<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বই আর বই</title>
	<atom:link href="http://boirboi.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://boirboi.com</link>
	<description>বাংলাদেশের বইয়ের জগত</description>
	<lastBuildDate>Wed, 07 Apr 2010 07:34:29 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.9.2</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>মূলধারা &#8216;৭১</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 07 Apr 2010 07:34:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[গবেষণা]]></category>
		<category><![CDATA[দি ইউনিভাসিটি প্রেস লি:]]></category>
		<category><![CDATA[মঈদুল হাসান]]></category>
		<category><![CDATA[মুক্তিযুদ্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=681</guid>
		<description><![CDATA[বইটি এই ওয়েবসাইটে গিয়ে বিনামূল্যে পড়তে পারেন অথবা ডাউনলোড করতে পারেন।
বইটির ওয়েব সংস্করণ নিয়ে ইউপিএল-এর প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ:
&#8220;www.profile-bengal.com ওয়েব সাইট-এ  মঈদুল হাসান রচিত মূলধারা: &#8216;৭১ পাঠকদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-কে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল।
কেননা ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বইটি <a href="http://www.profile-of-bengal.com/p-b/www.profile-bengal.com/muldhara/muldhara.html" target="_blank">এই ওয়েবসাইটে</a> গিয়ে বিনামূল্যে পড়তে পারেন অথবা ডাউনলোড করতে পারেন।<br />
বইটির ওয়েব সংস্করণ নিয়ে ইউপিএল-এর প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ:<br />
&#8220;www.profile-bengal.com ওয়েব সাইট-এ  মঈদুল হাসান রচিত মূলধারা: &#8216;৭১ পাঠকদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-কে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল।<br />
কেননা ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্ভরযোগ্য বিবরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। ১৯৯২ সালে বইটির ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। যে বইটি এখন ওয়েব সাইট-এ পরিবেশিত হয়েছে সেটি ঐ সংস্করণের ৫ম মুদ্রণ (২০০৮)। একটি বাণিজ্য-সফল বইয়ের সম্পূর্ণ অংশ কোন মূল্য ছাড়াই ওয়েব সাইট-এ উন্মুক্ত করে প্রত্যক্ষভাবেই প্রকাশক কিছুটা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিয়েছে।<br />
অন্যদিকে ওয়েব সাইট-এ মূলধারা: &#8216;৭১ উন্মুক্ত করার  পক্ষের কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমটি হলো সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষি  বৃহত্তর  পাঠকের কাছে সম্পূর্ন বইটি সহজলভ্য করা। দ্বিতীয়টি হলো, এর ফলে নতুন করে বইটির উপর যে সব আলোচনা শুরু হবে তা এই বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ অথবা অন্য আরো বই রচনার কাজে সহায়ক হতে পারে।<br />
এই বইতে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ও তার আগে-পিছের তাৎপর্যময় ঘটনার বিশ্লেষন ও বর্ণনা আছে &#8211; যা লেখা হয়েছিল ঐ সময়কার জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষিত গভীরভাবে গবেষণা ও অনুসন্ধান করে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক  ঘটনাবলীর  বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা এই বইটিকে করে তুলেছে একটি অনন্য দলিল। এটা এই লেখকের পক্ষে করা সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বেশ কিছু কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এবং প্রত্যক্ষভাবে না-হলেও তিনি অনেক ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন।<br />
মূলধারা: &#8216;৭১  প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে, বিশেষ করে মার্কিন সরকার ও ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, সম্প্রতিকালে বেশ কিছু দলিলপত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। কাজেই এই বই এবং সম্প্রতিকালের দলিলপত্র অবলম্বন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়ে নতুন তথ্য, প্রসঙ্গ ও বিবেচনা উঠে আসার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাও ক্ষীণ নয় যে, এই ওয়েব সংস্করণের ফলে বইটির আসন্ন ইংরেজি ভাষ্য পাঠকের মধ্যে  যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করবে।&#8221;</p>
<p><strong>প্রথম সংস্করণের ভূমিকা</strong><br />
সমকালীন ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর রাজনৈতিক ভাবাবেগ ও পক্ষপাতিত্ব প্রায়শ এক সাধারণ সমস্যা। যদি কোন কারণে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বর্ণনাকারীর কিছু সংস্রব ঘটে, তবে আত্মপ্রকাশের প্রবণতাও একটি অতিরিক্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিবরণ হারায় ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা। এই দ্বিবিধ বাধা অতিক্রমের জন্য যে নিরাসক্ত নিষ্ঠা ও সততা প্রয়োজন, তা সম্যক আয়ত্ত করার দাবী আমার নেই। তবে এই প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন ও যত্নবান থেকেছি বিনীতভাবে তার উল্লেখ রাখতে চাই।</p>
<p>এই গ্রন্হ মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও মূল ঘটনাধারাকে নিয়ে লেখা। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের যে সব নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে আমি জড়িত হয়ে পড়েছিলাম এবং এই সংগ্রামের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্হাপনার যে দিকগুলি সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম, সেগুলিকে ভিত্তি করেই ১৯৭২ সালে এই গ্রন্হের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। পরে সেই ভিত্তির সমপ্রসারণ ঘটে। মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার জটিল বিস্তার অনুধাবনের পক্ষে সহায়ক হতে পারে, মুখ্যত এই বিবেচনা থেকে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির উল্লেখ এই গ্রন্হে করা হয়েছে। কাজেই সমগ্র কর্মকাণ্ডের অনুপাতে এগুলির আপেক্ষিক গুরুত্ব নগণ্য বলে মনে করা হলে আমার কোন আপত্তি নেই। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার ব্যাপ্তি বিশাল, উপাদান অত্যন্ত জটিল এবং অসংখ্য ব্যক্তির আত্মত্যাগ ও অবদানে সমৃদ্ধ। এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ ও বিবরণ এই গ্রন্হের বর্তমান কলেবরে সম্ভব ছিল না। এর ফলে কারো অবদান খর্বিত বা অনুল্লেখিত হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তজ্জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। একাত্তুরের সংগ্রামের মূল উপাদান ও তথ্যাদি যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে, সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে এবং সময় ও ঘটনার পারম্পর্য অক্ষুণ্ন রেখে উপস্হাপন করাই এই গ্রন্হের প্রয়াস।</p>
<p>এই গ্রন্হের আলোচিত সময় ১৯৭১-এর মার্চ থেকে ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারীতে শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকাল পর্যন্ত। একাধিক কারণে এই সময়কে একটি অখণ্ড কাল হিসেবে আমি গণ্য করেছি। আগের ইতিহাসের সামান্য পটভূমি স্পর্শ করা ব্যতীত এই গ্রন্হের বর্ণনাকে উপরোক্ত সময়ের অনুশাসনে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। সম্ভবত এর ফলে এই সময়কে তার নিজস্ব আলোকে উপলব্ধি করা সহজতর হবে।</p>
<p>ঘটনার চৌদ্দ বছর পর এই রচনা সমাপ্ত হতে চলেছে। দীর্ঘকালের ব্যবধানে স্মৃতি প্রায়শই অনির্ভরযোগ্য। কাজেই এই গ্রন্হ রচনাকালে অসমর্থিত স্মৃতিকে পরিহার করার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। সৌভাগ্যক্রমে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং সেই ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে গ্রন্হ রচনার প্রথম উদ্যোগকালে, ১৯৭২ সাল থেকে পরবর্তী চার বৎসরে, বিক্ষিপ্তভাবে হলেও যে গবেষণার চেষ্টা আমি করেছিলাম তার ফলে দলিলপত্র, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত জার্নাল, মুদ্রিত তথ্য, ঘটনাপঞ্জি প্রভৃতি অনেক কাগজপত্র জমে ওঠে। এগুলি বিস্মৃতির ক্ষতিপূরণে বহুলাংশে সহায়ক হয়েছে। গত দু’বছরে এই গ্রন্হ রচনাকালে আরও কিছু নতুন তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। গ্রন্হে পরিবেশিত তথ্যাদির সূত্র বা উৎস কোন কোন ক্ষেত্রে অনুল্লেখিত থাকলেও এগুলির সত্যতা ও নিরপেক্ষতা যতদূর সম্ভব পুনর্বার যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছি। তৎসত্ত্বেও যদি তথ্যের কোন ভুলভ্রান্তি থাকে তার দায়িত্ব একান্ত ভাবেই আমার। গ্রন্হের পাদটীকায় ‘একান্ত সাক্ষাৎকার’ হিসাবে পরিবেশিত তথ্য ও অভিমতগুলি আজও অন্যত্র অপ্রকাশিত এবং বর্তমান রচনার জন্যই বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত।</p>
<p>এই গ্রন্হের রচনা, প্রকাশনা এবং বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি গবেষণাকালে যাঁদের অকৃপণ সহযোগিতায় আমি উপকৃত হয়েছি তাঁদের নামের তালিকা দীর্ঘ। এঁদের অনেকে আজ লোকান্তরিত। এঁদের সবার কাছে আমি ঋণ স্বীকার করি।<br />
মঈদুল হাসান<br />
ঢাকা, ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৮৫</p>
<p><strong>দ্বিতীয় সংস্করনের ভূমিকা</strong></p>
<p>এই গ্রন্হের প্রথম প্রকাশ ও বর্তমান সংস্করণের মাঝে বিশ্বে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্হার ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে যে বৈরিতামূলক ব্যবস্হা, ঠাণ্ডাযুদ্ধের যে উন্মত্ততা বহাল ছিল পৃথিবী জুড়ে, ইতিমধ্যে তার বহুলাংশের বিলোপ ঘটেছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। এই বিশাল পরিবর্তন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তির ক্ষেত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে, যা দু’বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। এই সংস্করণ প্রকাশকালে পরিস্হিতি ও দৃষ্টিভঙ্গির এ সমুদয় পরিবর্তনের মধ্যে যতখানি প্রাসঙ্গিক তা আমি বিবেচনায় রেখেছি। আমার মনে হয়েছে, এই সংস্করণে প্রথম প্রকাশের বর্ণনা ও যুক্তিবিন্যাস অনেকখানিই অপরিবর্তিত রাখা যায়। অপরিবর্তিত রাখার বড় কারণটি অবশ্য পদ্ধতিগত &#8211; মুক্তিযুদ্ধকে তার নিজস্ব সময়ের যুক্তিতে উপস্হাপন করার প্রয়োজন বোধহয় সব সময়েই থাকবে, অন্যদিকে যেমন বিভিন্ন সময় ও পরবর্তী অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধ উপস্হাপিত বা বিশ্লেষিত হতে পারে বিভিন্নভাবেই।</p>
<p>কাজেই সংশোধন বা পরিবর্তন এই সংস্করণে বড় কিছু নেই। সংযোজন যতটুকু করা হয়েছে তা পূর্বে উল্লেখিত ঘটনা বা যুক্তিকে অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই। এ যাবত অপ্রকাশিত কিছু দলিল পরিবেশন করা হল এই সূত্রে। আর কিঞ্চিৎ পরিমার্জনা করা হয়েছে কিছু ভাষার।</p>
<p>লেখক<br />
জানুয়ারী ১৯৯২</p>
<p>মূলধারা: &#8216;৭১</p>
<p><strong>ওয়েব সংস্করণ</strong></p>
<p>www.profile-bengal.com ওয়েব সাইট-এ  মঈদুল হাসান রচিত মূলধারা: &#8216;৭১ পাঠকদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিতে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-কে কিছুটা দ্বিধায় পড়তে হয়েছিল।</p>
<p>কেননা ১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্ভরযোগ্য বিবরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। ১৯৯২ সালে বইটির ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। যে বইটি এখন ওয়েব সাইট-এ পরিবেশিত হয়েছে সেটি ঐ সংস্করণের ৫ম মুদ্রণ (২০০৮)। একটি বাণিজ্য-সফল বইয়ের সম্পূর্ণ অংশ কোন মূল্য ছাড়াই ওয়েব সাইট-এ উন্মুক্ত করে প্রত্যক্ষভাবেই প্রকাশক কিছুটা আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিয়েছে।</p>
<p>অন্যদিকে ওয়েব সাইট-এ মূলধারা: &#8216;৭১ উন্মুক্ত করার  পক্ষের কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমটি হলো সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষি  বৃহত্তর  পাঠকের কাছে সম্পূর্ন বইটি সহজলভ্য করা। দ্বিতীয়টি হলো, এর ফলে নতুন করে বইটির উপর যে সব আলোচনা শুরু হবে তা এই বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ অথবা অন্য আরো বই রচনার কাজে সহায়ক হতে পারে।</p>
<p>এই বইতে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ও তার আগে-পিছের তাৎপর্যময় ঘটনার বিশ্লেষন ও বর্ণনা আছে &#8211; যা লেখা হয়েছিল ঐ সময়কার জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রেক্ষিত গভীরভাবে গবেষণা ও অনুসন্ধান করে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক  ঘটনাবলীর  বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা এই বইটিকে করে তুলেছে একটি অনন্য দলিল। এটা এই লেখকের পক্ষে করা সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বেশ কিছু কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এবং প্রত্যক্ষভাবে না-হলেও তিনি অনেক ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন।</p>
<p>মূলধারা: &#8216;৭১  প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্র থেকে, বিশেষ করে মার্কিন সরকার ও ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, সম্প্রতিকালে বেশ কিছু দলিলপত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। কাজেই এই বই এবং সম্প্রতিকালের দলিলপত্র অবলম্বন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়ে নতুন তথ্য, প্রসঙ্গ ও বিবেচনা উঠে আসার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাও ক্ষীণ নয় যে, এই ওয়েব সংস্করণের ফলে বইটির আসন্ন ইংরেজি ভাষ্য পাঠকের মধ্যে  যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করবে।</p>
<p>মহিউদ্দিন আহমেদ<br />
প্রকাশক, ইউপিএল                                                                                <strong>প্রথম সংস্করণের ভূমিকা</strong><br />
সমকালীন ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর রাজনৈতিক ভাবাবেগ ও পক্ষপাতিত্ব প্রায়শ এক সাধারণ সমস্যা। যদি কোন কারণে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে বর্ণনাকারীর কিছু সংস্রব ঘটে, তবে আত্মপ্রকাশের প্রবণতাও একটি অতিরিক্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিবরণ হারায় ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা। এই দ্বিবিধ বাধা অতিক্রমের জন্য যে নিরাসক্ত নিষ্ঠা ও সততা প্রয়োজন, তা সম্যক আয়ত্ত করার দাবী আমার নেই। তবে এই প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন ও যত্নবান থেকেছি বিনীতভাবে তার উল্লেখ রাখতে চাই।</p>
<p>এই গ্রন্হ মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও মূল ঘটনাধারাকে নিয়ে লেখা। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের যে সব নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে আমি জড়িত হয়ে পড়েছিলাম এবং এই সংগ্রামের সাংগঠনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্হাপনার যে দিকগুলি সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম, সেগুলিকে ভিত্তি করেই ১৯৭২ সালে এই গ্রন্হের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। পরে সেই ভিত্তির সমপ্রসারণ ঘটে। মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার জটিল বিস্তার অনুধাবনের পক্ষে সহায়ক হতে পারে, মুখ্যত এই বিবেচনা থেকে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির উল্লেখ এই গ্রন্হে করা হয়েছে। কাজেই সমগ্র কর্মকাণ্ডের অনুপাতে এগুলির আপেক্ষিক গুরুত্ব নগণ্য বলে মনে করা হলে আমার কোন আপত্তি নেই। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনার ব্যাপ্তি বিশাল, উপাদান অত্যন্ত জটিল এবং অসংখ্য ব্যক্তির আত্মত্যাগ ও অবদানে সমৃদ্ধ। এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ ও বিবরণ এই গ্রন্হের বর্তমান কলেবরে সম্ভব ছিল না। এর ফলে কারো অবদান খর্বিত বা অনুল্লেখিত হয়ে থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তজ্জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। একাত্তুরের সংগ্রামের মূল উপাদান ও তথ্যাদি যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে, সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে এবং সময় ও ঘটনার পারম্পর্য অক্ষুণ্ন রেখে উপস্হাপন করাই এই গ্রন্হের প্রয়াস।</p>
<p>এই গ্রন্হের আলোচিত সময় ১৯৭১-এর মার্চ থেকে ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারীতে শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকাল পর্যন্ত। একাধিক কারণে এই সময়কে একটি অখণ্ড কাল হিসেবে আমি গণ্য করেছি। আগের ইতিহাসের সামান্য পটভূমি স্পর্শ করা ব্যতীত এই গ্রন্হের বর্ণনাকে উপরোক্ত সময়ের অনুশাসনে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। সম্ভবত এর ফলে এই সময়কে তার নিজস্ব আলোকে উপলব্ধি করা সহজতর হবে।</p>
<p>ঘটনার চৌদ্দ বছর পর এই রচনা সমাপ্ত হতে চলেছে। দীর্ঘকালের ব্যবধানে স্মৃতি প্রায়শই অনির্ভরযোগ্য। কাজেই এই গ্রন্হ রচনাকালে অসমর্থিত স্মৃতিকে পরিহার করার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। সৌভাগ্যক্রমে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলীর বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং সেই ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে গ্রন্হ রচনার প্রথম উদ্যোগকালে, ১৯৭২ সাল থেকে পরবর্তী চার বৎসরে, বিক্ষিপ্তভাবে হলেও যে গবেষণার চেষ্টা আমি করেছিলাম তার ফলে দলিলপত্র, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত জার্নাল, মুদ্রিত তথ্য, ঘটনাপঞ্জি প্রভৃতি অনেক কাগজপত্র জমে ওঠে। এগুলি বিস্মৃতির ক্ষতিপূরণে বহুলাংশে সহায়ক হয়েছে। গত দু’বছরে এই গ্রন্হ রচনাকালে আরও কিছু নতুন তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। গ্রন্হে পরিবেশিত তথ্যাদির সূত্র বা উৎস কোন কোন ক্ষেত্রে অনুল্লেখিত থাকলেও এগুলির সত্যতা ও নিরপেক্ষতা যতদূর সম্ভব পুনর্বার যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছি। তৎসত্ত্বেও যদি তথ্যের কোন ভুলভ্রান্তি থাকে তার দায়িত্ব একান্ত ভাবেই আমার। গ্রন্হের পাদটীকায় ‘একান্ত সাক্ষাৎকার’ হিসাবে পরিবেশিত তথ্য ও অভিমতগুলি আজও অন্যত্র অপ্রকাশিত এবং বর্তমান রচনার জন্যই বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত।</p>
<p>এই গ্রন্হের রচনা, প্রকাশনা এবং বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি গবেষণাকালে যাঁদের অকৃপণ সহযোগিতায় আমি উপকৃত হয়েছি তাঁদের নামের তালিকা দীর্ঘ। এঁদের অনেকে আজ লোকান্তরিত। এঁদের সবার কাছে আমি ঋণ স্বীকার করি।<br />
মঈদুল হাসান<br />
ঢাকা, ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৮৫</p>
<p><strong>দ্বিতীয় সংস্করনের ভূমিকা</strong></p>
<p>এই গ্রন্হের প্রথম প্রকাশ ও বর্তমান সংস্করণের মাঝে বিশ্বে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্হার ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে যে বৈরিতামূলক ব্যবস্হা, ঠাণ্ডাযুদ্ধের যে উন্মত্ততা বহাল ছিল পৃথিবী জুড়ে, ইতিমধ্যে তার বহুলাংশের বিলোপ ঘটেছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। এই বিশাল পরিবর্তন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তির ক্ষেত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে, যা দু’বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। এই সংস্করণ প্রকাশকালে পরিস্হিতি ও দৃষ্টিভঙ্গির এ সমুদয় পরিবর্তনের মধ্যে যতখানি প্রাসঙ্গিক তা আমি বিবেচনায় রেখেছি। আমার মনে হয়েছে, এই সংস্করণে প্রথম প্রকাশের বর্ণনা ও যুক্তিবিন্যাস অনেকখানিই অপরিবর্তিত রাখা যায়। অপরিবর্তিত রাখার বড় কারণটি অবশ্য পদ্ধতিগত &#8211; মুক্তিযুদ্ধকে তার নিজস্ব সময়ের যুক্তিতে উপস্হাপন করার প্রয়োজন বোধহয় সব সময়েই থাকবে, অন্যদিকে যেমন বিভিন্ন সময় ও পরবর্তী অভিজ্ঞতার দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধ উপস্হাপিত বা বিশ্লেষিত হতে পারে বিভিন্নভাবেই।</p>
<p>কাজেই সংশোধন বা পরিবর্তন এই সংস্করণে বড় কিছু নেই। সংযোজন যতটুকু করা হয়েছে তা পূর্বে উল্লেখিত ঘটনা বা যুক্তিকে অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই। এ যাবত অপ্রকাশিত কিছু দলিল পরিবেশন করা হল এই সূত্রে। আর কিঞ্চিৎ পরিমার্জনা করা হয়েছে কিছু ভাষার।</p>
<p>লেখক<br />
জানুয়ারী ১৯৯২</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জিয়ল জখম</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%96%e0%a6%ae/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%96%e0%a6%ae/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 07 Apr 2010 01:17:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আগামী প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[কবিতা]]></category>
		<category><![CDATA[শামীম আজাদ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=673</guid>
		<description><![CDATA[প্রচ্ছদ : পীযুষ দহিমশদার
বাংলামাটি, এপ্রিল ২০১০ সংখ্যায় মিলটন রহমান বইটি নিয়ে নীচের আলোচনা লিখেছেন:
ক.
