ত করতে সমর্থ হই; সামান্য কিছু গ্রন্থই আমাদের জন্য অসামান্য সুখকর সংবাদ হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষিতে নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে কবি শহীদ কাদরীর চতুর্থ বা সর্বশেষ কবিতাগ্রন্থ ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ আমাদের সাহিত্যের জন্যে একটি বড় সুসংবাদ। কারণ এই কবি তিন দশকেরও অধিককাল ধরে স্বেচ্ছানির্বাসিত জীবনযাপন করছেন স্বদেশের বাইরে; একইসঙ্গে বিবেচ্য বিষয় হলো এই তিন দশক ধরে বাংলা কবিতার পাঠকেরা তাঁর একটি গোটা কবিতার বই থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। তার ওপর আমরা জেনেছি যে সত্তর-ছুঁইছুঁই কবিকে প্রতি সপ্তাহে গুণে গুণে তিনদিন হাসপাতালে গিয়ে বিশেষ চিকিৎসা নিতে হয় বিকল জোড়া-কিডনির সুশ্রূষায়। সব মিলিয়ে তাই কবিতার বই প্রকাশের ভেতর দিয়ে নিউইয়র্কবাসী শহীদ কাদরীর বাংলাদেশের কাব্যাঙ্গনে প্রত্যাবর্তন তাঁর সুহৃদ, আত্মীয় এবং কবিতানুরাগীদের জন্যে বড় আনন্দ সংবাদ। বইটি নিয়ে আলোচনায় প্রবেশের আগে সঙ্গত কারণেই আমরা একটু পিছনের দিকে ফিরে তাকাবো।</p>
<p>মধ্যপঞ্চাশে কয়েকটি কবিতাপ্রকাশের মধ্য দিয়ে সদ্যকৈশোর-উত্তীর্ণ কবি শহীদ কাদরীর তোলপাড়-তোলা আত্মপ্রকাশ। একই সময়ে দুই অগ্রজ শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদের সঙ্গেও তাঁর সুখ্যাত সখ্যের শুরু। কবিতায় আধুনিক নগরজীবনের রূপকার শামসুর রাহমানের প্রথম গ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ষাট সালে। অন্যদিকে শহীদ কাদরীর প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘উত্তরাধিকার’ বেরোয় তার ঠিক সাত বছর পর। সেকালে এই দুই কবির কাব্যমানস ও কাব্যরসদ নিয়ে তুলনামূলক আলোচনার কারণেই হয়তো এই দু’জনকে অনেকে সমসাময়িক কবি বলে মনে করে থাকেন। প্রকৃত অর্থে এঁরা দু’জন যথাক্রমে পঞ্চাশ ও ষাট দশকের নতুনতম কবিতার উজ্জ্বলতম প্রতিনিধি। যে কোনো কবির ক্ষেত্রে অভিষেক গ্রন্থটি, আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, প্রবেশক কবিতাটি এক ধরনের ইশতেহার এবং কবিজন্ম-পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনার দাবী রাখে। সে-সূত্রে শামসুর রাহমানের ‘রূপালী স্নান’ কবিতাটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল জীবনানন্দ-জগৎ থেকে একজন রোম্যান্টিক কবির জন্ম হলেও এতে রয়েছে শুদ্ধতাবাদের সঙ্গে সমকালীনতার একটি মনকাড়া মিশেল। দুটি চরণ পাঠ করা যাক : ‘&#8230;যদিও আমার দরজার কোনে অনেক বেনামি/ প্রেত ঠোঁট চাটে সন্ধ্যায়, তবু শান্ত রূপালী স্বর্গ-শিশিরে স্নান করি আমি।’ অন্যদিকে শহীদ কাদরীর ‘উত্তরাধিকার’ কবিতাটি প্রবলভাবে ব্যক্তিত্বস্পৃষ্ট; এই কবি যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং দেশভাগের তিক্ত বেদনার্ত উত্তরাধিকার বহন করছেন সেটা তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রকাশিত কবিতাটিতে। বাস্তুহীন বেঁচে থাকার নিষ্করুণ অভিঘাত ঘটে সূচনাকালেই। প্রথম স্তবকটি লক্ষ্য করুন : ‘জন্মেই কুঁকড়ে গেছি মাতৃজরায়ন থেকে নেমেÑ/ সোনালি পিচ্ছিল পেট আমাকে উগ্ড়ে দিলো যেন/ দীপহীন ল্যাম্প্পোস্টের নিচে, সন্ত্রস্ত শহরে/ নিমজ্জিত সব কিছু, রুদ্ধচক্ষু সেই ব্ল্যাক-আউটে আঁধারে।’</p>
<p>এখন লক্ষণীয় হলো এই দুই শক্তিমান নাগরিক এবং আধুনিক কবিই নিজ অস্তিত্ব ও পারিপার্শ্ব সম্পর্কে অসন্তুষ্ট এবং কিছুটা বিপন্ন ও বিব্রত। তবে উভয় কবির প্রাথমিক কবিত্বশক্তির তুলনা করলে দেখবো একজনের ভেতর রয়েছে মিহি ভাবালুতা, অতিকথন এবং বাংলা কবিতা-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা; অন্যজন ঋজু, একচুল পরিমাণও বাড়তি শব্দ ব্যবহারে অসম্মত এবং পরিপূর্ণভাবে ভাবাবেগবর্জিত ও মননময়। পরবর্তীকালে আমরা পাশাপাশি সন্তোষ ও অপ্রাপ্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ করবো যে এই দুই শক্তিমানের একজন ক্রমশ নিজেকে বদলে ফেলে-ফেলে জনতার কবি হয়ে উঠছেন এবং হৃদয়ের সঙ্গে রাজপথকে জড়িয়ে নিয়েছেন। ক্রমান্বয়ে তিনি পরিণত হয়েছেন স্বদেশের ‘দায়িত্বশীল’ প্রধান কবিকণ্ঠে। অপরজন তৃতীয় কাব্যটি প্রকাশের অব্যবহিত পর বেছে নেন স্বেচ্ছানির্বাসন, স্বদেশ থেকে বহুদূর চলে যান, এমনকি আপাতবিচারে কবিতাবিশ্ব থেকেও। কবিতাবিচার সংখ্যা দিয়ে হয় না এটা মানলেও যুদ্ধধ্বস্ত ও রক্তস্নাত একটি নতুন দেশের বয়সী হয়ে ওঠা এবং তার জনমানুষের মনোজগতে পরিবর্তনের পর্যায়টিতে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি শহীদ কাদরীর শুভানুধ্যায়ীদের জন্যে সকরুণ হয়ে ওঠে। তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন যে কবিতার পথে বুঝি আর কাদরীর পদচিহ্ন পড়বে না। যাহোক, ছত্রিশটি কবিতা মলাটবন্দি করে কবি তাঁর সপ্রেম সবিনয় নিবেদনের দৃষ্টান্ত রেখেছেন শেষাবধি।</p>
<p>সুদীর্ঘ নীরবতার পর সপ্রতিভ ও স্বকীয়তায় প্রোজ্জ্বল কবি শহীদ কাদরীর নতুন কবিতার বই স্বাভাবিকভাবেই কবিতাপ্রেমীদের আগ্রহের কারণ হবে। এই গ্রন্থে কবির কণ্ঠে মূল যে-স্বরটি প্রকাশিত তার পর্যালোচনায় গেলে আমরা বুঝবো যে প্রবাসযাপনে বিপর্যস্ত এক প্রাজ্ঞ প্রবীণ তাঁর প্রিয়তমা মাতৃভূমির সুখস্মৃতিমগ্ন, যদিও তার ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে একইসঙ্গে গভীর অভিমান এবং প্রত্যাবর্তনের তৃষ্ণা। তবে সকল কিছু ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে স্বদেশভূমির জন্যে যুগপৎ শঙ্কা ও কল্যাণভাবনাই। ‘ভ্রাতৃরক্তে সিক্ত মাতৃভূমি’Ñ চরণধ্বনি প্রতিধ্বনিত তাঁর বেশ কিছু কবিতায়। বাঙালিত্ব নিয়ে তিনি গর্বিত ও সুখী হলেও বাঙালির নিষ্ঠুরতা তাঁকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বিমূঢ় কবির উচ্চারণ :<br />
তাদের পরনে ছিল ইউনিফর্ম,<br />
বুট, সৈনিকদের টুপি,<br />
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছিল,<br />
তারা ব্যবহার করেছিল এক্কেবারে খাঁটি বাঙালির মতো,<br />
বাঙলা ভাষা। অস্বীকার করার উপায় নেই ওরা মানুষের মতো<br />
দেখতে, এবং ওরা মানুষই,<br />
ওরা বাঙলার মানুষ&#8230;<br />
(হন্তারকদের প্রতি, পৃ. ২২)<br />
অন্তরে স্বদেশ চিরজাগরুক না থাকলে কবিতা কেন, কোনো শিল্পকর্মই সৃজন করা সম্ভবপর নয়। আমরা ভুলে যাচ্ছি না যে, ধর্মভেদনীতির ফলশ্র“তিতে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়া এক দেশ থেকে অন্য দেশে কিছুটা বিলম্বে হলেও শেষ পর্যন্ত আসতে বাধ্য হন শহীদ কাদরীর পিতা। বালক কাদরীর হৃদয়ে যা গেঁথে দেয় অচিকিৎস্য গভীর ক্ষত। বহু বছর পরেও দীর্ঘ পরবাসজীবনের অন্তিমে তাঁর স্বগৃহে ফেরার কালে একই ক্ষত জীবন্ত হয়ে ওঠে। সৎ কবি বলেই তিনি এই গভীর সত্যটিকে আড়াল করেন না; বলেন, ‘যতবার আমি ঘরের নিকটবর্তী হই/ কুয়াশা আক্রান্ত সেই বারান্দায় রয়েছে দাঁড়ানো আজো/ একটি অস্পষ্ট ছায়ামূর্তিÑ একদা কৈশোরে/ যে আমাকে জানিয়েছিল বিদায়, সেই ছায়ামূর্তি/ আজো, এখনো, আমাকে লক্ষ্য ক’রে উড়িয়ে চলেছে একটি বিদায়ী রুমাল।’ তবু নিজের মাতৃভূমি তাঁর কাছে প্রিয়তমাতুল্যÑ বিব্রত ও রোরুদ্যমান সেই প্রিয়তমার উদ্দেশেই তিনি তাঁর ‘সংরক্ত চুম্বনের অন্তর্লীন আগুনগুলোকে’ পৌঁছে দিতে চান। তিনি জানেন পরবাসযাপন কত যন্ত্রণাদগ্ধ হতে পারে। বিজন বিভূঁইয়ের জীবন হয়ে ওঠে ‘বিব্রত’ ও ‘নতজানু’। ‘দেখতে শুনতে হুবহু বাঙালি কৈ ও মাগুর মাছের মতো কালো’ হলেও বর্ণবাদী দেশে কাকও মার্কিন নাগরিক বটে! বাংলা শব্দের জন্যে এমন সপ্রেম আর্তি শহীদ কাদরীতে আমরা আগে এত তীব্রভাবে পেয়েছি কি? ‘মার্কিনি ভাষায় কিচিরমিচির করা’ চড়–ইকে বাংলা বুলি শেখানোর জন্য তিনি ছটফট করে ওঠেন; একই কবিতার উপসংহারে তাঁর উচ্চারণ আর্তনাদের মতো শোনায় :</p>
<p>কাউকে বিশ্বাস নেই আর এই বিরূপ বিদেশে।<br />
তবু বলি: যদি পারো,<br />
হে নন্দিত মেঘ তুমি নেমে এসো<br />
শ্রাবণে শ্রাবণে তুমি, হে বন্ধু স্পন্দিত করে দাও<br />
এই অফুরান পরবাস।<br />
(প্রবাসের পঙক্তিমালা, পৃ. ৪৬)</p>
<p>স্বাভাবিক ও সমীচীনই মনে হয় যখন কবি ঘুরে ঘুরে কবিতায় কথা বলেন দেশত্যাগের কারণ সম্মন্ধে, কৌশলে প্রকাশ করেন বন্ধুদের প্রতি তাঁর পুঞ্জিভূত তীব্র অভিমান। ‘স্বগতোক্তি’, ‘তাই এই দীর্ঘ পরবাস’, ‘স্বপ্নে-দুঃস্বপ্নে একদিন’Ñ এই তিনটি কবিতায় তার মাত্রা পায় চূড়ান্ত রূপ। তবু শেষ পর্যন্ত কবি-আত্মা দৃঢ়ভাবে জানায়Ñ ‘কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর’। নির্বাসন যে কত মর্মস্পর্শী ও ভয়াবহ হতে পারে তার প্রকৃত স্বরূপ কবি ছাড়া আর কে চেনাতে পারে! তার বিবরণ হয়ে উঠেছে স্বদেশপ্রেমী ও স্বদেশমুখি সমস্ত বাঙালি সত্তার নিবিড়তম উপলব্ধি। কী সাংকেতিক ও সাঙ্গীতিকই না এইসব উচ্চারণ : ‘জুঁই, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা কিংবা কাঠগোলাপ থেকে/ টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া অথবা ক্রিসেনথিমামে/ নিজস্ব শহর থেকে অচেনা ফুটপাথে/ এশিয়ার আকাশে ময়ূর নীল থেকে/ কুয়াশাচ্ছন্ন পাশ্চাত্যে/ না, কোনো নির্বাসনই/ কাম্য নয়/ আর।’ (কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর, পৃ. ৩৭)</p>
<p>শহীদ কাদরীর পূর্বের তিনটি গ্রন্থকে (উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা এবং কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই) পাশে রেখে যদি পড়ি ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ তবে নবযাত্রার এই বইটিতে কোমলগন্ধি লিরিকের সন্ধান পাবো। অক্ষরবৃত্তের শক্তি আমরা দেখেছি কাদরীতে। এমনকি অন্তমিল ও অন্তরমিলের যাদুও। চিত্রকল্পের চমৎকারিত্ব-ভরা তাঁর কবিত্বে মোহিত হয়েছি আমরা বহুবার। এই কবিতাগুলোয় প্রবলভাবে তার দেখা না মিললেও বুঝতে অসুবিধে হয় না যে সেই অভিন্ন পরাক্রম কবির কলম থেকেই নিঃসৃত হয়েছে এইসব বুদ্ধিদীপ্ত সুসম্পাদিত পঙ্ক্তিমালা। মিলের মিষ্টতা ও চিত্তাকর্ষক চিত্রকল্প থেকে অন্তত দু-একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চাই।<br />
১.<br />
বলতে পারো আমিও নাছোড়বান্দা<br />
নানা দেশে ও বিদেশে ঘুরে<br />
বিভিন্ন ধরনের ধান্দা জানা আছে আমারও<br />
অতএব বলছি, আবারো বলছি:<br />
আমি ভ্রম্যমাণ&#8230;<br />
(নিরুদ্দেশ যাত্রা, পৃ. ৬৪)</p>
<p>(বাঁকা হরফ ও নিম্নরেখা দিয়ে মিলগুলো দেখানো হয়েছে।)</p>
<p>২.<br />
তোমার জবার মতো চোখে রাঙা শ্রাবণের জল<br />
পালতোলা নৌকার মতন বাঁকাচোরা ঢেউয়ে ঢেউয়ে কম্পমান<br />
তোমার বিপদগ্রস্ত স্তন।<br />
(আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও, পৃ. ১৭)</p>
<p>৩.<br />
সেই এক সময় ছিল যখন বাংলা ভাষা থেকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল<br />
বাংলা ভাষাকেই। সরকারি উর্দিপরা বিদেশী সৈনিকের মতো ভারী বুট পরে<br />
সদর্পে কুচকাওয়াজ করে বেড়িয়েছে আমাদের অচেনা শব্দগুলো<br />
(একে বলতে পারো একুশের কবিতা, পৃ. ২০)</p>
<p>সাত সাগরের ক্ষুব্ধ তরঙ্গে আছড়ে পড়া হারিয়ে যাওয়া বাংলা কবিতার রাজপুত্র অন্তহীন নক্ষত্রবিহীন যাত্রা শেষে আবার ফিরে এসেছেন আপন মাতৃক্রোড়ে, নিজস্ব ঠিকানায়। ‘অন্তত আরো দুই সেকেন্ড আমাকে বাঁচতে দিন’Ñ না, এভাবে আর বলবেন না প্রিয় কবি। আপনি শতায়ু হোন বাংলা কবিতার স্বার্থেই। কবিকে আবারো বলি, অভিনন্দন, সুস্বাগতম।</p>
<p>প্রচ্ছদ : কাইয়ুম চৌধুরী</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সুকথাই চিয়াংমাই : থাইল্যান্ড ঘুরে বেড়ানো</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 03 Mar 2010 01:53:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অবসর প্রকাশনা]]></category>
		<category><![CDATA[ভ্রমণ]]></category>
		<category><![CDATA[মঈনুস সুলতান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=428</guid>
		<description><![CDATA[এই বইটি নিয়ে &#8220;মঈনুস সুলতানের সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত&#8221; শিরোনামে বাংলামাটি জুলাই ২০০৯ সংখ্যায় একটি আলোচনা প্রকাশ করে:
মঈনুস সুলতান বিগত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবে ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করে চলেছেন দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে। ভ্রমণপিপাসু এই কথাসাহিত্যিক মৌলভিবাজারের সন্তান। প্রকৃতই তিনি মৌ-লোভীÑ সৌন্দর্যের, শিল্পের এবং নতুনত্বের মধু তিনি পান করে চলেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে। এবারের বইমেলায় [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>এই বইটি নিয়ে &#8220;মঈনুস সুলতানের সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত&#8221; শিরোনামে <a href="http://www.banglamati.net/July-09/book.php" target="_blank">বাংলামাটি জুলাই ২০০৯ সংখ্যায়</a> একটি আলোচনা প্রকাশ করে:<br />
মঈনুস সুলতান বিগত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবে ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করে চলেছেন দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে। ভ্রমণপিপাসু এই কথাসাহিত্যিক মৌলভিবাজারের সন্তান। প্রকৃতই তিনি মৌ-লোভীÑ সৌন্দর্যের, শিল্পের এবং নতুনত্বের মধু তিনি পান করে চলেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে। এবারের বইমেলায় তাঁর যে ভ্রমণবৃত্তান্তটি বেরুলো (সুকথাই চিয়াংমাই : থাইল্যান্ডে ঘুরে বেড়ানো) তাতে সন্নিবেশিত দু’ডজনেরও বেশি স্বাদু রচনা থেকে যে কোনো একটি লেখা পড়লেই পাঠকের বুঝতে এতটুকু দেরি হবে না যে এই লেখক একজন অভিযানপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে সাহিত্যের সৌরভ পাওয়া যায়। সত্যি বলতে কি গত কয়েক দশক ধরে বাঙালির ভ্রমণ-পরিধি ও পিপাসা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। কিন্তু কয়জনা আর সে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন অন্যের সঙ্গে। বিচিত্র লেখা, নিয়মিত লেখা এবং লেখার প্রাসাদগুণÑ সব মিলিয়ে বাঙালি পাঠকের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন এই লেখক। আজকের প্রজন্মের পাঠকেরা অবশ্য জানেন না যে সত্তর ও আশির দশকে মঈনুস সুলতান বেশ কিছু ছোটগল্প লিখেছিলেন। এখন তাঁর ভ্রমণকাহিনীর ভেতরেই জায়গা করে নিচ্ছে গল্পের স্বাদ, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান।<br />
শুধু গল্পের কথাই বা বলি কেন, কবিতার সৌগন্ধও মেলে তাঁর লেখায়। মনোমুগ্ধকর কাব্যিক সব নাম দেন তাঁর রচনার। যেমন এই বইয়ের একটি লেখার শিরোনাম : নক্ষত্র নিহত হয় ইনতানন পাহাড়ে। এ তো কবিতারই পঙক্তি। তবে স্বপ্নলোকের কাব্য নয়, বাস্তবের কবিতালোক তিনি শব্দের ভেতর প্রকাশ করেছেন। সুদূর থাইল্যান্ডের একটি পাহাড়ে মধ্যরাত্তিরে উল্কাঝড়ের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক আশ্চর্য কাহিনীই তিনি শোনাতে চেয়েছেন এই কাব্যিক লেখায়। কবিতাগন্ধি শিরোনাম দেখে আমার মতো যাঁরা এই লেখা পড়তে শুরু করবেন তাঁদের বাস্তবিকই এক নিঃশ্বাসে শেষ করতে হবে ভ্রমণকাহিনীটি। ভ্রমণকাহিনীতে লেখকগণ যেন বেশি গুরুত্ব দেন দর্শনীয় স্থানসমূহকে। মঈনুস সুলতানের কাছে দুনিয়ার সুলতান হলো এর বৈচিত্র্যপ্রিয় মানুষ। আর সেইসঙ্গে নিসর্গ ও প্রকৃতির জলছবি তিনি আঁকেন একজন কবিরই একাগ্রতা ও নিষ্ঠায়। স্ত্রী হলেণ ও কন্যা কাজরি তাঁর ভ্রমণ-উপাখ্যানের দুই অনিবার্য চরিত্রÑ উভয়ের উপস্থিতি কখনো অনুঘটকের, কখনোবা তারা দস্তুতরমতো উপভোগ্য গল্পের অনুষঙ্গ। এই লেখাটিতে আমরা পাবো এক ঝাঁক কচ্ছপের দেখা যারা জলদূষণের কারণে জীবন বাঁচাতে উঠে এসেছে স্থলভাগে। আদিবাসী মানুষ এইসব কচ্ছপের জীবনরক্ষায় নিয়োজিত। কেবল প্রাণীই নয়, এখানকার মানুষ গাছ বাঁচানোর জন্যও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁরা গাছগুলোকে সন্ন্যাসীর মর্যদা দিয়ে গুঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে জোড় হাতে প্রণাম করেন। এখানকার বনানী সম্পর্কে লেখকের বিবরণ দারুণ। একটুখানি উদ্ধৃত করছি : ‘এখানে নির্জনতা এতই প্রখর যে বনজ পতঙ্গের শব্দরাজি অদৃশ্য কোনো করাতের মতো আমাদের কানের খাঁজে খাঁজে কেটে বসে যেতে থাকে’। শুরুতে কবিতার কথা বলেছিলাম। কবিতার মতো কিছু স্বপ্নাক্রান্ত পঙক্তির দেখা পাই এই লেখাতেই। তুলে দিচ্ছি : ‘ চোখ বন্ধ করতেই মনে ভেসে ওঠে একটি বৌদ্ধ স্তূপ, চত্বরে অতি ধীরে হাঁটছে জনাকয় সন্ন্যাসিনী তরুণী। স্তূপটি বুঝি মেঘে মেঘে আকাশ থেকে আকাশে ভেসে যাচ্ছে। সন্ন্যাসিনীদের পদতলে রাশি রাশি মুক্তা, পান্না, হীরকের মতো ঝরছে অজস্র নক্ষত্র। নক্ষত্রাঘাতে ঝলসে উঠছে শ্বেতবসনা সন্ন্যাসিনীদের চক্ষুযুগল।&#8230;’<br />
পাঁচ বছরে তেইশবার থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন লেখক, তাই তাঁর লেখায় রয়েছে বস্তুনিষ্ঠতা, শুদ্ধতা এবং ডিটেইলের কারুকাজ। বৌদ্ধমন্দির একটি বড় জায়গা নিয়ে উপস্থিত থাইল্যান্ডে। তাই স্বাভাবিকভাবে এই গ্রন্থের ভ্রমণরচনাসমূহের বেশ কটিতে রয়েছে তার বিশদ বিবরণ। পাশাপাশি চিয়াংমাইয়ের মসজিদের বর্ণনাও উঠে আসে তাঁর লেখায়। সেখানে আমরা দেখবো রোজার সময়ে বেলা দ্বিপ্রহরে ভক্ষণরত দম্পতিকে স্থানীয় বৃদ্ধ সন্ধ্যায় ইফতারির দাওয়াত দেন। সুকথাইয়ের প্রাচীন এক পুরাতাত্ত্বিক নগরীর শাপলা ফোটা জলাশয়ের পাশে মহাতাত বৌদ্ধস্তূপ পরিক্রমার যে শব্দছবি এঁকেছেন লেখক তাতে থাইল্যান্ড ভ্রমণের তৃষ্ণা বেড়ে যাবে অনেকের। প্রজাপতি নিয়ে একাধিক লেখা আছে এই বইয়ে। লেখাগুলো বইয়ের মূল্য যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে তেমনি বাড়িয়েছে এর রচয়িতার মর্যাদাও। মঈনুস সুলতান যে আর একশ’টা ভ্রমণবিদ থেকে আলাদা এবং লেখক হিসেবেও যে রয়েছে তাঁর অন্যরকম অবলোকনের অনুসন্ধিৎসু হৃদয়Ñ তারই যেন আনন্দময় দৃষ্টান্ত। এই বই নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর পাঠকের মজা নষ্ট করতে চাই না। আমি চাই পাঠকরা সরাসরি এই বইটি পাঠ করুন এবং এর মজা উপভোগ করুন। যারা থাইল্যান্ডে গেছেন বারবার, তাঁরাও যদি বইটি পড়েন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝবেন যে সত্যিকারের দর্শন এবং তা উপভোগের জন্য চাই দেখার মতো চোখ এবং স্পর্শ করার মতো মন। লেখকের চোখ দিয়ে থাইল্যান্ড দেখতে দেখতে এবং তাঁর শিল্পিত মন দিয়ে সে অভিজ্ঞতাগুলোকে স্পর্শ করে যেতে যেতে হৃদয়ের গভীর থেকে লেখকের প্রতি একগুচ্ছ লাল গোলাপের মতো ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। এমঈনুস সুলতানের সুখপাঠ্য ভ্রমণবৃত্তান্ত<br />
মঈনুস সুলতান বিগত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবে ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ করে<br />
চলেছেন দেশের প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে। ভ্রমণপিপাসু এই কথাসাহিত্যিক মৌলভিবাজারের সন্তান। প্রকৃতই তিনি মৌ-লোভীÑ সৌন্দর্যের, শিল্পের এবং নতুনত্বের মধু তিনি পান করে চলেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়ে। এবারের বইমেলায় তাঁর যে ভ্রমণবৃত্তান্তটি বেরুলো (সুকথাই চিয়াংমাই : থাইল্যান্ডে ঘুরে বেড়ানো) তাতে সন্নিবেশিত দু’ডজনেরও বেশি স্বাদু রচনা থেকে যে কোনো একটি লেখা পড়লেই পাঠকের বুঝতে এতটুকু দেরি হবে না যে এই লেখক একজন অভিযানপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে সাহিত্যের সৌরভ পাওয়া যায়। সত্যি বলতে কি গত কয়েক দশক ধরে বাঙালির ভ্রমণ-পরিধি ও পিপাসা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। কিন্তু কয়জনা আর সে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন অন্যের সঙ্গে। বিচিত্র লেখা, নিয়মিত লেখা এবং লেখার প্রাসাদগুণÑ সব মিলিয়ে বাঙালি পাঠকের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন এই লেখক। আজকের প্রজন্মের পাঠকেরা অবশ্য জানেন না যে সত্তর ও আশির দশকে মঈনুস সুলতান বেশ কিছু ছোটগল্প লিখেছিলেন। এখন তাঁর ভ্রমণকাহিনীর ভেতরেই জায়গা করে নিচ্ছে গল্পের স্বাদ, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান।<br />
শুধু গল্পের কথাই বা বলি কেন, কবিতার সৌগন্ধও মেলে তাঁর লেখায়। মনোমুগ্ধকর কাব্যিক সব নাম দেন তাঁর রচনার। যেমন এই বইয়ের একটি লেখার শিরোনাম : নক্ষত্র নিহত হয় ইনতানন পাহাড়ে। এ তো কবিতারই পঙক্তি। তবে স্বপ্নলোকের কাব্য নয়, বাস্তবের কবিতালোক তিনি শব্দের ভেতর প্রকাশ করেছেন। সুদূর থাইল্যান্ডের একটি পাহাড়ে মধ্যরাত্তিরে উল্কাঝড়ের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক আশ্চর্য কাহিনীই তিনি শোনাতে চেয়েছেন এই কাব্যিক লেখায়। কবিতাগন্ধি শিরোনাম দেখে আমার মতো যাঁরা এই লেখা পড়তে শুরু করবেন তাঁদের বাস্তবিকই এক নিঃশ্বাসে শেষ করতে হবে ভ্রমণকাহিনীটি। ভ্রমণকাহিনীতে লেখকগণ যেন বেশি গুরুত্ব দেন দর্শনীয় স্থানসমূহকে। মঈনুস সুলতানের কাছে দুনিয়ার সুলতান হলো এর বৈচিত্র্যপ্রিয় মানুষ। আর সেইসঙ্গে নিসর্গ ও প্রকৃতির জলছবি তিনি আঁকেন একজন কবিরই একাগ্রতা ও নিষ্ঠায়। স্ত্রী হলেণ ও কন্যা কাজরি তাঁর ভ্রমণ-উপাখ্যানের দুই অনিবার্য চরিত্রÑ উভয়ের উপস্থিতি কখনো অনুঘটকের, কখনোবা তারা দস্তুতরমতো উপভোগ্য গল্পের অনুষঙ্গ। এই লেখাটিতে আমরা পাবো এক ঝাঁক কচ্ছপের দেখা যারা জলদূষণের কারণে জীবন বাঁচাতে উঠে এসেছে স্থলভাগে। আদিবাসী মানুষ এইসব কচ্ছপের জীবনরক্ষায় নিয়োজিত। কেবল প্রাণীই নয়, এখানকার মানুষ গাছ বাঁচানোর জন্যও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁরা গাছগুলোকে সন্ন্যাসীর মর্যদা দিয়ে গুঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে জোড় হাতে প্রণাম করেন। এখানকার বনানী সম্পর্কে লেখকের বিবরণ দারুণ। একটুখানি উদ্ধৃত করছি : ‘এখানে নির্জনতা এতই প্রখর যে বনজ পতঙ্গের শব্দরাজি অদৃশ্য কোনো করাতের মতো আমাদের কানের খাঁজে খাঁজে কেটে বসে যেতে থাকে’। শুরুতে কবিতার কথা বলেছিলাম। কবিতার মতো কিছু স্বপ্নাক্রান্ত পঙক্তির দেখা পাই এই লেখাতেই। তুলে দিচ্ছি : ‘ চোখ বন্ধ করতেই মনে ভেসে ওঠে একটি বৌদ্ধ স্তূপ, চত্বরে অতি ধীরে হাঁটছে জনাকয় সন্ন্যাসিনী তরুণী। স্তূপটি বুঝি মেঘে মেঘে আকাশ থেকে আকাশে ভেসে যাচ্ছে। সন্ন্যাসিনীদের পদতলে রাশি রাশি মুক্তা, পান্না, হীরকের মতো ঝরছে অজস্র নক্ষত্র। নক্ষত্রাঘাতে ঝলসে উঠছে শ্বেতবসনা সন্ন্যাসিনীদের চক্ষুযুগল।&#8230;’<br />
পাঁচ বছরে তেইশবার থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন লেখক, তাই তাঁর লেখায় রয়েছে বস্তুনিষ্ঠতা, শুদ্ধতা এবং ডিটেইলের কারুকাজ। বৌদ্ধমন্দির একটি বড় জায়গা নিয়ে উপস্থিত থাইল্যান্ডে। তাই স্বাভাবিকভাবে এই গ্রন্থের ভ্রমণরচনাসমূহের বেশ কটিতে রয়েছে তার বিশদ বিবরণ। পাশাপাশি চিয়াংমাইয়ের মসজিদের বর্ণনাও উঠে আসে তাঁর লেখায়। সেখানে আমরা দেখবো রোজার সময়ে বেলা দ্বিপ্রহরে ভক্ষণরত দম্পতিকে স্থানীয় বৃদ্ধ সন্ধ্যায় ইফতারির দাওয়াত দেন। সুকথাইয়ের প্রাচীন এক পুরাতাত্ত্বিক নগরীর শাপলা ফোটা জলাশয়ের পাশে মহাতাত বৌদ্ধস্তূপ পরিক্রমার যে শব্দছবি এঁকেছেন লেখক তাতে থাইল্যান্ড ভ্রমণের তৃষ্ণা বেড়ে যাবে অনেকের। প্রজাপতি নিয়ে একাধিক লেখা আছে এই বইয়ে। লেখাগুলো বইয়ের মূল্য যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে তেমনি বাড়িয়েছে এর রচয়িতার মর্যাদাও। মঈনুস সুলতান যে আর একশ’টা ভ্রমণবিদ থেকে আলাদা এবং লেখক হিসেবেও যে রয়েছে তাঁর অন্যরকম অবলোকনের অনুসন্ধিৎসু হৃদয়Ñ তারই যেন আনন্দময় দৃষ্টান্ত। এই বই নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর পাঠকের মজা নষ্ট করতে চাই না। আমি চাই পাঠকরা সরাসরি এই বইটি পাঠ করুন এবং এর মজা উপভোগ করুন। যারা থাইল্যান্ডে গেছেন বারবার, তাঁরাও যদি বইটি পড়েন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝবেন যে সত্যিকারের দর্শন এবং তা উপভোগের জন্য চাই দেখার মতো চোখ এবং স্পর্শ করার মতো মন। লেখকের চোখ দিয়ে থাইল্যান্ড দেখতে দেখতে এবং তাঁর শিল্পিত মন দিয়ে সে অভিজ্ঞতাগুলোকে স্পর্শ করে যেতে যেতে হৃদয়ের গভীর থেকে লেখকের প্রতি একগুচ্ছ লাল গোলাপের মতো ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সক্রেটিসের বাড়ি</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 03 Mar 2010 00:48:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অন্য প্রকাশ]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[শাকুর মজিদ]]></category>
		<category><![CDATA[স্থাপত্য]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=424</guid>
		<description><![CDATA[বইটি নিয়ে সম্পাদক মারুফ রায়হান &#8220;সক্রেটিসের বাড়ি : স্থাপত্য ও ইতিহাসপাঠ&#8221; শিরোনামে বাংলামাটি আগষ্ট ২০০৯ সংখ্যায় নীচের আলোচনাটি লিখেছেন:
বাঙালির ঘরকুনো বদনাম ঘুচে গেছে এবং তারা এখন ছড়িয়ে পড়ছে দেশে-দেশে। বলাবাহুল্যই যে বিগত দুই দশকে বহু বাঙালি দেশান্তরে গেছেন প্রধানত জীবিকার প্রয়োজনে, তবে তারা দেশান্তরী হননি। অনাবাসী এবং প্রবাসীÑ যে অভিধাতেই তাদের সম্বোধন করি না কেন [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বইটি নিয়ে সম্পাদক মারুফ রায়হান &#8220;সক্রেটিসের বাড়ি : স্থাপত্য ও ইতিহাসপাঠ&#8221; শিরোনামে বাংলামাটি আগষ্ট ২০০৯ সংখ্যায় নীচের আলোচনাটি লিখেছেন:</p>
<p>বাঙালির ঘরকুনো বদনাম ঘুচে গেছে এবং তারা এখন ছড়িয়ে পড়ছে দেশে-দেশে। বলাবাহুল্যই যে বিগত দুই দশকে বহু বাঙালি দেশান্তরে গেছেন প্রধানত জীবিকার প্রয়োজনে, তবে তারা দেশান্তরী হননি। অনাবাসী এবং প্রবাসীÑ যে অভিধাতেই তাদের সম্বোধন করি না কেন তা সম্মানজনক হবে না তাদের জন্যে। বরং বলতে পারি তারা সকলে স্বদেশের বাইরে অবস্থানকারী। কেউ সাময়িক, কেউ বা দীর্ঘস্থায়ী পরবাস-যাপনকারী। তবে দেশের বাইরে অবস্থান করা আর ভ্রমণের জন্যে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানো পৃথক দুটি ব্যাপার। ওই দুই ধরনের ব্যক্তির কাহিনীকে কিছুতেই ভ্রমণকাহিনী টাইটেলে চিহ্নিত করা যাবে না। লেখক এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত নন এমন দুই শ্রেণীর ব্যক্তি ভ্রমণকাহিনীও লিখে চলেছেন। তবে সাহিত্যিকের কলমে লেখা ভ্রমণকাহিনী সাহিত্যগুণসম্পন্ন হয়ে ওঠে। এই বিচারবোধ থেকেই প্রচলিত হয়েছে ‘ভ্রমণসাহিত্য’ কথাটি। বলতেই পারি, সকল ভ্রমণসাহিত্যই ভ্রমণ কাহিনী, কিন্তু সকল ভ্রমণ কাহিনীই ভ্রমণসাহিত্য নয়। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলিত হতে বা নিছক বেড়াতে বহু পর্যটকই বিদেশে যান। তাদের অনেকেই সেইসব স্মৃতি শুধু ক্যামেরাবন্দি নয়, শব্দবন্দি করায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ভ্রমণকাহিনী লেখার ধরাবাঁধা ছক বা নির্দিষ্ট কলাকৌশল নেই; যেমন আছে গল্প-কবিতার। ভ্রমণকাহিনী তখনই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যখন লেখকের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকও নতুন নতুন সৌন্দর্য আবিষ্কার করেন, মুখোমুখি হন নতুন অভিজ্ঞতার। লেখক কোনো কিছুর সন্ধানে ভ্রমণ শুরু করলে তার অনাড়ষ্ট বিবরণ পাঠকের জন্যে রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।</p>