’এই জগতের যে কোন বস্তুই কৃষ্ণগহ্বর হয়ে উঠতে পারে। আবার এই মহাজগৎটাই কৃষ্ণগহ্বরের অভ্যন্তরে অবস্থিত।’ স্টিফেন হকিং-এর এ কথায় কবিতার আলোচনা শুরু করা যাক। দৃশ্যতঃ কৃষ্ণগহ্বরের ভিতর বসেই আমরা নিয়ত খুঁজছি দূরের কৃষ্ণগহ্বরের ইঙ্গিত। যেখানে শূন্যতাও একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/' rel='bookmark' title='Permanent Link: অন্ধের আঙুলে এত জাদু'>অন্ধের আঙুলে এত জাদু</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রচ্ছদ : পীযুষ দহিমশদার<br />
<a href="http://www.banglamati.net/april-10/book.php" target="_blank">বাংলামাটি, এপ্রিল ২০১০ সংখ্যায় মিলটন রহমান বইটি নিয়ে নীচের আলোচনা লিখেছেন</a>:<br />
ক.<br />
’এই জগতের যে কোন বস্তুই কৃষ্ণগহ্বর হয়ে উঠতে পারে। আবার এই মহাজগৎটাই কৃষ্ণগহ্বরের অভ্যন্তরে অবস্থিত।’ স্টিফেন হকিং-এর এ কথায় কবিতার আলোচনা শুরু করা যাক। দৃশ্যতঃ কৃষ্ণগহ্বরের ভিতর বসেই আমরা নিয়ত খুঁজছি দূরের কৃষ্ণগহ্বরের ইঙ্গিত। যেখানে শূন্যতাও একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। জগতের গতি শক্তি যতই মন্থর হয়ে আসে ততই ভারী হয় শূন্যতা। তবে অনুসন্ধানে শূন্যতা-ঝামর-স্থান নির্মান করে অর্থদ্যোতনা। বাজে শঙ্ক-নিনাদ। শূন্যতার আয়োজনে জেগে ওঠে মোহন সময়; সমতায়। কৃষ্ণ-মোহন কিংবা গ্রহণ কালের একজন কবি যখন বলেন-</p>
<p>’আর এখন উড়ছে কেবল বালিহাঁস, পাতিহাঁস<br />
রন্ধ্রে রন্ধ্রে সজারুর মোহন কাঁটা<br />
জ্বলে চিত্ত জ্বলে রাগ<br />
জ্বলে সুগন্ধ বরাত<br />
অংগার ভেঙে ঢলে পড়েছে গুল্ম নির্যাস।’(নওবত/শামীম আজাদ)</p>
<p>আবার পড়ে নিই-</p>
<p>’পূর্ণ আপেলের গ্রামে ঝুলিতেছি<br />
প্রমত্ত ঝিনুকে জল কাটিতেছি<br />
শ’য়ে শ’য়ে পাথর গলে<br />
হয়ে গেছে পৌরানিক মানব<br />
সেই থেকে<br />
বসে আছি মেঘের ওপর<br />
দেহগত নুনে আর পলির ফাগুনে!’(জিয়ল জখম/চিহ্ন/শামীম আজাদ)</p>
<p>’জিয়ল জখম’-এর কবি শামীম আজাদ। ছত্রে ছত্রে ছড়িয়েছেন নিকট এবং দূরগামী সূর্যাস্তের তীব্র অথচ য়িষ্ণু রেখা, প্রযতœ সময়ের প্রতিভাষ, খণ্ডের সাথে অখণ্ডের এবং প্রকল্পতায় আলো-অন্ধকারে এঁকেছেন বিপরীত-জ্যোতির্ময় কোরাস।</p>
<p>এখন কবিতার পাঁজর খুলে দেখার সময়। অন্যজন কি রচনা করেছেন, সে তুলনায় না গিয়ে বরং কবি এবং তাঁর কবিতার পোষ্টমর্ডেম হওয়াই জরুরী মনে করি। কেননা এখন বিজ্ঞান- কবিতা-দর্শনের সম্পর্ক পরস্পরলগ্ন। কবির চিন্তা-দর্শন বিচারে বিজ্ঞান পরীাগার হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় বিচার্য্য কবি এবং কবিতা। যদিও একজন কবি দার্শনিক নন, তাঁর পরিচয় ’কবি’। কবিতার ’রস’ চিহ্নিত করনে বিজ্ঞান এবং দর্শনোপনীত হওয়া দরকার বলে আমি ভাবতে চাই<br />
খ.<br />
গ্রন্থের ত্রিশ পৃষ্ঠার ’ছায়াগুচ্ছ’ আলাদা আলোচনা করতে চাই। গুচ্ছ পরম্পরায় প্রেমপ্রবর্তনা এবং সময় নিপাতনে সিদ্ধ হয়ে নির্মিত হয়েছে কবিতা। প্রায় সব ক’টি তে জ্ব’লে উঠেছে সুনীল-রঙিন কাতরতা ।</p>
<p>’অচিরেই হবো মীন<br />
ঘুমাবো জলের নগর<br />
পিঠ ভরা চুল খুলে<br />
রঙধনু আঁশ মেলে<br />
জলের তপস্যা কলরব।</p>
<p>উঠান পিড়িতে দাঁড়াবে<br />
এসো পূর্ণিমা কিশোর।’(জিয়ল জখম/ছায়াগুচ্ছ-৩)</p>
<p>স্মৃতি উগরে দেবার প্রবনতা কবিতার মজ্জায় চির ধরায়। ভেঙে ফেলে যাবতীয় করণ-কৌশল। কবিতার জাত শত্রু বলে আধুনিক কবিতায় স্মৃতি-ভ্রমন-বৃত্তান্ত অত্যাল্প। অথচ কবি সে পথ পদ চিহ্ন হীন রাখেন নি।</p>
<p>’মানুষ চলে গেলে<br />
পালক ফেলে যায়<br />
জ্ঞাতি চিহ্ন খুঁড়ে খুঁড়ে<br />
পরশ বুলায়।( জিয়ল জখম/ছায়াগুচ্ছ-৪)</p>
<p>অথবা ছায়াগুচ্ছের বাইরে থেকে যদি পড়ি-</p>
<p>বিভার ছুরিতে শানে শৈশব<br />
জীবন, জামালপুর<br />
তুলট কাগজ স্বাদ<br />
আর প্রথম মতিচূর&#8230;.’(জিয়ল জখম/সোনার সেমিজ)</p>
<p>কবি এখানে নৃতাত্ত্বিক। মৃত্তিকার সন্তানেরা ক্রম-বিবর্তনে নিজের অবস্থানে স্মৃতি চিহ্ন খুঁড়ে এভাবে দাঁড়ায়। স্মৃতি-বর্ণিত এ ক্যানভাস কাব্য-নন্দন বর্জিত নয়। আপাত সংকেত থেকে কবি নিজেকে যোগ্য করে তুলেছেন এখানে।</p>
<p>’ছুঁয়ে দেখো সৃষ্ট ওম প্রতিজ্ঞা<br />
আমার, কবোষ্ণ মন্দিরা<br />
ছোঁয়া পেলে শানিত হবো<br />
কলঙ্ক অভিধা’(জিয়ল জখম/ ছায়াগুচ্ছ-১৪)</p>
<p>ছায়াগুচ্ছের রক্তে উন্মত্ত-সঞ্চারী প্রেমনাদ এভাবে গীতলতায় অভিষিত হলো। কলঙ্ক অভিধা জেনেও জানালো নিজের মনস্তাপ। কবি কে আরো পড়ি এভাবে-’ কান্ত পিপড়েরা কি রতিক্রিয়া করে/এক জনমে ওষ্ঠাধর কত জখম ধরে? অথবা, ’ আধো রাত সরে গেলে/খোঁজো কার লতিকায় দূল?’ ছায়াগুচ্ছের শরীরে বিরাজিত য়, মৃত্যু, প্রেম এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সুর।<br />
গ.<br />
কবি শামীম আজাদ কবিতায় অবস্থান চিহ্নিত করেছেন দৃষ্টি সীমার বাইরে অসীমতায়। বৃত্তে আবর্তিত ঘূর্ণায়ন কেন্দ্র থেকে নিরুদ্দেশ মূখী নিজেকে তিনি আবিষ্কার করেন। প্রথমে অবস্থান প্রশ্ন বোধক হলেও-</p>
<p>’তবেই সিদ্ধান্ত নেবো<br />
কোথায় গ্রথিত হবো<br />
বাতাসে না নদে<br />
না চৌষট্টি চারুকলা দলে<br />
জলিষ্ণু জামালপুরে&#8230;..(জিয়ল জখম/জিয়ল জখম)</p>
<p>ঠিক কিছু কাল পরে কবি জেনে যান কোন নিরুদ্দেশে মেলেছেন পেখম-</p>
<p>’তুই মধ্যম<br />
আমি মধ্যমা<br />
আমি এন্তার গঙ্গা সিন্ধু<br />
তুই নর্মদা বিশুদ্ধ রক্তকণা<br />
কেউ কি জেনেছে এই অত্যাশ্চর্য খবর<br />
এই অসম্ভব!’</p>
<p>অসীমের পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে, জানিয়ে দেন নিজের পূর্বতন অবস্থান এভাবে-</p>
<p>’কখনো কি জানিবে কেহ<br />
একদিন আমাদের সুগন্ধ করেছিলো<br />
হাইবারনেশনে ভেগে আসা<br />
একদল বেহুশ কবিতা<br />
গোলাপী বকুল কথকতা।’ ( জিয়ল জখম/অবস্থান)</p>
<p>’আমি সমগ্রের অংশ নই, সমগ্রের সঙ্গে সম্মিলিত নই, সমগ্রের মধ্যে গৃহীত নই।’ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দার্শনিক সোরেন কিকগার্ড এভাবে বন্ধন হীন অসীম এর কথা বলেছিলেন। সেই থেকে বোধ করি আধুনিক বিচ্ছিন্নতা বোধের আরম্ভ। যে বোধ রোমান্টিকতা, বাস্তবতার বীজ বুনে দেয় চিন্তন ভূমিতে। সেই ভূমি চিন্তার কবি শামীম আজাদ অলৌকিক ডানায় বয়ে ’জিয়ল জখম’-এ জানিয়ে দেন নিজের ’অবস্থান’।</p>
<p>ঘ.<br />
একজন কবি’র জন্য সময় খন্ডিত করা জরুরী বলে জানি। তারও চেয়ে জরুরী খন্ডিত সময়ের খোল-নলচে খুলে খচিত সুবর্ণ তিলক এবং দগদগে ত চিহ্নিত করা। এ প্রক্রিয়ায় কাব্যচিত্রক মনন উৎসারিত যে ভাষিক জমিন তৈরী করেন তা হয়ে ওঠে কবিসময়ের বিস্তারিত ইলাস্ট্রেশন। কবি যখন বলেন-<br />
’পূর্ণিমার বাগান খুঁড়ে তুলে নেবো মুঠো পাপ&#8230;<br />
পাথর বগলে গাঁথা দুই হাত<br />
হায়! এই নিদয়া চুর ঘোড়া<br />
তবু তুলে নিতে চায় ঘনবদ্ধ<br />
কলিজার থোড়।</p>
<p>মাখিবো সারা অঙ্গে আমি<br />
কুফার কাফন<br />
তোমারে ভ্রমনে নেবো<br />
কোন এক অবধ্য নগর।’(জিয়ল জখম/আকাঙ্খা)</p>
<p>এভাবে আজকের পৃথিবী, নাগরিকতা, সময় এবং ব্যক্তি দহনের কথা বলতে গিয়ে কবি মিশেল ফুকোর পাগলা গারদের মত ঘিরে রাখেন পাঠককে। ’জিয়ল জখম’- এর পুরো শরীরে ছোপ ছোপ রক্তের ছাপ। মাটির উপরে সচল যে ক্রিয়া; তার আমূলে নিয়ত বিধে যাওয়া তীরের ফলা, যা কিনা তীব্র আকাঙ্খায় কুড়িয়ে নেয়া। অনবরত খসে খসে শূন্যে মিশে যেতে ধ্যানস্ত কবি কে আরেকবার পড়ে নিই-</p>
<p>’হাড় ও কলিজা চেরা<br />
উত্তরীয় উজান<br />
কখনো নিই না তার নাম<br />
তবু, কন্টক মন্দিরা বাজে<br />
মৃত্যু সমান।’(জিয়ল জখম/স্থপতির স্তুতি)</p>
<p>’মৃত ঘোড়া আর মরুর প্রলয় বুকে ছুটিতেছি<br />
কোথায় লুকাই হায়<br />
দেহের অধিক এ ব্যাপক প্রণয়&#8230;’(অšে¦ষা)</p>
<p>’যে আমারে এখনো<br />
দেখো বর্ষার ফল<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
মনে করাতে পারি<br />
তোমাকেও চুড়ান্ত আকাল</p>
<p>তাহারে কি করে<br />
বাগানে প্রতঃরাশ সেরে<br />
তীব্র দ্বিপ্রহরের ঠোঁট দিয়ে চেড়ো!’(অবিশ্বাস)</p>
<p>’প্রতি রোমকূপে পরাজিত ঝড়<br />
পাঁজরের প্রতি মোড়<br />
জানে কি এ দেহ<br />
দ্রোহ ও দাহ সহবাসী<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
উত্তাল কাল<br />
কেন ফলিবে না<br />
এ বিদির্ণ শবের গভীরে!’(একেশ্বরী)</p>
<p>এ কবিতাগুলোর সাথে প্রায় সমান্তরাল পড়ে নেয়া যায় ’থেরাপিউটিক’, ’চন্দ্রভাষ্য’, ’হতাশা’, ’চলাচল’, ’প্রবাহ’ ’খুদের নগর’, ’লন্ডিনিয়াম’, ’দিকভ্রান্তি’ ’নাই’, এবং ’পোকা ও পাখোয়াজ’ ও অন্যান্য। কবি ব্যদনা-রস মিশ্রিত চোখ ফেলেছেন প্রতিভাষ পৃথিবীতে। আবিষ্কার করেছেন কৃষ্ণগহ্বর অভ্যন্তরে শূন্য অন্ধকার, জগতের বহুমাত্রিক ছন্দ-রূপ। কবি এসব অনুসন্ধান করেছেন খন্ড খন্ড সময়ের মধ্যে। তাই কবিতাগুলো আধুনিকান্তিকতারই চোখে হয়ে উঠেছে নানা ভাবে অর্থবহ। আমি তাঁর অনুরক্ত পাঠক হিসেবে বলতে পারি, শুধূ ভাষার আধুনিকত্বের কারণে নয়, বরং দর্শন, চিন্তা এবং কবিতার সম্মিলিত সঙ্গীতে কবিতাগুলো পাঠকের সঙ্গে দীর্ঘ সহবাসের দাবী রাখে।<br />
ঙ.<br />
আবেগ কবিতার প্রাচীনতম সহযাত্রী। ফলতঃ আবেগ কবিতার প্রধানতম রসায়ন। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে রসদ মিশ্রন ত্র“টি ঘটলেই সৃস্টি ব্যহত হয়। কবিতারসদ-এর েেত্রও একই নিয়ম বলে মনে করি। বিশ্বসাহিত্যে অনেক কবিতা এই মিশ্রন ত্রুটির কারণে পাঠক প্রিয় হয়েও মহাকালীন হতে পারেনি। একজন শিল্পী কে তাই রাস টেনে ধরতে হয় আবেগের। ’জিয়ল জখম’-এ রসদ ব্যবহারে শুনতে পাই কষ্টকল্পের পদধ্বনি। কবি কখনো কখনো আবেগাপ্লুত হলেও তাঁর বোধ ও গভীরতা থেকে একটি একটি হিরক তুলে এনে গেঁথেছেন মালা। এক একটি হিরক টুকরো ধারণ করেছে কবির ক্ষন মৈথুনে উঠে আসা ফ্যাকাশে হলদেটে পাতা, আকাঙ্খা,শোক,দুঃখ এবং বিস্ময়। সুরে বাঁধা যন্ত্র যেমন প্রতিক্ষা করে সুরের জন্য, আলোচ্য কবিও তেমনি এখানে প্রতিক্ষারত কাঙ্খিত ব্যদনার জন্য। এ অভিযাত্রায় বৃহৎ ও ুদ্রের এবং রূপ ও অরূপের সন্ধানে প্রায় আত্মবিলাপে মগ্ন তিনি। মৃত্যুতে ব্যক্তির আত্মবিলোপ ঘটে। তাই বোধ করি ’জিয়লজখম’-এর উৎসর্গে দেখি-’ভোঁ ভোঁ শবের বিছানায়/ পরাজিত মানুষেরা/মাছি হয়ে যায়&#8230;। প্রেম ও ভালবাসায় আত্মবিলোপ ঘটে সত্বার। আর এরই মাধ্যমে সৃষ্টি হয় দ্যুতিময় আত্মসমাহিত হিরক। আসুন ক’টি কবিতা পড়ে চিহ্নিত করি কবির আবেগ-দগ্ধ-ফলন হিরক-</p>
<p>’&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
ঠোঁটের সেগুন দেবো<br />
কবির ভূগোল দেবো&#8230;<br />
দহনের দোহাই লাগে, থাকো<br />
উজানের দেশে নেবো<br />
পক্ষির পালক পাবে<br />
সানকির ওম পাবে<br />
নফল প্রার্থনা হবে<br />
আমারে বিশ্বাস করো<br />
এ মুগ্ধ বিপাকে<br />
তোমারেই দেবো গো আমি এ পূর্ণিমা সকাল’( জিয়ল জখম/শুশ্রƒষা)</p>
<p>’তোমারে শুইয়ে দিবো ইঙ্গল মন্দির ঘরে রে বন্ধু<br />
আর না ঢুকিবে সূতানলী রাইতরে&#8230;.( অনুরোধ)</p>
<p>’কখনো কি এসেছিলে<br />
দীর্ঘ দাঁড়িয়েছিলে<br />
ঐ ধূপ-ধোঁয়া ঘিরে<br />
অঙ্গার বিষ মেখে<br />
কেঁদেছিলে?’ (অনিশ্চিত)</p>
<p>’মনা, কাঁদিবার সবটুকু ক্ষণ নিয়া<br />
সূর্যগত রাতে<br />
তরল নিঃশ্বাসে চাঁদ ভাঙ্গিয়া দিয়া<br />
সুশক্ত শীতের পিঠে<br />
গেছো যে চলিয়া রে&#8230;&#8230;’(&#8230;&#8230;নিঠুর কালিয়ারে)</p>
<p>কবিতার শুরুতে আবেগ উদ্বেল কবি-’এখানেই পাখির ছায়ার নিচে/ঘ্রান ছিলো/চিনিচূড় চম্পা/ রজবের চাঁদ আর রাজা শাইল স্বাদ’ বলে শেষে নিজেকে টেনে ধরেন এভাবে-’কিন্তু/দুধের নহর ছাড়া/বাদ বাকি সবই ছিলো মেদ’(কোমল কঙ্কাল)। অঘ্রানের অন্ধকারে হেঁটে যাওয়া কবির মনোভূমি শামূকচূড় দহনে পুড়তে পুড়তে যখন কবির মনভূমি দীর্ঘ দাঁড়ায়, তখন তাঁকে আমরা চিনে নিই। যিনি মহাকাশকে, বাতাসকে শুনিয়ে যান পাঁজর খোলার দেহলিজ-দহন আলাপ। তখন আর কবির দৃষ্টি থির থাকেনা। আকাশ ফুঁড়ে চলে মহাকাশের দিকে। সে যাত্রা কখনো স্বস্তি দেয় না, ফেলে না শীতল ছায়া। শুধু জানিয়ে দেয় একজন কবির মহাযাত্রা। যে কবি মৃত্যুর পরেও কবিতা তৈরী করবেন!<br />
চ.<br />
শূন্যতা, ক্ষয়, বিরহ, বিরংসা এবং তেজ জগতে অস্তিত্ব সঞ্চার করে। যে শূন্যতা আমি এবং আমরা বহন করি তা-ই অনন্তের অক্ষয় সম্ভাবনা এবং আশংকার চিহ্ন। কবি শামীম আজাদ নিজের সঙ্গে বয়ে যাওয়া গহ্বরের ভিতর কখনো শুনেছেন মোহন-সান্ধ্য বাঁশি, কখনো চিহ্নিত করেছেন নিজের ভেতর হিংস্র নখরে কাটা দগদগে ক্ষত। মোহান্ধ সময়ের করাত কিভাবে চিরে সুবর্ণ সুর। কত ত্যাগিলেও পাওয়া হয় না স্বর্ণালী ভোর, তা কবি ফোটা ফোটা রক্তে এঁকেছেন ’জিয়ল জখম’-এ। আলোচনা শেষ করার আগে আরো ক’টি কবিতা পড়ে নেয়া যায়।</p>
<p>’রক্ত তুফান তোলা পাখি<br />
ঠোঁট রাখো ঘ্রানের ওপর<br />
নাভীমূল থেকে সেঁচে নাও বনাঞ্চল<br />
হাত থেকে ফেলে দাও লবঙ্গের লাল<br />
পাড়ি দাও দাউ দাউ উঠান’(পাথর পরাগ)</p>
<p>’তুমি হাঁটো উত্তরে আর<br />
আমি যে নৈঋতে<br />
জানিয়ো তবুরে বন্ধু<br />
কখোনই কোনো কিরিচ ছিলো না<br />
আমার পিরিতে।’(মধু শয়তান)</p>
<p>’&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
প্রেমাক্রান্ত মেঘেদের ছোটাছুটি<br />
বায়ুর বুননে ভেজা হাত<br />
হাতে লেগে থাকা চান্দের রুহানী<br />
রৌদ্র কচকচে বাড়িঘর<br />
আর আমি নড়ি না কণ্ঠা থেকে এ পা&#8212;’(স্বপ্নায়ন)</p>
<p>’স্নায়ূর পেখম খুলে<br />
জিয়ল জখম রেখে<br />
বসে যেতে চাই স্থির<br />
ক্ষয়িষ্ণু পৃথিবীর শৈশব সেতার’(স্যালি পম্ কেইটন ও শামসুর রাহমান)</p>
<p>’তুলে আনি তুষারের তূণ<br />
ভেঙে খেতে চাই রস জাগানিয়া<br />
মনোহর মেওয়া<br />
লাল লাল সরিষার দানা<br />
সব মীথ’(ইচ্ছা)</p>
<p>’শিথানে তষ্কর পাহাড় ত্যাজে দ্বৈতাচার<br />
পাথরের কাল গলে যায় প্রবল মায়ায়<br />
ইত্যাকার দাবদাহ সকলই বদলায়<br />
চুল হয়ে মেঘ হয়ে বীজ হয়ে কুসুমের সাথে জ্বলে জেগে রয়’(রাত্রিরাগ)</p>
<p>এক টানে ’জিয়ল জখম’-এর কবিতাগুলো পড়া যায়। কবি চিন্তার মত বাক্যরাও ক্ষিপ্র গতির। তাই কিছু কবিতা উদ্বৃত হলো। মোট চুয়ান্ন টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত। আলোচ্য কবিতা বাদ দিয়ে অবশিষ্টগুলোও ব্যাখ্যাত হতে পারে। অতএব ’জিয়ল জখম’ বিষয়ে যে কোন সময় বিস্তারিত গদ্য লেখার ইচ্ছে রাখি। এ গ্রন্থের অন্যান্য কবিতাগুলো হলো- ’অনুপান’, ’অশ্লীল’, ’চৌষট্টি চারুলতা’, ’অনিদ্রা’, ’মনোবাঞ্জা’, ’মূল’, ’পছন্দ’, ’অধিবাস’, ’বন পোড়ে আগে’, ’অবশিষ্ট’, ’দিকভ্রান্তি’, ’নাই’, ’জল-শুশ্রƒশা’, ’পোকা ও পাখোয়াজ’, ’অভিলাষ’, ’অঙ্গ সংস্থান’, ’উপলব্দি’, ’কিশোরীআমানকার’, ’সাম্প্রতিক’, ’অতসী’,’দেহতত্ব’,’বিরহকণা’,’লন্ডিনিয়াম’,<br />
খুদের নগর’, ’জ্বলন্ত বর্ষা’, ’আশংকা’, ’প্রবাহ’, ’চলাচল’, ’হতাশা,’ ’হলদে পাখি’ এবং ’চন্দ্রভাষ্য’।</p>
<p>ছ.<br />
মেদহীন ’জিয়ল জখম’-এর কবিতার শরীর। বাহুল্য বর্জিত বক্র-রৈখিক কাঠামো কবি ভাবনা ধারণ করেছে প্রতিটি আঁশে। কবিতার নামকরণ হয়ে উঠেছে অনুকথায় পুরোকথা। কবিতার শিরোনাম একজন পাঠকের নাকে গন্ধ তুলে দেয় মিশেল মশলার।</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%99%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/' rel='bookmark' title='Permanent Link: অন্ধের আঙুলে এত জাদু'>অন্ধের আঙুলে এত জাদু</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%96%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Apr 2010 03:12:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিভিন্ন]]></category>
		<category><![CDATA[লিটলম্যাগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=654</guid>
		<description><![CDATA[সৃজনপ্রয়াসী সাহিত্য সাময়িকী
সম্পাদক : মিতা মারজান
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১০
পৃষ্ঠা : ১০১
মূল্য : ৪০ টাকা
&#8220;মহাদেব সাহা। বাংলা কবিতার অনন্য পথিকৃৎ। ষাটের দশকের নিভৃত স্বভাবের দার্শনিক নির্লিপ্তির কবি হিসাবে তাঁর আবির্ভাব। প্রকৃতি ও মানুষ, সমাজ, দেশ_ এগুলোর পাশাপাশি অবক্ষয় চেতনাও মূর্ত হয়ে উঠৈছে তাঁর কবিতায়। জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার পাশাপাশি শ্রমে-ঘামে সিক্ত মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা উঠে এসেছে [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১'>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>সৃজনপ্রয়াসী সাহিত্য সাময়িকী<br />
সম্পাদক : মিতা মারজান<br />
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১০<br />
পৃষ্ঠা : ১০১<br />
মূল্য : ৪০ টাকা</p>
<p>&#8220;মহাদেব সাহা। বাংলা কবিতার অনন্য পথিকৃৎ। ষাটের দশকের নিভৃত স্বভাবের দার্শনিক নির্লিপ্তির কবি হিসাবে তাঁর আবির্ভাব। প্রকৃতি ও মানুষ, সমাজ, দেশ_ এগুলোর পাশাপাশি অবক্ষয় চেতনাও মূর্ত হয়ে উঠৈছে তাঁর কবিতায়। জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার পাশাপাশি শ্রমে-ঘামে সিক্ত মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা উঠে এসেছে তাঁর কবিতায়। কবিতায় গভীরতা, উপমা, অনুপ্রাস, চিত্রকল্প ও আধুনিক মননের শিল্পবিন্যাস মহাদেব সাহাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। সবসময়ই কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি &#8216;মানবের কাছে&#8217; যেতে চেয়েছেন। কবির সেই মানবিক অভিযাত্রার সঙ্গী হতে চেয়েছে এসময়ের সৃজনপ্রয়াসী সাহিত্যের ছোটকাগজ পূর্ণবৃত্ত।<br />
কবি মিতা মারজান সম্পাদিত ত্রৈমাসিক এ পত্রিকাটি তাদের সর্বশেষ সংখ্যায় (ফেব্রুয়ারি) বাংলা কবিতার নিমগ্ন চৈতন্যের কবি মহাদেব সাহার আদ্যোপান্ত তুলে আনার চেষ্টা করেছে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কবির কাজকে মূল্যায়ন করার প্রয়াস থেকে মোট নয়টি প্রবন্ধ মুদ্রিত হয়েছে এ সংখ্যায়। মহাদেব সাহার স্বাতন্ত্র্য : তাঁর কবিতার দর্পণে, গুরুত্বপূর্ণ এক বাঙালি কবির নাম মহাদেব সাহা, মহাদেব সাহার কবিতা : স্বতন্ত্র জীবন অন্বেষা, মহাদেব সাহার কবিতায় নারী, প্র্রকৃতি ও প্রেম চেতনা, নির্মোহ ও নিমগ্ন চৈতন্যের কবি মহাদেব সাহা, আবৃত্তি : মহাদেব সাহার কবিতায় মুজিব প্রসঙ্গ এবং স্বদেশ চেতনা, মহাদেব সাহা : ব্যক্তি ও কবি এবং প্রেমের পরিবলয়ে মহাদেব সাহা_ এই নয়টি প্রবন্ধ পাঠককে কবির শিল্পসৃষ্টি চিনিয়ে দিতে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। প্রবন্ধগুলি লিখেছেন যথাক্রমে মানবর্দ্ধন পাল, তপন বাগচী, অনুপম হাসান, সাইফুজ্জামান, সমীর আহমেদ, যুবক অনার্য, রেজীনা ওয়ালী লীনা, শামীম হাসান ও তহমিনা তানিয়া।<br />
&#8216;কবিতারও মৃত্যু আছে, কবিতা অবিনশ্বর নয়&#8217; শিরোনামে কবির একটি নাতিদীর্ঘ আলাপচারিতা ছাপা হয়েছে। সুপাঠ্য এ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে কবিতা, রাজনীতি, প্রেম-বন্ধুত্ব, কবির ব্যক্তিগত স্মৃতি ইত্যাদি প্রসঙ্গ। পূর্ণবৃত্তর জন্য এটি সংকলন করেছেন সেলিনা জেসমিন। কবিকে নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয় &#8216;কেন মহাদেব সাহা&#8217; লিখেছেন পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক মোরশেদ শফিউল হাসান। এছাড়া নবীন-প্রবীন ২৭ কবির কবিতা ছেপেছে পূর্ণবৃত্ত। শুরুতেই রয়েছে মহাদেব সাহার চারটি কবিতা। কবি তালিকায় রয়েছেন, অসীম সাহা, ফারুক মাহমুদ, সোহরাব হাসান, মুজিবুল হক, ওবায়েদ আকাশ, অন্জনা সাহা, আসলাম সানী, মিতা মারজান, মোহাম্মদ নাদিম, ফয়জুল আলম পাপ্পু, সেলিনা জেসমিন, সাকিয়া রিপা প্রমুখ।<br />
তরুণ শিল্পী আবু সালেহ টিটুর অাঁকা পত্রিকাটির চার রঙের প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়েছে আবু বরকতের তোলা মহাদেব সাহার একটি দৃষ্টিনন্দন আলোকচিত্র। পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় সনি্নবেশিত লেখক পরিচিতি পাঠকের বাড়তি কৌতূহল মেটাবে।<br />
আমাদের দেশে সাধারণত জীবিত অবস্থায় কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট টানাপোড়েনে পড়তে হয়। এক্ষেত্রে বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি মহাদেব সাহার প্রতি পূর্ণবৃত্তর এই নিষ্ঠাবান, উদ্যমী ও পরিশ্রমী আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।&#8221; &#8211; সূত্র: <a href="http://www.sangbad.com.bd/?view=details&amp;type=single&amp;feature=yes&amp;pub_no=313&amp;menu_id=41&amp;news_type_id=1&amp;val=29408" target="_blank">সংবাদ সাময়িকী</a></p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১'>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বইয়ের জগৎ &#8211; প্রথম সংকলন নভেম্বর ২০০৯</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%97%e0%a7%8e-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a7%87/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%97%e0%a7%8e-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a7%87/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 20 Mar 2010 11:51:14 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিভিন্ন]]></category>
		<category><![CDATA[লিটলম্যাগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=646</guid>
		<description><![CDATA[প্রথম সংকলন, নভেম্বর ২০০৯
সম্পাদক: আহমাদ মাযহার
প্রচ্ছদ: লুৎফর রহমান রিটন
সম্পাদক আহমাদ মাযহার লিখেছেন &#8220;সূচনা কথা&#8221;য়:
বাংলাদেশে উন্নত সমালোচনা-সাহিত্য গড়ে ওঠে নি। ফলে যথার্থ মূল্যায়ন পায় না অনেক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল কাজ, গবেষণাকর্ম কিংবা স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত রচনা সংবলিত বই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীতে যথার্থ গুরুত্বের সঙ্গে বই-সমালোচনা ছাপা হয় না। নিয়মিত সাহিত্যপত্রিকা হাতে গোনা যায়, ফলে বই-সমালোচনার স্থান সেখানেও [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রথম সংকলন, নভেম্বর ২০০৯<br />
সম্পাদক: আহমাদ মাযহার<br />
প্রচ্ছদ: লুৎফর রহমান রিটন</p>
<p>সম্পাদক আহমাদ মাযহার লিখেছেন &#8220;সূচনা কথা&#8221;য়:<br />
বাংলাদেশে উন্নত সমালোচনা-সাহিত্য গড়ে ওঠে নি। ফলে যথার্থ মূল্যায়ন পায় না অনেক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল কাজ, গবেষণাকর্ম কিংবা স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত রচনা সংবলিত বই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীতে যথার্থ গুরুত্বের সঙ্গে বই-সমালোচনা ছাপা হয় না। নিয়মিত সাহিত্যপত্রিকা হাতে গোনা যায়, ফলে বই-সমালোচনার স্থান সেখানেও পর্যাপ্ত নয়। কোনও কোনও বইয়ের সমালোচনা যে সেখানে হয় না তা নয়, কিন্তু আলোচনার উপযোগী বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে নানা বাস্তব কারণে মুখচেনা লেখকদের সেখানে কদর বেশি হয়ে থাকে। উপযুক্ত লেখকের অভাবেও অনালোচিত থেকে যায় অনেক বই। দু-একটা উপন্যাস, কবিতা বা প্রবন্ধের সমালোচনা হয়তো আমরা পাই কিন্তু একটু ভালোভাবে খতিয়ে দেখলেই টের পাওয়া যাবে যে সংখ্যায় তাও নগণ্য।<br />
আধুনিক বাংলাসাহিত্যে গ্রন্থ-সমালোচনার সূচনা ঘটেছিল সেই উনিশ শতকের বঙ্গদর্শন (১৮৭২) পত্রিকা থেকেই। আরও আধুনিক কালে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের আমলে পরিচয় (১৯৩১) পত্রিকা বই-সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়েছিল। হুমায়ুন কবির সম্পাদিত চতুরঙ্গ (১৯৩৮) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল বই-সমালোচনাকে। দীর্ঘকাল ধরে প্রকাশিত এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ কোনও বইকে প্রায় বাদ যেতে দেয় নি সমালোচনা থেকে। মাসিক মোহাম্মদী (১৯২৭) বা সওগাত (১৯১৮)-এও গ্রন্থ-সমালোচনা অনুপস্থিত ছিল না। তবে তাকে পরিচিতির বেশি মূল্য দেয়ার সুযোগ থাকত কমই। সাতচল্লিশের পর প্রকাশিত সরকারি মাহে-নও (১৯৪৯) বা সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল (১৯৫৯)-এ কিংবা ষাটের দশকে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত কণ্ঠস্বর (১৯৬৬) পত্রিকায় গুরুত্ব দেয়া হতো বই-সমালোচনাকে। মধ্যষাটের দশকে প্রকাশিত দৈনিক পাকিস্তান (১৯৬৪) ও পরে দৈনিক বাংলা (১৯৭২) পত্রিকায় আহসান হাবীব সম্পাদিত সাপ্তাহিক সাময়িকীতেও বই-সমালোচনাকে গুরুত্ব দেয়া হতো। অপরাপর দৈনিকের সাময়িকীও একেবারে বঞ্চিত করত না পাঠকদের। বাংলা একাডেমী থেকে একসময় নিয়মিত যে-সব পত্রিকা প্রকাশিত হতো তাতেও স্থান ছিল বই-সমালোচনার। ফলে সে-সময়ে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কোনও বই সমালোচনা থেকে বাদ পড়ে নি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বইয়ের প্রকাশনা সংখ্যায় যত বেড়েছে সমালোচনা যেন আনুপাতিক হারে কমেছে ততই। এই অভাববোধ থেকে মাঝে মাঝেই বই-সমালোচনার একটি সাময়িকী সম্পাদনা করার কথা মনে এসেছে আমার।<br />
সমালোচনা চর্চার একটা ক্ষেত্র গড়ে তোলার জন্য এ-রকম একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে চাই জেনে লেখক বন্ধুদের অনেকেই উৎসাহিত করেছেন আমাকে। এর নামকরণ নিয়ে পরামর্শও পেয়েছি তাঁদের কাছ থেকে। বইয়ের জগৎ প্রকাশের মুহূর্তে তাঁদের সবাইকে স্মরণ করছি।<br />
বই-সমালোচনার কদর সাহিত্যপত্রিকার পাতায় কম থাকলেও এ-কথা সবাই স্বীকার করবেন যে গত কয়েক বছরে বইয়ের প্রকাশনা বাংলাদেশে বেশ খানিকটা প্রাচুর্য লাভ করেছে। মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে শৌকর্য এসেছে। বেড়েছে বিষয়বৈচিত্র্যও। কিন্তু নানা বিষয়ে প্রকাশনার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের অভাব থাকায় সে-সব প্রকাশনা সম্পর্কে অনেকের মনে উদ্ভূত হয় নানা জিজ্ঞাসা। বইয়ের জগৎ চায় এইসব-কিছু-নিয়ে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মধ্যে একটা সেতুবন্ধ তৈরি করতে এবং সবদিক থেকে গুণগত মানের উন্নয়নের একটা আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে রাখতে।<br />