<p>ভ্রমণকাহিনী হতে পারে নানা রকম। অনেকে কেবল দর্শনীয় স্থানসমূহে পর্যটনের খতিয়ান দেন, ভিসাপ্রাপ্তি, টিকেট কাটার কসরৎ, বিমানবন্দরের বিড়ম্বনা কোনোটাই বাদ থাকে না। আবার কারো লেখায় মেলে গবেষণালব্ধ তথ্য, বিবরণ, বিশ্লেষণ। বিশেষত মিউজিয়াম বা বিদেশে শিল্পপ্রদর্শনীর ওপর আলোকপাত। শেষোক্ত জাতের ভ্রমণকাহিনী বিনোদনমূলক নয়, তাই সকল শ্রেণীর পাঠক আগ্রহ বোধ করেন না। তা না করুন, অজানাকে জানার জন্যে এই গোত্রের ভ্রমণকাহিনী মূল্যবান।</p>
<p>বর্তমান প্রজন্মের ভ্রমণ-লেখকদের মধ্যে সক্রিয়তার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এমন অন্তত তিনজনের নাম বললে এসে যাবেন শাকুর মজিদ। গত কয়েক বছর যাবত নিয়মিতভাবেই তাঁর এক বা একাধিক ভ্রমণবৃত্তান্ত বেরুচ্ছে। এবছর বেরিয়েছে চার-চারটি ভ্রমণগ্রন্থ। এখানে আমরা নির্বাচিত একটি বই নিয়ে আলোচনা করবো। বইয়ের নাম ‘সক্রেটিসের বাড়ি’ হলেও এ গ্রন্থে কেবল জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের স্বভূমি এথেন্স ভ্রমণের বিবরণ দেয়া হয়নি। লেখক ইউরোপের আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক নগরী বার্লিন ও প্যারিস ভ্রমণের ইতিবৃত্তও উপস্থিত করেছেন। তাই এই বইটিকে বলতে পারি থ্রি ইন ওয়ান। এই পৃথক তিনটে রচনা হলো : ১. বার্লিন : ভাঙা দেয়ালের খোঁজে, ২. এথেন্স : সক্রেটিসের বাড়ি এবং ৩. নেপোলিয়ানের শহর। এইসব শিরোনাম থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ভ্রমণপ্রিয় লেখক শাকুর মজিদ তাঁর রচনায় কোন্ বিষয়টির ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। বা এভাবেও বলা চলে যে লেখক কিসের টানে ইউরোপের ওই তিনটে শহরে ছুটে গেছেন।</p>
<p>প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে, লেখক পেশায় একজন স্থপতি; আর নেশায় নাট্যকার, আলোকচিত্রী ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা। অধুনা নানা ধরনের লেখালেখিতেও সম্পৃক্ত। তাই তিনি লেখকও বটে। স্থপতি হওয়ার কারণেই বোধ করি স্থাপত্য বিষয়টি তাঁর কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। একজন স্থপতি একটি স্থাপনাকে অন্যভাবে অবলোকন ও বিশ্লেষণ করেন। এক্ষেত্রে নিজের মত প্রকাশেও তিনি দ্বিধাহীন। বহু মানুষের কাছে বিশেষ দর্শনীয় আইফেল টাওয়ার লেখকের দৃষ্টিতে নিতান্তই ‘ইস্পাতের সাদামাটা খাম্বার সমাহার’। তাঁর ভাষায়Ñ ‘হুড়মুড় করে এসে এটা দেখার কী আছে?’ অন্যদিকে লেখক নিজে ক্যামেরার পেছনে কাজ করেন বলে লেন্সের ভেতর দিয়ে খোঁজেন শিল্পের অস্তিত্ব। স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃতির তারতম্য ও আলোছায়ার বৈশিষ্ট সম্পর্কে তিনি সতর্ক। এই বিষয়গুলো যখন একজন ভ্রমণকাহিনী লেখকের নেপথ্যে ক্রিয়াশীল থাকে তখন সহজেই অনুমান করা যায় যে তাঁর কথিত আলেখ্য একটু অন্যরকমই হবে। তবে মজা করে বলার গুণ একজন লেখককে আর দশজন থেকে আলাদা করে তোলে। আর সেই লেখায় যদি খানিকটা সাহিত্যরসের যোগান দেয়া সম্ভব হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। বলতে দ্বিধা নেই শাকুর মজিদ সবদিক দিয়েই পাঠকের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন। তিনি কেমন ধরনের পর্যটক তার পরিচয় তিনি উপস্থিত করেন ভ্রমণকাহিনীর একেবারে সূচনাতেই। তিনি লিখছেন : ‘বিশাল বিশাল ভবন। আক্ষরিক অর্থেই চোখ ধাঁধানো। আমার ক্যামেরা চঞ্চল হয়ে যায়। হাঁটতে হাঁটতে আমি প্রায়ই সঙ্গীদের থেকে আলাদা হয়ে যাই। আমার বুকপকেটে নোটবুক, বাম কাঁধে স্টিল ক্যামেরা, ডান কাঁধে সাড়ে ছয় কেজি ওজনের ক্যানন এক্স-এল-এস মিনি ডিভি ক্যাম, পিঠের সাথে ঝোলানো ছোট একটা ট্রাইপয়েড। বিল্ডিংয়ের আয়নায় নিজের চেহারা দেখে নিজেই লজ্জা পাই। কিন্তু এরকম আয়োজন ছাড়া আমার পক্ষে কোথাও বেড়াতে যাওয়া কি সম্ভব?’</p>
<p>চিলিতে স্থাপত্য বিষয়ক একটি সেমিনারে যোগদানের জন্যেই লেখকের পাঁচ বন্ধুর (তাঁর ভাষায় পঞ্চপর্যটক বা পিপি) ইউরোপযাত্রা। তবে লেখক তাতে শর্ত জুড়ে দেন যে, গ্রিসের এথেন্সে ‘সক্রেটিসের বাড়ি’ আর প্যারিসের লুভ যাদুঘরে রাখা মোনালিসার ছবি দেখানোর প্রতিশ্র“তি দিলেই তিনি তাঁদের সফরসঙ্গী হতে পারেন। বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে বার্লিনের দেয়ালের কাছে নতুন কিছু স্থাপনাই কেবল নয়, ব্রান্ডেনবার্গ গেট, রাইসটেগ এবং জুডিশ মিউজিয়াম সরেজমিন দর্শনের বিবরণ আছে। একেকটি স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একেকটি ইতিহাস। সেসব ইতিহাসের মোদ্দা কথাগুলো প্রাসঙ্গিকভাবে বলে যান লেখক। এই বয়ান প্রাঞ্জল হওয়ায় পাঠকের মর্মমূলে প্রবেশ করতে সক্ষম সেই প্রাচীন কথামালা। শব্দ দিয়ে ছবি আঁকার কাজ করে থাকেন সকল লেখকই। শাকুর মজিদও সেটা করেন, আবার একইসঙ্গে প্রাসঙ্গিক আলোকচিত্রটিও, বিবরণের পাশে তুলে ধরেন। ফলে পাঠকের জন্যে এক আকর্ষণীয় শিক্ষণ হয়ে ওঠে প্রক্রিয়াটি। রচনায় অতীতের কথকতা এবং বর্তমানের রূপাখ্যানÑ এ দুটো বিষয়ের মেলবন্ধন ঘটান লেখক সচেতনভাবেই। সে কারণেই তাঁর ভ্রমণকাহিনী বিশেষত্বের দাবীদার।</p>
<p>‘গ্রিক অ্যাগোরার মানচিত্র আঁকা বড় কঠিন ছিল আমাদের পরীক্ষার খাতায়। অনেকগুলো এলিমেন্ট। সবগুলো আবার স্কেলে ঠিক হতো না। জায়গাটিও বড় অবিন্যস্ত। কিন্তু এই অ্যাগোরা এখন পায়ের তলায়!’ আড়াই হাজার বছর আগের সক্রেটিসের বক্তৃতাকেন্দ্র সম্পর্কে লেখা পরিচ্ছেদের শুরু হচ্ছে এভাবেই। ফলে সাধারণ পাঠকের পক্ষে বেশ সহজেই বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হওয়ার অবকাশ তৈরি হয়েছে। একটি ব্যাপার বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে একটি নির্দিষ্ট স্থান কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যখন আলোকপাত করা হচ্ছে তখন লেখক সচেতনভাবেই মূল বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসার জবাব কথাচ্ছলে প্রকাশ করছেন। তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে এমন সহজিয়া ভঙ্গিতে যে, পাঠকের পক্ষে সেই জ্ঞানার্জন শ্রমসাধ্য না হয়ে আনন্দপূর্ণ হয়ে উঠছে। একজন ভ্রমণলেখকের জন্যে এই গুণটি অত্যাবশ্যক।</p>
<p>আরেকটি বিষয়েরও উল্লেখ করা দরকার। সেটি হলো উপশিরোনাম ব্যবহার করে অল্প কয়েক পৃষ্ঠায় ভ্রমণবৃত্তান্ত তুলে ধরা। এভাবে ছোট ছোট একটি অধ্যায় জোড়া লাগিয়ে মালা গাঁথলে তবেই মেলে পূর্ণ অবয়ব। এটির সফল প্রয়োগ আমরা দেখবো গ্রন্থের ‘এথেন্স : সক্রেটিসের বাড়ি’ শীর্ষক পর্বে। একটি ভ্রমণকাহিনীর জন্য যতটুকু সংগত ও জরুরি ঠিক ততখানিই ডিটেইলে গেছেন লেখক। এমনকি লেখক সংশ্লিষ্ট খ্যাতিমান ব্যক্তিদের প্রবচনতুল্য উক্তিও উৎকীর্ণ করেছেন বইয়ে। বুড়ি ছোঁয়ার মতো সময় বরাদ্দ ছিল তিন তিনটি মহানগরী পরিদর্শনের জন্য। অথচ সময়ের এই কড়াকড়ি সীমাবদ্ধতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে উদ্যমী পাখির মতো সবটুকু ডানা মেলে দিয়ে উড়ে বেড়িয়েছেন লেখক শাকুর মজিদ। সেইসঙ্গে কেবল পাখির চোখে নয়, সৌন্দর্যপ্রেমী এক শিল্পীর দৃষ্টি দিয়ে অবলোকন করে গেছেন প্রধান-অপ্রধান অঞ্চলসমূহ। এথেন্সের এসেন্স (নির্যাস) যতটুকু পেরেছেন গ্রহণ করেছেন এবং পাঠকের সঙ্গে তার অর্জনটুকু ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। বাদ পড়েনি সমকালের গ্রীকবাসীর পরিচয়ও। যে-কারাগারে বসে সক্রেটিস হেমলক বিষ পান করে মৃত্যুকে বরণ করে নেন, নেই কারাগারটি চিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন যে-স্থানীয়জন তাঁর কাছে লেখক প্রশ্ন রাখেন যে, গ্রীক হিসেবে জন্ম গ্রহণ করে তাঁর অহঙ্কার হয় কিনা। উত্তরে সেই ব্যক্তি মিষ্টি হেসে যা বলেছিলেন তা যেন প্রতিটি নীতিবান সত্যিকারের মানুষেরই উপলব্ধি। তিনি বলেছিলেন, আমার অহঙ্কার করার তো কিছু নাই। আমি পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই জন্মাতে পারতাম। তবে এই দেশে জন্মেছি বলে আমি গ্রীক এটা সত্যি, কিন্তু আমি কতটা মানুষ হতে পেরেছি সেটা আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>আসলে সক্রেটিসের বাড়ি বলে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই। পাহাড়ের ওপর গড়ে ওঠা সুদৃশ্য নয়নাভিরাম স্থাপনার সমাহার অ্যাক্রোপলিসকেই অনেকে মহান দার্শনিকের বাসভূমি বলে মনে করে থাকেন। লেখক এই প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত করেছেন। সক্রেটিসের অন্তিম দিনগুলো যে গারদখানায় কেটেছে তার চেহারাও মূর্ত করে তুলেছেন।</p>
<p>বইয়ের তৃতীয় ও শেষ অধ্যায় ‘নেপোলিয়ানের শহর’ অংশটুকু অপেক্ষাকৃত স্বল্পদৈর্ঘের। আইফেল টাওয়ারের প্রসঙ্গ আগেই এসেছে আলোচনায়। এই পর্বে আরো আছে লুভ মিউজিয়াম ও নেপোলিয়ানের সমাধি পরিদর্শনের বৃত্তান্ত। যথারীতি স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের বিবরণ এবং ঐতিহাসিক চরিত্রের চিত্রণ ও ইতিহাস বর্ণনা স্থান পেয়েছে। এতে কোনো সংশয় নেই যে ভ্রমণ-আখ্যান রচনায় পারঙ্গমতার পরিচয় রেখেছেন লেখক। বেড়ানোর ছলে স্থাপত্য ও ইতিহাসপাঠের উপভোগ্য দৃষ্টান্ত হয়েছে এ ভ্রমণ-গ্রন্থ। সমালোচনার জায়গাটি হলো ছবি ব্যবহারে পরিমিতির বিষয়টি। অনেক ছবি দেখেই পাঠকের মনে হতে পারেÑ এর কী প্রয়োজন ছিল? এতে পৃষ্ঠা বেড়েছে বটে তবে পৃষ্ঠা সংখ্যা না বাড়িয়ে ক্রয়মূল্য কমালেই পাঠকরা বেশি উপকৃত হতেন।</p>
<p>প্রচ্ছদ : মাসুম রহমান</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আজগুবী রাত</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Mar 2010 05:35:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অন্য প্রকাশ]]></category>
		<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=364</guid>
		<description><![CDATA[বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ থেকে:
“বলেশ্বর নদী দিয়ে পাথরঘাটা খেয়াঘাটে ভেসে এল একটি কাটা হাত। কতদিন ভেসেছে হাতটি, কেউ বলতে পারল না; কিন্তু হাতটিতে কোনো পচন ধরে নি, কোন মাছের খাদ্যও হয় নি হাতটি। একটি মেয়ের হাত, করতলে মেহদীর দাগ, কিন্তু কার, তা কেউ ঠাহর করতে পারল না। হাতটি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলো খেয়াঘাটে, তারপর থানায়। পাথরঘাটায় [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ থেকে:</p>
<p>“বলেশ্বর নদী দিয়ে পাথরঘাটা খেয়াঘাটে ভেসে এল একটি কাটা হাত। কতদিন ভেসেছে হাতটি, কেউ বলতে পারল না; কিন্তু হাতটিতে কোনো পচন ধরে নি, কোন মাছের খাদ্যও হয় নি হাতটি। একটি মেয়ের হাত, করতলে মেহদীর দাগ, কিন্তু কার, তা কেউ ঠাহর করতে পারল না। হাতটি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হলো খেয়াঘাটে, তারপর থানায়। পাথরঘাটায় ঘনদুর্যোগের দিন, ঘূর্ণিঝড় সারিকা আঘাত করবে পূর্ণ শক্তি নিয়ে; শহরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাইরে থেকে। সেই শহরে আটকে পড়েছেন সরকারের দুর্যোগ সচিব, একটি ফিল্মের শুটিং করতে আসা নায়ক-নায়িকা-ভিলেন, এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান। সবাই থানায় এসে হাজির হন, প্রত্যেকের নিজস্ব কারণে, কিন্তু কাটা হাতটি প্রত্যেকের মনের গোপন জায়গাগুলোতে স্পর্শ করে যায়। সেই স্পর্শে বেরিয়ে পড়ে লুকিয়ে থাকা নানা হাড়গোড়, অপ্রাপ্তির নানা স্মৃতি এবং মানুষগুলো যেন আমুল বদলে যায়। অলৌকিক হাতটি যেন লিখে যায় আজগুবি কিছু আখ্যান, যেগুলোর উৎপত্তি অবচেতনের ছায়ার অঞ্চলে। পাথরঘাটার দুরে একটি গ্রামে কাটা হাতের মূল আখ্যান; সেখানে, সুত্রধর লেখকের মতো, একটি ছেলেও দেখে যায় খণ্ডে খণ্ডে সাজানো তার ইতিহাস। সেই ইতিহাসটি করুণ, যদিও একে অস্বীকার করার কোনো উপায় থাকে না। সে কথাটি- সেই বালকটি জানে, লেখক জানেন, এবং শেষ পর্যন্ত পাঠকও। ”</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রথম খন্ড</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Feb 2010 12:20:46 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আহমেদ মোস্তফা কামাল]]></category>
		<category><![CDATA[ছোটগল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=387</guid>
		<description><![CDATA[

Related posts:উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড
ছোটগল্প সমগ্র ১৯৭১



Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/' rel='bookmark' title='Permanent Link: উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড'>উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: ছোটগল্প সমগ্র ১৯৭১'>ছোটগল্প সমগ্র ১৯৭১</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%96%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1/' rel='bookmark' title='Permanent Link: উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড'>উপন্যাস সমগ্র প্রথম খন্ড</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: ছোটগল্প সমগ্র ১৯৭১'>ছোটগল্প সমগ্র ১৯৭১</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>শাহ আবদুল করিম জীবন ও কর্ম</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Feb 2010 11:39:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ]]></category>
		<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[মিহিরকান্তি চৌধুরী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=384</guid>
		<description><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আহমদ ছফা সঞ্জীবনী &#124;জাতীয় সাহিত্য ১</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%9b%e0%a6%ab%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%b8/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%9b%e0%a6%ab%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%b8/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Feb 2010 11:29:50 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আগামী প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভা]]></category>
		<category><![CDATA[সলিমুল্লাহ খান]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=373</guid>
		<description><![CDATA[আহমদ ছফা সঞ্জীবনী
আহমদ ছফা জাতীয় সাহিত্যের মূল হইতে আসিয়াছিলেন এবংসেখানেই ফিরিয়া গিয়াছেন। আমাদের জাতীয় সাহিত্য হইতে তাঁহাকে আলাদা করা যাইবে না।
১৯৭১ সনের অভিজ্ঞতা আমাদের জাতীয় সাহিত্যের সংজ্ঞা সামান্য বড় করিয়াছে। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘জাতীয় সাহিত্য’ বলিতে যাহা বুঝাইতেন আজ আমরা ঠিক তাহা বুঝি না, একটু অতিরিক্ত বুঝিয়া থাকি। ইহার নাম ১৯৭১।
১৯৭১ সনের [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong><a href="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/02/373-e1267152032495.jpg"><img class="alignleft size-full wp-image-374" title="373" src="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/02/373-e1267152032495.jpg" alt="" width="200" height="300" /></a>আহমদ ছফা সঞ্জীবনী</strong><br />
আহমদ ছফা জাতীয় সাহিত্যের মূল হইতে আসিয়াছিলেন এবংসেখানেই ফিরিয়া গিয়াছেন। আমাদের জাতীয় সাহিত্য হইতে তাঁহাকে আলাদা করা যাইবে না।<br />
১৯৭১ সনের অভিজ্ঞতা আমাদের জাতীয় সাহিত্যের সংজ্ঞা সামান্য বড় করিয়াছে। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘জাতীয় সাহিত্য’ বলিতে যাহা বুঝাইতেন আজ আমরা ঠিক তাহা বুঝি না, একটু অতিরিক্ত বুঝিয়া থাকি। ইহার নাম ১৯৭১।<br />
১৯৭১ সনের যুদ্ধকে কেহ বলেন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ কেহ বা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ’। কেহ ইহাকে ‘বিপ্লব’ বলিয়া বিড়ম্বিত করেন না। আহমদ ছফা এই যুদ্ধকে মধ্যে মধ্যে বিপ্লব বলিয়া ভ্রম করিতেন। এইটুকুই হয়তো অতিরিক্ত।<br />
বাংলার জাতীয় সাহিত্য বলিতে তাই আমরা উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম ঊর্ধ্ব অধঃ ছয় বাংলা মাত্র দেখি না। কিংবা বুঝি না শুদ্ধ বৌদ্ধ খ্রিস্টান কি হিন্দু মুসলমান পুরাণ। আমাদের জাতীয় সাহিত্য ইহাদের যোগফলের সামান্য অধিক। এই অধিকই আহমদ ছফার মধ্যে বিশেষ হইয়াছে।<br />
যে পুস্তক পাঠ করিলে ইহা বুঝিতে পারা যায় তাহার নাম <em>আহমদ ছফা সঞ্জীবনী</em>।</p>
<p><strong>জাতীয় সাহিত্য ১</strong><br />
সলিমুল্লাহ খানের লেখা গ্রন্থমালার মধ্যে বাংলায় ‘জাক লাকাঁ বিদ্যালয়’ ও ‘ইতিহাস কারখানা’ আর ইংরেজিতে ‘একবালনামা’। এক্ষণে তাঁহার ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক লেখা লইয়া আরেকটি গ্রন্থমালা। নাম ‘জাতীয় সাহিত্য’।<br />
সাহিত্য যেমন শুদ্ধ সাহিত্য নহে ভাষাও, তেমনি ‘জাতীয়’ মানেও নিছক বাংলা সাহিত্য নহে, স্বদেশি বিদেশি নির্বিশেষে ‘জনসাধারণের’ সাহিত্য। আরো কাদামাখা ভাষায় ‘ছোটলোকের’ সাহিত্য। জাতি বলিতে আমরা সাধারণত ছোটলোক বুঝিয়া থাকি। আমাদের কাছে জাতীয় সাহিত্য মানে তাই ছোটলোকের তথা সাধারণের সাহিত্য।<br />
আহমদ ছফার রচনা কিংবা তাঁহার স্মৃতি লইয়া সলিমুল্লাহ খান অদ্যাবধি যাহা কিছু লিখিয়াছেন তাহা দিয়া জাতীয় সাহিত্য গ্রন্থমালার প্রথম গ্রন্থ আহমদ ছফা সঞ্জীবনী। এই গ্রন্থমালার দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রন্থ যথাক্রমে <em>বাংলামদ</em> এবং <em>বাংলার মুসলমানি</em> নামে বাহির হইবে বলিয়া আশা করা যায়।<br />
<em>আহমদ ছফা সঞ্জীবনী</em> গ্রন্থে সব মিলাইয়া একুশটি প্রবন্ধ। বিষয়বস্তু অনুসারে এই সংগ্রহের চার ভাগ। রচনার ব্যাপ্তি ৩৩ বৎসর। আহমদ ছফার দুইটি ১৯৭১-প্রবন্ধ হিসাবে ধরিলে ভাগ পাঁচ, ব্যাপ্তি ৩৯।</p>
<p>প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6-%e0%a6%9b%e0%a6%ab%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>প্রস্তাব</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Feb 2010 11:12:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আগামী প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[ফরহাদ মজহার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=380</guid>
		<description><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>স্রষ্টার ইতিবৃত্ত</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 27 Feb 2010 11:08:01 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আগামী প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[ক্যারেন আর্মস্ট্রং]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[শওকত হোসেন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=377</guid>
		<description><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বিদ্রোহের সপ্তস্বর: বিডিআর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 25 Feb 2010 10:11:30 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[যেহেতু বর্ষা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সেলিম রেজা নিউটন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=369</guid>
		<description><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মাহমুদ দারবিশ পাঠ ও বিবেচনা</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%9a/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%9a/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 25 Feb 2010 10:04:52 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[শরীফ আতিক-উজ-জামান]]></category>
		<category><![CDATA[সংবেদ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=366</guid>
		<description><![CDATA[

Related posts:নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ



Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6/' rel='bookmark' title='Permanent Link: নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ'>নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

Related posts:নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ



Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6/' rel='bookmark' title='Permanent Link: নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ'>নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ</a></li>
</ol>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%9a/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%87%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%87%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 25 Feb 2010 06:33:46 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[ঐতিহ্য]]></category>
		<category><![CDATA[রাজু আলাউদ্দিন]]></category>
		<category><![CDATA[হোর্হে লুইস বোর্হেস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=348</guid>
		<description><![CDATA[প্রথম ফ্ল্্যাপে বইটি সম্পর্র্কে যা বলা হয়েছে:
“[…] শুধু স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্ব সাহিত্যের প্রেক্ষিতেই তিনি এক অসাধারণ ছোটগল্পকার।… বোর্হেসের প্রধান প্রধান সব গল্পগ্রন্থ থেকে সেরা গল্পগুলো বাছাই এবং সঙ্কলনের মাধ্যমে ‘নির্বাচিত গল্প’টি বাংলাভাষার পাঠকদের জন্য হয়ে উঠেছে এক শাশ্বত মৌচাক […]।”
বইটির সংকলক ও সম্পাদনায় রাজু আলাউদ্দিন।
অনুবাদকদের নাম 
বেলাল চৌধুরী, জাকারিয়া সিরাজী, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2/' rel='bookmark' title='Permanent Link: নির্বাচিত কবিতা হোর্হে লুইস বোর্হস'>নির্বাচিত কবিতা হোর্হে লুইস বোর্হস</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রথম ফ্ল্্যাপে বইটি সম্পর্র্কে যা বলা হয়েছে:</p>
<p>“[…] শুধু স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্ব সাহিত্যের প্রেক্ষিতেই তিনি এক অসাধারণ ছোটগল্পকার।… বোর্হেসের প্রধান প্রধান সব গল্পগ্রন্থ থেকে সেরা গল্পগুলো বাছাই এবং সঙ্কলনের মাধ্যমে ‘নির্বাচিত গল্প’টি বাংলাভাষার পাঠকদের জন্য হয়ে উঠেছে এক শাশ্বত মৌচাক […]।”</p>
<p>বইটির সংকলক ও সম্পাদনায় রাজু আলাউদ্দিন।</p>
<p><strong>অনুবাদকদের নাম </strong><br />
বেলাল চৌধুরী, জাকারিয়া সিরাজী, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফারুক মেহদী, আলম খোরশেদ, শওকত হোসেন, দিলওয়ার হাসান, সাজ্জাদ শরিফ, জুয়েল মাজহার, আলী আহমদ, রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, মশিউল আলম, জি. এইচ. হাবীব, ড. নূরুল ইসলাম, কামরুল হাসান, মাহমুদ রশীদ, শিবব্রত বর্মন, শাহনাজ মুন্নী, ফাহিয়ান জুলফিকার, নাহিদ আহসান, আনিসুজ্জামান, রাজু আলাউদ্দিন।<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;<br />
১৯-০২-২০১০ তারিখের প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে বইটি নিয়ে রাজু আলাউদ্দিনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী:</p>
<p><strong>‘বোর্হেস জটিল কিন্তু আনন্দদায়ক’</strong><br />
<em>রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী</em>: বোর্হেসকে বলা হয় লেখকদের লেখক। তাঁর মতো এমন দুরূহপাঠ্য, জটিল একজন লেখকের যাবতীয় রচনা থেকে বাছাই করে বাংলায় একটি সংকলন করার ব্যাপারে আপনি উদ্যোগী হলেন কেন?<br />
<em>রাজু আলাউদ্দিন</em>: বোর্হেস জটিল কিন্তু আনন্দদায়ক। বলব, ভীষণ রকমের আনন্দদায়ক। তবে জটিল বলছেন হয়তো তাঁর টেকনিকের কারণে। তিনি একটা গল্পকে যেভাবে যে শিল্প-কৌশলের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, তা জটিল, এটা সত্য। যে কারণে অনেক বড় লেখক তাঁকে একবাক্যে গুরু বলে স্বীকার করেন। অন্যদিকে তাঁর গল্পের আনন্দদায়ক দিক হচ্ছে এর বিষয়। তাঁর গল্পের জন্য এমন সব ধারণাতীত বিষয় তিনি ভাবতে পারেন যা অবাক হওয়ার মতো। ট্লন, উকবার, অরবিস টাসিয়াস কিংবা ধরুন জন উইলকিপের বিশ্লেষণ কিংবা ধরুন প্ররোহী পথের বাগান। প্ররোহী পথের বাগান গল্পে বলা হচ্ছে অন্তহীন একটি উপন্যাসের কথা, যেখানে অসংখ্য সময়ের কথা চিন্তা করা হয়েছে। এবং প্রতিটি সময় ভিন্ন স্বভাবের কিন্তু তারা এক সঙ্গেই আছে। আমার কাছে সায়েন্সফিকশন ম্যুভির মতো জম্পেশ ব্যাপার মনে হয়। আপনি ভিজুয়ালাইজ করলে কিন্তু এই মজাটা পাবেন। ট্লন গল্পের ক্ষেত্রেও তা-ই। এ জন্যই আমি বলি, বিপুল আনন্দদায়ক। অ্যাকাডেমিশিয়ানরা হয়তো জটিল বলবেন। কারণ তাঁর টেকনিক অবশ্যই জটিল।<br />
<em>রফিক</em>: আপনি বলতে চাইছেন তাহলে বোর্হেস সাধারণ পাঠকদের জন্য উপভোগ্য?<br />
<em>রাজু আলাউদ্দিন</em>: আমার কিন্তু তা-ই মনে হয়। আপনি গার্সিয়া মার্কেসের ব্যাপারটা দেখুন। তাঁর লেখা সাধারণ মানুষও পড়ছে আবার মননশীল পাঠকেরাও পড়ছে। বোর্হেস পণ্ডিতধাঁচের লেখক কিন্তু পাণ্ডিত্য আর দার্শনিক ধাঁধা ও জিজ্ঞাসা তাঁর কাছে এক মজার জিনিস, যেগুলো নিয়ে তিনি খেলেন। এ খেলাতেই যত আনন্দ। এ আনন্দ উপভোগ করার জন্য গল্পের আকারে কিংবা প্রবন্ধের ছদ্মবেশে তাঁর সৃষ্টিশীলতার কাল্পনিক ভুবনে বোর্হেস পাঠককে আমন্ত্রণ জানান।<br />
<em>রফিক</em>: আমরা যতদূর জানি, আপনি প্রায় এক যুগ ধরে এই সংকলনটির কাজ করছেন। নানা রকম প্রকাশনা-সংক্রান্ত জটিলতা, স্থবিরতার পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সংকলনটি প্রকাশনার আলো দেখছে। আপনার অনুভূতি কেমন?<br />
<em>রাজু আলাউদ্দিন</em>: অতীব আনন্দের। আসলে বোর্হেসের এই প্রকল্পটা হাতে নিয়েছিলাম ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৯ সালে মেক্সিকো চলে যাওয়ার পর থেকে গেল বছর অর্থাত্ গোটা ১০ বছর প্রকল্পটা থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার পরও আমার ঘনিষ্ঠ তিন গুণী বন্ধু এটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে কাজটাকে গুছিয়ে নিয়ে সম্পাদনা করলাম এবং শেষাবধি প্রকাশিত হচ্ছে। বোর্হেস নিজেই আমার জন্য একটি আনন্দ। তার ওপর এ বইয়ের প্রকাশনা একটি বাড়তি আনন্দের ব্যাপার তো বটেই। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত অনুবাদকদের শ্রম ও মেধার প্রতি, যাঁদের পরিশ্রম এ বইটির পেছনে রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ বই করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।<br />
<em>রফিক</em>: অনুবাদের ব্যাপারে একটি কথা প্রচলিত আছে। এটি একটি ইতালীয় প্রবাদ, সেটা হলো অনুবাদক মানেই বিশ্বাসঘাতক। বোর্হেসের এই অনুবাদ সংকলনটি করতে গিয়ে আপনি এই পরিপ্রেক্ষিতে কী বলবেন? মূল স্প্যানিশ বা ইংরেজি ভাষা থেকে বাংলায় এসে বোর্হেস কতটুকু থাকেন?<br />
<em>রাজু আলাউদ্দিন</em>: অনুবাদ একটি জটিল কর্মযজ্ঞ। অনুবাদ বিষয়টি নিয়ে বোর্হেস বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি কিছু উদাহরণ দাঁড় করিয়ে দেখান যে অনুবাদক মূল লেখক ও তাঁর রচনার প্রতি বিশ্বস্ত না থাকলেই বরং উত্কৃষ্ট অনুবাদ সম্ভব। অনুবাদকের স্বাধীনতার কথা বলছেন তিনি। এনিগমা অব অ্যাডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড প্রবন্ধে তার মূল প্রতিপাদ্য হলো রুবাইয়াত-এর ওমর খৈয়াম আর তার অনুবাদক অ্যাডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড দুজনে মিলে হয়ে যান এক, কবি ও তাঁর অনুবাদক অনুবাদের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন এক অভিন্ন সত্তা। বোর্হেস নিজেও অনুবাদ করেছেন। ফকনার, কাফকা থেকে শুরু করে এমনকি বিস্মিত হবেন জেনে, তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতাও অনুবাদ করেছেন ইংরেজি থেকে। বলা বাহুল্য, ইংরেজি বিশেষ করে আমেরিকান সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু স্প্যানিশ অনুবাদকর্মের রচয়িতা হলেন বোর্হেস। তো, বোর্হেস যখন অনুবাদ নিয়ে অন্যদের প্রসঙ্গে কথা বলেন, তখন অনুবাদকের স্বাধীনতার কথা বলেন, কিন্তু তিনি নিজে যখন ওয়াল্ট হুইটম্যান বা প্রমুখের রচনা অনুবাদ করছেন, তখন কিন্তু মূলানুগ থেকেছেন। এবং এটি একটি উত্কৃষ্ট অনুবাদ, স্ববিরোধিতা যাকে বলে।<br />
আমার মতে অনুবাদ শেষ পর্যন্ত একটি সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম। আমি অনুবাদক বোর্হেসের মতোই মূলের কাছাকাছি থাকার পক্ষপাতী এবং এই সংকলনটিতে সে চেষ্টাই ছিল। যে ভাষা বা সংস্কৃতির লেখককে অনুবাদ করা হচ্ছে, তাঁর সংস্কৃতির, দেশকালের আবহ যেন থাকে ওই অনুবাদকর্মে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যে ভাষায় এটি অনুবাদ হচ্ছে, সে ভাষায় এটি যেন একটি পাঠযোগ্য রচনা হয়ে ওঠে, সেটা দেখতে হবে। পাশাপাশি মূল ভাষা ও ওই সংস্কৃতির আবহটিও যেন হারিয়ে না যায়, যদ্দূর সম্ভব সে চেষ্টাও করতে হবে।</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2/' rel='bookmark' title='Permanent Link: নির্বাচিত কবিতা হোর্হে লুইস বোর্হস'>নির্বাচিত কবিতা হোর্হে লুইস বোর্হস</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%87%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ভার</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 23:44:15 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রথমা প্রকাশন]]></category>
		<category><![CDATA[মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[তত্ত্বাবধায়ক সরকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=357</guid>
		<description><![CDATA[দৈনিক সমকালে ০৫/০২/২০১০ সংখ্যায় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
&#8220;এই বইটি লিখেছি দুই কারণে। প্রথমত, আমি যে কালপরিসরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, ওই সময়ে সরকার চালাতে গিয়ে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, তা অনেকেই জানতে চান আমার কাছে। আমার নিজেরও মনে হয়েছে, আমার নিজের কিছু কথা বলা দরকার। নানা [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দৈনিক সমকালে ০৫/০২/২০১০ সংখ্যায় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
&#8220;এই বইটি লিখেছি দুই কারণে। প্রথমত, আমি যে কালপরিসরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, ওই সময়ে সরকার চালাতে গিয়ে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, তা অনেকেই জানতে চান আমার কাছে। আমার নিজেরও মনে হয়েছে, আমার নিজের কিছু কথা বলা দরকার। নানা জনের নানা অনুরোধ আসে। ভাবলাম, যে বিষয়টি নিয়ে লিখব, তবে আরও সময় যাক। বিষয়টি একটু স্থিতি লাভ করুক এবং ততদিনে তাৎক্ষণিকতার আবেগও কেটে যাক। তাই ঘটনার প্রায় এক যুগ পর কলম ধরলাম। &#8216;তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ভার&#8217; প্রথমে লিখি প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় ২০০৯-এ। সেটা সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হয়। বই করার সময় কিছু কিছু কাটছাঁট করেছি। পরিবর্তন-পরিমার্জন করেছি কোনো কোনো অংশ। তবে আমি চেষ্টা করেছি, আমার ৯০ দিনের সরকারের যাবতীয় ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে তুলে ধরতে। বিশেষ করে ২০ মে ১৯৯৬ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সেনাবাহিনী প্রধানকে বহিষ্কার-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং যেসব পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছিল, তার সার্বিক বিশ্বস্ত বর্ণনা আমি দিয়েছি। সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যা করা কর্তব্য, তা যথাযথভাবে পালনের প্রয়াসসহ বিশদ ঘটনাবলি আমি এ বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছি।<br />
এ বইটি লেখার জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন, তা শুরু থেকেই আমি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। বহু কাগজপত্র, বক্তৃতা, সংবাদপত্রের সংবাদ, মন্তব্য, রেডিও-টিভির বক্তব্য ও আলোচনাসহ গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট তথ্যাদি আমি ব্যবহার করেছি &#8216;তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়ভার&#8217; রচনার জন্য। লেখাটি যখন ঈদ সংখ্যায় লিখি তখন এর কোনো অধ্যায় বিভক্ত করিনি। একটানা ছাপা হয়েছে। কিন্তু বই আকারে যখন প্রকাশ হচ্ছে, তখন বিভিন্ন অধ্যায় বিভাজন করা হয়েছে এবং ১৯টি শিরোনামে লেখাগুলো সংকলিত হয়েছে।<br />
এ বইয়ের শুরুটা হয়েছে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের বেশ আগে থেকেই। বলা যায়, অনেকটা প্রেক্ষাপটের মতো ব্যাপার আর কী। আর উপসংহার বা শেষ করেছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমার ধারণা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে। এ অংশটির শিরোনাম দিয়েছি &#8216;তত্ত্বাবধায়ক সরকারতত্ত্ব ও তার ভবিষ্যৎ&#8217;। একটি অধ্যায়ের শিরোনাম আছে &#8216;অভিনব দায়&#8217;।<br />
এ বইটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ হলেও এর মধ্য দিয়ে একটি সময় খুঁজে পাওয়া যাবে, যে সময় বাংলাদেশের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ধারণ করে আছে। অতীত হয়ে গেলেও তা ইতিহাসের কিছু উপাদান হয়ে থাকবে হয়তো। প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার কাছাকাছি এ বইয়ের পরিশিষ্ট অংশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি যেসব ভাষণ দিয়েছি, সে ভাষণগুলো মুদ্রিত হয়েছে। এ ছাড়া অ্যালবাম অংশে মুদ্রিত হয়েছে ওই সময়ের সরকারি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ছবি। বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারসহ নির্ঘণ্ট, গ্রন্থপঞ্জিসহ যাবতীয় টুকিটাকি তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে।&#8221;</p>
<p>প্রচ্ছদ: শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নির্বাচিত মাহমুদ দারবিশ</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 23:32:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[মাহমুদ দারবিশ]]></category>
		<category><![CDATA[হায়াৎ মামুদ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=350</guid>
		<description><![CDATA[দৈনিক সমকালে ১০/০২/২০১০ সংখ্যায় হায়াৎ মামুদ নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
প্রতিরোধের কবিতা
অঞ্চলটির ইতিহাস অন্তত হাজার তিনেক বছরের। বাইবেলের &#8216;পুরাতন নিয়মে&#8217; অর্থাৎ ওল্ড টেস্টামেন্টে ভালোভাবে পাওয়া যাবে, নানা প্রসঙ্গে ও নানান অনুষঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের গল্পগাথা চুঁইয়ে এসেছে যেভাবে বাংলা পুঁথিসাহিত্যে সেটুকুর ভিতরেও আমরা নামটি ছোটবেলা থেকেই জেনে গেছি : কেনান। শত শত বছর পরিক্রমায় নাম পাল্টেছে যে [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%9a/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মাহমুদ দারবিশ পাঠ ও বিবেচনা'>মাহমুদ দারবিশ পাঠ ও বিবেচনা</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%87%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল'>হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দৈনিক সমকালে ১০/০২/২০১০ সংখ্যায় হায়াৎ মামুদ নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
<strong>প্রতিরোধের কবিতা<br />
</strong>অঞ্চলটির ইতিহাস অন্তত হাজার তিনেক বছরের। বাইবেলের &#8216;পুরাতন নিয়মে&#8217; অর্থাৎ ওল্ড টেস্টামেন্টে ভালোভাবে পাওয়া যাবে, নানা প্রসঙ্গে ও নানান অনুষঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের গল্পগাথা চুঁইয়ে এসেছে যেভাবে বাংলা পুঁথিসাহিত্যে সেটুকুর ভিতরেও আমরা নামটি ছোটবেলা থেকেই জেনে গেছি : কেনান। শত শত বছর পরিক্রমায় নাম পাল্টেছে যে কতবার! ফিলিস্তিয়া, ফিলিস্তিন, প্যালেস্টাইন, জুডিয়া, ইসরায়েল ইত্যাদি। ভূখণ্ডের সীমানাও অবশ্য এক থাকেনি, রদবদল হয়েছে বারেবারে। লেবানন, সিরিয়া, জর্দান, মিসর_ সব তিন দিকে, আর একদিকে তো সমুদ্র। চালচিত্রে এই মৃদু ভূগোল-ইতিহাসজ্ঞান থাকাটা জরুরি। কারণ মাহমুদ দারবিশ এই ভূমি ফুঁড়ে উঠে আসা ফিলিস্তিনি কবি।<br />
প্যালেস্টাইনের তিনটি প্রদেশের একটি হলো গালিলি। উত্তর গালিলি অঞ্চলের আক্কা জেলার আল্-বিরওয়েহ্ গ্রামে দারবিশের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৩ মার্চ। যখন তার বয়স মাত্র ছয়, ১৯৪৮-এ ইসরায়েলি বাহিনী ওই গ্রাম দখল করে এবং পরে ৪১৬টি গ্রামসহ আল্-বির্ওয়েহ্কে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দেয়। জীবন বাঁচাতে দারবিশদের পরিবার লেবাননে পালিয়ে যান। পরে যখন দেশে ফিরে এলেন, দেখা গেল ফিলিস্তিনি আরবদের আদমশুমারি শেষ হয়ে গেছে, তারা দেরি করে ফেলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিধিমোতাবেক পরিচয়পত্র জোগাড় করতে তারা ব্যর্থ হলেন। স্বাধীনভাবে নিজের দেশের ভেতরেই ঘোরাফেরা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াল, কর্তৃপক্ষের হাতে বারংবার হয়রানি ও নাস্তানাবুদ হওয়া যেন বিধিলিপি। ষাটের দশকে একাধিকবার তাকে পারদে ভরা হলো, বাড়িতেও অন্তরীণ করা হলো। অতঃপর দেশের ভেতরে থাকা, পালিয়ে যাওয়া, ফের ফিরে আসা_ এসব ক্রমাগত ও সুযোগ-সুবিধামতো চলতে থাকবে। পাকাপাকিভাবে দেশ ছাড়লেন ১৯৭১ সালে। ইসরায়েল থেকে কায়রো গেলেন, সেখানে &#8216;আল্ আহরাম্&#8217; সংবাদপত্রে কাজ করতে লাগলেন। দু&#8217;বছর পর বৈরুত গিয়ে পিএলওতে যোগ দিলেন এবং ওই সংস্থারই &#8216;ফিলিস্তিনি প্রসঙ্গ&#8217; নামে আরবি ভাষায় এক মননশীল পত্রিকার সম্পাদনা-দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে পিএলওর কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভ্যপদ লাভ করেন, কিন্তু ১৯৯৩-এ প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হলে তিনি পদত্যাগ করেন। যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, &#8216;কার্যনির্বাহী পর্ষদে আমার ভূমিকা নিতান্তই প্রতীকী। আমি ওখানে ছিলাম কোনো টেনশন দেখা দিলে তখন দরকারমতো শান্ত-সুস্থিরতার প্রভাব যেন খাটাতে পারি, তাতে মতপার্থক্যের জায়গাগুলো কমানোয় সাহায্য হতো। আমি তো কখনোই রাজনীতির লোক ছিলাম না। আমি কবিমাত্র, বাস্তবতার বিশেষ পরিপ্রেক্ষিত মগজে বয়ে বেড়ায় এরকম এক কবি।&#8217; ১৯৮২ পর্যন্ত বৈরুতে থেকে তারপর পারীতে পাকাপাকিভাবে চলে যান এবং সেখানে ফিলিস্তিনি সাহিত্যপত্র &#8216;আল্-কার্মাল্&#8217; বের করতে থাকেন।<br />