সূচনাসংখ্যাটি আমাদের অভিপ্রায়ের খুব সামান্যই হয়তো স্পর্শ করতে পারল; তবে এ-কথা হয়তো বলা যাবে যে সেই অভিপ্রায়ের ইশারা আমরা দেখাতে পারছি। বিষয়সূচির দিকে তাকালে হয়তো পাঠকদের কাছে এটা অতিকথন মনে হবে না। আমাদের সাহিত্যে গল্প-কবিতা-উপন্যাস নিয়ে সমালোচনা অপ্রতুল হলেও দুর্নিরীক্ষ্য নয়, কিন্তু অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন প্রবন্ধ, নাটক, গবেষণা বা ভিন্নধর্মী রচনা সংকলন জাতীয় গ্রন্থের সমালোচনার ঐতিহ্য এখনও গড়ে ওঠে নি। বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য চর্চা একেবারেই অকিঞ্চিৎকর না হওয়া সত্ত্বেও শিশুসাহিত্য নিয়ে সমালোচনা প্রায় নেই বললেই চলে। সম্প্রতি সংগীত, চিত্রকলা বা চলচ্চিত্র বিষয়ে বই প্রকাশিত হচ্ছে, বই প্রকাশিত হচ্ছে এমনকী নিসর্গ নিয়েও। বাংলাভাষায় বিজ্ঞানসাহিত্যেরও ঐতিহ্য একেবারে অনুল্লেখ্য নয়। সমসাময়িক অন্যভাষার সাহিত্যের অনুবাদও বাড়ছে সংখ্যায়। এই সবগুলো দিকেই বইয়ের জগৎ নজর রাখতে চায়। বইয়ের জগৎ প্রবীণ ও তরুণ উভয় প্রজন্মের লেখকদেরই সমন্বিত উপস্থিতি চেয়ে প্রধানত তরুণদেরই মুখাপেক্ষী থাকবে। কারণ সম্ভাবনা ও সজীবতা তারুণ্যেই লভ্য।<br />
বই বিষয়ে পত্রিকা বাংলাদেশে আগেও দেখা গেছে। একসময় জাতীয় গ্রন্থ থেকে বই (১৯৬৫) নামে একটি নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশিত হতো। তাতে বাংলাদেশের বইয়ের খবরাখবরের সঙ্গে বই সমালোচনাও স্থান পেত। অধুনা পত্রিকাটি অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও এর চারিত্র্যে বদল ঘটেছে। প্রকাশনা সংস্থা মুক্তধারা থেকে বিজলীপ্রভা সাহার সম্পাদনায় বইয়ের খবর নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশিত হতো সত্তর-আশির দশকে। যদিও এইসব উদ্যোগ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক তা সত্ত্বেও তাদের ভূমিকা একেবারে অনুল্লেখ্য নয়। বইয়ের জগৎ প্রকাশের লগ্নে পূর্বজ এইসব অভিযাত্রাকে স্মরণ করছি।<br />
পাঠক-লেখকদের সাড়া পেলে প্রতিবছর সংকলনটির অন্তত চারটি সংখ্যা প্রকাশ করতে চাই। প্রকাশিত হবে, নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি, মে ও সেপ্টেম্বর মাসে। বইয়ের জগৎ কেবলই লেখক-পাঠকদের প্রেরণাউজ্জীবক প্রকাশনা হতে চায় বলে বইয়ের প্রকাশক-বিপণনকারী ছাড়া ভিন্ন কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে আমরা অনিচ্ছুক। প্রকাশনা ব্যয় নির্বাহের জন্য আমরা কেবল বইয়ের বিজ্ঞাপনের ওপরই নির্ভর করব। এর মাধ্যমে বইয়ের জগৎ একদিকে যেমন সমকালীন সাহিত্যের আস্বাদন-মূল্যায়ন-মূল্যায়ন-বিশ্লেষণের মাধ্যম হয়ে উঠতে চায়, অন্যদিকে হতে চায় বাংলাদেশের প্রকাশনা অঙ্গনের সপ্রাণ প্রচারমাধ্যম।<br />
লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা পেলে এর প্রকাশনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%97%e0%a7%8e-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a5%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কথা কালান্তরের, প্রগতির</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 18 Mar 2010 09:13:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়]]></category>
		<category><![CDATA[জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=641</guid>
		<description><![CDATA[প্রচ্ছদ : উত্তম সেন
বইটি নিয়ে আবু বকর সিদ্দিক মার্চ ১৮, ২০১০ তারিখের সংবাদ সাময়িকীতে &#8220;কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালান্তর দর্শন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:
কোনো আর্দশ বা বিশ্বাস চিরদিন একইরকম আবেদন রাখতে পারে না। এক কালের  নিশ্চিত বিশ্বাস সময়ের আবর্তে অন্য কালের মানুষের কাছে ধূসর হয়ে ওঠে।  সৃষ্টির রহস্য স্রষ্টার উপস্থিতি সম্পর্কিত শিরোধার্য সব বিশ্বাসও  [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রচ্ছদ : উত্তম সেন</p>
<p>বইটি নিয়ে আবু বকর সিদ্দিক মার্চ ১৮, ২০১০ তারিখের সংবাদ সাময়িকীতে &#8220;কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালান্তর দর্শন&#8221; শিরোনামে একটি আলোচনা লেখেন:</p>
<p>কোনো আর্দশ বা বিশ্বাস চিরদিন একইরকম আবেদন রাখতে পারে না। এক কালের  নিশ্চিত বিশ্বাস সময়ের আবর্তে অন্য কালের মানুষের কাছে ধূসর হয়ে ওঠে।  সৃষ্টির রহস্য স্রষ্টার উপস্থিতি সম্পর্কিত শিরোধার্য সব বিশ্বাসও  অস্পৃৃশ্য বর্জনীয় হয়ে পড়ে পরবর্তী কোন প্রবক্তার অধিকতর গ্রহণযোগ্য ধর্ম  বা তত্ত্বের প্রচারণায়। মানুষের চিন্তার উন্নতি ও সূক্ষ্মতর বিচার  বিশ্লেষণের ক্ষমতাই যে এর মূলে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সভ্যতা, সংস্কৃতি  ও মনুষ্যত্ববোধের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শোষণের বিরোধী সংগ্রামে  অর্জিত বিজয়, সময়ের ব্যবধানে নতুন ধরনের শোষণ-নির্যাতনের সূত্রপাত করে। তাই  বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল বলে পরিচিত বিভিন্ন ধারণা, যেমন নারীবাদ, নতুন করে  বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন। প্রযুক্তির প্রসার, জ্ঞানের উপকরণ প্রাপ্তি আর  দূরত্ব ঘুচে যাওয়ায় মানুষ তার সঙ্কীর্ণ পরিচয়ের গ-ি পেরিয়ে অখ- পৃথিবীর  একজন হিসেবে নিজের ও অন্যের অবস্থা অত্যন্ত নির্মোহ দৃষ্টিতে বিচারের সুযোগ  পেয়েছে।<br />
কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর &#8216;কথা কালান্তরের, প্রগতির&#8217; বইয়ে এ রকমই কিছু  বিষয়ের অবতারণা করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এ বইটিতে লেখক যেভাবে নারীবাদ,  মৌলবাদ, ধর্ম ও স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছেন তা আমাদের এ ব্যাপারগুলো  নিয়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দেয়। নারী ও নারীবাদ নিয়ে কাজল  বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথাবিরোধী নির্মোহ আলোচনা যে কোন পাঠকেরই দৃৃষ্টি  কাড়বে।<br />
সারাধণভাবে ধরা হয় নারীরা ক্ষমতাহীন, পৃথিবীর মোট সম্পদের মাত্র একভাগ  নারীদের দখলে। এ বাস্তবতাটি মেনে নিয়েই কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় দেখাতে  চেয়েছেন অঙ্কের হিসাবে যাই হোক না কেন পর্দার আড়ালে ক্ষমতার জিয়ন কাঠিটির  নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নারীর দখলে। ছলা-কলা, বিলাসচাতুরীর মাধ্যমে নারী ক্ষমতা  যাদের হাতে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে। নারীর ক্ষমতার বাহ্যিক রূপটা স্পষ্ট না  হলেও ক্ষমতাধরকে নিয়ন্ত্রণ করাটা একেবারে সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রতীয়মান  চধৎধফরংব খড়ংঃ-এ দেখা যায় ঝধঃধহ, শহড়ষিবফমব ভড়ড়ফ খাওয়ার জন্য ঊাব-কে  প্ররোচিত করে। ঝধঃধহ হাজারটা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঊাব-এর যুক্তিকে ভোতা করে।  ঊাব শহড়ষিবফমব ঋড়ড়ফ খাওয়ার পর অফধস-কে খাওয়ানোর জন্য প্ররোচিত করে এবং  সফলও হয়। এখানে লক্ষ্যণীয় ঝধঃধহ, অফধস-কে প্রতারিত করতে পারবে না বলেই  ঊাব-কে বেছে নিয়েছিল। চধৎধফরংব খড়ংঃ-এ ঝধঃধহ-কে দেখানো হয়েছে মহাশক্তিধর  হিসেবে, এড়ফ আর ঈযৎরংঃ-এর পর সবচেয়ে শক্তিধর যে ঝধঃধহ সেও অফধস-কে বশ করতে  পারবে না বলে ধরে নিয়েছিল। আর ঊাব, ঈশ্বর যাকে নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছিল  অফধস-কে সঙ্গ দেয়ার জন্য, খুব সহজেই সে অফধস-কে বিপথে নিয়ে গেল। চধৎধফরংব  খড়ংঃ-এর ইড়ড়শ রী যাদের পড়া আছে তারা নিশ্চয়ই ঊাব-এর এই অপ্রকাশ্য শক্তি  নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না।<br />
কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় হেনরিক ইবসেনের ডলস হাউজ নাটকের নোরার চরিত্র  বিশ্লেষণ করেও নারীর এ অপ্রকাশ্য শক্তিকে দেখাতে চেয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন,  নোরা কোনো সফল ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ বা ব্যাংক ম্যানেজার না হয়েও &#8216;স্পষ্ট ও  পরিণত একজন অহংকারী তথা ক্ষমতার অধিকারী ও প্রয়োগকারী ব্যক্তি।&#8217; তিনি  লিখেছেন, &#8216;নোরারও রয়েছে টোরভা-ের মতোই ক্ষমতার বোধ। টোরভা-ের বোধের  পাশাপাশি তা আরও বিচক্ষণ ও বিস্তারিত খোলামেলা সংঘাত এড়াতে গিয়েই নোরার  ক্ষমতার রূপ ও স্থান ভিন্ন হয়ে দাঁড়ায়। তা যে কম এমন কথা বলা যাবে না।&#8217;<br />
তখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারী মুক্তির ধারণায় নোরার গৃহত্যাগের তাৎপর্য  অপরিসীম। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নারীমুক্তির  আন্দোলনে নোরার গৃহত্যাগের গুরুত্বের চেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন অন্যান্য  মানুষের মতো নোরার ক্ষমতার প্রতি সহজাত আকর্ষণকে। তিনি দেখিয়েছেন নোরা আর  তার স্বামীর মধ্যে ক্ষমতার যে দ্বন্দ্বযুদ্ধ চলছিল তাতে অন্যকে নিজের হাতের  পুতুল বানানোর এক সচেতন বা অসচেতন স্পৃহা নোরার মধ্যেও সদা জাগরিত ছিল।  তাই, নিজেকে অন্যের হাতের পুতুল ভেবে নোরার গৃহত্যাগ পরিহাসেরই নামান্তর।<br />
&#8220;তসলিমার &#8216;ক&#8217; নিয়ে দুঃখজনক ভ্রান্তি&#8221; প্রবন্ধে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়  সাহিত্যের স্রষ্টা এমন একজন নারীকে নিয়ে লিখেছেন যাকে নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক  হয়েছে বিস্তর। তসলিমার লেখায় বারবার উঠে এসেছে ধর্ম, মৌলবাদ,  সাম্প্রদায়িকতা, রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবনের খোলামেলা বর্ণনা, যা তাকে বারবার  করেছে বিতর্কিত। ফ্রান্সিস বেকন &#8216;ঙভ ঞৎঁঃয&#8217; প্রবন্ধে বলেছেন যে, নির্ভেজাল  সত্য (ঘধশবফ ঞৎঁঃয) আমাদের চোখকে ঝলসে দেয় এবং তা রূঢ়। সত্যে যদি মিথ্যার  খাঁদ মিশানো হয় তাহলে তা আর্কষণীয় হয়ে ওঠে। তসলিমার &#8216;ক&#8217;-তে তার ব্যক্তি  জীবনের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্কের খোলামেলা বর্ণনা হয় পাঠকের  চোখকে ঝলসে দিয়ে অন্ধ করেছে, অথবা এই আর্কষণীয় বর্ণনা পাঠককে এমন মুগ্ধতায়  ভরিয়েছে যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। তসলিমার  অধিকাংশ লেখা সম্পর্কে অবশ্য একই কথা প্রযোজ্য। ধর্ম নিয়ে তীব্র সমালোচনা  অথবা যৌন জীবন নিয়ে খোলামেলা বর্ণনা তসলিমার লেখাকে সাধারণ পাঠক হতে  প-িতমহল পর্যন্ত বিতর্কিত করেছে। আর এসবের ফলে তার বর্ণিত অনেক  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। এসব ব্যাপারে সামান্য সচেতনতা তার  লেখাকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা দিত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বর্ণনাতেও লেখিকা  হতে পারত আরও সংযমী। কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আলোচনায় যে সব ব্যক্তি  তসলিমার লেখনিতে শুধু &#8216;আত্মযৌবনিক কামশাস্ত্র&#8217; খুঁজে পান, তাদের মৌলবাদ,  সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতিসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ যে সব বিষয়  নিয়ে তসলিমা লিখেছে সে দিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন।<br />
মৌলবাদের বিস্তার আর মতপ্রকাশের সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা বলেছেন তিনি,  আফ্রিকার মৌলবাদের বিস্তার নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনি দেখিয়েছেন আমাদের  দেশে যেখানে মৌলবাদ দ্রুত শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছে সেখানে অনেক  প্রগতিশীল বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবীও স্বাধীন মতপ্রকাশের অন্তরায় হয়ে  দাঁড়িয়েছে (&#8220;তসলিমার &#8216;ক&#8217; নিয়ে দুঃখজনক ভ্রান্তি&#8221; প্রবন্ধে)। ব্যক্তি  স্বাতন্ত্র্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে তাঁর আশাবাদ ইয়োরুবা  প্রবাদটির মতো, &#8216;কাউকে নিজের মতো করার প্রয়াস সে ব্যক্তিকে অপ্রীতিকর  ব্যক্তিতে পরিণত করে।&#8217;<br />
আলোচনার শুরুতে বলেছিলাম সমস্যাগুলোকে নির্মোহ, যুক্তিপূর্ণ দৃষ্টিতে বিচার  করতে হবে। কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নারীবাদ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে  ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বৈষম্য-বঞ্চনার বিরোধিতা  প্রতিবাদের ধারায় যে নারীবাদের জন্ম, তা নিজেই এখন অনেক বঞ্চনার জন্ম  দিচ্ছে। লেলিন যেমন বলেছিলেন &#8216;ঞযব ড়ঢ়ঢ়ৎবংংবফ ধৎব ঃযব ঢ়ড়ঃবহঃরধষ  ড়ঢ়ঢ়ৎবংংড়ৎং&#8217;। যে বাংলা ভাষার জন্য একসময় আমরা রক্ত দিয়েছি, সেই বাংলা ভাষাই  এখন সংবিধানের একমাত্র স্বীকৃত ভাষা, অথচ বাদবাকি ৪৬টি ভাষার কোনো  স্বীকৃতি দিচ্ছি না আমরা। আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা তাই অপরিসীম। কাজল  বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,<br />
&#8216;গোড়ামী, রক্ষণশীলতা ইত্যাদি প্রশ্নে আপন দেশবাসী কিংবা সম্প্রদায়কে কষাঘাত  করতে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুয়ের কেউই দ্বিধা করেননি। বেগম  রোকেয়ার  নারীবাদও এ কারণেই বিশিষ্ট, তা শুধু আঙুল  তুলেই শেষ করেনি;  নারীদের অনেক ব্যর্থতা, আপন সম্প্রদায়-সদস্যদেরও রোকেয়া একই উচ্চকণ্ঠে  নির্দেশ করেছেন।&#8217;<br />
[এক পূর্ণ গ্রাস : জন্মদিনে পুনর্দর্শন]<br />
বইটি প্রবন্ধ সংকলন হলেও কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় যে একজন কবি তার পরিচয় পাওয়া  যায় সহজেই। কোনো কোনো প্রবন্ধের ভাষা কাব্যধর্মী আবার কোনো কোনো বাক্য  গঠনে দেখা যায় কবিতার ভাষা। নিঃসন্দেহে কাব্যধর্মী ভাষা বইটিকে বিশিষ্টতা  দিয়েছে।<br />
নারী, নারীবাদ ও ক্ষমতা নিয়ে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনা অনেকেরই  গাত্রদাহের কারণ হতে পারে। তবে তিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এ আলোচনা করেছেন তার  যথার্থ উপলব্ধিই হতে পারে বইটির জন্য সর্বোত্তম শুভ কামনা।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভাষা প্রসঙ্গ &#8211; বিতর্কের অন্তরালে</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 16 Mar 2010 11:33:19 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আহমদ শরীফ]]></category>
		<category><![CDATA[পারিজাত প্রকাশনী]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষাবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=484</guid>
		<description><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[

No related posts.


No related posts.]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>Red Genes, Blue Genes: Exposing Political Irrationality</title>
		<link>http://boirboi.com/red-genes-blue-genes-exposing-political-irrationality/</link>
		<comments>http://boirboi.com/red-genes-blue-genes-exposing-political-irrationality/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 16 Mar 2010 10:15:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অন্যভূবন ফ্রি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=607</guid>
		<description><![CDATA[You can download the PDF version of the book from here for free.
From the press release on regarding the book dated June 10, 2009:
New  Book Predicts Increasing Partisan Polarization Worldwide
Humans are Hard-Wired for  &#8220;Political Irrationality&#8221; says SUNY Professor Guillermo C. Jimenez.   Partisan Bias is Rooted in Biology and Reinforced by Culture.
The  Result [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>You can download the PDF version of the book from <a href="http://afterwords.typepad.com/files/red-genes-blue-genes-review-copy-2.pdf" target="_blank">here</a> for free.</p>
<p>From the press release on regarding the book dated June 10, 2009:</p>
<h2>New  Book Predicts Increasing Partisan Polarization Worldwide</h2>
<p style="text-align: center;"><em>Humans are Hard-Wired for  &#8220;Political Irrationality&#8221; says SUNY Professor Guillermo C. Jimenez.   Partisan Bias is Rooted in Biology and Reinforced by Culture.<br />
The  Result is an Angry and Polarized Electorate, Exploited by Self-Serving  Politicians.</em></p>
<p>NEW YORK, NY, June 10, 2009 &#8212;  &#8220;Post-partisanship is currently biologically and culturally impossible,&#8221;  SUNY Professor Guillermo C. Jimenez said in a statement  released in New York today to accompany the release of his new book, &#8220;Red Genes, Blue Genes: Exposing Political  Irrationality.&#8221;<br />
&#8220;President Barack Obama is right  to attack irrational partisanship,&#8221; said Jimenez, &#8220;But partisanship is  likely to persist anyway because human beings have innate partisan  predispositions which are aggravated in times of economic stress.&#8221;  According to Jimenez, most people are genetically-predisposed toward  liberalism or conservatism, and this innate bias is further reinforced  by years of cultural programming. Jimenez said that since the syndrome  is based on biological and cultural universals, it is found in all  countries.<br />
&#8220;People everywhere are incredibly  stubborn and opinionated when it comes to politics, but their opinions  are almost never based on logic or facts,&#8221; Jimenez said in the  statement, which is posted on the book&#8217;s companion blog-site,  redgenesbluegenes.com.</p>
<p>Red Genes, Blue Genes argues that  society&#8217;s most troublesome political problems can be traced to an  innate human tendency toward &#8220;political irrationality.&#8221; Using recent  scientific evidence from psychology,neuroscience and economics,  Jimenez&#8217;s book seeks to provide the first comprehensive and  multi-disciplinary look at political irrationality. Jimenez said the  concept of political irrationality helped explain a number of current  events and controversies, for example: 1) Irrational Democratic  triumphalism after Obama&#8217;s 2008 victory; 2) The irrationalities  underlying the current financial crisis; 3) Irrational U.S.  over-confidence in Afghanistan and Iraq; 4) Continued government support  of irrational drug policies, and 5) Irrational denial of judicial bias,  as in the case of judges nominated to the U.S. Supreme Court.     Jimenez said that his purpose in  writing Red Genes, Blue Genes: Exposing Political Irrationality was to  make use of modern science in order to unravel ancient political  mysteries:<br />
<em> </em></p>
<p><em>Why does it seem that liberals and conservatives  are different kinds of people? Why are political arguments so hostile  and impervious to reason? Why are partisans and political figures so  certain they are right all the time? Why are citizens everywhere  unsatisfied with systems of government that are supposedly &#8220;democratic&#8221;?</em> Guillermo C. Jimenez teaches  international law and business at the State University of New York  (SUNY), Iona College and the International School of Management (Paris).  A graduate of Harvard University and the University of  California-Berkeley, he has lectured in over 35 countries and addressed a  number of international organizations and bodies including the United  Nations and European Commission. Red Genes, Blue Genes: Exposing  Political Irrationality is his fourth book.<br />
Book&#8217;s companion blog-site: <a href="www.redgenesbluegenes.com" target="_blank">www.redgenesbluegenes.com</a></p>
<p>Book Details:</p>
<p>Book Title:                    Red Genes, Blue Genes:  Exposing Political Irrationality<br />
Author:                         Guillermo C. Jimenez</p>
<p>ISBN:                               978-1-57027-203-5</p>
<p>Cover price:                16.95  USD</p>
<p>Dimensions:                 Trade paperback (6&#8243; x 9&#8243;), 304 pp.</p>
<p>Pub. Date                       Nov. 4, 2009</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/red-genes-blue-genes-exposing-political-irrationality/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 15 Mar 2010 22:28:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিভিন্ন]]></category>
		<category><![CDATA[লিটলম্যাগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=551</guid>
		<description><![CDATA[আপনার লিটল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ ও যাবতীয় তথ্য ebookvine@gmail.com এই ইমেইল ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন।এই সংখ্যাটি অনলাইনে পড়তে হলে বা প্রিন্ট করতে হলে এখানে ক্লিক করুন।  
প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা
জুলাই ২০০৭
সম্পাদনা পর্ষদ:
অধ্যাপক অজয় রায়
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম
অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক
এবং অনন্ত বিজয় দাশ
প্রকাশক: শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ ও মুক্তমনা
সূচী
সম্পাদকীয়
প্রবন্ধ
ত্রিশ লক্ষ শহীদ – মিথ নাকি বাস্তবতা? যুঞ্চিক্ত
আলোকিত চিত্তই পারে [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ২'>যুক্তি: সংখ্যা ২</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ১'>যুক্তি: সংখ্যা ১</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class="ag-colorbox success"><p>আপনার লিটল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ ও যাবতীয় তথ্য ebookvine@gmail.com এই ইমেইল ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন।</p></div><p>এই সংখ্যাটি অনলাইনে পড়তে হলে বা প্রিন্ট করতে হলে <a href="http://www.mukto-mona.com/project/muktanwesa/1st_issue/index.htm" target="_blank">এখানে ক্লিক করুন</a>।  </p>
<p>প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা<br />
জুলাই ২০০৭</p>
<p>সম্পাদনা পর্ষদ:<br />
অধ্যাপক অজয় রায়<br />
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম<br />
অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক<br />
এবং অনন্ত বিজয় দাশ</p>
<p>প্রকাশক: শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ ও মুক্তমনা</p>
<p>সূচী</p>
<p>সম্পাদকীয়<br />
প্রবন্ধ</p>
<p>ত্রিশ লক্ষ শহীদ – মিথ নাকি বাস্তবতা? যুঞ্চিক্ত<br />
আলোকিত চিত্তই পারে বাংলাদেশ রাষ্ট্রব্যবস্থার লোকায়াতকরণ  এ এইচ জাফর উল্লাহ<br />
বিশ্বাস কি মানব মনে প্রোথিত? আশিক মাহমুদ রূপম<br />
ঈশ্বর বিভ্রান্তি ও প্রবঞ্চনা  রিচার্ড ডকিন্স / অনুবাদ : অজয় রায়<br />
মানুষের পয়গম্বর হয়ে ওঠার সুলুক-সন্ধান  দীক্ষক দ্রাবিড়<br />
মহাপ্লাবনের বাস্তবতা : পৌরাণিক অতিকথন বনাম বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান  অনন্ত বিজয় দাশ<br />
ভাববাদী বনাম বস্তুবাদী যুক্তিবাদ   শহিদুল ইসলাম<br />
ডারউইন কিভাবে বিজ্ঞানী হলেন?  জাহেদ আহমদ<br />
নন্দিত নকশা নাকি অজ্ঞানতা?  অভিজিৎ রায়<br />
বিজ্ঞান, শিল্প ও নন্দন তত্ত্ব   অপার্থিব<br />
শিক্ষা সংস্কার : কয়েকটি বিবেচ্য বিষয়   মাওলানা হোসেন আলী<br />
শিক্ষা ও সংস্কৃতি  মামুনুর রশীদ<br />
আমাদের বিয়োগের খাতায় মানুষজন নাঈম মোহায়মেন ও রেহনুমা আহমেদ<br />
রাজনৈতিক বর্বরতার এক করুণ কাহিনী  মেহুল কামদার / অনুবাদ : কাওসার  চৌধুরী</p>
<p>গল্প<br />
পাক-মন পেয়ার  আনোয়ার সাদাত শিমুল</p>
<p>কবিতা<br />
পাখি হয়েও ফিরব একদিন   তসলিমা নাসরিন</p>
<p>আমাদের সংগ্রাম চলবেই<br />
ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প ও গণঅভ্যুত্থান  হায়দার আকবর খান রনো<br />
বিষন্ন এক সংগ্রামী নারীর মুখোমুখি  অজয় রায়</p>
<p>বইয়ের জগতে<br />
ডারউইন : বিশ্বে ও মহাবিশ্বে  (বিবর্তনের পথ ধরে এবং মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে বইদুটোর পর্যালোচনা) দ্বিজেন শর্মা<br />
বাঙালীর জাতীয় মুক্তির প্রধান অন্তরায় (ইসলাম ও শারিয়াহ্ বইটির পর্যালোচনা)  বেলাল বেগ</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ২'>যুক্তি: সংখ্যা ২</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ১'>যুক্তি: সংখ্যা ১</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>যুক্তি: সংখ্যা ২</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 15 Mar 2010 22:27:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিভিন্ন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=538</guid>
		<description><![CDATA[এই সংখ্যাটি আপনি ডাউনলোড করে পড়তে পারেন এখান থেকে।
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..
সম্পাদক
অনন্ত বিজয় দাশ
প্রকাশকাল
ফেব্রুয়ারী ২০০৮
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.
সূচি
পুনঃপাঠ
আদেশের নিগ্রহ আবুল হুসেন
প্রবন্ধ
শিক্ষা নিয়ে অনিয়ত ভাবনা অজয় রায়
নাস্তিকতা &#8211; মুর্দাবাদ, বিজ্ঞানচেতনা &#8211; জিন্দাবাদ যতীন সরকার
সমাজবাদীর জন্য জরুরি ‘ভাষা’: একটি আত্মোপলব্ধি বেনজীন খান
সাক্ষাৎকার
প্রবীর ঘোষ
প্রবন্ধ
স্বেচ্ছামৃত্যু সুমিত্রা পদ্মনাভন
অধার্মিকের ধর্মকথন অভিজিৎ রায়
বিজ্ঞান, ধর্ম ও বিশ্বাস অপার্থিব
ধর্ম ও নারীর গল্প নন্দিনী হোসেন
আরণ্যিক নির্বোধের ভ্রান্ত দুঃস্বপন সৈকত চৌধুরী।


Related posts:যুক্তি: [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ১'>যুক্তি: সংখ্যা ১</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১'>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>এই সংখ্যাটি আপনি ডাউনলোড করে পড়তে পারেন <a href="http://www.mukto-mona.com/project/yukti/2nd_issue/yukti_2nd_issue.pdf" target="_blank">এখান থেকে</a>।<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..<br />
সম্পাদক<br />
অনন্ত বিজয় দাশ<br />
প্রকাশকাল<br />
ফেব্রুয়ারী ২০০৮<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.</p>
<p>সূচি</p>
<p>পুনঃপাঠ<br />
আদেশের নিগ্রহ আবুল হুসেন</p>
<p>প্রবন্ধ<br />
শিক্ষা নিয়ে অনিয়ত ভাবনা অজয় রায়<br />
নাস্তিকতা &#8211; মুর্দাবাদ, বিজ্ঞানচেতনা &#8211; জিন্দাবাদ যতীন সরকার<br />
সমাজবাদীর জন্য জরুরি ‘ভাষা’: একটি আত্মোপলব্ধি বেনজীন খান</p>
<p>সাক্ষাৎকার<br />
প্রবীর ঘোষ</p>
<p>প্রবন্ধ<br />
স্বেচ্ছামৃত্যু সুমিত্রা পদ্মনাভন<br />
অধার্মিকের ধর্মকথন অভিজিৎ রায়<br />
বিজ্ঞান, ধর্ম ও বিশ্বাস অপার্থিব<br />
ধর্ম ও নারীর গল্প নন্দিনী হোসেন<br />
আরণ্যিক নির্বোধের ভ্রান্ত দুঃস্বপন সৈকত চৌধুরী।</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ১'>যুক্তি: সংখ্যা ১</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১'>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বইমেলা নয়, বই প্রকাশনা নিয়ে কিছু কথা - একজন প্রকাশকের নিজের কথা</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 15 Mar 2010 11:46:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রকাশকের কথা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=596</guid>
		<description><![CDATA[আমাদের গ্রামটা ছিল শহরতলিতে। খুব ছোটবেলায় যখন আমরা পড়াশোনা করতে শুরু করেছি তখনো শহরতলির ওই গ্রামটিতে বিদ্যুৎ ছিল না। সংগত কারণেই গ্রামের কারও বাড়িতেই টেলিভিশন ছিল না। কাজেই সময় কাটানোর জন্য আমার মতো ঘরকুনো ছেলের কাছে বইয়ের কোনো বিকল্পও ছিল না। সৌভাগ্যবশত আমার বাবার সংগ্রহে অনেক বই ছিল। তবে সেই সব বইয়ের একটা বড় অংশজুড়েই [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b/' rel='bookmark' title='Permanent Link: বাংলা ভাষা, বই ও বইমেলা: কিছু উদ্ধৃতি'>বাংলা ভাষা, বই ও বইমেলা: কিছু উদ্ধৃতি</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%8f-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%a8%e0%a7%9f/' rel='bookmark' title='Permanent Link: এ ভ্রমণ আর কিছু নয়'>এ ভ্রমণ আর কিছু নয়</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: কথা কালান্তরের, প্রগতির'>কথা কালান্তরের, প্রগতির</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আমাদের গ্রামটা ছিল শহরতলিতে। খুব ছোটবেলায় যখন আমরা পড়াশোনা করতে শুরু করেছি তখনো শহরতলির ওই গ্রামটিতে বিদ্যুৎ ছিল না। সংগত কারণেই গ্রামের কারও বাড়িতেই টেলিভিশন ছিল না। কাজেই সময় কাটানোর জন্য আমার মতো ঘরকুনো ছেলের কাছে বইয়ের কোনো বিকল্পও ছিল না। সৌভাগ্যবশত আমার বাবার সংগ্রহে অনেক বই ছিল। তবে সেই সব বইয়ের একটা বড় অংশজুড়েই ছিল রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রোত্তর পর্বের লেখকদের রচনা। অবশ্য আমার আর আমার মায়ের পড়ার গণ্ডি বাবার সংগ্রহের এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। কখনো আমরা বই কিনেছি, সদস্য হয়েছি শহরের একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরিটির। ওই সময়টায় বই ভাড়ায়ও পাওয়া যেত। দস্যু বনহুর, ফেলুদা আর মাসুদ রানার মতো জনপ্রিয় বইয়ের পাশাপাশি ভাড়ার ওই দোকানটির কল্যাণে বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের বহু ধ্রুপদী বই পড়ার সুযোগ পেয়েছি স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই। আমাদের ছোট শহরটির সব বইয়ের দোকানেই সেই সময়কার সৃজনশীল সাহিত্যের বই কিনতে পাওয়া যেত, যেগুলোতে এখন আর পাঠ্যপুস্তক, নোটবই, গাইড বই এবং ভারতীয় পাইরেটেড বই ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায় না।</p>
<p>বইয়ের সঙ্গে শৈশবে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা আর কখনোই ভেঙে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি সাহিত্য নিয়ে, লেখালেখির চেষ্টা নিরন্তর না হলেও চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুরা মিলে প্রকাশ করেছি লিটল ম্যাগাজিন। কিন্তু বই প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবিনি কখনো। প্রকাশনার ভাবনাটা এসেছে অনেক পরে, ভোরের কাগজ-এ কাজ করতে এসে। বলা চলে, বইমেলার রিপোর্টিং করাটাই ছিল সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করার পরীক্ষা। সেই শুরু, এরপর প্রথম আলোয় প্রায় অর্ধযুগ কাজ করার সময় প্রতিবছরই আমাকে বইমেলা নিয়ে রিপোর্ট করতে হয়েছে। ফলে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে দেশের নবীন-প্রবীণ সব প্রকাশকের সঙ্গে। <span class="pullquote">নিজের এবং বন্ধুদের বই প্রকাশের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে গিয়ে বারবার আমাদের প্রকাশকদের দেউলিয়াত্ব দেখে পীড়িত বোধ করেছি। মনে হয়েছে, চাইলে আমরা যে কেউ এর চেয়ে ভালো প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তুলতে পারি। প্রকৃতপক্ষে তখন পর্যন্ত ওই ভাবনাটা ছিল বাস্তবতাবিবর্জিত, নিছক ক্ষোভই প্রকাশিত হতো এতে। তবে আমি সব সময়ই এটা বুঝতে পারতাম যে শুধু বই প্রকাশনাকে অবলম্বন করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করা যাবে না। আর সেটা যদি সম্ভবও হয়, তা কেবল বড় পুঁজির সমর্থনেই হতে পারে।</span></p>
<p>গত এক দশকে বাংলাদেশে যে কয়টি নতুন প্রকাশনা সংস্থা যাত্রারম্ভ করে আলোচনায় আসতে পেরেছে, তাদের কোনোটাই পাঠসূত্রের মতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগ নিয়ে শুরু করেনি। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এসেছে প্রকাশনায় কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং টিকে থাকছে মূলত লেখকদের আনুকূল্যে। অবশ্য ওই লেখকদের কেউ লেখক পদবাচ্য হতে পারেন কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে ব্যাপক। প্রকৃতপক্ষে <span class="pullquote">প্রকাশনাকে ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করা হলে বুঝতে হবে, বই এমন একটি পণ্য, যার বাজার অত্যন্ত সীমিত। বই না কিনলে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব হয়ে যায় না। তার পরও যারা বই পড়েন, তাদের রুচি অন্যদের তুলনায় অনেক ভিন্ন, তাদের কাছে যেকোনো বই নিয়ে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যারা বই লিখছেন তারা মনে করেন, তিনিই সর্বোৎকৃষ্ট রচনাটি লিখে ফেলেছেন। কাজেই অধিকাংশ লেখক পাঠকের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে তোলার কোনো চেষ্টাই করেন না।</span> পাঠকের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারা লেখকের সংখ্যা এ দেশে হাতে গোনা, যাদের বই পাওয়ার জন্য প্রকাশককে হতে হবে ন্যুব্জ মেরুদণ্ডহীন, অথবা প্রকাশকের টেঁকে থাকতে হবে টাকার ঝনঝনানি। সর্বোপরি, বাংলাদেশের বই বিপণনের ক্ষেত্রটি ছোট হতে হতে বাংলা একাডেমীর অমর একুশে বইমেলা চত্বরে এসে ঠেকেছে, তাও আবার প্রকাশকদের নিজেদের চেষ্টায় গড়া নয়। অথচ এই মেলাটির আয়োজন করতে গিয়ে জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমী হয়ে পড়েছে মেলাসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান। তাও মন্দের ভালো হচ্ছে যে, প্রকাশকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের একাধিপত্য এখানে নেই। থাকলে পাঠসূত্রের মতো নতুনদের দাঁড়ানোর জায়গাও থাকত না।</p>
<p>প্রকাশকেরা চাইলেই সারা দেশে বই বিপণনের জন্য সরকারের আনুকূল্য চাইতে পারেন। তারা দাবি করতে পারেন, সরকার যেন দেশের ৬৪টি জেলায় অন্তত একটি করে বইয়ের দোকান দেওয়ার মতো জায়গা বরাদ্দ করে, যে জায়গাটিতে সৃজনশীল প্রকাশকদের সংগঠনটি গড়ে তুলতে পারে একটি সম্মিলিত বিপণনকেন্দ্র। তাহলেও হয়তো একুশে বইমেলার সীমানা ছাড়িয়ে বেরোতে পারত সৃজনশীল প্রকাশনা। <span class="pullquote">আমাদের প্রকাশক-নেতাদের মধ্যে পাঠকের কাছে যাওয়ার চেয়ে সরকারি কেনাবেচাকে নিয়ন্ত্রণ করাটাই অনেক সহজ বলে বিবেচিত হয়। তাদের এহেন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি উদ্যোগে সৃজনশীল বই কেনার প্রকল্পগুলো।</span> ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর অগ্রসর লেখক-বুদ্ধিজীবীদের কয়েকজনের চেষ্টায় শুরু হয়েছিল সৃজনশীল বই কেনা। সেই সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে দেখেছি, আমাদের প্রকাশক-নেতাদের অনেকেই নেতানেত্রীদের অখাদ্য-কুখাদ্য লেখা নিয়ে বই প্রকাশের মহোৎসবে মেতে উঠেছিলেন। কারণ, এর ফলে বই বিক্রি করে সহজেই সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়া যাচ্ছিল। ফলে মহৎ এই উদ্যোগটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং এ সময় অনেকে ভুঁইফোড় প্রকাশকে পরিণত হন। আমি ব্যক্তিগতভাবে গ্লানি বোধ করি। কারণ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই সরকারের আমলেই সরকারি টাকায় বইকেনার ওই সব প্রকল্পে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি আর অনিয়ম নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করেছি। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে প্রকল্পগুলো, এ যেন ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় করার মতো পরিস্থিতি।</p>
<p>প্রকৃতপক্ষে প্রকাশনাশিল্পের এ ক্ষেত্রটি ভুঁইফোড়দের দখলেই রয়ে গেছে। এমনকি, আমরা যারা নিজেদের তৈরি করে এ ক্ষেত্রে আসতে চেয়েছি, তাদের জন্যও কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। <span class="pullquote">এখনো আমাদের এখানে জাতীয় কোনো গ্রন্থনীতি নেই। এখন আবার গ্রন্থনীতি প্রণয়নের আগে গ্রন্থাগার নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। তা-ই যদি হয়, তাহলে নীতিটি হয়ে যাবে খণ্ডিত। গ্রন্থনীতি না থাকলেও আছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, যার কোনো রকম কর্মকাণ্ড আছে বলে মনে হয় না। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশকদের প্রশিক্ষিত করার মতো জাতীয় উদ্যোগ নিতে পারত।</span> পৃথিবীজুড়ে প্রকাশনা যে মাত্রা পেয়েছে, তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে গড়ে তুলতে হবে নিজস্ব ভাষার পাঠকসমাজ। গুটিকয়েক জনপ্রিয় লেখকের ওপর নির্ভর না করে জনপ্রিয় লেখক গড়ারও উদ্যোগ নিতে হবে। বন্ধ করতে হবে বইয়ের পাইরেসি। পাইরেসি বলতে আমরা আবার কেবলই ভারতীয় বাঙালি লেখকদের বই চুরি করে প্রকাশ করাটা বুঝি।</p>
<p>ফলে অনুবাদের নামে আমাদের বড় বড় প্রকাশকও নিরন্তর এ কাণ্ডটি ঘটাচ্ছেন। তারা আবার অমর একুশে বইমেলাতেও সগর্বে সেই সব বই প্রকাশ ও বিক্রি করে যাচ্ছেন। এটাও যে পাইরেসি তা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সাংবাদিকেরাও খুব বুঝতে পারেন বলে মনে হয় না। এই তো মাত্র সেদিন কালের কণ্ঠ পত্রিকার শুক্রবারের সাময়িকীতে পাইরেসি নিয়ে লেখক-প্রকাশকদের অনেক কথা ছাপার পাশাপাশি বইমেলার নতুন বইয়ের খবরে পাইরেটেড কিছু বইকে অনুবাদের নামে প্রচার করা হলো। অথচ বইমেলার নীতিমালা অনুযায়ী, এ জাতীয় বই প্রকাশ নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হয়। আসলে <span class="pullquote">বইমেলার নীতিমালা যেন কাজির গরু, যেটা কাগজে থাকলেও গোয়ালে থাকে না। এ নীতিমালাকে অবশ্য কাগজের বাঘও বলা চলে। কারণ, কাউকে ভয় দেখানোর জন্য এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে।</span><br />
সূত্র: <a href="http://mediawatchbd.com/content/2010/02/14/news0115.htm" target="_blank">মিডিয়াওয়াচ, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১০</a></p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b/' rel='bookmark' title='Permanent Link: বাংলা ভাষা, বই ও বইমেলা: কিছু উদ্ধৃতি'>বাংলা ভাষা, বই ও বইমেলা: কিছু উদ্ধৃতি</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%8f-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%a8%e0%a7%9f/' rel='bookmark' title='Permanent Link: এ ভ্রমণ আর কিছু নয়'>এ ভ্রমণ আর কিছু নয়</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: কথা কালান্তরের, প্রগতির'>কথা কালান্তরের, প্রগতির</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভাষার কথা</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 12:51:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[ফিচার]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ লেখা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=559</guid>
		<description><![CDATA[পদ্মায় যখন পুল হয় নাই তখন এপারে ছিল চওড়া রেলপথ, ওপারে ছিল সরু। মাঝখানে একটা বিচ্ছেদ ছিল বলিয়া রেলপথের এই দ্বিধা আমাদের সহিয়াছিল। এখন সেই বিচ্ছেদ মিটিয়া গেছে তবু ব্যবস্থার কার্পণ্যে যখন অর্ধেক রাত্রে জিনিসপত্র লইয়া গাড়ি বদল করিতে হয় তখন রেলের বিধাতাকে দোষ না দিয়া থাকিতে পারি না।
ও তো গেল মানুষ এবং মাল চলাচলের [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: ফরহাদ মজহার:'>ফরহাদ মজহার:</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>পদ্মায় যখন পুল হয় নাই তখন এপারে ছিল চওড়া রেলপথ, ওপারে ছিল সরু। মাঝখানে একটা বিচ্ছেদ ছিল বলিয়া রেলপথের এই দ্বিধা আমাদের সহিয়াছিল। এখন সেই বিচ্ছেদ মিটিয়া গেছে তবু ব্যবস্থার কার্পণ্যে যখন অর্ধেক রাত্রে জিনিসপত্র লইয়া গাড়ি বদল করিতে হয় তখন রেলের বিধাতাকে দোষ না দিয়া থাকিতে পারি না।</p>
<p>ও তো গেল মানুষ এবং মাল চলাচলের পথ, কিন্তু ভাব চলাচলের পথ হইল ভাষা। কিছুকাল হইতে বাংলাদেশে এই ভাষায় দুই বহরের পথ চলিত আছে। একটা মুখের বুলির পথ, আর-একটা পুঁথির বুলির পথ। দুই-একজন সাহসিক বলিতে শুরু করিয়াছেন যে, পথ এক মাপের হইলে সকল পক্ষেই সুবিধা। অথচ ইহাতে বিস্তর লোকের অমত। এমন-কি তাঁরা এতই বিচলিত যে, সাধু ভাষার পক্ষে তাঁরা যে ভাষা প্রয়োগ করিতেছেন তাহাতে বাংলা ভাষায় আর যা-ই হোক, সাধুতার চর্চা হইতেছে না।</p>
<p>এ তর্কে যদিও আমি যোগ দিই নাই তবু আমার নাম উঠিয়াছে। এ সম্বন্ধে আমার যে কী মত তাহা আমি ছাড়া আমার দেশের পনেরো-আনা লোকেই একপ্রকার ঠিক করিয়া লইয়াছেন, এবং যাঁর যা মনে আছে বলিতে কসুর করেন নাই। ভাবিয়াছিলাম চারি দিকের তাপটা কমিলে ঠাণ্ডার সময় আমার কথাটা পাড়িয়া দেখিব। কিন্তু বুঝিয়াছি সে আমার জীবিতকালের মধ্যে ঘটিবার আশা নাই। অতএব আর সময় নষ্ট করিব না।</p>
<p>ছোটোবেলা হইতেই সাহিত্য রচনায় লাগিয়াছি। বোধ করি সেইজন্যই ভাষাটা কেমন হওয়া উচিত সে সম্বন্ধে আমার স্পষ্ট কোনো মত ছিল না। যে-বয়সে লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলাম তখন, পুঁথির ভাষাতেই পুঁথি লেখা চাই, এ কথায় সন্দেহ করিবার সাহস বা বুদ্ধি ছিল না। তাই, সাহিত্য-ভাষার পথটা এই সরু বহরের পথ, তাহা যে প্রাকৃত বাংলা ভাষার চওড়া বহরের পথ নয়, এই কথাটা বিনা দ্বিধায় মনের মধ্যে পাকা হইয়া গিয়াছিল।</p>
<p>একবার যেটা অভ্যাস হইয়া যায় সেটাতে আর নাড়া দিতে ইচ্ছা হয় না। কেননা স্বভাবের চেয়ে অভ্যাসের জোর বেশি। অভ্যাসের মেঠো পথ দিয়া গাড়ির গোরু আপনিই চলে, গাড়োয়ান ঘুমাইয়া পড়িলেও ক্ষতি হয় না। কিন্তু ইহার চেয়ে প্রবল কারণ এই যে, অভ্যাসের সঙ্গে সঙ্গে একটা অহংকারের যোগ আছে। যেটা বরাবর করিয়া আসিয়াছি সেটার যে অন্যথা হইতে পারে এমন কথা শুনিলে রাগ হয়। মতের অনৈক্য রাগারাগি হইবার প্রধান কারণই এই অহংকার। মনে আছে বহুকাল পূর্বে যখন বলিয়াছিলাম বাঙালির শিক্ষা বাংলা ভাষার যোগেই হওয়া উচিত তখন বিস্তর শিক্ষিত বাঙালি আমার সঙ্গে যে কেবল মতে মেলেন নাই তা নয় তাঁরা রাগ করিয়াছিলেন। অথচ এ জাতীয় মতের অনৈক্য ফৌজদারি দণ্ডবিধির মধ্যে পড়ে না। আসল কথা, যাঁরা ইংরাজি শিখিয়া মানুষ হইয়াছেন, তাঁরা বাংলা শিখিয়া মানুষ হইবার প্রস্তাব শুনিলেই যে উদ্ধত হইয়া ওঠেন, মূলে তার অহংকার।</p>
<p>একদিন নিজের স্বভাবেই ইহার পরিচয় পাইয়াছিলাম, সে কথাটা এইখানেই কবুল করি। পূর্বেই তো বলিয়াছি যে-ভাষা পুঁথিতে পড়িয়াছি সেই ভাষাতেই চিরদিন পুঁথি লিখিয়া হাত পাকাইলাম; এ লইয়া এপক্ষে বা ওপক্ষে কোনোপ্রকার মত গড়িয়া তুলিবার সময় পাই নাই। কিন্তু ‘সবুজ পত্র&#8217; -সম্পাদকের বুদ্ধি নাকি তেমন করিয়া অভ্যাসের পাকে জড়ায় নাই এইজন্য তিনি ফাঁকায় থাকিয়া অনেকদিন হইতেই বাংলা সাহিত্যের ভাষা সম্বন্ধে একটা মত খাড়া করিয়াছেন।</p>
<p>বহুকাল পূর্বে তাঁর এই মত যখন আমার কানে উঠিয়াছিল আমার একটুও ভালো লাগে নাই। এমন-কি রাগ করিয়াছিলাম । নূতন মতকে পুরাতন সংস্কার অহংকার বলিয়া তাড়া করিয়া আসে, কিন্তু অহংকার যে পুরাতন সংস্কারের পক্ষেই প্রবল এ কথা বুঝিতে সময় লাগে। অতএব, প্রাকৃত বাংলাকে পুঁথির পঙ্‌ক্তিতে তুলিয়া লইবার বিরুদ্ধে আজকের দিনে যে-সব যুক্তি শোনা যাইতেছে সেগুলো আমিও একদিন আবৃত্তি করিয়াছি।</p>
<p>এক জায়গায় আমার মন অপেক্ষাকৃত সংস্কার-মুক্ত। পদ্য রচনায় আমি প্রচলিত আইন-কানুন কোনোদিন মানি নাই। জানিতাম কবিতায় ভাষা ও ছন্দের একটা বাঁধন আছে বটে, কিন্তু সে বাঁধন নূপুরের মতো, তাহা বেড়ির মতো নয়। এইজন্য কবিতার বাহিরের শাসনকে উপেক্ষা করিতে কোনোদিন ভয় পাই নাই।</p>
<p>‘ক্ষণিকা&#8217; য় আমি প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রাকৃত বাংলা ভাষা ও প্রাকৃত বাংলার ছন্দ ব্যবহার করিয়াছিলাম। তখন সেই ভাষার শক্তি, বেগ ও সৌন্দর্য প্রথম স্পষ্ট করিয়া বুঝি। দেখিলাম এ ভাষা পাড়াগাঁয়ের টাট্টু ঘোড়ার মতো কেবলমাত্র গ্রাম্য-ভাবের বাহন নয়, ইহার গতিশক্তি ও বাহনশক্তি কৃত্রিম পুঁথির ভাষার চেয়ে অনেক বেশি।</p>
<p>বলা বাহুল্য ‘ক্ষণিকা&#8217; য় আমি কোনো পাকা মত খাড়া করিয়া লিখি নাই, লেখার পরেও একটা মত যে দৃঢ় করিয়া চলিতেছি তাহা বলিতে পারি না। আমার ভাষা রাজাসন এবং রাখালী, মথুরা এবং বৃন্দাবন, কোনোটার উপরেই আপন দাবি সম্পূর্ণ ছাড়ে নাই। কিন্তু কোন্‌ দিকে তার অভ্যাসের টান এবং কোন্‌ দিকে অনুরাগের, সে বিচার পরে হইবে এবং পরে করিবে।</p>
<p>এইখানে বলা আবশ্যক চিঠিপত্রে আমি চিরদিন কথ্য ভাষা ব্যবহার করিয়াছি। আমার সতেরো বছর বয়সে লিখিত ‘য়ুরোপ যাত্রীর পত্রে&#8217; এই ভাষা প্রয়োগের প্রমাণ আছে। তা ছাড়া বক্তৃতাসভায় আমি চিরদিন প্রাকৃত বাংলা ব্যবহার করি, ‘শান্তিনিকেতন&#8217; গ্রন্থে তাহার উদাহরণ মিলিবে।</p>
<p>যাই হোক এ সম্বন্ধে আমার মনে যে তর্ক আছে সে এই — <span class="pullquote">বাংলা গদ্য-সাহিত্যের সূত্রপাত হইল বিদেশীর ফরমাশে, এবং তার সূত্রধার হইলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, বাংলা ভাষার সঙ্গে যাঁদের ভাসুর-ভাদ্রবউয়ের সম্বন্ধ। তাঁরা এ ভাষার কখনো মুখদর্শন করেন নাই। এই সজীব ভাষা তাঁদের কাছে ঘোমটার ভিতরে আড়ষ্ট হইয়া ছিল, সেইজন্য ইহাকে তাঁরা আমল দিলেন না। তাঁরা সংস্কৃত ব্যাকরণের হাতুড়ি পিটিয়া নিজের হাতে এমন একটা পদার্থ খাড়া করিলেন যাহার কেবল বিধিই আছে কিন্তু গতি নাই। সীতাকে নির্বাসন দিয়া যজ্ঞকর্তার ফরমাশে তাঁরা সোনার সীতা গড়িলেন।</span></p>
<p>যদি স্বভাবের তাগিদে বাংলা গদ্য-সাহিত্যের সৃষ্টি হইত, তবে এমন গড়াপেটা ভাষা দিয়া তার আরম্ভ হইত না। তবে গোড়ায় তাহা কাঁচা থাকিত এবং ক্রমে ক্রমে পাকা নিয়মে তার বাঁধন আঁট হইয়া উঠিত। প্রাকৃত বাংলা বাড়িয়া উঠিতে উঠিতে প্রয়োজনমত সংস্কৃত ভাষার ভাণ্ডার হইতে আপন অভাব দূর করিয়া লইত।</p>
<p>কিন্তু বাংলা গদ্য-সাহিত্য ঠিক তার উল্‌টা পথে চলিল। গোড়ায় দেখি তাহা সংস্কৃত ভাষা, কেবল তাহাকে বাংলার নামে চালাইবার জন্য কিছু সামান্য পরিমাণে তাহাতে বাংলার খাদ মিশাল করা হইয়াছে। এ একরকম ঠকানো। বিদেশীর কাছে এ প্রতারণা সহজেই চলিয়াছিল।</p>
<p>যদি কেবল ইংরেজকে বাংলা শিখাইবার জন্যই বাংলা গদ্যের ব্যবহার হইত, তবে সেই মেকি-বাংলার ফাঁকি আজ পর্যন্ত ধরা পড়িত না। কিন্তু এই গদ্য যতই বাঙালির ব্যবহারে আসিয়াছে ততই তাহার রূপ পরিবর্তন হইয়াছে। এই পরিবর্তনের গতি কোন্‌ দিকে ? প্রাকৃত বাংলার দিকে । আজ পর্যন্ত বাংলা গদ্য, সংস্কৃত ভাষার বাধা ভেদ করিয়া, নিজের যথার্থ আকৃতি ও প্রকৃতি প্রকাশ করিবার জন্য যুঝিয়া আসিতেছে।</p>
<p><span class="pullquote">অল্প মূলধনে ব্যবসা আরম্ভ করিয়া ক্রমশ মুনফার সঙ্গে সঙ্গে মূলধনকে বাড়াইয়া তোলা, ইহাই ব্যবসার স্বাভাবিক প্রণালী। কিন্তু বাংলা-গদ্যের ব্যাবসা মূলধন লইয়া শুরু হয় নাই, মস্ত একটা দেনা লইয়া তার শুরু। সেই দেনাটা খোলসা করিয়া দিয়া স্বাধীন হইয়া উঠিবার জন্যই তার চেষ্টা।</span></p>
<p><span class="pullquote">আমাদের পুঁথির ভাষার সঙ্গে কথার ভাষার মিলন ঘটিতে এত বাধা কেন, কার কারণ আছে। যে গদ্যে বাঙালি কথাবার্তা কয় সে গদ্য বাঙালির মনোবিকাশের সঙ্গে তাল রাখিয়া চলিয়া আসিয়াছে। সাধারণত বাঙালি যে-বিষয় ও যে-ভাব লইয়া সর্বদা আলোচনা করিয়াছে বাংলার চলিত গদ্য সেই মাপেরই। জলের পরিমাণ যতটা, নদী-পথের গভীরতা ও বিস্তার সেই অনুসারেই হইয়া থাকে। স্বয়ং ভগীরথও আগে লম্বা-চওড়া পথ কাটিয়া তার পরে গঙ্গাকে নামাইয়া আনেন নাই।</span></p>