আধুনিক আরবি সাহিত্যে &#8216;প্রতিরোধের কাব্য&#8217; নামে একটি ধারা গড়ে উঠছে। মাহমুদ দারবিশ তার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক প্রতিনিধিমূলক কবি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন। তাঁর নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যাদের কবিকৃতী তার ওপর প্রভাব ফেলেছে তারা হলেন ফরাসি কবি লুই আরাগঁ ও পল এলুয়ার, তুরস্কের নাজিম হিকমত, হিস্পানি ফেদেরিকো গার্থিয়া লোর্কা এবং চিলোনে কবি পাবলো নেরুদা।<br />
১৯৯৬ সালে, ছাবি্বশ বছর নির্বাসিত জীবন-যাপনের পর, তাকে নিজ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে দেখতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তার বান্ধবজন, সতীর্থবৃন্দ &#8216;অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু&#8217;, সব ফিলিস্তিনি মেতে উঠেছিলেন তাকে পেয়ে। হাজার হাজার মানুষ তাকে সংবর্ধনা জানায়, তার কবিতা তাদের মুখে মুখে ফেরে। এই স্মৃতি-রোমন্থনে গভীর বেদনায় তিনি বলেছিলেন : &#8216;যত দিন আমার এ দেহে প্রাণ আছে আমার দেশ ফিলিস্তিনের জন্য আমার নস্টালজিয়ায় কেউ এতটুকুও আঁচড় কাটতে পারবে না।&#8217;<br />
১৯৯৭-এ সিমন বিতঁ নামে জনৈক ইসরায়েলি-ফরাসি চলচ্চিত্রকার আল্-বির্ওয়েহ গিয়েছিলেন দারবিশের শৈশবস্মৃতির নিসর্গ ধরে রাখার জন্য, কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি_ খাঁ খাঁ শূন্যতা, পরিত্যক্ত, ঘাসপালা-জঞ্জালে ঢেকে-যাওয়া গোরস্তান ছাড়া। ২০০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইসরায়েলিদের বুলডোজার ওইসব কবর খুঁড়ে, মানুষের যেটুকুই স্মৃতি পড়ে ছিল কঙ্কালরাশির ভিতরে_ সব তুলে ফেলে দিয়ে, নতুন রাস্তা তৈরির কাজে লেগে যায়। কোনো গ্রাম যে কখনও পৃথিবীর বুকে ঠিক ওইখানটিতে ছিল তার আর কোনো চিহ্নই পড়ে থাকে না। মাতৃভূমি নেই, কিন্তু মাতৃভাষা তো রয়ে যায় মাহমুদ দারবিশের।</p>
<p>প্রচ্ছদ : পরিচয় চৌধুরী</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%9a/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মাহমুদ দারবিশ পাঠ ও বিবেচনা'>মাহমুদ দারবিশ পাঠ ও বিবেচনা</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%87%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল'>হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভূমি ও কুসুম</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 23:31:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ]]></category>
		<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[সেলিনা হোসেন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=346</guid>
		<description><![CDATA[প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
দৈনিক সমকালে ০৮/০২/২০১০ সংখ্যায় সেলিনা হোসেন নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
ভূমি ও কুসুম : ভালোবাসার মগ্নতা
সাতচলি্লশের দেশভাগের সময় ছিটমহলের ধারণা তৈরি হয়। ষাটের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের ছিটমহল সম্পর্কে একটু-আধটু শুনতাম। তেমন কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে একটা বিষয় মাথার ভেতর গেঁথে গিয়েছিল, যখন পড়তাম যে ছিটমহলগুলো দেশের ভেতরে [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ<br />
দৈনিক সমকালে ০৮/০২/২০১০ সংখ্যায় সেলিনা হোসেন নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
<strong>ভূমি ও কুসুম : ভালোবাসার মগ্নতা<br />
</strong>সাতচলি্লশের দেশভাগের সময় ছিটমহলের ধারণা তৈরি হয়। ষাটের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের ছিটমহল সম্পর্কে একটু-আধটু শুনতাম। তেমন কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে একটা বিষয় মাথার ভেতর গেঁথে গিয়েছিল, যখন পড়তাম যে ছিটমহলগুলো দেশের ভেতরে দেশ। বিষয়টি ভীষণ ভাবাত। শুনতাম ওখানে মানুষ এক ধরনের বন্দি জীবনযাপন করে। অন্য দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে নিজের দেশে যাওয়ার অধিকার তাদের নেই।<br />
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলটি বেশ আলোচনায় উঠে আসে। এই ছিটের বাসিন্দাদের ভারতের তিনবিঘা পার হয়ে বাংলাদেশের পাটগ্রামে ঢুকতে হয়। কিন্তু সেটি কোনো সহজ কাজ ছিল না। কারণ দহগ্রাম পাকিস্তানের আর তিনবিঘা করিডোর ভারতের অংশ। সুতরাং ওইটুকু জায়গা পার হতে তো পাসপোর্ট-ভিসা লাগবে! আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের কাছে বড়ই মর্মান্তিক মানুষের দিনযাপনের অনুভব। তার ওপর সীমান্তের চারপাশে আছে সীমান্তরক্ষীদের পাহারা। আছে আইন-কানুনের বেড়াজাল। অসহায় মানুষের দিন কাটে শুধু_ মানবিক মর্যাদার জায়গাটি তাদের জন্য গুটিয়ে থাকে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয় যে, বাংলাদেশ বেরুবাড়ি হস্তান্তর করলে বিনিময়ে ভারত তিনবিঘা করিডোর দেবে। বাংলাদেশ বেরুবাড়ি হস্তান্তর করে কিন্তু ভারতের সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতার কারণে তিনবিঘা আর হস্তান্তর করা হয় না। আমরা লেখকরা এই আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মাঝে বিপন্ন মানুষকে দেখতে পাই শুধু। সেই থেকে বিষয়টি আমার ভাবনায় গেঁথে যায়। আমি একটি উপন্যাসের পটভূমি চিন্তা করি।<br />
কিন্তু লেখার জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারিনি। কারণ যাতায়াতের নানা কড়াকড়ির কারণে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা দেখে আসার সুযোগ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালের ২৬ জুলাই পার্বতীপুর থেকে নীলফামারী হয়ে দহগ্রাম ছিটে যাই। সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। এই যাওয়ায় আমাকে সহযোগিতা করেছিল পার্বতীপুরের ইয়ংস্টার ক্লাবের সভাপতি আমজাদ হোসেন। এই মুহূর্তে আমজাদের কথা খুব মনে পড়ছে। কারণ তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে একটি পাজেরো জিপ জোগাড় করেছিল। তাই লম্বা রাস্তায় যাওয়াটা সহজ হয়েছিল।<br />
তাহলে কঠিন ছিল কি? কঠিন ছিল পথের ঠিকানা। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে দহগ্রাম ছিটমহল। ভারতের মেকলিগঞ্জ মহকুমার মধ্যে পড়ে তিনবিঘা করিডোর। এই তিনবিঘা পার হলে পাওয়া যায় ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহল দহগ্রাম। যে রাস্তাটুকু পার হতে হয়েছিল সেটি পাকা। পাটগ্রাম সীমান্তে আছে বিডিআর ক্যাম্প। তিনবিঘা সীমান্তে বিএসএফ ক্যাম্প। বিষয়টি আমার কাছে গোলকধাঁধার মতো লাগছিল। বারবারই মনে হচ্ছিল, মশা মারতে কামান দাগার আয়োজন। নানা সূত্র আছে। সূত্রের রশির গিটটুগুলো খুবই কঠিন। টান দিলেই খোলে না।<br />
সেদিন শুধু মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকেছি, শুনেছি ওদের বঞ্চনার কথা। দেখেছি অব্যবস্থার চিত্র। আর আমার সামনে ছিল দিগন্ত, আকাশ এবং তিস্তা নদী, ছিল সীমান্তের লোহার গেট, দু&#8217;দেশের পতাকা, সীমান্তরক্ষীদের বুট, রাইফেল এবং শক্ত চেহারা। ভেবেছিলাম এই পটভূমিতেই গল্প বানাতে হবে। তিনবিঘার সরু পাকা রাস্তাটি ধরে বেরিয়ে আসার সময় মনে হয়েছিল, একটু আগে ফেলে আসা বাঁশের মাচানটির স্পর্শ এখনও আমার মধ্যে আছে_ যেখানে বসে চা খেয়েছি, সেসঙ্গে আছে মানুষের বুকের উষ্ণতা, সাহস এবং বেঁচে থাকার জায়গা নির্মাণের প্রবল তৃষ্ণা। কাহিনীর প্রয়োজনে পঞ্চগড়ের আরও দু&#8217;একটি ছিটে গিয়েছি। বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় ছিটও দেখেছি। ওদের সব কাজকর্ম, লেখাপড়া বাংলাদেশে হচ্ছে, কিন্তু নাগরিক অধিকার নেই। চাকরি পায় না, কিংবা জমি বিক্রিও করতে পারে না।<br />
২০০৬ সালে &#8216;কালি ও কলম&#8217; পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবুল হাসনাত আমাকে একটি ধারাবাহিক উপন্যাস লেখার আমন্ত্রণ জানান। তখন আমার এই উপন্যাসটি লেখার কথা মনে হয়। আমি লিখতে শুরু করি। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে আমি উপন্যাসটি লিখি। উপন্যাসটি লেখার জন্য প্রবল ভালোবাসার মগ্নতা ছিল আমার। লিখতে ভালো লেগেছে।<br />
যেখানে মানুষ শুধুই একজন ব্যক্তি নয়, তার ব্যক্তিগত ভালোমন্দকে সে নিয়ন্ত্রিত হতেও দেখে।<br />
ব্যক্তিগত সম্পর্ক কতটা রাষ্ট্রব্যবস্থায় পীড়িত সে গল্পই পাওয়া যায় &#8216;ভূমি ও কুসুম&#8217; উপন্যাসে। উপন্যাসের শিল্পের ব্যাখ্যা ছুঁয়ে থাকে মানুষের জীবন।&#8221;<br />
উপন্যাস একটি বড় ক্যানভাস। তার দায়ও অনেক বেশি। তাই মনে হয়, আমার উপন্যাস আমার আয়ু নিয়েছে_ কে জানে কতটুকু। তারপরও বুকভরা আনন্দ এই যে, &#8216;ভূমি ও কুসুম&#8217; লিখে শেষ করতে পেরেছি।<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p>
<p>১৯-০২-২০১০ তারিখের <a href="http://prothom-alo.com/detail/date/2010-02-19/news/43454" target="_blank">প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে</a> উপন্যাসটি নিয়ে সেলিনা হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রশান্ত মৃধা:<br />
<strong>&#8216;আমার লক্ষ্য ছিটমহলের পুরো বাসিন্দা’</strong><br />
<em>প্রশান্ত মৃধা</em>: ভূমি ও কুসুম উপন্যাসের জন্য ছিটমহলগুলোকে বেছে নেওয়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই, তবে সাতচল্লিশ-পরবর্তী সময় থেকে ছিটমহলগুলোর সমস্যা, বিশেষ করে সেখানকার অধিবাসীদের বন্দিজীবন যাপন ইত্যাদি নিয়ে একটি উপন্যাস হতে পারে বলে বিশ বছর আগে ভেবেছিলাম। তার পরে বিভিন্ন খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। সাত বছর আগে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা দেখতে গিয়েছিলাম। একসময় কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত অনুরোধ করলেন ধারাবাহিকভাবে একটি উপন্যাস লেখার জন্য। তখন মনে হয়েছিল, ধারাবাহিকতার সূত্রে সময় নিয়ে এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি উপন্যাস শুরু করি। মাসে একবার ছাপা হবে কয়েক পৃষ্ঠা—পাশাপাশি আমি অন্যান্য মেটেরিয়ালও দেখে নিতে পারব। যে তথ্য-উপাত্ত আমি সংগ্রহ করেছি, তার সঙ্গে আমি ব্যক্তির সম্পর্কের সূত্রগুলো দেখার চেষ্টা করেছি। এমন নয় যে যে কাহিনিটি এখানে গড়ে উঠেছে, ঠিক সেভাবেই সেখানকার বাসিন্দারা জীবনযাপন করে। বাস্তবতার সূত্র ধরে, কল্পনার মিশেল ঘটিয়ে উপন্যাটি লেখা হয়েছে।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: লিখতে লিখতে এই উপন্যাসের গঠন ও আখ্যানভাগের বদল করতে হয়েছে?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: না। আমি কাহিনিটির যে ছকটি করেছিলাম সেই ছকটি ধরে এগিয়েছি। কারণ আমার ভয় ছিল, অন্যকিছু ভাবতে গেলে কাহিনির সূত্রটি এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তবে, কিছু কিছু শাখা-প্রশাখা খুব ছোট আকারে যে ছাড়ায়নি তা নয়।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: কোনো সমস্যা উপন্যাসের মূল সমস্যা হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিলে আখ্যান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে? এ উপন্যাসের ক্ষেত্রে তা হয়েছে কখনো?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: না। একদমই না। কারণ, কাহিনিটিকে আমি ইচ্ছামতো তৈরি করেছি। বিষয়টি তো নির্দিষ্ট ছিল, কাহিনিকে আমি সব সময় বিষয়ের ভেতরে একীভূত করে রাখিনি। কারণ, কাহিনির মূল বিষয় ছিল ছিটের বাসিন্দাদের বন্দিজীবন যাপন। এই বন্দিজীবনের ভেতরে কাহিনির নানা শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করেছে। সেখানে অভাব-দারিদ্র্য যেমন আছে, প্রেম আছে, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার নানা সূত্র আছে। এবং সবচেয়ে বড় জিনিস যে সীমান্তরক্ষীদের দ্বারা ওরা পরিবেষ্টিত, তাদের সঙ্গে ওদের সংঘর্ষের নানা দিক নিয়ে কাহিনির বিস্তার ঘটিয়েছি। এটা এমন নয় যে যা কিছু এখানে ঘটেছে, তার সবটাই ওদের বাস্তবতা। বাস্তবতা হলো কাহিনির উপাদান।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: কোনো চরিত্র এই উপন্যাসের যাপিত জীবনের সংকটের ভেতরে বাহাদুর হয়ে উঠেছে? যদি ওঠে, সে ক্ষেত্রে নিজেদের এই সংকটের থেকে পরিত্রাণ পেতে লেখককে কোনো উপায় বাতলে দিয়েছে?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: বাহাদুর হয়ে ওঠার তো চেষ্টা করেছে বিভিন্ন জায়গায়। যেমন, দুটি চরিত্র আছে, যারা সতিন। গোলাম আলির কাছে তাদের জিজ্ঞাসা ছিল যে আপনি এত কিছু সবার জন্য করেন, ভাবেন, আপনি একজন পুরুষের দুটো তিনটে বিয়ে বন্ধ করতে পারেন না? গোলাম আলি বলে, কেমন করে করব, ধর্মেই তো চারটি বিয়ের কথা আছে। তখন সেই চরিত্রটি উত্তর দেয়, আমি ধর্ম বুঝি না, আমি সতিন বুঝি।<br />
পথ বাতলে দেওয়ার সুযোগ ওদের নেই; কিন্তু নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করার জায়গা আছে। যেমন, একবার তিস্তায় একটি চর জেগে উঠল, বিএসএফ সঙ্গে সঙ্গে সেই চরটি দখল করে নিল। কিন্তু সেই ভূমির মালিক ছিল ছিটের বাসিন্দাদের একজন। চরের কথা শুনে সবাই দৌড়ে গিয়ে নদীর ধারে জড় হয়। ওদের জড় হতে দেখে বিএসএফের জওয়ানেরা তাদের দিকে রাইফেল তাক করে। সিটের বাসিন্দারা রাইফেলের মুখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তখন মনজিলা বলে, ওদেরকে একটা প্রতিবাদের চিহ্ন দেখাতে হবে। চলো, আমরা ওদের দিকে পাছাটা উঁচু করে হাঁটুতে হাত রেখে হেঁটে যাই।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: এই উপন্যাসের গদ্যে চরিত্রগুলোর বিকাশের বিভিন্ন দিক সহজে ধরতে পেরেছেন?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: না। সব সময় ধরে ওঠা সম্ভব হয় না। আমি অনেক সময় বিশেষ একটি পয়েন্টে ছেড়ে যাই। যেখানে একটি চরিত্রকে একটি বিশেষ দিক থেকে বুঝতে পারে পাঠক। এই উপন্যাসের অনেক চরিত্রকে আমি এভাবে দেখেছি, কারণ, আমার লক্ষ্য ছিল ছিটমহলের পুরো বাসিন্দা। শুধু কয়েকটি চরিত্রের বিকাশ নয়। তাই উপন্যাসে এমন আসা-যাওয়া চরিত্র আছে, যারা জনসমষ্টির অংশ। ব্যক্তিহিসেবে তাকে বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সমাজের বাস্তবতা সব সময় ধরা যায়? এ উপন্যাসটি লিখতে লিখতে এমন সংকটে পড়েছেন?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: এ উপন্যাসে ছিটমহলের অধিবাসীদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করেছে তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় তারা এই ছিটমহলে ঢুকে অসংখ্য বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। সিটের অধিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াতের সুযোগ দেয়নি। সুযোগ নিতে গেলে গুলি করেছে। অনেক সময় নারীদের ধরে নিয়ে গেছে। আবার বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় তাদের দরজাটা খোলা রেখেছিল, যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশের মানুষ আবার দরজা বন্ধ দেখতে পায়। নিজ ভূখণ্ডে নিয়মিত যাতায়াত করতে পারত না তারা। একটি ভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যক্তির সংকট এই উপন্যাসে নানাভাবে এনেছি। আবার নিজ রাষ্ট্রের সঙ্গেও ব্যক্তির সংকট এই উপন্যাসে এসেছে। এভাবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের অধিবাসীরা আমার উপন্যাসের চরিত্র হয়েছে। অর্থাত্, যে দায়টি তার নয়, সে রকম দায়ের কারণে নষ্ট হয়েছে তার সুস্থভাবে বেঁচে থাকা।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: উপভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মান বা প্রমিত রীতি ব্যবহার করেছেন, বিশেষ করে সংলাপে। এটা কি ইচ্ছাকৃত না সহজবোধ্যতার জন্য?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: দুটোই। কারণ, ইচ্ছাকৃত এই জন্য যে, যে সময়টায় আমি ছিটমহলকে দেখেছি, অত অল্প সময়ে ওই মানুষদের মুখের ভাষা ধরা আমার সাধ্য ছিল না। ভুল কিছু না করার জন্য আমি এই চেষ্টাটি একদমই করিনি। দ্বিতীয়ত, সহজবোধ্যতাও একটি কারণ। কারণ, পাঠক ধরে নিতে পারবেন যে এই পটভূমিতে মানুষ যে ভাষায় কথা বলেছে, সেটা তার মুখের ভাষা নয়।<br />
<em>প্রশান্ত</em>: উপন্যাসটির দ্বিতীয় খণ্ড লেখার ইচ্ছে আছে?<br />
<em>সেলিনা হোসেন</em>: না, দ্বিতীয় খণ্ড লেখার মতো আমার কোনো সুযোগ নেই। আমি যেখানে শেষ করেছি, একটি প্রেমঘন জীবন ছিল একটি চরিত্রের, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে যখন ওদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়, তখন ওই ছেলেটির ডান হাতটা পুড়ে যায়। মনজিলার মেয়েটি তাকে ভালোবাসে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ছেলেটি যুদ্ধে যায় এবং শহীদ হয়। মেয়েটির জন্য এটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। ও চিত্কার করে বলে, আমি শহীদের স্ত্রীর গৌরব চাই না, তোমরা আমার ভালোবাসার মানুষটি ফিরিয়ে আনো। একদিন ও সিটের সমস্ত জায়গা থেকে কয়েক ডালি ফুল সংগ্রহ করে তিনবিঘা সীমান্তে এসে দাঁড়ায়। সীমান্তরক্ষীদের বলে, আমি আমার স্বামী যেখানে শহীদ হয়েছে, ভূরুঙ্গামারীর সেই জায়গাটিতে ফুল দিতে যাব। সীমান্তরক্ষীরা ওর বুকের ওপর রাইফেল ধরে। ও একটুও ভয় না পেয়ে চিত্কার করে বলে, তোমরা আমাকে মেরে ফেল, আমি এই ছিটের স্বাধীনতা চাই।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 02:14:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[যতীন সরকার]]></category>
		<category><![CDATA[শোভা প্রকাশ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=322</guid>
		<description><![CDATA[দৈনিক সমকালে ১১/০২/২০১০ সংখ্যায় যতীন সরকার নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
প্রকৃতির সঙ্গে প্রাকৃতজনের সম্পর্ক
প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন বইটিতে প্রকৃতির সঙ্গে প্রাকৃতজনের সম্পর্ক নির্মাণের চেষ্টা করেছি। প্রথম প্রবন্ধের নাম &#8216;প্রকৃতির প্রকৃত তাৎপর্য এবং আমাদের সংস্কৃতি&#8217;। প্রাচীন ভারতের প্রাকৃতজনের দর্শন ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। আয়ুর্বেদই হচ্ছে প্রাচীন ভারতের একমাত্র বস্তুবিজ্ঞান। সেই বস্তু বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই প্রাচীন ভারতের বস্তুবাদী দর্শনের [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দৈনিক সমকালে ১১/০২/২০১০ সংখ্যায় যতীন সরকার নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
<strong>প্রকৃতির সঙ্গে প্রাকৃতজনের সম্পর্ক<br />
</strong>প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন বইটিতে প্রকৃতির সঙ্গে প্রাকৃতজনের সম্পর্ক নির্মাণের চেষ্টা করেছি। প্রথম প্রবন্ধের নাম &#8216;প্রকৃতির প্রকৃত তাৎপর্য এবং আমাদের সংস্কৃতি&#8217;। প্রাচীন ভারতের প্রাকৃতজনের দর্শন ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। আয়ুর্বেদই হচ্ছে প্রাচীন ভারতের একমাত্র বস্তুবিজ্ঞান। সেই বস্তু বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই প্রাচীন ভারতের বস্তুবাদী দর্শনের বিকাশ ঘটেছিল। সেই বস্তুবিজ্ঞানই নানা শাখা-প্রশাখায় প্রসারিত হয়ে যে বস্তুবাদী দর্শনের পত্তন ঘটে তারই ধারাবাহিকতা এখনও প্রবহমান। সেই প্রবহমান দর্শন সম্পর্কেই বাংলার প্রাকৃতজনের দর্শন নামে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ বইটিতে সংযোজন করেছি। বিগত শতকে ত্রিশ ও চলি্লশের দশকে গুরু সদয় দত্ত যে ব্রতচারী আন্দোলনের চেষ্টা করেছিলেন তাতেও ওই প্রাকৃতজনের দর্শনই রূপ লাভ করেছিল। এ কথাটি আমি বলতে চেষ্টা করেছি, নবপর্যায়ে ব্রতচারী আন্দোলন একালের প্রাকৃতজন প্রবন্ধটিতে। বাংলাদেশের &#8216;গাঢ় সমাজ; তাদের আদি ধর্ম ও বর্তমান ধর্ম&#8217; প্রবন্ধটি আমাদের আদি পুরুষদের বিশ্বাস ও জীবনাচরণের ইতিবৃত্ত। প্রকৃতির প্রকৃত তাৎপর্য অন্বেষণের মধ্য দিয়েই বিজ্ঞানকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করা যায় এবং সংস্কৃতিরও স্বরূপ সন্ধান করা চলে। প্রকৃত দায়বোধ থেকেই এই প্রবন্ধগুলো আমি লিখেছি। এই বইটিতে উপমহাদেশের চিন্তার বিভিন্ন ভূগোলের ওপর আলো ফেলতে আমি চেষ্টা করেছি।<br />
আমাদের চিন্তা ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অন্বেষণে আমি উপমহাদেশের চিন্তার দিক-দিগন্তে বিচরণ করেছি। প্রকৃতিই যে সংস্কৃতির জননী এ কথাটির ওপরে আমি বিশেষ জোর দিয়েছি। প্রকৃতি সংলগ্ন চিন্তায় প্রাকৃতজনের দর্শন মানুষে মানুষে জাতি-বর্ণ বিভেদের চিন্তা কোনো মতেই প্রকৃতিসঙ্গত নয়। কিন্তু স্বার্থান্বেষী ক্ষমতালোভী মহল সব সময়ই এই প্রকৃতিসঙ্গত সত্যকে আড়াল করতে চেষ্টা করেছে। আমি আমার এই বইয়ে সেই আড়াল ভাঙার চেষ্টা করেছি। বেদকে ধর্মগ্রন্থ বলেই বিবেচনা করা হয় কিন্তু আমি তা মনে করি না। বেদ মানেই হচ্ছে বিদ্যা। একটা সময় ও সমাজের চিন্তার ইতিবৃত্তই প্রাচীন ভারতের বেদে বিধৃত হয়ে আছে।<br />
আমি সেই বেদের কথা মনে রেখেই আস্তিকতা ও নাস্তিকতা শব্দ দুটোর অন্যতম অর্থ নিষ্কাশনে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।<br />
&#8216;ঈশ্বর সন্ধান, ঈশ্বর দর্শন, ঈশ্বর নির্মাণ&#8217; প্রবন্ধটিতে আমি আমার নিজস্ব চিন্তাকে রূপ দিতে চেষ্টা করেছি। সব পাঠকই যে আমার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হবেন, এরূপ আমি মনে করি না। তবে সহৃদয় পাঠকবৃন্দ যে আমার বক্তব্যে আলোড়িত হবেন, এমনটি আমি বিনীতভাবেই বিশ্বাস করি। আশা করি, সমালোচকবৃন্দ আমার এই বইটিকে উপেক্ষা করবেন না।</p>
<p>প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হুমায়ুন কবির জন্মশতবর্ষ স্মরণ</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 02:08:21 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আবুল আহসান চৌধুরী]]></category>
		<category><![CDATA[ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ]]></category>
		<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[মাসুদ রহমান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=317</guid>
		<description><![CDATA[দৈনিক সমকালে ১২/০২/২০১০ সংখ্যায় আবুল আহসান চৌধুরী নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
নিছক শ্রদ্ধার্ঘ্য নয় 
হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) আক্ষরিক অর্থেই বহুমাত্রিক ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব। সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, রাজনীতি, শিক্ষকতা, সাময়িকপত্র-পরিচালনা_ এসব কিছুর ভেতর দিয়ে রচিত হয়েছিল বিরল প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির জীবন-মৌচাক। &#8216;অসাধারণ&#8217;_ এই শব্দটি যেসব বাঙালি মনীষীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হুমায়ুন কবির তাদের অন্যতম। এই কৃতী বাঙালির [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আত্মকথা: স্মৃতি-বিস্মৃতির বাংলাদেশ'>আত্মকথা: স্মৃতি-বিস্মৃতির বাংলাদেশ</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দৈনিক সমকালে ১২/০২/২০১০ সংখ্যায় আবুল আহসান চৌধুরী নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
<strong>নিছক শ্রদ্ধার্ঘ্য নয় </strong><br />
হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) আক্ষরিক অর্থেই বহুমাত্রিক ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব। সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, রাজনীতি, শিক্ষকতা, সাময়িকপত্র-পরিচালনা_ এসব কিছুর ভেতর দিয়ে রচিত হয়েছিল বিরল প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির জীবন-মৌচাক। &#8216;অসাধারণ&#8217;_ এই শব্দটি যেসব বাঙালি মনীষীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হুমায়ুন কবির তাদের অন্যতম। এই কৃতী বাঙালির যথার্থ মূল্যায়ন তার জন্মভূমি বর্তমান বাংলাদেশ ও কর্মভূমি বর্তমান ভারতবর্ষ_ উভয় দেশেই হওয়া প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এ কথা সত্য যে, তা হয়নি। বিশেষ করে ২০০৬-এ তার জন্মশতবর্ষ যোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে, এই প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। দুই দেশের লেখক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিকদের মধ্যে হুমায়ুন কবির সম্পর্কে একটি মিশ্র ধারণা আছে এবং তা মূলত রাজনৈতিক কারণে। কবিরের প্রথম জীবনের কৃষক-শ্রমিককেন্দ্রিক রাজনৈতিক চেতনা ও কর্মকাণ্ড উত্তরকালে অনেকাংশে পরিবর্তিত ও অবশেষে তা ক্ষমতার বলয়ে আবর্তিত হয়। এককালের শ্রমজীবী-সম্পৃক্ত রাজনীতিক শেষ পর্যন্ত এলিট পলিটিশিয়ানে রূপান্তরিত হন। তাছাড়া সমাজতন্ত্র সম্পর্কে এক ধরনের বিরূপ ভাবনার কারণে প্রগতিপন্থি লেখক- বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তার দূরত্ব রচিত হয়। মূলত কংগ্রেসি রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত হুমায়ুন কবির সাহিত্যচর্চায় তার যোগ্য স্বীকৃতি পাননি এবং যে কংগ্রেসের সেবায় তিনি তার জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সৃষ্টিশীল সময় ব্যয় করেছেন সেই সংগঠনও তাকে শেষ পর্যন্ত ধারণ করতে পারেনি। এক অস্থির-অভিমানী চরিত্রের অধিকারী হুমায়ুন কবির কংগ্রেসেরই সমান্তরাল চিন্তা-চেতনার দলছুট রাজনীতিকদের সংগঠিত করেছেন। তার ট্র্যাজেডি, প্রগতিশীল লেখক-বুদ্ধিজীবীদের কাছে তিনি দক্ষিণপন্থি হিসেবে চিহ্নিত। তাই তার সম্পর্কে তারা আগ্রহ অনুভব করেননি। আর কংগ্রেসের ক্ষমতার বলয় থেকে কেন্দ্রচ্যুত হুমায়ুন কবির কংগ্রেসি রাজনীতিক-লেখক-বুদ্ধিজীবীদের কাছে এক ধরনের বৈরী প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য হয়ে মনোযোগ লাভেও ব্যর্থ হয়েছেন। বোধ হয় হুমায়ুন কবিরের প্রতি এই রাজনীতিক বিবেচনাপ্রসূত দ্বিবিধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি ঔদাসীন্য ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। ফলে তার মূল্যায়নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কারও আগ্রহ জাগেনি, জন্মশতবর্ষ উদযাপনে পরিকল্পিত বৃহৎ কোনো উদ্যোগও গৃহীত হয়নি।<br />