<p>বাঙালি যে ইতিপূর্বে কেবলই চাষবাস এবং ঘরকন্নার ভাবনা লইয়াই কাটাইয়াছে এ কথা সম্পূর্ণ সত্য নহে। কিন্তু ইতিপূর্বে তার চেয়ে বড়ো কথা যাঁরা চিন্তা করিয়াছেন তাঁরা বিশেষ সম্প্রদায়ে বদ্ধ। তাঁরা প্রধানত ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের দল। তাঁদের শিক্ষা এবং ব্যাবসা, দুইয়েরই অবলম্বন ছিল সংস্কৃত পুঁথি। এইজন্য ঠিক বাংলা ভাষায় মনন করা বা মত প্রকাশ করা তাঁদের পক্ষে স্বাভাবিক ছিল না। তাই সেকালের গদ্য উচ্চ চিন্তার ভাষা হইয়া উঠিতে পারে নাই।</p>
<p>অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালেও আমাদের দেশে ভাষা ও চিন্তার মধ্যে এইরূপ দ্বন্দ্ব চলিয়া আসিয়াছে। যাঁরা ইংরেজিতে শিক্ষা পাইয়াছেন তাঁদের পক্ষে ইংরেজিতেই চিন্তা করা সহজ; বিশেষত যে-সকল ভাব ও বিষয় ইংরেজি হইতেই তাঁরা প্রথম লাভ করিয়াছেন সেগুলা বাংলা ভাষায় ব্যবহার করা দুঃসাধ্য। কাজেই আমাদের ইংরেজি-শিক্ষা ও বাংলা ভাষা সদরে অন্দরে স্বতন্ত্র হইয়া বাস করিয়া আসিতেছে।</span></p>
<p>এমন সময় যাঁরা শিক্ষার সঙ্গে ভাষার মিল ঘটাইতে বসিলেন বাংলার চলিত গদ্য লইয়া কাজ চালানো তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হইল। শুধু যদি শব্দের অভাব হইত তবে ক্ষতি ছিল না কিন্তু সব চেয়ে বিপদ এই যে, নূতন শব্দ বানাইবার শক্তি প্রাকৃত বাংলার মধ্যে নাই। তার প্রধান কারণ বাংলায় তদ্ধিত প্রত্যয়ের উপকরণ ও ব্যবহার অত্যন্ত সংকীর্ণ। ‘প্রার্থনা&#8217; সংস্কৃত শব্দ , তার খাঁটি বাংলা প্রতিশব্দ ‘চাওয়া&#8217;। ‘প্রার্থিত&#8217; ‘প্রার্থনীয়&#8217; শব্দের ভাবটা যদি ঐ খাঁটি বাংলায় ব্যবহার করিতে যাই তবে অন্ধকার দেখিতে হয়। আজ পর্যন্ত কোনো দুঃসাহসিক ‘চায়িত &#8216; ও ‘চাওনীয়&#8217; বাংলায় চালাইবার প্রস্তাব মাত্র করেন নাই। মাইকেল অনেক জায়গায় সংস্কৃত বিশেষ্যপদকে বাংলার ধাতুরূপের অধীন করিয়া নূতন ক্রিয়াপদে পরিণত করিয়াছেন। কিন্তু বাংলায় এ পর্যন্ত তাহা আপদ আকারেই রহিয়া গেছে, সম্পদরূপে গণ্য হয় নাই।</p>
<p>সংস্কৃত শব্দের সঙ্গে সঙ্গে তার তদ্ধিত প্রত্যয় পর্যন্ত লইতে গেলে সংস্কৃত ব্যাকরণেরও অনেকটা অংশ আপনি আসিয়া পড়ে। <span class="pullquote">সুতরাং দুই নৌকায় পা দিবামাত্রই যে টানাটানি বাধিয়া যায় তাহা ভালো করিয়া সামলাইতে গেলে সাহিত্য-সার্কাসের মল্লগিরি করিতে হয়।</span>তার পর হইতে এ তর্কের আর কিনারা পাওয়া যায় না যে, নিজের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার স্বাধীন অধিকার কতদূর এবং তাহাতে সংস্কৃত শাসনের সীমা কোথায়। সংস্কৃত বৈয়াকরণের উপর যখন জরিপ জমাবন্দীর ভার পড়ে তখন একেবারে বাংলার বাস্তুভিটার মাঝখানটাতে সংস্কৃত ব্যাকরণের খুঁটিগাড়ি হয়, আবার অপর পক্ষের উপর যখন ভার পড়ে তখন তাঁরা বাংলায় সংস্কৃত ব্যাকরণ বিভাগে একেবারে দক্ষযজ্ঞ বাধাইয়া দেন।</p>
<p><span class="pullquote">কিন্তু মুশকিলের বিষয় এই যে, যে-ভাষায় মল্লবিদ্যার সাহায্য ছাড়া এক-পা চলিবার জো নাই সেখানে সাধারণের পক্ষে পদে পদে অগ্রসর হওয়ার চেয়ে পদে পদে পতনের সম্ভাবনাই বেশি। পথটাই যেখানে দুর্গম সেখানে হয় মানুষের চলিবার তাগিদ থাকে না, নয় চলিতে হইলে পথ অপথ দুটোকেই সুবিধা অনুসারে আশ্রয় করিতে হয়।</span>ঘাটে মাল নামাইতে হইলে যে দেশে মাশুলের দায়ে দেউলে হওয়ার কথা সে দেশে আঘাটায় মাল নামানোর অনুকূলে নিশ্চয়ই স্বয়ং বোপদের চোখ টিপিয়া ইশারা করিয়া দিতেন। কিন্তু বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়; বোপদেবের চেলারা যেখানে ঘাঁটি আগলাইয়া বসিয়া আছেন সেখানে বাংলা ভাষায় বাংলা &#8211; সাহিত্যের ব্যাবসা চালানো দুঃসাধ্য হইল।</p>
<p>জাপানিদের ঠিক এই বিপদ। চীনা ভাষার শাসন জাপানি ভাষার উপর অত্যন্ত প্রবল। তার প্রধান কারণ প্রাকৃত জাপানি প্রাকৃত বাংলার মতো; নূতন প্রয়োজনের ফরমাশ জোগাইবার শক্তি তার নাই। সে শক্তি প্রাচীন চীনা ভাষার আছে। এই চীনা ভাষাকে কাঁধে লইয়া জাপানি ভাষাকে চলিতে হয়। কাউন্ট ওকুমা আমার কাছে আক্ষেপ করিয়া বলিতেছিলেন যে, এই বিষম পালোয়ানীর দায়ে জাপানি-সাহিত্যের বড়োই ক্ষতি করিতেছে। কারণ এ কথা বোঝা কঠিন নয় যে, <span class="pullquote">যে-ভাষায় ভাবপ্রকাশ করাটাই একটা কুস্তিগিরি সেখানে ভাবটাকেই খাটো হইয়া থাকিতে হয়।</span> যেখানে মাটি কড়া সেখানে ফসলের দুর্দিন। যেখানে শক্তির মিতব্যয়িতা, অসম্ভব শক্তির সদ্‌ব্যয়ও সেখানে অসম্ভব। যদি পণ্ডিতমশায়দের এই রায়ই পাকা হয় যে, সংস্কৃত ভাষায় মহামহোপাধ্যায় না হইলে বাংলা ভাষায় কলম ধরা ধৃষ্টতা, তবে যাঁদের সাহস আছে ও মাতৃভাষার উপর দরদ আছে, প্রাকৃত বাংলার জয়পতাকা কাঁধে লইয়া তাঁদের বিদ্রোহে নামিতে হইবে।</p>
<p>ইহার পূর্বেও ‘আলালের ঘরের দুলাল&#8217; প্রভৃতির মতো বই বিদ্রোহের শাঁখ বাজাইয়াছিল কিন্তু তখন সময় আসে নাই। এখনি যে আসিল এ কথা বলিবার হেতু কী? হেতু আছে। তাহা বলিবার চেষ্টা করি।</p>
<p>ইংরেজি হইতে আমরা যা লাভ করিয়াছি যখন আমাদের দেশে ইংরেজিতেই তার ব্যাবসা চলিতেছিল তখন দেশের ভাষার সঙ্গে দেশের শিক্ষার কোনো সামঞ্জস্য ঘটে নাই। রামমোহন রায় হইতে শুরু করিয়া আজ পর্যন্ত ক্রমাগতই নূতন ভাব ও নূতন চিন্তা আমাদের ভাষার মধ্যে আনাগোনা করিতেছে। এমন করিয়া আমাদের ভাষা চিন্তার ভাষা হইয়া উঠিয়াছে। এখন আমরা ঘরে ঘরে মুখে মুখে যে-সব শব্দ নিরাপদে ব্যবহার করি তাহা আর পঁচিশ বছর পূর্বে করিলে দুর্ঘটনা ঘটিত। এখন আমাদের ভাষা-বিচ্ছেদের উপর সাঁড়া ব্রিজ বাঁধা হইয়াছে। এখন আমরা মুখের কথাতেও নূতন পুরাতন সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করি আবার পুঁথির ভাষাতেও এমন শব্দ চলিতেছে পূর্বে সাধু ভাষায় যাদের জল-চল ছিল না। সেইজন্যই পুঁথির ভাষায় ও মুখের ভাষায় সমান বহরের রেল পাতিবার যে-প্রস্তাব উঠিয়াছে, অভ্যাসের আরামে ও অহংকারে ঘা লাগিলেও সেটাকে একেবারে উড়াইয়া দিতে পারি না।</p>
<p><span class="pullquote">আসল কথা, সংস্কৃত ভাষা যে-অংশে বাংলা ভাষার সহায় সে-অংশে তাহাকে লইতে হইবে, যে-অংশে বোঝা সে-অংশে তাহাকে ত্যাগ করিতে হইবে। বাংলাকে সংস্কৃতের সন্তান বলিয়াই যদি মানিতে হয় তবে সেইসঙ্গে এ কথাও মানা চাই যে, তার ষোলো বছর পার হইয়াছে, এখন আর শাসন চলিবে না, এখন মিত্রতার দিন।</span>কিন্তু যতদিন বাংলা বইয়ের ভাষা চলিত ভাষার ঠাট না গ্রহণ করিবে ততদিন বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার সত্য সীমানা পাকা হইতে পারিবে না। ততদিন সংস্কৃত বৈয়াকরণের বর্গির দল আমাদের লেখকদের ত্রস্ত করিয়া রাখিবেন। প্রাকৃত বাংলার ঠাটে যখন লিখিব তখন স্বভাবতই সুসংগতির নিয়মে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব বাংলা ভাষার বেড়া ডিঙাইয়া উৎপাত করিতে কুণ্ঠিত হইবে।</p>
<p>পূবেই বলিয়াছি, বেড়ার ভিতরকার গাছ যেখানে একটু-আধটু ফাঁক পায় সেইখান দিয়াই আলোর দিকে ডালপালা মেলে, তেমনি করিয়াই বাংলার সাহিত্য-ভাষা সংস্কৃতের গরাদের ভিতর দিয়া, চল্‌তি ভাষার দিকে মাঝে মাঝে মুখ বাড়াইতে শুরু করিয়াছিল। তা লইয়া তাহাকে কম লোকনিন্দা সহিতে হয় নাই। এইজন্যই বঙ্কিমচন্দ্রের অভ্যুদয়ের দিনে তাঁকে কটুকথা অনেক সহিতে হইয়াছে। তাই মনে হয় আমাদের দেশে এই কটু কথার হাওয়াটাই বসন্তের দক্ষিণ হাওয়া। ইহা কুঞ্জবনকে নাড়া দিয়া তাড়া দিয়া অস্থির করিয়া দেয়। কিন্তু এই শাসনটা ফুলের কীর্তন পালার প্রথম খোলের চাঁটি।</p>
<p>পুঁথির বাংলার যে অংশটা লইয়া বিশেষভাবে তর্ক প্রবল, তাহা ক্রিয়ার রূপ । ‘হইবে&#8217; র জায়গায় ‘হবে&#8217; , ‘হইতেছে&#8217; র জায়গায় ‘হচ্চে&#8217; ব্যবহার করিলে অনেকের মতে ভাষার শুচিতা নষ্ট হয়। চীনারা যখন টিকি কাটে নাই তখন টিকির খর্বতাকে তারা মানের খর্বতা বলিয়া মনে করিত। আজ যেই তাহাদের সকলের টিকি কাটা পড়িল অমনি তাহারা হাঁফ ছাড়িয়া বলিতেছে, আপদ গেছে। এক সময়ে ছাপার বহিতে ‘হয়েন&#8217; লেখা চলিত, এখন ‘হন&#8217; লিখিলে কেহ বিচলিত হন না। ‘হইবা&#8217; ‘করিবা&#8217; র আকার গেল, ‘হইবেক&#8217; ‘করিবেক&#8217; -এর ক খসিল, ‘করহ&#8217; ‘চলহ &#8216; র হ কোথায়? এখন ‘নহে&#8217; র জায়গায় ‘নয়&#8217; লিখিলে বড়ো কেহ লক্ষ্যই করে না। এখন যেমন আমরা ‘কেহ&#8217; লিখি, তেমনি এক সময়ে ছাপার বইয়েও ‘তিনি&#8217; র বদলে ‘তেঁহ&#8217; লিখিত। এক সময়ে ‘আমারদিগের&#8217; শব্দটা শুদ্ধ বলিয়া গণ্য ছিল, এখন ‘আমাদের&#8217; লিখিতে কারো হাত কাঁপে না। আগে যেখানে লিখিতাম  &#8216;সেহ&#8217; এখন সেখানে লিখি ‘সেও&#8217;, অথচ পণ্ডিতের ভয়ে ‘কেহ&#8217; কে ‘কেও&#8217; অথবা ‘কেউ&#8217; লিখিতে পারি না। ভবিষ্যৎবাচক ‘করিহ&#8217; শব্দটাকে ‘করিয়ো&#8217; লিখিতে সংকোচ করি না, কিন্তু তার বেশি আর একটু অগ্রসর হইতে সাহস হয় না।</p>
<p>এই তো আমরা পণ্ডিতের ভয়ে সতর্ক হইয়া চলি কিন্তু পণ্ডিত যখন পুঁথির বাংলা বানাইয়াছিলেন আমাদের কিছুমাত্র খাতির করেন নাই। বাংলা গদ্য-পুঁথিতে যখন তাঁরা ‘যাইয়াছি&#8217; ‘যাইল&#8217; কথা চালাইয়া দিলেন তখন তাঁরা ক্ষণকালের জন্যও চিন্তা করেন নাই যে, এই ক্রিয়াপদটি একেবারে বাংলাই নয়। যা ধাতু বাংলায় কেবলমাত্র বর্তমান কালেই চলে; যথা, যাই, যাও, যায়। আর, ‘যাইতে&#8217; শব্দের যোগে যে-সকল ক্রিয়াপদ নিষ্পন্ন হয় তাহাতেও চলে; যেমন, ‘যাচ্চি&#8217; ‘যাচ্ছিল&#8217; ইত্যাদি। কিন্তু ‘যেল&#8217; ‘যেয়েছি&#8217; ‘যেয়েছিলুম&#8217; পণ্ডিতদের ঘরেও চলে না। এ স্থলে আমরা বলি ‘গেল&#8217; ‘গিয়েছি&#8217; ‘গিয়েছিলুম&#8217;। তার পরে পণ্ডিতেরা ‘এবং&#8217; বলিয়া এক অদ্ভুত অব্যয় শব্দ বাংলার স্কন্ধে চাপাইয়াছেন এখন তাহাকে ঝাড়িয়া ফেলা দায়। অথচ সংস্কৃত বাক্যরীতির সঙ্গে এই শব্দ ব্যবহারের যে মিল আছে তাও তো দেখি না। বর &#8216;সংস্কৃত‘ অপর &#8216;শব্দের আত্মজ যে ‘আর&#8217; শব্দ সাধারণে ব্যবহার করিয়া থাকে তাহা শুদ্ধরীতিসংগত। বাংলায় ‘ও&#8217; বলিয়া একটা অব্যয় শব্দ আছে তাহা সংস্কৃত অপি শব্দের বাংলা রূপ। ইহা ইংরেজি ‘and&#8217; শব্দের প্রতিশব্দ নহে, too শব্দের প্রতিশব্দ। আমরা বলি আমিও যাব তুমিও যাবে — কিন্তু কখনো বলি না ‘আমি ও তুমি যাব&#8217; । সংস্কৃতের ন্যায় বাংলাতেও আমরা সংযোজক শব্দ ব্যবহার না করিয়া দ্বন্দ্বসমাস ব্যবহার করি। আমরা বলি ‘বিছানা বালিশ মশারি সঙ্গে নিয়ো&#8217; । যদি ভিন্ন শ্রেণীয় পদার্থের প্রসঙ্গ করিতে হয় তবে বলি ‘বিছানা বালিশ মশারি আর বাইরের বাক্সটা সঙ্গে নিয়ো&#8217;। এর মধ্যে ‘এবং&#8217; কিংবা ‘ও&#8217; কোথাও স্থান পায় না। কিন্তু পণ্ডিতেরা বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষার আইনকে আমল দেন নাই। আমি এই যে দৃষ্টান্তগুলি দেখাইতেছি তার মতলব এই যে, <span class="pullquote">পণ্ডিতমশায় যদি সংস্কৃতরীতির উপর ভর দিয়া বাংলারীতিকে অগ্রাহ্য করিতে পারেন, তবে আমরাই বা কেন বাংলারীতির উপর ভর দিয়া যথাস্থানে সংস্কৃতরীতিকে লঙ্ঘন করিতে সংকোচ করি? ‘মনোসাধে&#8217; আমাদের লজ্জা কিসের? ‘সাবধানী&#8217; বলিয়া তখনি জিব কাটিতে যাই কেন? এবং ‘আশ্চর্য হইলাম&#8217; বলিলে পণ্ডিতমশায় ‘আশ্চর্যান্বিত হয়েন&#8217; কী কারণে?</span></p>
<p><span class="pullquote">আমি যে-কথাটা বলিতেছিলাম সে এই—যখন লেখার ভাষার সঙ্গে মুখের ভাষার অসামঞ্জস্য থাকে তখন স্বভাবের নিয়ম অনুসারেই এই দুই ভাষার মধ্যে কেবলই সামঞ্জস্যের চেষ্টা চলিতে থাকে। ইংরেজি-গদ্যসাহিত্যের প্রথম আরম্ভে অনেকদিন হইতেই এই চেষ্টা চলিতেছিল। আজ তার কথায় লেখায় সামঞ্জস্য ঘটিয়াছে বলিয়াই উভয়ে একটা সাম্যদশায় আসিয়াছে। আমাদের ভাষায় এই অসামঞ্জস্য প্রবল সুতরাং স্বভাব আপনি উভয়ের ভেদ ঘুচাইবার জন্য ভিতরে ভিতরে আয়োজন করিতেছিল। এমন সময় হঠাৎ আইনকর্তার প্রাদুর্ভাব হইল। তাঁরা বলিলেন লেখার ভাষা আজ যেখানে আসিয়া পৌছিয়াছে ইহার বেশি আর তার নড়িবার হুকুম নাই।</span></p>
<p>‘সবুজ পত্র’-সম্পাদক বলেন বেচারা পুঁথির ভাষার প্রাণ কাঁদিতেছে কথায় ভাষার সঙ্গে মালা বদল করিবার জন্য। গুরুজন ইহার প্রতিবাদী। তিনি ঘটকালি করিয়া কৌলীন্যের নির্মম শাসন ভেদ করিবেন এবং শুভ বিবাহ ঘটাইয়া দিবেন—কারণ কথা আছে শুভস্য শীঘ্রং।</p>
<p>যাঁরা প্রতিবাদী তাঁরা এই বলিয়া তর্ক করেন যে, বাংলায় চলিত ভাষা নানা জিলায় নানা ছাঁচের, তবে কি বিদ্রোহীর দল একটা অরাজকতা ঘটাইবার চেষ্টায় আছে! ইহার উত্তর এই যে, যে যেমন খুশি আপন প্রাদেশিক ভাষায় পুঁথি লিখিবে, চলিত ভাষায় লিখিবার এমন অর্থ নয়। প্রথমত খুশিরও একটা কারণ থাকা চাই। কলিকাতার উপর রাগ করিয়া বীরভূমের লোক বীরভূমের প্রাদেশিক ভাষায় আপন বই লিখিবে এমন খুশিটাই তার স্বভাবত হইবে না। কোনো একজন পাগলের তা হইতেও পারে কিন্তু পনেরো-আনার তা হইবে না। দিকে দিকে বৃষ্টির বর্ষণ হয় কিন্তু জমির ঢাল অনুসারে একটা বিশেষ জায়গায় তার জলাশয় তৈরি হইয়া উঠে। ভাষারও সেই দশা। স্বাভাবিক কারণেই কলিকাতা অঞ্চলে একটা ভাষা জমিয়া উঠিয়াছে তাহা বাংলার সকল দেশের ভাষা। কলিকাতার একটা স্বকীয় অপভাষা আছে যাহাতে ‘গেনু’ ‘করনু’ প্রভৃতি ক্রিয়াপদ ব্যবহার হয় এবং ‘ভেয়ের বে’ (ভাইয়ের বিয়ে) ‘চেলের দাম’ (চালের দাম) প্রভৃতি অপভ্রংশ প্রচলিত আছে, এ সে ভাষাও নয়। যদি বলো—তবে এই ভাষাকে কে সুনির্দিষ্ট করিয়া দিবে? তবে তার উত্তর এই যে, যে-সকল লেখক এই ভাষা ব্যবহার করিবেন তাঁদের যদি প্রতিভা থাকে তবে তাঁরা তাঁদের সহজ শক্তি হইতেই বাংলার এই সর্বজনীন ভাষা বাহির করিবেন। দান্তে নিজের প্রতিভাবলে প্রমাণ করিয়া দিয়াছেন ইটালির কোন্‌ প্রাদেশিক ভাষা ইটালির সর্বদেশের সর্বকালের ভাষা। বাংলার কোন্‌ ভাষাটি সেইরূপ বাংলার বিশ্বভাষা কিছুকাল হইতে আপনিই তার প্রমাণ চলিতেছে। বঙ্কিমের কাল হইতে এ পর্যন্ত বাংলার গদ্য-সাহিত্যে প্রাদেশিক ভাষার প্রাদুর্ভাব ঘটিতেছে বলিয়া কথা উঠিয়াছে কিন্তু সে কোন্‌ প্রাদেশিক ভাষা? তাহা ঢাকা অঞ্চলের নহে। তাহা কোনো বিশেষ পশ্চিম বাংলা প্রদেশেরও নয়। তাহা বাংলার রাজধানীতে সকল প্রদেশের মথিত একটি ভাষা। সকল ভদ্র ইংরেজের এক ভাষা যেমন ইংলণ্ডের সকল প্রাদেশিক ভাষাকে ছাপাইয়া বিশ্বব্যাপী হইয়া উঠিয়াছে, এ-ও সেইরূপ। এ ভাষা এখনো তেমন সম্পূর্ণভাবে ছড়াইয়া পড়ে নাই বটে, কিন্তু সাহিত্যকে আশ্রয় করিলেই ইহার ব্যাপ্তির সীমা থাকিবে না। সমস্ত দেশের লোকের চিত্তের ঐক্যের পক্ষে কি ইহার কোনো প্রয়োজন নাই? শুধু কি পুঁথির ভাষার ঐক্যই একমাত্র ঐক্যবন্ধন? আর এ কথাও কি সত্য নয় যে, পুঁথির ভাষা আমাদের নিত্য ব্যবহারের ভাষা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া থাকিলে তাহা কখনোই পূর্ণ শক্তি লাভ করিতে পারে না? যখন বঙ্গবিভাগের বিভীষিকায় আমাদের গায়ে কাঁটা দিয়াছিল তখন আমাদের ভয়ের একটা প্রধান কারণ ছিল এই যে এটা রাজনৈতিক ভূগোলের ভাগ নয়, ভাষার ভাগকে আশ্রয় করিয়া বাংলার পূর্ব-পশ্চিমে একটা চিত্তের ভাগ হইবে। সমস্ত বাংলাদেশের একমাত্র রাজধানী থাকাতে সেইখানে সমস্ত বাংলাদেশের একটি সাধারণ ভাষা আপনি জাগিয়া উঠিতেছিল। তাহা ফরমাশে গড়া কৃত্রিম ভাষা নহে, তাহা জীবনের সংঘাতে প্রাণলাভ করিয়া সেই প্রাণের নিয়মেই বাড়িতেছে। আমাদের পাকযন্ত্রে নানা খাদ্য আসিয়া রক্ত তৈরি হয়,তাহাকে বিশেষ করিয়া পাকযন্ত্রের রক্ত বলিয়া নিন্দা করা চলে না, তাহা সমস্ত দেহের রক্ত। রাজধানী জিনিসটা স্বভাবতই দেশের পাকযন্ত্র। এইখানে নানা ভাব, নানা বাণী এবং নানা শক্তির পরিপাক ঘটিতে থাকে এবং এই উপায়ে সমস্ত দেশ প্রাণ পায় ও ঐক্য পায়। রাগ করিয়া এবং ঈর্ষা করিয়া যদি বলি প্রত্যেক প্রদেশ আপন স্বতন্ত্র পাকযন্ত্র বহন করুক তবে আমাদের হাত-পা বুক-পিঠ বিধাতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়া বলিতে পারে আমাদের নিজের নিজের একটা করিয়া পাকযন্ত্র চাই। কিন্তু যতই রাগ করি আর তর্ক করি, সত্যের কাছে হার মানিতেই হয় এবং সেইজন্যই সংস্কৃত বাংলা আপনার খোলস ভাঙিয়া যে-ছাঁদে ক্রমশ প্রাকৃত বাংলার রূপ ধরিয়া উঠিতেছে সে-ছাঁদ ঢাকা বা বীরভূমের নয়। তার কারণ নানা প্রদেশের বাঙালি শিখিতে, আয় করিতে, ব্যয় করিতে, আমোদ করিতে, কাজ করিতে অনেক কাল হইতে কলিকাতায় আসিয়া জমা হইতেছে। তাহাদের সকলের সম্মিলনে যে এক-ভাষা গড়িয়া উঠিল তাহা ধীরে ধীরে বাংলার সমস্ত প্রদেশে ছড়াইয়া পড়িতেছে। এই উপায়ে, অন্য দেশে যেমন ঘটিয়াছে, তেমনি এখানেও একটি বিশেষ ভাষা বাংলাদেশের সমস্ত ভদ্রঘরের ভাষা হইয়া উঠিতেছে। ইহা কল্যাণের লক্ষণ। অবশ্য স্বভাবতই এই ভাষার ভূমিকা দক্ষিণ বাংলার ভাষায়। এইটুকু নম্রভাবে স্বীকার করিয়া না লওয়া সদ্‌-বিবেচনার কাজ নহে।<span class="pullquote"> ঢাকাতেই যদি সমস্ত বাংলার রাজধানী হইত তবে এতদিনে নিশ্চয়ই ঢাকার লোকভাষার উপর আমাদের সাধারণ ভাষার পত্তন হইত এবং তা লইয়া দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা যদি মুখ বাঁকা করিত তবে সে বক্রতা আপনিই সিধা হইয়া যাইত, মানভঞ্জনের জন্য অধিক সাধাসাধি করিতে হইত না।</span></p>
<p>এই যে বাংলাদেশের এক-ভাষা, আজকের দিনে যাহা অবাস্তব নহে, অথচ যাহাকে সাহিত্যে ব্যবহার করি না বলিয়া যাহার পরিচয় আমাদের কাছে সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ হয় নাই, যখনি শক্তিশালী সাহিত্যিকেরা এই ভাষায় ভাব প্রকাশ করিবেন তখনি ইহা পরিব্যক্ত হইয়া উঠিবে, সেটাতে কেবল ভাষার উন্নতি নয়, দেশের কল্যাণ।</p>
<p>এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটা যে তর্ক আছে সেটা একটু ভাবিয়া দেখিতে হইবে। আমরা বাংলা-সাহিত্যে আজ যে-ভাষা ব্যবহার করিতেছি তার একটা বাঁধন পাকা হইয়া গেছে। অধিকাংশ লোকের পক্ষেই এই বাঁধনের প্রয়োজন আছে। নহিলে সাহিত্যে সংযম থাকে না। আবার শক্তি যাদের অল্প অসংযম তাদেরই বেশি। অতএব আমাদের যে চল্‌তি ভাষাকে সাহিত্যে নূতন করিয়া চালাইবার কথা উঠিয়াছে, তাহার আদব-কায়দা এখনো দাঁড়াইয়া যায় নাই। অতএব এ ক্ষেত্রে উচ্ছৃঙ্খল স্বেচ্ছাচারের আশঙ্কা যথেষ্ট আছে। বস্তুত বর্তমানে এই চল্‌তি ভাষার লেখা, পুঁথির ভাষার লেখার চেয়ে অনেক শক্ত। বিধাতার সৃষ্টিতে বৈচিত্র্য থাকিবেই, এইজন্য ভদ্রতা সকলের পক্ষে স্বাভাবিক নয়। তাই অন্তত প্রথাগত ভদ্রতার বিধি যদি পাকা না হয় তবে সমাজ অত্যন্ত কুশ্রী হইয়া উঠে। ‘সবুজ পত্র’-সম্পাদকের শাসনে আজকের দিনে বাংলাদেশের সকল লেখকই যদি চল্‌তি ভাষায় সাহিত্য রচনা শুরু করিয়া দেয় তবে সর্বপ্রথমে তাঁকেই কানে হাত দিয়া দেশছাড়া হইতে হইবে এ কথা আমি লিখিয়া দিতে পারি। অতএব সুখের বিষয় এই যে, এখনি এই দুর্যোগের সম্ভাবনা নাই। নূতনকে যারা বহন করিয়া আনে তারা যেমন বিধাতার সৈনিক, নূতনের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র ধরিয়া খাড়া হইয়া উঠে তারাও তেমনি বিধাতারই সৈন্য। কেননা প্রথমেই বিধানের সঙ্গে লড়াই করিয়া নূতনকে আপন রাজ্য গ্রহণ করিতে হয় কিন্তু যতদিনে তার আপন বিধান পাকা না হইয়া উঠে ততদিনের অরাজকতা সামলাইবে কে?</p>
<p>এ কথা স্বীকার করিতেই হইবে সাহিত্যে আমরা যে-ভাষা ব্যবহার করি ক্রমে ক্রমে তার একটা বিশিষ্টতা দাঁড়াইয়া যায়। তার প্রধান কারণ সাহিত্যে আমাদিগকে সম্পূর্ণ করিয়া চিন্তা করিতে এবং তাহা সম্পূর্ণ করিয়া ব্যক্ত করিতে হয়, আমাদিগকে গভীর করিয়া অনুভব করিতে এবং তাহা সরস করিয়া প্রকাশ করিতে হয়। অর্থাৎ সাহিত্যের ক্ষেত্র প্রধানত নিত্যতার ক্ষেত্র। অতএব এই উদ্দেশ্যে ভাষাকে বাছিতে সাজাইতে এবং বাজাইতে হয়। এইজন্যই স্বভাবতই সাহিত্যের ভাষা মুখের ভাষার চেয়ে বিস্তীর্ণ এবং বিশিষ্ট হইয়া থাকে।</p>
<p><span class="pullquote">আমার কথা এই, প্রতিদিনের যে-ভাষার খাদে আমাদের জীবনস্রোত বহিতে থাকে, সাহিত্য আপন বিশিষ্টতার অভিমানে তাহা হইতে যত দূরে পড়ে ততই তাহা কৃত্রিম হইয়া উঠে। চির-প্রবাহিত জীবনধারার সঙ্গে সাহিত্যের ঘনিষ্ঠতা রাখিতে হইলে তাহাকে এক দিকে সাধারণ, আর-এক দিকে বিশিষ্ট হইতে হইবে। সাহিত্যের বিশিষ্টতা তার সাধারণতাকে যখন ছাড়িয়া চলে তখন তার বিলাসিতা তার শক্তি ক্ষয় করে।</span> সকল দেশের সাহিত্যেরই সেই বিপদ। সকল দেশেই বিশিষ্টতার বিলাসে ক্ষণে ক্ষণে সাহিত্য কৃত্রিমতার বন্ধ্যদশায় গিয়া উত্তীর্ণ হয়। তখন তাহাকে আবার কুলরক্ষার লোভ ছাড়িয়া প্রাণরক্ষার দিকে ঝোঁক দিতে হয়। সেই প্রাণের খোরাক কোথায়? সাধারণের ভাষার মধ্যে, যেখানে বিশ্বের প্রাণ আপনাকে মুহূর্তে মুহূর্তে প্রকাশ করিতেছে।<span class="pullquote">ইংরেজি সাহিত্যিক ভাষা প্রথমে পণ্ডিতের ভাষা ল্যাটিন এবং রাজভাষা ফরাসির একটা কৌলীন্য খিচুড়ি ছিল, তার পরে কুল ছাড়িয়া যখন সে সাধারণের ঘরে আশ্রয় লইল তখনি সে ধ্রুব হইল।</span> কিন্তু তার পরেও বারে বারে সে কৃত্রিমতার দিকে ঝুঁকিয়াছে। আবার তাকে প্রায়শ্চিত্ত করিয়া সাধারণের জাতে উঠিতে হইয়াছে। এমন-কি বর্তমান ইংরেজি সাহিত্যেও সাধারণের পথে সাহিত্যের এই অভিসার দেখিতে পাই। বার্নার্ড্‌ শ, ওয়েল্‌স্‌, বেনেট্‌, চেস্‌টরটন্‌, বেলক প্রভৃতি আধুনিক লেখকগুলি হালকা চালের ভাষায় লিখিতেছেন।</p>
<p>আমাদের সাহিত্য যে-ভাষাবিশিষ্টতার দুর্গে আশ্রয় লইয়াছে সেখান হইতে তাহাকে লোকালয়ের ভাষার মধ্যে নামাইয়া আনিবার জন্য ‘সবুজ পত্র’-সম্পাদক কোমর বাঁধিয়াছেন। তাঁর মত এই যে, সাহিত্য পদার্থটি আকারে সাধারণ এবং প্রকারে বিশিষ্ট—এই হইলেই সত্য হয়। এ কথা মানি। কিন্তু হিন্দুস্থানীতে একটা কথা আছে ‘পয়লা সামাল্‌না মুশকিল হ্যয়’। স্বয়ং বিধাতাও মানুষ গড়িবার গোড়ায় বানর গড়িয়াছেন, এখনো তাঁর সেই আদিম সৃষ্টির অভ্যাস লোকালয়ে সদাসর্বদা দেখিতে পাওয়া যায়।</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: ফরহাদ মজহার:'>ফরহাদ মজহার:</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>যুক্তি: সংখ্যা ১</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 11:15:09 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিভিন্ন]]></category>
		<category><![CDATA[লিটলম্যাগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=543</guid>
		<description><![CDATA[এই সংখ্যাটি আপনি ডাউনলোড করে পড়তে পারেন এখান থেকে।
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..