মূলত চতুরঙ্গ পত্রিকাগোষ্ঠীর উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় কবিরের জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। তার প্রতিষ্ঠিত চতুরঙ্গ পত্রিকা এই উপলক্ষে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে এবং মেদিনীপুরের অমৃতলোক (১০৭, জানুয়ারি-জুন ২০০৬) পত্রিকায় একটি মাত্র লেখা প্রকাশের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষে তাকে স্মরণ করা হয়। অপরপক্ষে বাংলাদেশে ঢাকা, নওগাঁ ও ফরিদপুরে জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। নওগাঁ ও তার জন্মস্থান ফরিদপুরের অনুষ্ঠান ছিল নিতান্তই স্বল্প পরিসরের। তুলনায় ঢাকায় হুমায়ুন কবিরের স্নেহসিক্ত কবি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ-অনুষ্ঠানটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। এই অনুষঙ্গে একটি ক্ষুদ্র স্মরণিকাও প্রকাশিত হয়। ঢাকার কালি ও কলম, যুগান্তর, সংবাদ ইত্যাদি পত্রপত্রিকায় হুমায়ুন কবির স্মরণে লেখা প্রকাশিত হয়। হুমায়ুন কবিরের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা বছর তিনেক আগে মাথায় এলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। অবশেষে নানা প্রতিকূলতা ও অন্তরায় অতিক্রম করে বর্তমান স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হলো।<br />
হুমায়ুন কবিরের জন্মশতবর্ষের তিন বছর পর এই স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ায় কিছুটা গ্গ্নানি বোধ করছি। তবুও সান্ত্বনা এই যে, বিলম্বে হলেও শতবর্ষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ ও সৌভাগ্য অবশেষে অর্জন করা গেল। এই বই নিছক শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বিস্মৃতির ধূসর ধুলোর আবরণ সরিয়ে নতুন চোখে হুমায়ুন কবিরকে দেখার প্রয়াসও বটে। &#8216;বিশুদ্ধ বাঙালি&#8217; ও &#8216;বিশ্ব পথিক&#8217; হুমায়ুন কবিরকে নানা কৌণিকে উপস্থাপিত করার প্রয়াস যদি সহৃদয় পাঠকের মনোযোগ, সমর্থন ও সমাদর লাভ করে, তাহলে সেই হবে আমাদের এই শ্রমের যোগ্য পুরস্কার।</p>
<p>প্রচ্ছদ : কাইয়ুম চৌধুরী</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আত্মকথা: স্মৃতি-বিস্মৃতির বাংলাদেশ'>আত্মকথা: স্মৃতি-বিস্মৃতির বাংলাদেশ</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বরপুত্র</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 02:01:05 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[পাঞ্জেরি পাবলিকেশন]]></category>
		<category><![CDATA[মঞ্জু সরকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=313</guid>
		<description><![CDATA[দৈনিক সমকালে ১৩/০২/২০১০ সংখ্যায় মঞ্জু সরকার নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
বরপুত্র উপন্যাসের নায়ক হলো যে কারণে
হঠাৎ যদি কোটি টাকা পেয়ে যাই! কী করব তা হলে? স্কুলে পরীক্ষার খাতায় এ রকম বিষয়ে একটা রচনা লিখতে গিয়ে অনেক ভালো কথা লিখেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, রচনাটি পড়ে পরীক্ষক যেন বুঝতে পারেন এমন আদর্শবাদী, দানশীল ও ভালো ছেলে দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দৈনিক সমকালে ১৩/০২/২০১০ সংখ্যায় মঞ্জু সরকার নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
<strong>বরপুত্র উপন্যাসের নায়ক হলো যে কারণে</strong><br />
হঠাৎ যদি কোটি টাকা পেয়ে যাই! কী করব তা হলে? স্কুলে পরীক্ষার খাতায় এ রকম বিষয়ে একটা রচনা লিখতে গিয়ে অনেক ভালো কথা লিখেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, রচনাটি পড়ে পরীক্ষক যেন বুঝতে পারেন এমন আদর্শবাদী, দানশীল ও ভালো ছেলে দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি আর নেই। কিন্তু বেশি নম্বরপ্রত্যাশী সেসব কথা মনের কথা ছিল না আসলে। সে জন্যই বোধহয় প্রশ্নটার সঠিক জবাব খুঁজতাম। বড়লোক হওয়ার সহজাত আকাঙ্ক্ষায়, নাকি ভোগের অফুরন্ত তৃষ্ণায়_ ঠিক জানি না, কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন-কল্পনা এক সময়ে বেশ ভালো লাগত। স্বাধীন দেশে অসাধু পন্থায় স্বল্প সময়ে কোটিপতি বা অগাধ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে_ এমন সৌভাগ্যের বরপুত্রদের হিংসা হতো, ঘৃণাও করতাম। কিন্তু লেখক হিসেবে, আমার গল্প-উপন্যাসে এরা প্রধান বা প্রত্যক্ষ চরিত্র হয়ে আসেনি তেমন। হয়তো অপরিচয়ের দূরত্ব একটা বড় কারণ। তাছাড়া বঞ্চিত মানুষরাই আত্মীয় হিসেবে আমার গল্প-উপন্যাসে ভিড় করেছে বেশি। এদিক থেকে বরপুত্র উপন্যাসটি ব্যতিক্রম অবশ্যই। হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া মানুষের সত্য কাহিনী তো এ সমাজের অনেকেই জানেন। আমিও শুনেছি এ রকম অনেক গল্প। সাংবাদিকতা পেশায় আসার পর সমাজের অধিপতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রকদের আরও খানিকটা কাছে থেকে দেখার ও জানার সুযোগ বেড়েছে। স্বাধীন দেশের এরাই তো হর্তকর্তা, প্রকৃত নায়ক। ভাবি, এদের একজনকে নায়ক করে উপন্যাস লিখলে কেমন হয়? এ ভাবনা ও সমাজসচেতনতার চাপ থেকে উপন্যাসে মোহনের জন্ম হয়েছে সৌভাগ্যের বরপুত্র হিসেবে। দেশের স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্টের একান্ত পাশে এবং ক্ষমতালোভী রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার গুণাবলি তো তার ছিল, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করে গড়ে তোলার সুযোগটাও এসেছিল সৌভাগ্যক্রমে। অতঃপর রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে জায়গা পাওয়ার মোহনের উত্থান অন্তত নিজের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়নি।<br />
উপন্যাসে প্রতিবাদী এক নারী চরিত্র আছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাবার মেয়ে হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন লালন করে সে। ফলে এ স্বপ্ন ও চেতনাকে ধর্ষণকারী বৈরী ক্ষমতার শিকার হওয়াটাই যেন তার নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে মোহন যে রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতিনিধি, সেই রাজনীতিকে তো নিকটঅতীতেও দুর্বৃত্তায়নকবলিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি হিসেবে কষে গালমন্দ করেছেন সুশীল সমাজ। তাদের গালমন্দে কাজ না হোক, গণআন্দোলনে সামরিক ও স্বৈরাচার নামক দুঃশাসনের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার ইতিহাস তো আর মিথ্যে নয়। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে তাই উপন্যাসে মোহনেরও পতন হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে বিশেষ কারও শাসনামল নয়, উপন্যাসে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রত্যক্ষ ছায়া এসেছে মোহনের কাণ্ডকীর্তি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার গরজে। সংক্ষেপে এই হলো বরপুত্র উপন্যাসের মূল বিষয়। উপন্যাসটির প্রথম দু&#8217;পর্ব সমকাল ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। তৃতীয় পর্ব পতনের সময়_ প্রকাশিত হয়েছে যুগান্তর ঈদ সংখ্যায়। বই আকারে প্রকাশের সময় প্রয়োজনীয় ঘষামাজা করেছি। পাঠক উপন্যাসটি পড়ে অভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন এবং কাহিনীর টানে পড়ে, মেলা চরিত্র ও ঘটনা জেনে ভালো লাগবে হয়তোবা। উপন্যাস সাহিত্য হিসেবে কোথায় দুর্বলতা বা ত্রুটিবিচ্যুতি, সেটা বলার দায় সমালোচকদের। তারা সে দায়িত্ব পালন করবেন না বলে লেখকের সেই চেষ্টা না করাই ভালো। বিশ্বাস করি, ভালো কী মন্দ_ সেই চূড়ান্ত রায় দেওয়ার বিচারক আসলে প্রতিটি পাঠকই।</p>
<p>প্রচ্ছদ সমর মজুমদার</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অন্ধের আঙুলে এত জাদু</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 24 Feb 2010 01:41:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[প্রথমা প্রকাশন]]></category>
		<category><![CDATA[মহাদেব সাহা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=303</guid>
		<description><![CDATA[দৈনিক সমকালের ১৭/০২/২০১০ সংখ্যায় মহাদেব সাহা নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:
জীবনের সকল অনুভূতির কথা বলতে চাই
আমাকে ঠিক গ্রন্থ-প্রণেতা বলা যায় না; আমি পরিকল্পিত বই লিখি না, দুই-চার লাইন কবিতা লিখি। ছড়ানো-হারানো এইসব কবিতা কুড়িয়ে একত্র করি, তাকে বরং বলা যায়, ভাবের খাতা, ভাবনার বই নয়। এই লেখাগুলোই মুদ্রণ ও শিল্পীর সৃজনশীলতায় বই হয়ে ওঠে। আমি [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>দৈনিক সমকালের ১৭/০২/২০১০ সংখ্যায় মহাদেব সাহা নিজের বই নিয়ে যা লিখেছেন:<br />
<strong>জীবনের সকল অনুভূতির কথা বলতে চাই<br />
</strong>আমাকে ঠিক গ্রন্থ-প্রণেতা বলা যায় না; আমি পরিকল্পিত বই লিখি না, দুই-চার লাইন কবিতা লিখি। ছড়ানো-হারানো এইসব কবিতা কুড়িয়ে একত্র করি, তাকে বরং বলা যায়, ভাবের খাতা, ভাবনার বই নয়। এই লেখাগুলোই মুদ্রণ ও শিল্পীর সৃজনশীলতায় বই হয়ে ওঠে। আমি অবাকই হই, কখন লিখলাম এই বই? আমার কল্পনার মধ্যে বই থাকে না, থাকে পদ্য, থাকে পঙ্ক্তি, থাকে শব্দ, থাকে কিছু অনুভব। কবিতা লেখকের জন্য গ্রন্থকারের দাবি বোধ হয় ঠিক নয়। তাই আমি আমার কবিতা বলতে পারি, আমার বই বলা কি যায়, বলা কি উচিত? তবু পাকে-চক্রে আমি বই-প্রণেতা, আমারই বই বলি, প্রকাশিত গ্রন্থ বলি, বলে হয়তো সুখ পাই, এই সুখটুকুই তো কবির পুরস্কার। তা-ই নিয়েই পরম আনন্দে মেতে থাকি। বছর বছর এমনি হয়। বই লিখি না আমি, তবু বের হয় আমার বই। কী বলা যায় এই বই নিয়ে, এ তো আমার পরিকল্পিত বিন্যস্ত ভাবনারাশি নয়; এ হচ্ছে পদ্য, কবিতা। যখন যা মনে এসেছে, তা-ই লিখেছি, গদ্যে তার তা ব্যাখ্যা করা প্রায় সাধ্যাতীত। আমি কাজ করি কবিতার আড়ালের মধ্যে, সেখানে স্পষ্ট বলে কিছু নেই, অন্ধের চোখে যা দেখা যায়, তা-ই হচ্ছে কবিতা। দিনে দিনে ধরাছোঁয়ার বাইরে তা আমার মধ্যে অঙ্কুরিত হতে থাকে। চোখ মেলে আমি তার মুখ দেখতে পাই না, চোখ বুজে তা দেখতে পাই, স্বপ্ন থেকে, আকাশ থেকে পাওয়া বিমূর্ত অবয়বহীন প্রতিমা; আমার দুই চোখ ছেয়ে আছে, সারা মন ভরে আছে, আমি দেখতে পাই, দেখাতে পারি না, বুঝতে পারি, বোঝাতে পারি না_ এই তো আমার কবিতার বই। এবারের অন্ধের এই স্বপ্নখাতাটির নাম &#8216;অন্ধের আঙুলে এত জাদু&#8217; কী বলা যায় এর বিষয়, এর অর্থ? জিজ্ঞেস না করলে আপন মনে বলতেই পারি, জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারি না, যেমন বলেছিলেন সেইন্ট অগাস্টাস। কবির জন্য তো তা আরও বেশি সত্য, রূপ দেখতে পাই, স্বরূপ বলতে পারি না। এক কথায় তাকে নাম দিতে পারি সৌন্দর্য-প্রতিমা, স্বপ্ন-প্রতিমা। বলতে চাইলে বলতে তো পারিই বহু কথা, বিষয়, আঙ্গিক, নতুন চিন্তা, ছন্দ, প্রকরণ, তার অভিনবত্ব, তার নির্মাণশৈলী, তার সানুপুঙ্খ বিবরণ, কিন্তু তা প্রকৃত সত্য নয়, অর্ধসত্য কিংবা বানানো বর্ণনা। কবির পক্ষে নিজের রচিত কবিতা নিয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই, বলা ঠিক নয়। দিবারাত্রি হঠাৎ জেগে-ওঠা কত মুহূর্ত, কত বিদ্যুৎঝলক, কত আত্ম-উন্মোচন, তার বিশদ বিবরণ হয় না। কবিতার জন্ম হয় মনে, বাইরে আড়ালহীন গদ্যে তার প্রকাশ প্রায় অসম্ভব। করতে হয়তো পারি-ই, লেখা হয়তো যায়-ই পাতার পর পাতা, দিন-তারিখ-সময়, কোথায় লিখলাম, কেন লিখলাম, এইসব অজানা কথা, কিন্তু তার সব কি আমিই জানি? জানি না, আসল সত্য জানি না, এই না-জানা মুহূর্তের নাম কবিতা, কবিতার জন্মপঙ্ক্ত। কোন মুহূর্তে কীভাবে পেয়ে গেছি কোন পঙ্ক্তি, কীভাবে মনের মধ্যে জেগে উঠেছে এই মেঘ-রৌদ্র এই আলো-অন্ধকার, এই বর্ষা-বসন্ত আমি তাকে বলতে চাই অন্ধের আঙুলে ফোটা জাদু, জাদুর ফুল, এটুকুই মাত্র। আমার প্রিয় পাঠকেরা যাকে বলবেন আমার এবারের কবিতার বই, তাকে নিয়ে, এই লজ্জা নিয়ে, এই জানা-অজানা নিয়ে, এই স্বপ্ন-রহস্য নিয়ে যদি বলি এই আমার সব কথা, সব বলা, তা হলে কি ভুল হবে? কোনো মূর্তি আমার চোখের সামনে ছিল না, চোখের ভেতরে ছিল, এই তো আমার জীবনের সব না-বলা কথা, এই তো আমার সেই আশ্চর্য মুহূর্ত, আমি জোড় হাতে বহু দিনরাত্রি, কোটি কোটি বছর হয়তো তারই জন্য অপেক্ষা করে থাকি। আমার কবিতা কোনো সুস্পষ্ট-সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তো নয়, এ হচ্ছে বৃক্ষহীন ছায়া-গাছের ফুল, সরোবরহীন মায়া-সরোবরের জল, আকাশহীন অনন্তের শিশির, এসবই আমার কবিতা, এসবই আমার এবারের কবিতার বই। এর বেশি স্পষ্টীকৃত করার উপায় নেই। সেই দুঃখ, সেই পরাজয়, সেই জয়, সেই আনন্দ কিন্তু হয়তো অভিনব, হয়তো নতুন, হয়তোবা নতুন নয়, তারপরও সে আমারই মনে জেগে-ওঠা ভোর, নতুন জগৎ। না, না, আর কিছুই বলা ঠিক হবে না নিজের বই নিয়ে, নিজের লজ্জা নিয়ে। আমার বই কোনো বই নয়, কিছু ছড়ানো ভালোবাসা, কিছু বিন্দু বিন্দু অশ্রু। যে কেউ একে এক কথায় নস্যাৎ করে দিতে পারেন, আমার কিছু বলার নেই, আমি সব মাথা পেতে নেব। কারণ এ হচ্ছে অন্ধের আঙুলের ব্যর্থ কিছু কাজ।</p>
<p>প্রচ্ছদ : কাইয়ুম চৌধুরী</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