সম্পাদক
অনন্ত বিজয় দাশ
প্রকাশকাল
ফেব্রুয়ারী ২০০৭
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.


Related posts:যুক্তি: সংখ্যা ২
মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১
পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা



Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ২'>যুক্তি: সংখ্যা ২</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১'>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>এই সংখ্যাটি আপনি ডাউনলোড করে পড়তে পারেন <a href="http://www.mukto-mona.com/project/2007books/yukti.pdf" target="_blank">এখান থেকে</a>।<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..<br />
সম্পাদক<br />
অনন্ত বিজয় দাশ<br />
প্রকাশকাল<br />
ফেব্রুয়ারী ২০০৭<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: যুক্তি: সংখ্যা ২'>যুক্তি: সংখ্যা ২</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/' rel='bookmark' title='Permanent Link: মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১'>মুক্তান্বেষা: সংখ্যা ১</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b8/' rel='bookmark' title='Permanent Link: পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা'>পূর্ণবৃত্ত: মহাদেব সাহা সংখ্যা</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a7%a7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সমকামিতা:একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 10:28:30 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অভিজিৎ রায়]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[শুদ্ধস্বর]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=529</guid>
		<description><![CDATA[ বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে :
‘সমকামিতা’ বইটির নামকরণের মধ্যেই রয়েছে লেখকের অনুসন্ধিৎসু  			মননের এবং প্রথাভাঙ্গা বিষয়বস্তুর নির্দেশ। আধুনিক জীববিজ্ঞান এবং  			মনোবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক তথ্যের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এ বিষয়টির উদ্ভব  			এবং অস্তিত্বকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। বৈজ্ঞানিক আলোচনার পাশাপাশি লেখক  			আর্থ-সামাজিক, সমাজ-সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং মনোস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন  			দিক সুচারুভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রাণীজগতে সহস্রাধিক প্রজাতিতে যে [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong> বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে :</strong></p>
<p>‘সমকামিতা’ বইটির নামকরণের মধ্যেই রয়েছে লেখকের অনুসন্ধিৎসু  			মননের এবং প্রথাভাঙ্গা বিষয়বস্তুর নির্দেশ। আধুনিক জীববিজ্ঞান এবং  			মনোবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক তথ্যের ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এ বিষয়টির উদ্ভব  			এবং অস্তিত্বকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। বৈজ্ঞানিক আলোচনার পাশাপাশি লেখক  			আর্থ-সামাজিক, সমাজ-সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং মনোস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন  			দিক সুচারুভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রাণীজগতে সহস্রাধিক প্রজাতিতে যে  			সমকামিতার অস্তিত্ব রয়েছে তা এখন অনেকেই জানেন। মানব সভ্যতাও কিন্তু এই  			ধারার ব্যতিক্রম নয়। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সভ্যতা থেকে শুরু করে  			প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় সমকামিতার অস্তিত্বের  			পাশাপাশি, আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাস থেকেও করা হয়েছে সমকামিতার উৎসের  			নিবিড় অনুসন্ধান।</p>
<p>কিন্তু  			সমকামী মানুষদের যাত্রাপথ এবং তাদের যৌনতার স্বীকৃতির ব্যাপারটি  			কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না। ইতিহাস এবং সমাজ পরিক্রমার পটভুমিকায় সারা  			বিশ্ব জুড়ে সংখ্যালঘু যৌনপ্রবৃত্তির মানুষগুলোর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এ  			বইয়ে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জীবনের যে স্বাভাবিক  			প্রবৃত্তিকে বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার এবং অজ্ঞানতার অপশাসনে এতোদিন  			দীর্ণ করে রাখা হয়েছিলো, লেখকের যুক্তিনিষ্ঠ লেখনীতে বাংলায় প্রথমবারের  			মতো প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো শক্তিশালী এক সামাজিক ট্যাবুকে।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 01:44:19 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[শহীদুল জহির]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=432</guid>
		<description><![CDATA[আনিসুল হক উপন্যাসটি নিয়ে একটি সমালোচনা লেখেন দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায়। পরে ওই লেখাটি সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করে একই পত্রিকায় মারুফ রায়হান একটি দীর্ঘ ‘প্রতিক্রিয়া’ লেখেন। এখানে দুটি লেখাই বাংলামাটি সৌজন্যে দেয়া হলো:
মৃত্যু এবং মৃত্যু &#8211; আনিসুল হক

‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু’ নামের উপন্যাসটি আমাদের পক্ষে নৈর্ব্যক্তিকভাবে পড়া কঠিন। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আবু ইব্রাহীমের লাশ বইটির প্রথম [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আনিসুল হক উপন্যাসটি নিয়ে একটি সমালোচনা লেখেন দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায়। পরে ওই লেখাটি সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করে একই পত্রিকায় মারুফ রায়হান একটি দীর্ঘ ‘প্রতিক্রিয়া’ লেখেন। এখানে দুটি লেখাই বাংলামাটি সৌজন্যে দেয়া হলো:<br />
<strong>মৃত্যু এবং মৃত্যু &#8211; আনিসুল হক<br />
</strong><br />
‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু’ নামের উপন্যাসটি আমাদের পক্ষে নৈর্ব্যক্তিকভাবে পড়া কঠিন। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আবু ইব্রাহীমের লাশ বইটির প্রথম বাক্যেই শববাহকের কাঁধে ওঠে, আর এই চরিত্রটি সরকারি চাকুরে, বেইলি রোডে থাকে ও সচিবালয়ের ভেতরে কাজ করে, জীবনের নানা কিছুর সঙ্গে সে সংশ্লিষ্ট বলে আমরা জানব, নানাকিছু থেকে তাকে বিরত থাকতেও আমরা দেখব। আবার শহীদুল জহিরও সচিবালয়ে কাজ করতেন, বহু কিছু থেকে দূরে ছিলেন, বহু কিছুর সঙ্গে যুক্তও ছিলেন, কিন্তু তার অকাল মৃত্যুর শোক এখনও আমাদের পুরোনো হয়ে যায় নি, তাঁর নিজের মৃত্যুর ১৮ বছর আগে শহীদুল জহির এই আখ্যানটি লিখেছিলেন, তাতে তিনি বলেছেন, “যখন আবু ইব্রাহীমকে দেখি তখন তাকে অনেক সময় মনে হয় গ্রিক ট্র্যাজেডির সেই সব নায়কদে মতো যারা তাদের পরিণতি মেনে নেয় এবং বহন করে চলে।” শহীদুল জহিরও কি ভবিষ্যত-দ্রষ্টা ছিলেন? নিজের অকাল মৃত্যুর পূর্বাভাস কি তিনি সেই ৯১ সালেই পেয়ে গিয়েছিলেন?<br />
মৃত্যু এই উপন্যাসের ঘোষিত বিষয়, আবু ইব্রাহীম মারা যাবে, এটা যেকোনো পাঠক নাম শুনেই বুঝতে পারেন, বইটি শুরু হয়েছে মৃত্যু দিয়ে, শেষও মৃত্যু দিয়ে, একটাই মৃত্যু, অকাল মৃত্যু এবং অপঘাতে মৃত্যু। মৃত্যু নিয়ে আবু ইব্রাহীম তার ছাত্রবেলায় রাজনৈতিক আদর্শবাদিতার কালে যে মহাজনী উক্তিটি শুনেছিলÑকোনো মৃত্যু আছে পালকের মতো হাল্কা, কোনো কোনো মৃত্যু পাহাড়ের চেয়েও ভারিÑএই গ্রন্থে তা ঘুরে-ফিরে ব্যবহার করা হয়েছে। আবু ইব্রাহিমের মৃত্যুটাকে বলা হয়েছে হাঁসের পালকের চেয়েও হাল্কা একটা মৃত্যু।<br />
২<br />
আবু ইব্রাহিম চরিত্রটা শহীদুল জহির চমৎকার করেই এঁকেছিলেন। সে একটু নিরিবিলি ধরনের মানুষ, নিজের বৈষয়িক উন্নতির ইঁদুর দৌড়ে শামিল নয়, প্রেমে ব্যর্থ, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক আদর্শবাদিতা থেকে চ্যুতÑএকটু জীবন-বিচ্ছিন্ন অন্তত বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন মানুষ হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। কিন্তু আস্তে আস্তে জীবনের কড়াপাক তার জীবনেও এসে লাগে। সে তার নিজের মেয়ে বিন্দুর সঙ্গে বেড়াতে যায়, তাকে আইসক্রিম কিনে খাওয়ায়, ছাত্রজীবনের অধরা প্রেমিকা তার জীবনে ফিরে আসে, একটু অবাস্তবভাবেই ফেরে, আর সেও রূপনগরে প্লট কেনার জন্যে আবেদন করে। প্লটের জন্যে আবেদন করার ফিকিরে অবশ্য সে পড়ে আরেকজন চালাক-চতুর বৈষয়িক উন্নতিসম্পন্ন সহকর্মী সিদ্দিকের কারণে। আর এই উপন্যাসে আছে মমতা নামের নারীটি, পৃথুলা, সংসারলগ্না, আবু ইব্রাহীমের স্ত্রী হিসেবে যে তার ভূমিকা পালন করে যায় অবিস্মরণীয়ভাবে। একদিন এক ঠিকেদার খালেদ জামিলের পৌণপুণিক চাপে নতি স্বীকার করে আবু ইব্রাহীম ত্রিশ হাজার টাকার উৎকোচও গ্রহণ করে বসে। অবশ্য টেন্ডারটা খালেদ জামিলদের সে পাইয়ে দেয় না, তাই টাকা ফেরত দিতে সে একদিন উপস্থিত হয় জিপিওর সামনে। সেখানেই দুইজন যুবক, ছিনতাইকারীই বুঝি বা, টাকা ছিনিয়ে নিতে গিয়ে রোদে ঝলসানো ছুরি ঢুকিয়ে দেয় আবু ইব্রাহীমের হƒদপিণ্ডের ভেতরে।<br />
আবু ইব্রাহীম মারা যায়। জীবনের এত আয়োজন মুহূর্তে নির্বাপিত হয়ে যায় এক ফুৎকারে।<br />
শহীদুল জহিরের মৃত্যুর কথাটা আমাদের পুর্নবার মনে পড়ে।<br />
৩<br />
আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর কাহিনীই লিখতে বসেছিলেন লেখক। বর্ণনাকারীরা মাঝে-মধ্যে নিজেরাই উপন্যাসের অংশ হয়ে ওঠে, যদিও আমরা বুঝতে পারি না এই বর্ণনাকারীরা কারা। তারা আবার চরিত্রের ব্যাখ্যাও করে “এই জিনিসটি আমাদের প্রায়ই মনে হবে যে, আবু ইব্রাহীম একজন অসুখী লোক ছিল; কিন্তু অন্য কখনো, তাকে আমরা উদ্ভাসিত হাসি অথবা পতœীপ্রণয়ের ভেতর দেখব তখন আমাদের হয়তো মনে হবে যে, আমাদের সিদ্ধান্ত হয়তো শেষ সত্য নয়।&#8230;” এই আমরাটা কারা, তারা কী করে আবু ইব্রাহীমের অতি গোপন বিষয়গুলো, অন্তরের ভেতরের চিন্তা কিংবা তার ডায়েরির বয়ান জানতে পারে, তা কখনোই খোলসা হয় না। সৈয়দ শামসুল হক যখন তাঁর জলেশ্বরিতলার গল্পগুলোয় এই সম্মিলিত অবচেতনা পদ্ধতিটা প্রয়োগ করেন, তার একটা যৌক্তিকতা দাঁড় করানো যায় যে, একটা জনপদের মানুষেরা অনেকে মিলে একটা কাহিনী স্মরণ করছে। কিন্তু আবু ইব্রাহীমের দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটির গল্প কেন কথকের সম্মিলিত অবচেতনার মাধ্যমে উšে§াচিত হবে, তা স্পষ্ট নয়।<br />
সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে লেখা এই আখ্যানের বর্ণনাতেও শহীদুল জহির অসামান্য কুশলতার পরিচয় রেখেছেন। চরিত্রগুলো ফুটে উঠেছে জ্যান্ত ও কৌতূহল- ও কখনও কৌতুক-উদ্দীপকভাবে। সংলাপ রচনায় ভবিষ্যতে তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় রাখবেন, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এই আখ্যানেও রয়েছে। তবে প্রেজেন্ট ইনডিফিনিট টেন্সে গল্প বলার রীতি, যেটা এই দেশে দুই সৈয়দÑ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ ও সৈয়দ শামসুল হকের হাতে চর্চিত হয়ে সার্থকতা ছুঁয়েছেÑবাইরের দেশেও অনেক হয়েছে, সেটা শহীদুল জহিরের হাতেও দারুণভাবেও ব্যবহƒত হয়। হয়, তবে সব জায়গায়, অন্তত এই বইয়ে অব্যর্থ বলে বোধ হয় না, বিশেষ করে যেখানে তিনি পরোক্ষ সংলাপ ব্যবহার করেন, সেখানে কোনো কোনো জায়গায় তা খানিকটা একঁেঘয়েমির সৃষ্টি করে। উদাহরণ: ‘আবু ইব্রাহীম বলে যে, চিঠিটা সে দেখেছে, দরপত্রদাতাদের প্রস্তাবিত মূল্যের তুলনামূলক প্রতিবেদনও দেখেছে। সে বলে যে, জুপিটার এন্টারপ্রাইজের কোট করা দর সর্বনিু নয়&#8230;..কাজেই সে বলে যে, বিষয়টি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে।” বার বার ‘বলে যে’ ‘বলে যে’ পড়তে খুব ভালো লাগে না।<br />
৪<br />
শহীদুল জহির কেন এই গল্পটিকে, বা গল্পের প্রধান চরিত্র আবু ইব্রাহীমকে এইভাবে মেরে ফেললেন? তিনি কি গল্প বলতে বলতে গল্পের তোড়ে ভেসে গিয়ে একটা পরিণতি দিতে হয় বলেই দিয়েছেন? না। এটা তার সচেতন সিদ্ধান্ত। গল্পটা পূর্বপরিকল্পিত। মৃত্যুর গল্পই তিনি বলতে বসেছেন। এটা এসেছে আসলে তাকে আচ্ছন্ন করে রাখা অস্তিত্ববাদী দর্শন থেকে। আমরা স্মরণ করতে পারি যে, শহীদুল জহিরের খুবই প্রিয় লেখক ছিলেন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ এবং মার্কেজ তার জীবনের প্রথম লেখাটি শুরু করেন ফ্রানৎস কাফকার মেটামরফসিস-এর প্রথম লাইনে গ্রেগরি সামসার তেলাপোকা হয়ে যাওয়ার বর্ণনা পড়ে ঝাঁকুনি খেয়ে। আবু ইব্রাহীমের ঘাতকের হাতের ছুরিটা সূর্যের আলোয় রূপালি ঝিলিক দেয়, এই বর্ণনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আরেক অস্তিত্ববাদী লেখক আল বেয়ার কামু তার মুখবই আউটসাইডারে আরবের হাতের ছুরিটাকে এমনিভাবে সূর্যের আলোয় ঝলসে দেবেন। ‘দি আরব ড্রিউ হিজ নাইফ এন্ড হেল্ড ইট টুয়ার্ডস মি ইন দি সান। দি লাইট লেপ্ট অফ দি স্টিল&#8230;”<br />
জীবনের অনিশ্চয়তা, কিংবা জীবনের একমাত্র নিশ্চিত পরিণতি যে মৃত্যু, যে-কোনো অস্তিত্ববাদীর মতো শহীদুল জহিরেরও পরীক্ষার বিষয় এটাই। আবু ইব্রাহীমের জীবনে সেই মৃত্যুকে আকস্মিক ডেকে এনে শহীদুল জহির দেখতে চেয়েছেন কী হয়। কী হবে আর? জীবনানন্দের অনুষঙ্গগুলো কবরের দৃশ্যে আবির্ভূত হয়। কবরস্তানের আকাশে চাঁদ ওঠে, পেঁচা এসে বসে মাদার গাছের ডালে, আবার একটা ছুটন্ত ছুঁচো লক্ষ্য করে ছোঁও মারে। “কবরস্থানের কথা আমরা এভাবে ভুলে যাই; সেখানে নির্মেঘ আকাশে চাঁদ হেসে ওঠে, ছুঁচোর চিৎকারে বাতাস মুখরিত হয়, সারারাত ধরে পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে পেঁচা ওড়ে।”<br />
কিন্তু আমরা, তাঁর পাঠকেরা, শহীদুল জহিরকে ভুলি না, অবিস্মরণীয়তার দিকে তিনি কীভাবে অগ্রসর হচ্ছেন, তা সশ্রদ্ধ চিত্তে অবলোকন করে চলি।</p>
<p><strong>প্রতিক্রিয়া: অনুধাবনের ভ্রান্তি &#8211; মারুফ রায়হান<br />
</strong><br />
‘&#8230;মমতার সঙ্গে আবু ইব্রাহীমের ঠোকাঠুকি লাগতেই থাকে এবং তার কিছু অংশ আমাদের সম্মুখে যখন প্রকাশিত হয়ে পড়বে, আমরা তা শুনব। কারণ আমরা একটি লোক, আবু ইব্রাহীমকে জানতে চাইব। আবু ইব্রাহীমকে কেন আমাদের জানা প্রয়োজন, তা আমরা জানি না, হয়তোবা তাকে জানার কোনো প্রয়োজন নেই, হয়তোবা আছে। তবু তার কথা আমরা জানব এবং শুনব, হয়তোবা শুধুমাত্র এই কারণে যে, আমরা একটি কথাসাহিত্যের গ্রন্থ পাঠ করতে চাই এবং তা করলে আমাদেরকে এই গ্রন্থের চরিত্র অথবা চরিত্রসমূকে জানতে হবে, যদিও আমরা জানি যে, পাঠ এবং অনুধাবন কখনো কখনো কষ্টসাধ্য বটে।&#8230;’ (শহীদুল জহির : আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু, ২০০৯, পৃ. ২৭)</p>
<p>৫ জুন প্রথম আলো-র সাহিত্য সাময়িকীতে শহীদুল জহির রচিত আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু উপন্যাস নিয়ে আলোচনায় কিছু ব্যাখ্যা ও অভিমত প্রকাশিত হয়েছে যেগুলো সম্পর্কে ভিন্নমতের অবকাশ রয়ে গেছে। প্রথমেই বলে নেয়া ভাল যে, শহীদুল জহিরের সাহিত্যকর্মের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তার বহুমাত্রিকতা। ‘যেন’, ‘হয়তো’, ‘তবু’, ‘অথবা’- এইসব শব্দ প্রয়োগ করে তিনি ঘটনার একরৈখিক ব্যাখ্যা প্রদানের পথ রুদ্ধ করে রাখেন। আর সে কারণেই আলোচকের প্রদত্ত ব্যাখ্যায় আমি সংশয় প্রকাশ করে নতুন আরেকটি ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করব। ওপরের কথা কয়টি লক্ষ্য করলে ধারণা হয় ঔপন্যাসিক হয়তো অনুমান করেছিলেন যে, তাঁর এই উপন্যাসটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। অকালপ্রয়াণের সতের বছর আগে পত্রিকায় উপন্যাসটি ছাপালেও পুস্তকাকারে এটি তিনি প্রকাশ করেননি, বইটি বেরিয়েছে তাঁর মৃত্যুর এক বছর পরে। লক্ষণীয় একটি বিষয় হলো, সৃষ্ট চরিত্র আবু ইব্রাহীমের মতো শহীদুল জহিরও একজন সরকারী কর্মকর্তা। উভয়েই সচিবালয়ের অর্থ ও বাণিজ্য বিভাগে চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তবে আলোচক আনিসুল হক, আমাদের একজন জনপ্রিয় লেখক, যেমনটা অনুমান করেছেন (অকালমৃত্যুর পূর্বাভাস সম্পর্কিত) তার ভিত্তি মেলেনি, আর সৃষ্ট চরিত্র ও স্রষ্টা লেখকÑ দুজনের মৃত্যুর ঘটনার ভেতর সামান্যতম মিল নেই যে আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর বিবরণ পড়ে আমাদের অবধারিতভাবে মনে পড়ে যাবে শহীদুল জহিরের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। অবশ্য এজাতীয় ভাবাবেগ পাঠককে আর্দ্র করার একটি কৌশল বটে। যাহোক, ভ্রান্তিগুলো নিয়ে কথা বলা যাক।</p>
<p>তৃতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদের শুরুতেই আলোচক যথাক্রমে বলছেন : ‘আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর কাহিনীই লিখতে বসেছিলেন লেখক’&#8230;‘মৃত্যুর গল্পই তিনি বলতে বসেছেন।’ উপসংহারে পুনরুক্তি করছেন, ‘জীবনের অনিশ্চয়তা, কিংবা জীবনের একমাত্র নিশ্চিত পরিণতি যে মৃত্যু, যেকোনো অস্তিত্ববাদীর মতো শহীদুল জহিরেরও পরীক্ষার বিষয় এটাই।’ না, মৃত্যুর গল্প বলাই সম্ভবত তাঁর প্রধান অভিপ্রায় নয়, নিরীক্ষার বিষয়ও নয়; লেখক জীবনের গল্পই লিখেছেন, যে-জীবন নীতিচ্যুত, ভ্রষ্ট, এবং প্রলোভনের শিকারে পরিণত হতে-হতে সামলে ওঠা; মূল্যবোধ ও আদর্শবাদিতার ঋজু শির উঁচু করে মনুষ্যত্বের মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট। যদি মাত্র ৫৮ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসে কথিত কাহিনী জানতে চাই তবে মোটা দাগে দুটো আখ্যানভাগ নজরে আসে। প্রথমত, আবু ইব্রাহীমের সয়ে-যাওয়া পারিবারিক জীবন, যে-জীবনে পুরনো প্রেমিকার আকস্মিক উপস্থিতি কিছু মিথষ্ক্রিয়ার জন্ম দেয়। সাবেক প্রেমিকার দেহসম্ভোগের অনৈতিক বাসনা থেকে ব্যাচেলর বন্ধুর বাসায় আমন্ত্রণও জানান আবু ইব্রাহীম। যদিও নির্দিষ্ট তারিখে আগেভাগে নিজেকে সংবরণ করে নেন তিনি। দ্বিতীয়ত, দৃশ্যপটে চৌকশ ধূর্ত ইনডেন্টার খালেদ জামিলের আগমন, টেন্ডার বাগানোর জন্য বিবিধ তৎপরতার পর আপাত সফল হলেও চূড়ান্ত বিচারে ব্যর্থ হন তিনি। আবু ইব্রাহীমকে ধূর্ত ইনডেন্টারের ঘুষ গছিয়ে দেয়া, টেন্ডারপ্রাপ্তির জন্য অব্যাহত চেষ্টা চালানো এবং শেষমেশ লোকটির অনুকূলে আবু ইব্রাহীম ফাইলে নোট দিতে অপারগ হলে অর্থ ফেরতের জন্য ক্রমাগত নানা উপায়ে চাপের মধ্যে রাখা। শেষোক্ত উপাখ্যানের বিবরণ ও মুখোমুখি দুই ব্যক্তির মনোজগত যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, এবং একইসঙ্গে পূর্বে বর্ণিত একটি ইংগিত (‘&#8230; অন্য এক নিয়তির মতো খালেদ জামিল আবু ইব্রাহীমের জীবনে প্রকাশিত হয় এবং বস্তুত তার মৃত্যুর দিনটি পর্যন্ত ক্রিয়াশীল থাকে।’ পৃ. ৪৩) বিবেচনায় রাখি তাহলে বেলা দশটায় প্রকাশ্য দিবালোকে জনকোলাহলের ভেতর আবু ইব্রাহীমের অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মেনে নেয়ার পক্ষে নিশ্চয়ই যুক্তি মেলে। (আলোচকও একটু দ্বিধা নিয়ে কি বলেননি যে, আবু ইব্রাহীমের হৃৎপিণ্ডে যারা চাকু ঢুকিয়ে দেয় তারা ‘ছিনতাইকারীই বুঝি বা’! তার মানে হন্তারকদ্বয় হাইজ্যাকার নাও হতে পারে? তবে তারা ভাড়াটে খুনি বলেই মনে হয়।) যদিও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর পেছনে খালেদ জামিলের হাত আছে। এখানে গোয়েন্দাবুদ্ধি নয়, লেখক-কথিত অনুধাবনের প্রসঙ্গটি সামনে চলে আসে। প্রসঙ্গত আরো একটি বাক্য লেখক আমাদের অনুধাবনের প্রয়োজনে উৎকীর্ণ করেছেন। সেটি হলো : ‘আবু ইব্রাহীমের যখন মৃত্যু ঘটবে তখন মৃত্যুর বিষয়ে তার বহুদিন আগেকার ভাবনার কথা আমাদের স্মরণে থাকলে আমাদের মনে হবে যে, আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছি; তার মৃত্যুর কোনো মানে আমরা খুঁজে পাব না। হাঁসের পালকের চাইতেও হাল্কা এবং তুচ্ছ এক মৃত্যুর ভেতর তাকে আমরা পতিত হতে দেখব।’ (পৃ. ১৬)</p>
<p>লেখক যে-বিভ্রান্তির কথা বলছেন, সেটা হয়তো স্বাভাবিক। গভীর পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণই আমাদের জানিয়ে দিতে পারে যে, বারবার মৃত্যুর তুচ্ছতার উল্লেখও এক ধরনের বিভ্রান্তি-জাগানিয়া। সৎ ও দেশপ্রেমিক একজন মানুষ এবং নীতিবান নিয়মনিষ্ঠ জনসেবকের (পাবলিক সার্ভেন্ট) মৃত্যুর তাৎপর্য পাহাড়ের চেয়েও ভারী হতে পারে। কেবল আমলাতন্ত্রের ভেতরেই নয়, সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে নীতি বিসর্জনের প্রতিযোগিতা আমরা আশির দশকের প্রত্যুষ থেকেই প্রত্যক্ষ করেছি। ভুলে যাইনি যে উপন্যাসটির রচনাকাল নব্বুইয়ের সূচনালগ্ন হলেও উপন্যাসের পটভূমি ওই আশিরই সকাল। এর ধারাবাহিকতায় স্বদেশকে আমরা বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতিতে সেরা হতেও দেখেছি।</p>
<p>‘এভরিবডি ইজ ম্যানেজেবল অ্যান্ড এভরিবডি কুডবি পারচেজড্’ এই দম্ভোক্তির পরেও আবু ইব্রাহীমকে কিনতে না পারার ব্যর্থতার গ্লানিবোধ এবং টাকা ফেরত পাওয়া অনেকখানি অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অপদস্থ অধৈর্য হয়ে ওঠা ইনডেন্টার খালেদের চরিত্রটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গেছেন আলোচক। অথচ এখানেই ঘটেছে উপন্যাসের বাঁকবদল। খালেদ যে ত্রিশ হাজার টাকা গছিয়ে দিয়েছিলেন আবু ইব্রাহীমকে, এবং যেটাকে ‘প্রফিট শেয়ার’ অভিধায় ভদ্র আবরণ দেয়া হলেও পরে ‘ঘুষ’ বলে স্বীকারে বাধ্য হন তিনি; সেই ঘুষের টাকা ফেরত নেয়ার জন্য বাসায় বা অফিসে নয়, খোলাজায়গায় যেতে বলা বিত্তবান ব্যবসায়ীটির জন্যে ছিল চূড়ান্ত অপমানকর। তার ইনডেন্টিং বাণিজ্য সুগম রাখার জন্যে কর্মস্থলের চেয়ার থেকে যেকোনো উপায়ে আবু ইব্রাহীমের বিদায় ছিল জরুরি। অন্যদিকে আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর মাধ্যমে প্রতিশোধ গ্রহণও সম্ভব। যদিও শহীদুল জহির দারুণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে লেখেন : ‘এভাবে হাঁসের পালক খসে পড়ার চাইতেও হাল্কা এবং তুচ্ছ এক মৃত্যু আবু ইব্রাহীমকে গ্রাস করে এবং তাকে নিয়ে সঙ্গত কারণেই আমাদের আর কোনো আগ্রহ থাকে না।’ (পৃ. ৬৩) এই বাক্য রচনার আর একটিমাত্র পৃষ্ঠার মধ্যে উপন্যাসটি শেষ করেন তিনি। আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুর দু’বছর অতিক্রান্ত হওয়ার কথা বলেন এবং অনেক টানাপোড়েনের পর তার স্ত্রীর দ্বিতীয় সংসার বরণের চিত্র আঁকেন। কবরস্থানের বাস্তবানুগ অথচ কাব্যিক বিবরণও দেন। এবং পাঠক ফের অনুধাবনের ভ্রান্তিতে ভোগেন।</p>
<p>এবার আসা যাক শহীদুল জহিরের লেখনিশৈলী ও আঙ্গিক নিয়ে আলোচকের মন্তব্য প্রসঙ্গে। স্মর্তব্য যে সমকালীন সতীর্থদের ভেতর শহীদুল জহির ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম এক কমিটেড কথাশিল্পী। লেখকজীবনে কোনো গপ্পো তিনি ফাঁদেননি, শামিল হননি ঈদমৌসুমের ইঁদুর-দৌড়ে, কিংবা লেখেননি জনরঞ্জনের জন্য; সকল রচনাই শিল্পের শর্ত পূরণ করে সতর্ক সচেতনতায় সম্পন্ন করেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী এই সমাজের ব্যাপকগভীর চিত্র এবং একইসঙ্গে সমাজ-বিশ্লেষণ ও সমালোচনাও। এর বয়ানরীতিও অভিনবত্বের দাবীদার। একটিমাত্র অনুচ্ছেদে লিখেছেন ৫০ পৃষ্ঠার উপন্যাস। আঙ্গিকের শক্তিশালী নিরীক্ষা এটি। একটি গল্পও (আমাদের কুটিরশিল্পের ইতিহাস) লিখেছিলেন তিনি কুড়ি পৃষ্ঠার, একটিমাত্র অসমাপ্ত অনুচ্ছেদে। যা ছিল অন্তিমে পূর্ণচ্ছেদসূচক-যতিচিহ্ন বিহীন, এবং উন্মুক্ত বা খোলা। অর্থাৎ দাঁড়ি না দিয়ে ব্যবহার করেছিলেন কমা। এমন একজন সিরিয়াস লেখকের পরোক্ষ সংলাপ ব্যবহার খানিকটা একঘেয়েমির সৃষ্টি করে বলে আলোচক যে মন্তব্য করেছেন তার সঙ্গে একমত হতে পারি না। আলোচক অবশ্য একটি উদাহরণ হাজির করেছেন, তবে তাতে তিনটি ডট দিয়ে উহ্য রেখেছেন স্তবকের অংশবিশেষ। সেটি যোগ করে পড়লে কি তা সত্যি ত্র“টিপূর্ণ মনে হয়? (দেখুন পৃ. ৫০) তাছাড়া উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিশ্চয়ই কৌতূহল-উদ্দীপক, কিন্তু কখনও ‘কৌতুক-উদ্দীপক’ নয় বলেই আমার অভিমত। আলোচকের মোক্ষম অভিযোগ : ‘আবু ইব্রাহীমের দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটির গল্প কেন কথকের সম্মিলিত অবচেতনার মাধ্যমে উন্মোচিত হবে, তা স্পষ্ট নয়।’ এই রচনার শুরুর দীর্ঘ উদ্ধৃতিটি লক্ষ্য করলে এই অভিযোগটির যৌক্তিকতা বোধহয় আর থাকে না। ‘সম্মিলিত অবচেতনার’ প্রসঙ্গটি আরোপিত মনে হয়। কারণ উপন্যাসে কথিত ‘আমরা’- লেখক কিংবা পাঠক, অথবা যৌথভাবে দু’পক্ষ মিলে অবচেতনভাবে ঘটনা জানছেন না। ঘটনা ঘটছে এবং লেখকের বয়ান ও পাঠকের পঠনÑ দুভাবে বিষয়টি উন্মোচিত হচ্ছে। তাই অবচেতনার প্রশ্নটি অবান্তর। এই লেখনীশৈলীটির প্রয়োগ লেখককে স্বাতন্ত্র্য ও বিশিষ্টতা দিয়েছে।</p>
<p>আগেই বলেছি, আলোচক সুনিশ্চিতভাবেই বলেছেন যে, শহীদুল জহির মৃত্যুর গল্পই বলতে চেয়েছেন। ‘এটা এসেছে আসলে তাঁকে আচ্ছন্ন করে রাখা অস্তিত্ববাদী দর্শন থেকে।’ এখানে আচ্ছন্ন শব্দটায় আমার ঘোর আপত্তি। অস্তিত্ববাদী দর্শন তিনি হয়তো প্রয়োগ করেছেন, তবে আচ্ছন্নতা বললে যে অন্ধ একরৈখিকতার ধারণা আসে সেটা শহীদুল জহিরের মতো বড় মাপের জীবনশিল্পীর ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে না। নীটশে ও অন্যান্যের অস্তিত্ববাদী দর্শন কোনো কোনো উপন্যাসে থিম হিসেবে গ্রহণ করেছেন কাফকা-কামু-দস্তয়েভ্স্কিরা। আবু ইব্রাহীম ছুরিবিদ্ধ হওয়ার আগে সূর্যের আলোয় রূপালী ঝিলিক দেখেন। বেলা দশটার রোদে সেটাই সমীচীন। ছুরির এই ঝিলিকের সঙ্গে আলবেয়ার কামুর দি স্ট্রেঞ্জার (বা দি আউটসাইডার)-এর ছুরির ঝিলিকের মিল দেখিয়ে কি শহীদুল জহিরকে কামু-প্রভাবিত বলা সংগত হবে? কামুর দর্শনতত্ত্বে ছিল অ্যাবসার্টিসম। এই উপন্যাসে কোথায় উদ্ভটত্ব? মার্কেজের কথাও আলোচক উল্লেখ করেছেন। হ্যাঁ মার্কেজের যাদুবাস্তবতার লেখন-পদ্ধতিটি শহীদুল জহির গ্রহণ করেছেন প্রথম উপন্যাসেই সেকথা খোলাখুলি সাক্ষাৎকারে তিনি বলে গেছেন (২০০৪ সালে সাহিত্য পত্রিকা কথা-র জন্যে সাক্ষাৎকার নেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর)। কিন্তু বর্তমান উপন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি তো একই পদ্ধতি গ্রহণ করেননি। তাহলে মার্কেজের কথা কেন উঠলো? আসলে অস্তিত্ববাদী দর্শন-প্রভাবিত উপন্যাসের অনুসরণ নয়, শহীদুল জহির আলোড়িত হয়ে থাকবেন মূল দর্শনতত্ত্ব থেকে। সম্ভবত এই উপন্যাসে জ্যাঁ পল সার্ত্রের ‘এক্সিসটেনশিয়ালিজম ইজ এ হিউম্যানিজম’-এর কিছুটা পরোক্ষ প্রকাশ ঘটে থাকতে পারে। কারণ আমরা দেখবো যে আবু ইব্রাহীমের চাকরি ভাল না লাগলেও তিনি চাকরি ছাড়েন না, কেননা তাহলে জীবন বিপদাপন্ন হবে। একইভাবে অস্তিত্ববাদীর মতো তিনি বারবার আপন সত্তার মুখোমুখি হন; এবং পরবর্তীকালে যথার্থভাবে নিজের অবস্থানকে স্থিতি দেন।</p>
<p>সমাপনী মন্তব্যের জন্য আলোচক আনিসুল হককে ধন্যবাদ জানাই। বাস্তবিকই শহীদুল জহির অবিস্মরণীয়তার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। যে-রাষ্ট্রে একজন আমলার বেতনের সঙ্গে জীবনধারার ব্যয় ও সম্পদ আহরণের ব্যবধান বিরাট, সেখানে একজন শহীদুল জহির অকৃতদার থেকেও খুব একটা আর্থিক স্বচ্ছলতার ভেতর জীবনযাপন করে যেতে পারেননি, আর রেখে গেছেন বাংলা সাহিত্যে একেবারে নতুন আঙ্গিকে লেখা ঘোর-লাগা কালজয়ী রচনাসম্ভার। তাঁরই তো প্রাপ্য চিরকালীন বরমাল্য।<br />
</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2010 01:38:41 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[আবদুল্লাহ আল-হারুন]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[র‌্যামন পাবলিশার্স]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=434</guid>
		<description><![CDATA[মৃত্যু নিয়ে যত কথা
মুনিয়া মাহমুদ
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় একটি ব্যতিক্রমি বই নজরে এসেছে । বইটি সম্পূর্ণ মৃত্যু বিষয়ে লেখা । মৃত্যু নিয়ে প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা আছে, নিকটজনের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে। তবে আমাদের মতো অনুন্নত দেশে মৃত্যু নিয়ে তেমন ব্যাপক গবেষণা হয়নি বা হওয়ার মতো পরিবেশ হয়তো সেখানে তৈরী হয়নি । আমরা [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>মৃত্যু নিয়ে যত কথা</strong><br />
মুনিয়া মাহমুদ<br />
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় একটি ব্যতিক্রমি বই নজরে এসেছে । বইটি সম্পূর্ণ মৃত্যু বিষয়ে লেখা । মৃত্যু নিয়ে প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু অভিজ্ঞতা আছে, নিকটজনের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে। তবে আমাদের মতো অনুন্নত দেশে মৃত্যু নিয়ে তেমন ব্যাপক গবেষণা হয়নি বা হওয়ার মতো পরিবেশ হয়তো সেখানে তৈরী হয়নি । আমরা সম্পূর্ণ ধর্মীয় আলোকে মৃত্যুকে দেখি এবং সেটা কারো কারো মনে মৃত্যুভীতির সৃষ্টি করে । সেজন্য আমরা কখনই আমাদের মৃতু্যূর কথা নিজেরাও ভাবতেও পারি না । বা আলোচনাও করতে চাই না । আমাদের অবচেতন মন সবসময় মৃত্যুকে এড়িয়ে চলে । দূরের কেউ মারা গেলে ‘ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না লিল্লাহে রাজেউন’ বলেই মনকে খালাস করে দেই, আর কাছের কেউ হলে শোকের সাগরে ডুবে যাই ।<br />
আবদুল্লাহ আল-হারুনের জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে বইটি সম্পূর্ণ মৃত্যুবিষয়ক একটি পাঠযোগ্য বই । মৃত্যু নিয়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল সহ অসংখ্য সাহিত্যিক অনেক কথাই লিখেছেন কিন্তু বাংলা ভাষায় লেখা একটি পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুবিষয়ক গবেষণামূলক বই এই প্রথম আমার চোখে পড়লো।<br />
বইটিতে বাস্তব জ্ঞানের ভিত্তিতে মৃত্যুকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে । অনেক রোগী আছেন যাদেরকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছেন, যাদের ব্রেন ডেড হয়ে গিয়েছে, অলৌকিকভাবে তাদের জ্ঞান ফিরে এসেছে এবং তারা যা বলেছে ওই মৃতপ্রায় সময়টি সম্পর্কে তা অবিশ্বাস্য রকম সত্য। নিখুঁতভাবে তারা বর্ণনা করেছে এবং তা মিলে গিয়েছে ওই সময়কার ঘটনার সাথে । পৃথিবীতে ফিরে এসে বেশীর ভাগই মানুষ খুশি হয়েছে, তবে যারা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, তারা ফিরে এসে প্রচন্ড ব্যথার মুখোমুখি হতে চাননি । তাদের কাছে ওই সময়টাই ছিলো এক স্বর্গীয় সময় ।<br />
বইটিতে মৃত্যুর বিভিন্ন পর্যায় পুংখানুপুঙ্খরুপে বর্ণনা করা হয়েছে । প্রথম পর্যায়ে রোগীর রোগকে অস্বীকৃতি, ডাক্তারকে অবিশ্বাস, দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীর ক্রোধ ‘কেন তারই এই রোগ হোল, অন্য কারো হলো না কেন ?’ তৃতীয় পর্যায়ে সবকিছু মেনে নেয়া ও চতুর্থ পর্যায়ে বিষাদগ্রস্ত হওয়া, পঞ্চম ও শেষ পর্যায়ে মৃত্যুকে স্বীকৃতি দেয়া, ইত্যাদি।<br />
আবদুল্লাহ আল-হারুন দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশী সময় ধরে জার্মানীতে আছেন এবং উনি একজন হজপিস কর্মী । ইউরোপ ও আমেরিকাতে হজপিস সংগঠন মূলত একটি সমাজসেবামূলক মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র যা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গীর্জা কর্তৃক চালিত । হজপিস সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে একজন মৃতপথযাত্রী মানুষকে হাত ধরে জীবনের অন্য প্রান্তে শান্তির সাথে পৌছে দেয়া । একজন মানুষের যখন মৃত্যুসময় ঘনিয়ে আসে এবং ডাক্তারের ভাষায় তার বেঁেচ থাকার আর কোন সম্ভাবনাই নেই তখন তারা হজপিস ভবনে এসে হজপিস কর্মীদের অসীম ধৈর্য, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সেবায় জীবনের শেষ মুহুর্তগুলো সেখানে কাটান । সেখানে তাদেরকে কোন মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয় না । তাদেরকে বলা হয় যে তাদের জীবন পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একটি নতুন জীবনের দ্বারপ্রান্তে তারা এখন এসে উপস্থিত হয়েছেন । মৃত্যুর সময়ে রোগীর কথা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে একজন হজপিস কর্মী শোনেন এবং মৃত্যু পরবর্তী তার ছেলেমেয়েদের কাছে বা বিশেষ কারো কাছে মৃতের শেষ ইচ্ছা জানান । এসম্মন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা বইটিতে দেয়া হয়েছে । হজপিস কর্মী হিসাবে লেখক তার অসীম ভালোবাসায় অসংখ্য মৃত্যুপথযাত্রীকে জীবন মরণের মধ্যবর্তী নড়বড়ে, ঝুলন্ত সেতু পার করিয়ে দিয়েছেন।<br />
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে আর কিছু না থাক, অন্তত একটা ক্ষেত্রে আমরা মাথা উচুঁ করে বলতে পারি যে আমাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন এখনো অটুঁট রয়েছে। আমাদের কেউ মারা যাওয়ার সময় ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীতে বাসা এখনও ভর্তি হয়ে যায় যেটা গোটা ইউরোপ, আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বে প্রায়ই অনুপস্থিত । পশ্চিমা বিশ্বে বুড়ো-বুড়িরা তাদের শেষকৃত্য সম্পাদনের খরচাপাতি আগেভাগেই বিভিন্ন ফিউনেরাল হোমকে দিয়ে যায় কারণ তারা ভালো মতোই জানে যে তার মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদেরও কোন খবর থাকবে না। আর মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌছে সংগত কারণেই হজপিস ছাড়া আর কোন গতি থাকে না এই অসহায় মানুষদের ।<br />
বইটির শেষে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মারণ ব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত আনা মারির মৃত্যুর সাথে যুদ্ধের অসীম সাহসের কাহিনী । ক্যান্সারের সাথে সাড়ে চার বছর যুদ্ধের পর তিনি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন কিন্তু মৃত্যুকে একটুও ভয় না করে এক পৃথিবীতে থেকে বিদায় নিয়ে অন্য পৃথিবীতে যাওয়ার ব্যপারে তিনি বরঞ্চ একটু কৌতূলীই ছিলেন এবং সে কারণেই প্রশান্তির সাথে অন্যলোকে পাড়ি জমান ।<br />
আনা মারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর তার কাজকর্মের পরিধি বাড়িয়ে দিলেন কারণ তিনি জানেন যে তাঁর সময় সীমিত । এই সময়ে তিনি মনকে নিরুদ্বেগ রাখার জন্য নানা ধরনের ব্যায়াম ও যোগাসন করতেন । তিনি একজন রোগীর মতো জীবন যাপন করতেন না । এ সময়ে তার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিলো স্বামী ও মেয়েদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি । নিঃসন্দেহে এ দিক থেকে আনা মারি ভাগ্যবতি ছিলেন । আনা মারির অসম্ভব মনের জোর ছিল এবং তিনি নতুন ক্যামোথেরাপি গ্রহণ করেন নি । নতুন ক্যামো গ্রহণ করলে তিনি হয়তো আরো কিছু বেশী দিন বাঁচতেন কিন্তু তিনি সেটা না করে বাসায় প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে থাকলেন। আনা মারির শেষ সময়ে তাকে বিদায় দেয়াটা তার স্বামী ও মেয়েদের জন্য মোটেও কঠিন মনে হয়নি । তারা আনা মারির অমানুষিক কষ্ট দেখে ভাবতো যে একমাত্র মৃত্যুই তাকে পরম শান্তি দিতে পারে । আনা মারিকে চিরবিদায় দেয়াটা সবাই মনের দিক থেকে মেনে নিয়েছিল ।<br />
আনা মারির মৃত্যুর মুহুর্তটি, শেষদিনগুলি, শেষ মুহুর্তগুলি , মৃত্যুর পরের দিনগুলি, শেষকৃত্য সহ আনা মারির মেয়েদের কথা আবদুল্লাহ আল-হারুনের হৃদয়স্পর্শী সহজবোধ্য ভাষায় খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে যা একজন পাঠকের মনোযোগ অন্যদিকে ধাবিত করবার অবকাশ রাখে না । তবে আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেখকের সাথে একমত নই যখন উনি বলেছেন মৃত্যুকে ভয়ের কিছু নেই এবং মৃত্যুকে পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা ইত্যাদি ইত্যাদি । কারণ আমার মতে মৃত্যু ও ভয় একই বৃন্তে অবস্থানকারী । তবে জন্মিলে মরিতে হয়, এটা ধ্র“ব সত্য । অপ্রিয় হলেও সত্য যে দূরারোগ্য ব্যাধি হলে অমানুষিক শারীরিক কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য তখন মৃত্যুই একজন ব্যক্তির কাম্য হয়ে যায় । এখন অনেকেই মৃত্যুর আগে লাইফ সাপোর্ট না দেয়ার জন্য লিখিত আবেদন করে রাখেন ।<br />
মৃত্যুভীতি মানবজীবনের এক স্বাভাবিক অনুভূতি। এটা না থাকলে পৃথিবীতে মানুষে মানুষে হানাহানি আরো বাড়তো । মৃত্যুভীতি না থাকলে কেউ আর খাবার-দাবার কন্ট্রোল করতো না । ডায়াবেটিস রোগীরা ইচ্ছামতো মিষ্টি খেত আর বলতো মরবোই যখন খেয়েই মরি ! এত খাদ্যসচেতনতা কারো মধ্যেই আসতো না যদি মানুষের এই পৃথিবীতে বাঁচার আকুতি না থাকতো । মোটকথা মৃত্যুভয় না থাকলে কোন সভ্যতা গড়ে উঠতো না । ছোটবেলায় পড়া এক জাপানি উপকথা এই মুহুর্তে আমার মনে আসছে । মৃত্যুদেবতা একজনের সামনে আসলে সে মৃত্যুদেবতাকে অনুরোধ করে তাকে মৃত্যু না দিতে । মৃত্যুদেবতা রাজী হয় এবং তাকে একটা দ্বীপে ফেলে আসে যেখানে সে হাজার হাজার বছর কোন মৃত্যুর মুখোমুখি হবে না । শ শ বছর বাচঁতে বাচঁতে সে রীতিমতো মহাবিরক্ত । আর সে বাচঁতে চায় না । একদিন সে মৃত্যুদেবতাকে বলল, আমি মৃত্যু চাই। মৃত্যুদেবতা তাকে বলল তুমি দ্বীপের বাইরে যাও । সে একটা নৌকা নিয়ে সমুদ্র পার হতে গেলো । মাঝ সমুদ্রে প্রচন্ড ঝড় উঠলো । নৌকা ডুবোডুবো । সে মৃত্যুভয়ে চিৎকার করছে, আমাকে বাচাঁও, আমাকে বাচাঁও ! আমি মরতে চাই না । মৃত্যুদেবতা তখন হাসে আর বলে তুমি তো এই চেয়েছিলে, বাছা !<br />
যেহেতু লেখক খুব অল্পসময়ের মধ্যে বইটি বের করেছেন, কিছু কিছু বানান ভুল লক্ষনীয় । আশা করি বইটির পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো সংশোধিত করা হবে । প্রচ্ছদটি বইটির নামকরণ ও উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয়। লেখকের কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই বই । সবশেষে বলতে চাই জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে একটি সংগ্রহে রাখার মতোই বই এবং আমি এই বইটির বহুল সাফল্য কামনা করি ।<br />
প্রচ্ছদ: সুকন্যা আইন, সোহেল রানা রিপন ।</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ফরহাদ মজহার:</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 10 Mar 2010 11:21:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[উদ্ধৃতি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=507</guid>
		<description><![CDATA[ বাংলা একাডেমী এখন একটা নতুন কাজ পেতে যাচ্ছে। ভাষার ওপর নজরদারি রাখা। শামসুজ্জামান খান বলেছেন, “ভাষা পরিস্থিতিতে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলা একাডেমীর একটা খসড়া আইন আমরা তৈরি করেছি। সে আইনে এই সব বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সেই আইনটি সরকারের মাধ্যমে পার্লামেন্টে পেশ করার পর যদি অনুমোদিত হয়ে আসে তাহলে এই ক্ষেত্রে [...]


No related posts.]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong><a href="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/03/farhad-mazhar.jpg"><img class="alignleft size-full wp-image-508" title="farhad-mazhar" src="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/03/farhad-mazhar.jpg" alt="" width="120" height="140" /></a></strong> বাংলা একাডেমী এখন একটা নতুন কাজ পেতে যাচ্ছে। ভাষার ওপর নজরদারি রাখা। শামসুজ্জামান খান বলেছেন, “ভাষা পরিস্থিতিতে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলা একাডেমীর একটা খসড়া আইন আমরা তৈরি করেছি। সে আইনে এই সব বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। সেই আইনটি সরকারের মাধ্যমে পার্লামেন্টে পেশ করার পর যদি অনুমোদিত হয়ে আসে তাহলে এই ক্ষেত্রে আমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারব।” আমরা কে কীভাবে কথা বলব, লিখব… কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ইত্যাদি লিখব তার জন্য আইনের খসড়া করছে বাংলা একাডেমী। সেটা পাশ করবে জাতীয় সংসদ আর সেটা প্রয়োগ করবে বিচার ও নির্বাহী বিভাগ। দারুণ খবর!&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.</p>
<p>ভাষার একটা নিজস্বতা আছে। যে জায়গার ওপর ভাষা দাঁড়ায় তার একদিকে আছে তার সামাজিক বা সামষ্টিক দিক, অন্যদিকে যিনি সেই সামাজিক ভাষাটা ব্যবহার করেন সেটা তিনি তাঁর মতো করেই ব্যবহার করেন। অবস্থা বুঝে, উদ্দেশ্য অনুযায়ী। ভাষা সেই দিক থেকে একান্তই তাঁর নিজের জিনিস। এই দিক থেকে তার একটা ‘ব্যক্তিগত’ বা ‘সৃষ্টিশীল’ দিক আছে। অর্থাৎ সামাজিক ব্যক্তি সমাজে থেকে সমাজে বাস করতে গিয়ে সামাজিক ভাষাটা তাঁর নিজের মতো করেই ব্যবহার করেন। সমাজ ও ব্যক্তির দাগচিহ্নে‎র পর দাঁড়িয়ে ভাষার এই ব্যবহার ভাষাকে সবসময়ই সপ্রাণ রাখে। ভাষা এই সামাজিকতা ও ব্যক্তিকতার টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে নিজের গতিতে বদলায়। সেখানে কোনো আইন নাই; পুলিশ, দারোগা, র‌্যাপিড একশান ব্যাটালিয়ন বা বাংলা একাডেমী নাই। সেখানে যদি কারো সর্দারি আদৌ মানতেই হয় তবে তাঁরা সৃষ্টিশীল কবি ও সাহিত্যিক। বিশেষত যাঁরা সজ্ঞানে ও সচেতন ভাবে ভাষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দুমড়েমুচড়ে উল্টেপাল্টে ভাষার সম্ভাবনা ও সীমার নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাই সাহিত্যের কাজ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার অতি অল্প অংশই হয়তো টেঁকে, বাকিটা ভাষার ইতিহাস হয়ে থেকে যায়। কিন্তু সমাজের এই সৃষ্টিশীল উদযাপন ও কর্মযোগকে সমূলে খুন করবার আওয়াজ যখন ওঠে তখন আতংকিত না হয়ে পারা যায় না।&#8230;&#8230;&#8230;</p>
<p>বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শাসক শ্রেণী এবং তাদের তাঁবেদাররা তকাকথিত ‘প্রমিত ভাষা’-কেই লেখালিখি সাহিত্য চর্চা রেডিও টেলিভিশনে কথা বলবার একমাত্র ভাষা হিসাবে আইন করে চাপিয়ে দিতে চাইছে। বাংলা সাহিত্যের এখনকার ভাষা বা ‘আধুনিক’ কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলা ভাষা ছাড়া কেউ নাকি কথা বলতে পারবে না। রেডিও টেলিভিশনে, পত্রপত্রিকাতেও এই ‘প্রমিত’ ভাষাই চলবে।</p>
<p>আমি তরুণদের পক্ষে ভাষা-ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই আপাতত সাক্ষী মানব। রবীন্দ্রনাথ পরিষ্কারই বলেছেন যাকে আমরা সাহিত্যের ভাষা বলি আর সরকারি পণ্ডিতরা যাকে ‘প্রমিত ভাষা’ বলছেন তার ‘সূত্রপাত’ হয়েছে বিদেশের ফরমাশে এবং তার সূত্রধর হচ্ছে সংস্কৃত পণ্ডিত। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, বাংলাভাষার সঙ্গে এঁদের সম্পর্ক হচ্ছে ‘ভাসুর-ভাদ্র বউয়ের’ মতো। বাংলা ভাষা একটি সজীব প্রাণবন্ত ভাষা। কিন্তু <em>“এই সজীব ভাষা তাঁদের কাছে ঘোমটার ভিতরে আড়ষ্ট হইয়া ছিল, সেই জন্য ইহাকে তাঁরা আমল দিলেন না। তাঁরা সংস্কৃত ব্যাকরণের হাতুড়ি পিটিয়া নিজের হাতে এমন একটা পদার্থ খাড়া করিলেন যাহার কেবল বিধিই আছে গতি নাই।”</em></p>
<p>বাংলা ভাষার এই পশ্চাত ইতিহাস নিয়ে আমার <em>রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্র পাঠ</em> বইতে কিছুটা আলোচনা করেছি। এখানে পুনরাবৃত্তি করব না। শুধু মনে করিয়ে দেব বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটানোর যে পথটা রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন সেটা হচ্ছে সাহেবদের ঔরসে এবং ব্রা‎হ্মণ পণ্ডিতদের গর্ভে যে বাংলা তৈরি হয়েছে তার বিপরীতে যাত্রা করা। মুখের ভাষার যে সজীব ও প্রাণবন্ত বাংলা সেই দিকেই ভাষাচর্চার অভিমুখ স্থাপন করা। রবীন্দ্রনাথ নিজেও তাই করেছেন। দুই একজন অনুকরণপ্রিয় দুর্বল লেখকের কথা বাদ দিয়ে এখনকার তরুণরা ক্রিয়াপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষার বাইরে কিছু করেছেন বলে আমার মনে হয় নি। অনেকের চোখে সেটা খানিক স্বেচ্ছাচারিতা মনে হতে পারে কিন্তু ক্রিয়েটিভ লেখার ক্ষেত্রে সেটা অপরাধ নয়।</p>
<p>এটাও মনে রাখা দরকার রবীন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কলকাতা হয়ে যে রূপ নিয়ে আমাদের হাতে এসেছে, তাকেই সরকারি পণ্ডিতরা এখন ‘প্রমিত বাংলা’ বলে শিরোপা দিচ্ছেন, অথচ সেটা আমাদের অনেকেরই মাতৃভাষা নয়। যেমন আমি নোয়াখালির ছেলে, নোয়াখালির ভাষাই আমার মাতৃভাষা। নোয়াখালির ভাষায় বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো অবশ্যই গান, কবিতা, কাহিনী রচিত হয়। সেইগুলোও সাহিত্য। নেয়াখালির ক্রিয়াপদ ‘প্রমিত বাংলা’-র ক্রিয়াপদের নিয়মে চলে না। বাংলাভাষা যত বেশি সাধারণ মানুষের ভাষা হয়ে উঠবে ততই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনের ভাষা থেকে নিজের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। ক্রিয়াপদের ব্যবহারও বাদ যাবে না। কতটুকু সেই চেষ্টা সফল হবে সেটা নির্ভর করবে বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যিকদের শক্তির ওপর। সেই শক্তির চর্চা তো তরুণদের সাহসী প্রয়াসের মধ্যেই আগে ধরা পড়বে। বিদ্যমান ভাষার যে সামাজিক বা সামষ্টিক দিক তার সীমানা প্রসারিত করলে কতদূর সেটা লংঘন বলে পরিগণিত হবে সেটা আইন করে ঠিক করে দেবার বিষয় নয়।</p>
<p>তরুণদের ভাষায় ক্রিয়াপদ ব্যবহারে স্বেচ্ছাচারিতা থাকলেই তা সাহিত্যে গৃহীত হয়ে যাবে তারও কোনো কথা নাই। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই অধিকার মানতে হবে—এমনকি সৃষ্টিশীল স্বেচ্ছাচারিতার মূল্যও সাহিত্যের দিক থেকে অপরিসীম। যাঁরা সাহিত্যের ইতিহাস জানেন তাঁদের কাছে এইসব নতুন কোনো কথা নয়। বাংলা একাডেমীকে এই সব উদ্ভট চিন্তা বাদ দিতে হবে। বাংলা ভাষা কী রূপ নিয়ে দাঁড়াবে সেটা কাউকে আইন করে ঠিক করে দিতে হবে না। কেউ যেন স্বেচ্ছাচারিতাকেই সাহিত্যের স্বাধীনতা বলে ভুল না করে তার জন্য পরামর্শ দিতে পারে বাংলা একাডেমী। &#8211; <em>ভাষা ব্যবহারের ওপর আইনী খবরদারী অথবা ফ্যাসিবাদের নতুন ধরণ</em><br />
সূত্র: বিডিনিউজ২৪ মতামত-বিশ্লেষণ<br />
মার্চ ৯, ২০১০</p>


<p>No related posts.</p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 10 Mar 2010 00:28:49 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=472</guid>
		<description><![CDATA[সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আদনান সৈয়দ
পঞ্চাশ-উত্তর বাংলা কাব্যের আধুনিক মনন ও জীবনবোধ সৃষ্টিতে যে কজন কবি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, কবি শহীদ কাদরী ছিলেন তাঁদের মাঝে অন্যতম। বিশ্ব-নাগরিকতাবোধ, আধুনিক মনন, ঝলমলে শহুরে জীবনের সুখ-দুঃখ, স্বাদেশিকতা আর দেশপ্রেমে ঠাসা শহীদ কাদরীর কবিতা। তিনটি কাব্যগ্রন্থ, ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ এবং ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’। এই তিনটি কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই কবি শহীদ কাদরী [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার'>আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও'>আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%87/' rel='bookmark' title='Permanent Link: ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে যার মতো প্রবাহিত করতে চাইছে: ভাষাযোদ্ধা আব্দুল মতিন'>ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে যার মতো প্রবাহিত করতে চাইছে: ভাষাযোদ্ধা আব্দুল মতিন</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আদনান সৈয়দ</p>
<p>পঞ্চাশ-উত্তর বাংলা কাব্যের আধুনিক মনন ও জীবনবোধ সৃষ্টিতে যে কজন কবি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, কবি শহীদ কাদরী ছিলেন তাঁদের মাঝে অন্যতম। বিশ্ব-নাগরিকতাবোধ, আধুনিক মনন, ঝলমলে শহুরে জীবনের সুখ-দুঃখ, স্বাদেশিকতা আর দেশপ্রেমে ঠাসা শহীদ কাদরীর কবিতা। তিনটি কাব্যগ্রন্থ, ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ এবং ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’। এই তিনটি কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই কবি শহীদ কাদরী আবহমান বাংলা কবিতায় এক বিশেষ জায়গা করে নেন। কবির চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও’ বেরিয়েছে এই ফেব্রুয়ারীর বইমেলায়। ’৭৮-এর পর থেকেই কবি দেশের বাইরে। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে পাকাপাকিভাবে বসবাস করছেন। দুটো কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় সপ্তাহের তিন দিন তাঁকে ডায়লিসিস করতে হয়। শারিরিকভাবে অসুস্থ হলেও কবি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন নিয়মিতভাবেই। তাঁর নিউইয়র্ক, জ্যামাইকার ১১ এফ সুউচ্চ এপার্টমেন্টে আমরা যখন যাই তখন সন্ধ্যার নরম বাতি সবে মাত্র জ্বলতে শুরু করেছে। কবিপতœী নীরা কাদরীর উষ্ণ আতিথিয়তা সহযোগে আমাদের কথপোকথন শুরু হয়।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : কবিতার ধর্ম কী?</p>
<p>শহীদ কাদরী : কবিতার কোন বর্ণবাদ নেই। কবিতার ধার্মিকতা হল আধ্যাত্মিকতা। ব্যক্তি আত্মার সাথে পরম আত্মার বিরহ মিল হল কবিতার ধর্ম।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : আপনি এক পর্যায়ে কবিতা লেখা বন্ধ করে দিলেন। বললেন যে আমার যা বলার যা লেখার লিখে ফিলেছি। আপনার কী মনে হয় একজন লেখকের লেখালেখির জগৎ থেকে এরকম স্বেচ্ছানির্বাসন নেওয়া উচিৎ?</p>
<p>শহীদ কাদরী : হ্যাঁ, তা আমি মনে করি। আমি শামসুর রাহমানকেও বলেছিলাম কবিতার মান পড়ে যাওয়ার আগেই কবিতা লেখা বন্ধ করে দিতে। অবশ্য তিনি আমার কথার সাথে কোনভাবেই একমত হন নি। বরং এ নিয়ে তিনি আমার উপর একটু অভিমানও করেছিলেন। সমর সেন বলেছিলেন আমার যা বলার তা বলা হয়ে গেছে। তিনি আর লিখেন নি।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : একজন লেখকের পড়াশুনার ব্যাপ্তি শুধু বিষয়কেন্দ্রীক হবে এটা কি আপনি বিশ্বাস করেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী : মোটেও না। প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে। একজন লেখক তার পড়াশুনার গণ্ডি কোনভাবেই সীমিত করে রাখতে পারেন না। আইনস্টাইন যেমন পড়তে হবে পাশাপাশি ফ্রয়েড, কার্ল মার্কস,জেমস জয়েস, প্র“স্ত পড়তে হবে। এগুলো না পড়লে বোঝা যায় না যে মানুষের মেধা কতদূর এগুতে পারে। অর্থাৎ মুল কথা হল জ্ঞানের কোন নির্দিষ্ট সীমারেখা নাই। বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন যা কিছু পড়ার মত তা আমি সবই পড়েছি। বুদ্ধদেব বসু প্রতিদিন ৭/৮ ঘন্টা নিয়মিতভাবে পড়াশুনা করতেন। শামসুর রাহমানকে দেখেছি তিনি দুই তিন দিন কবিতা না লিখতে পারলে অস্থির হয়ে যেতেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : তারকোভস্কির একটা বিখ্যাত উক্তি আছে। তিনি বলেছিলেন যে সত্যকে কখনো সত্যের মধ্যে পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় সত্য অর্জনের পথে। সত্যান্বেষার পথটাই যথার্থ সত্য। কিন্তু সত্য কি? আমরা সত্য কাকে বলব? মিথ্যাই বা কি? শব্দগুলো কি খুবই আপেক্ষিক নয়?</p>
<p>শহীদ কাদরী : সত্য আর মিথ্যার আবর্তন নিয়েই আমাদের জীবন। সত্যকে আবিস্কার করা বা অজর্ন করার জন্য প্রয়োজন একধরনের সাধনা, ত্যাগ। এই ত্যাগই অনেক সময় আমাদেরকে সত্যের কাছাকাছি পৌছে দেয়।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : জাগতিক সৌন্দর্যের মধ্যে মানব সমাজের স্থানতো আছেই।<br />
কবিগুরু বলেছেন,<br />
বিশ্বজোড়া ফাঁদ পেতেছ<br />
কেমনে দিই ফাঁকি<br />
আধেক ধরা পড়েছি গো<br />
আধেক আছে বাকি। (কল্পনা)</p>
<p>ফাঁদ কি সত্যি পাতা আছে? আমরা কি নিত্য সেই ফাঁদে ধরা পড়ছি না? জাগতিক সৌন্দর্য চেতনা কি হারাচ্ছি না?</p>
<p>শহীদ কাদরী : জাগতিক সৌন্দর্য আবার কি? আমাদের রোমান্টিকতার চাদরে মোড়া জীবনের ভেতরেই আছে আরেক কুৎসিত চেহারা। বদলেয়ার সে কারণেই গাছের সাথে বাতাসের ঘর্ষণের যে শব্দ হয় সেই শব্দের মাঝে তিনি কফিনে পেরেক ঠোকার শব্দ শুনতে পেতেন। জাগতিক সৌন্দর্য একটা বোধ ছাড়া আর কিছুই নয়।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : জার্মান দার্শনিক য়োহান্ গেয়র্গ হামান্ বলেছিলেন যে, ‘কবিতাই মানবজাতির মাতৃভাষা’। আপনিও কি তাই মনে করেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী : তাহলেতো খুবই ভালো হত!!(হেসে হেসে)</p>
<p>আদনান সৈয়দ : আপনার প্রিয় কবিতাগুলোর নাম করবেন কি?</p>
<p>শহীদ কাদরী : বৃষ্টি বৃষ্টি, উত্তরাধিকার, কিছুই কিনবো না, অগ্রজের উত্তর ।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : একজন বড় লেখক হতে হলে সবচেয়ে বেশি কি প্রয়োজন?</p>
<p>শহীদ কাদরী : প্রচুর পরিশ্রম। প্রচুর পড়াশোনা আর পাশাপাশি জীবনকে দেখতে হবে বিভিন্ন আঙ্গিকে। লেখক হওয়া একটা সাধনার ব্যাপার।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : চলচ্চিত্র আর সাহিত্যের মধ্যকার সম্পর্কটাকে আপনি কি চোখে দেখেন? এই যে আমরা বলি ‘চলচ্চিত্রায়ন’ আসলে ব্যাপারটা বলতে কী বোঝায়? বলতে চাই এই পদক্ষেপ কি নতুন এক শিল্পিত রূপ সৃষ্টির লক্ষ্যে সাহিত্যের ভুমিকাকে আরো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করবে?</p>
<p>শহীদ কাদরী : চলচ্চিত্রায়নে সাহিত্যের পাশাপাশি এর অন্যান্য কলাকুশলিদের একটা বড় ভুমিকা আছে। যে কোন বড় মহৎ সাহিত্য নিয়ে যদি চলচ্চিত্র হয় তাহলে তা আউটস্ট্যান্ডিং হতে বাধ্য। চলচ্চিত্র যেহেতু বিভিন্ন শিল্পের এক শিল্পিত সমাহার সেক্ষেত্রে সাহিত্যের প্রতিটা চরিত্র, কাহিনী, সুর, রং, এবং সবচেয়ে বড় কথা প্রেক্ষাপটটা তৈরি হয় যথাযথ চলচ্চিত্রায়নের মাধ্যমেই।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: “এই স্যাঁতসেতে ঠাণ্ডা উপাসনালয়ে পেতে দাও<br />
জায়নামায, শুকনো কাঁথা,খাট, স্তুপ স্তুপ, রেশমের স্বাদ।”(আলোকিত গণিকাবৃন্দ)<br />
অথবা<br />
“অথচ এ-শীতে একা, উদ্ধত আমি,<br />
আমি শুধু পোহাই না ম্লান রোদ<br />
প্রতিবেশী পুরুষ নারী আর বিশাল<br />
যে রিক্তগাছ, সে ঈর্ষায় সুখী<br />
নিয়ত উত্তাপ দিই বন্ধু পরিজনে।”(এই শীতে)</p>
<p>আপনার প্রায় প্রতিটি কবিতায় ঠিক এ ধরনের একটা বার্তা ঘুরে ফিরে আসে। কবিতার মাধ্যমে আপনি কী বলতে চান?</p>
<p>শহীদ কাদরী: আমার চেতনায় আর বিশ্বাসে মানুষের সাম্যবাদী বিশ্বাসকে সবসময় লালন করেছি। যে কথাটা আমাদের রাজনীতিবিদরা তাদের বক্তৃতায় অথবা লেখার মাধ্যমে বলতে চান আমি সে কথাটাই আমার কবিতার ভাষায় বলতে চেয়েছি। মানবতাই হল সবচেয়ে বড় দর্শন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: যতদুর জানি আপনি প্রথম দিকে মঙ্গলাচরণ অথবা সুকান্তর ভাব-দর্শনে বিশ্বাসি ছিলেন। আপনার কবিতায় তাদের প্রচ্ছন্ন কোন ছাপ পড়েছে কি?</p>
<p>শহীদ কাদরী: না ঠিক তা নয়। আমি সমর সেনের খুব ভক্ত। তবে সুকান্তর প্রতি দুর্বলতা আমার সবসময় ছিল। কিন্তু এদের ভাব বা দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমি কখনো কবিতা লিখিনি।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আধুনিক কবিতা বলতে আপনি কি বুঝেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী: সাইন্টিফিক আন্ডারস্ট্যান্ডিং অব দি ইউনিভার্স &#8211; হল আধুনিক কবিতার মূল কথা। কবিতায় আধুনিক মনন আর চিন্তার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তিকে স্থান দেওয়া। কবিতা দুরকমের হয়। ১) স্মৃতির উপর নির্ভর করে আর ২) বিশ্ববোধ, দর্শনকে আত্বস্থ করে। তবে কবিতা যখন সময়কে ধরে রাখে, চলমান তথ্য, উপাত্তকে নিয়ে ছুটে চলে তখন সেই কবিতাকে আমরা আধুনিক কবিতা বলতে পারি। যেমন সুধীন দত্ত দার্শনিক চিন্তাকে তাঁর কবিতায় উপস্থাপন করে এক অসাধ্য সাধন করেছেন, কবিতাকে অনেক আধুনিক করেছেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : যতদুর জানি কবিতার বইতো বটেই নতুন যে কোন বইপত্রের খোঁজ পেলে তা পাওয়ার জন্য আপনি ব্যস্ত হয়ে যেতেন। বই সংগ্রহ করার এত উৎস কোথায় পেতেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী: আমরা বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকা কবে বের হবে সে দিকে হা করে চেয়ে থাকতাম। কারণ বুদ্ধদেব বসুর পত্রিকায় কবিতার পাশাপাশি অনেক ধ্র“পদী সাহিত্যের উপর আলোচনা থাকত যা ছিল আমাদের মত সাহিত্যমোদিদের জন্য এক লোভনীয় উপাদান। তাছাড়া বই পাওয়ার অন্যান্য উৎসগুলো ছিল বন্ধুবান্ধব-আত্বিয়স্বজনদের সাথে ব্যাক্তিগত যোগাযোগ, বন্ধুদের কাছ থেকে মেরে দেওয়া, ধার করে কারো কাছ থেকে পাওয়া আর বাংলাবাজার তো ছিলই। যেমন আমি বিউটি বোর্ডিংয়ে খালেদ চৌধুরীর সাথে আড্ডা দিতাম, এর পেছনে আরেকটা কারণ ওনার বাসায় ছিল বিস্তর বইপত্র। খালেদ ছিল আমার দেখা সেই সময়ে সবচেয়ে স্কলার একজন লোক। অসম্ভব পড়–য়া আর বিদ্বান বলতে যা বোঝায় তিনি ছিলেন ঠিক তাই। সেই সময়ে মার্কসের ডাস ক্যাপিটাল বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: খালেদ চৌধুরী সম্পর্কে আরো কিছু বলেন।</p>
<p>শহীদ কাদরী: অসাধারন জ্ঞানী এক জন লোক। খালেদ চৌধুরী, সুকুমার মজুমদার এদের সংস্পর্শে এসেই আমার মনে হল কবিতা লিখে কি হবে? তখন আমরা ভাবতে শুরু করি যে কবিতা লেখা একটা তুচ্ছ ব্যাপার। বস্তুনিষ্ঠ জীবনের সন্ধান করতে হলে বিজ্ঞান আর দর্শনের দ্বারস্থ হতে হবে। রোমান্টিকতার আর কাব্যের হাহাকার জীবন হতে পারে না। খালেদ চৌধুরী আমার চেতনার মুলে এরকমই একটা বিশ্বাস গড়ে দিয়েছিলেন। দুঃখজনক যে খালেদ চৌধুরীর মত এত বড় মাপের ব্যক্তিদের খোঁজ-খবর আর আমরা কেউ রাখি না। আর তিনি লেখালেখির জগৎ থেকে নিজেকেও অনেক গুটিয়ে নিলেন। অথচ লিখলে তিনি নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের লেখক হতে পারতেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: কবিতা লিখে কি হবে- এই বিশ্বাসে বদ্ধমুল হয়ে দীর্ঘদিন আপনি কবিতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন?</p>
<p>শহীদ কাদরীঃ হ্যা, ৫৭ থেকে ৬৩ পর্যন্ত কবিতার পথ দিয়ে হাঁটিনি।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: তাহলে আবার কবিতার পথে কিভাবে ফিরে আসলেন?</p>
<p>শহীদ কাদরীঃ ষাটের দশকে ঢাকার কেসভা রেস্তোরায় সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’-এর প্রকাশনা উৎসব চলছে। কাব্যগ্রন্থটি সৈয়দ হক উৎসর্গ করেছিলেন কবি শামসুর রাহমানকে । সেই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শামসুর রাহমান আমাকে বললেন যে, “ আপনি যে রাস্তার কথা ভাবছেন সেটা আপনার নয়। কবিতার পথই হল আপনার একমাত্র পথ।” সেদিন থেকেই ভাবতে থাকি যে কবিতায় আবার ফিরে আসবো। আর তারই ফসল আমার ‘বৃষ্টি বৃষ্টি’ কবিতা। কবিবন্ধুৃ আল মাহমুদ কবিতাটি দেখেই লুফে নিলেন আর সমকালে ছেপে দিলেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: তাহলে বলা যায় আল মাহমুদ আর শামসুর রাহমানের হাত ধরেই আপনি আবার কবিতার জগতে চলে এলেন।</p>
<p>শহীদ কাদরী: ঠিক তাই। আমি শুধু কবিতায় ফিরে আসিনি, আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হত না যদি না আমার এই দুই কবিবন্ধু তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিতেন। আল মাহমুদ তখন বইঘরে চাকরী করতেন। তাঁর বিপুল উৎসাহেই বইঘর থেকে আমার প্রথম কাব্য গ্রন্থ ’ উত্তরাধিকার’ প্রকশিত হয়। উল্লেখ্য, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসান আর আমার একই মোড়কে চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সেটা ১৯৬৭ সালের কথা।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: দীর্ঘদিন পর আপনি যখন ’বৃষ্টি বৃষ্টি’ কবিতাটি লিখেছিলেন তখন কিন্তু কবিতাটি নিয়ে বেশ সাড়া পড়েছিল। আপনার এ বিষয়ে অভিমত কি?</p>
<p>শহীদ কাদরী: আমি সবসময় বলি যে ‘বৃৃষ্টি বৃষ্টি’ হল আমার ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’। কবিতাটা যখন লিখি সেদিনও বৃষ্টির দিন ছিল। তবে এর এলিনিয়েশন তৈরি করতে এত কাজ যে হয়ে গেছে তা কবিতাটা লেখার সময় টের পাই নি। যারা অত্যাচারি তারা সবসময় ভীত, আর বৃষ্টির জলে ধুয়ে মুছে দিচ্ছে আমাদের সমস্ত পাপচিহ্ন। সে কারণেই আমি নূহের সেই প্লাবনকে কবিতায় এলিনিয়েশন হিশেবে ব্যবহার করেছি। এলিয়ট যে অর্থে মরুভূমিকে তার ওয়েস্ট ল্যান্ড-এ নিয়ে এসেছিলেন।<br />
আদনান সৈয়দ: আমাদের চৈতন্যপ্রবাহে তুমি ট্রাফিক আইল্যান্ড/ হে রবীন্দ্রনাথ(রবীন্দ্রনাথ)- রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আগেও এবং এখনও অনেককেই বিরুপ সমালোচনা করতে দেখি। ইদানিং বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু লেখক-সাহিত্যিকরাও সেই একই সুরের প্রতিধ্বনি করতে ব্যতিব্যাস্ত। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।</p>
<p>শহীদ কাদরী : রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আমাদের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথা চিন্তাই করা যায় না। আমাদের সৌভাগ্য যে বাংলায় রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল। তা না হলে আমাদের বাংলা সাহিত্য আধুনিক আন্তর্জাতিক মানে পৌছতে হয়তো আরো একশো বছর অপেক্ষা করতে হত। শুধু সাহিত্যে নয় আমাদের আধুনিক চিন্তাধারা এবং মননে রবীন্দ্রনাথের ভুমিকা অতুলনীয়। নির্দ্বিধায় তিনি আমাদের চৈতন্যপ্রবাহে এক ট্রাফিক আইল্যান্ড।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: “না,না, তার কথা আর নয়, সেই<br />
বেরিয়েছে সকাল বেলায় সে তো- শহীদ কাদরী বাড়ি নেই” (অগ্রজের উত্তর)<br />
শহীদ কাদরীর মত বহেমিয়ান আড্ডাবাজ কবিরা কি বাড়িতে থাকতে পারেন? নরম তুল তুলে শয্যাকে অবজ্ঞা করে যারা রেক্সে, বিউটি বোর্ডিংএ অথবা স্রেফ পার্কে বসে রাতের পর রাত আড্ডায় বুদ হয়ে থাকতেন তাদের জীবন যে অতৃপ্তের নেশায় ডুবে আছে তাতো বেশ বোঝাই যায়। কথা হল কী সেই পলায়ন, আত্মনিমজ্জন যা একজন কবিকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়?</p>
<p>শহীদ কাদরী: একজন কবির জীবন অন্যান্য সাধারণ মানুষের জীবন থেকে একটু আলাদা। তারা একটা অতৃপ্তি নিয়ে সবসময় ঘুরে বেড়ান। জীবনকে আরো কাছ থেকে বুঝতে চান, জানতে চান। আমরা নিজেদেরকে কতটুকু জানি বা বুঝি? এই পলায়নই হল একজন কবির মুক্তি, তার ঠিকানা।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আপনার কবিতায় প্রচ্ছন্নভাবে যুদ্ধবিরোধী, সাম্যবাদ, অথবা মানবতার একটা সুর কোথাও না কোথাও বেজে ওঠে।</p>
<p>শহীদ কাদরী: আমার দার্শনিক জগৎটাই তাই। আমার দার্শনিক বিশ্বাস আমার কবিতায় ঘুরে ফিরে চলে এসেছে বারবার। তাছাড়া আমার ছেলেবেলা কলকাতায় আমি বেড়ে উঠেছিলাম যুদ্ধ, মানুষের সাথে মানুষের অসমতা, হিংস্রতা এই বিষয়গুলোকে খুব কাছ থেকে আত্বস্থ করে।</p>
<p>আদনান সৈয়দঃ কবি শামসুর রাহমানের কবিতাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী: সন্দেহ নেই কবি শামসুর রাহমন একজন অনেক বড় মাপের কবি। তার কবিতায় নারী, নিসর্গ প্রেমের পাশাপাশি তিনি আমাদের মনোজগৎ এবং পারিপার্শিক জগৎকেও ছুঁয়ে যেতে পেড়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা কবিতার সীমানাকে তিনি অনেক দুর পর্যšত বিস্তৃত করেছেন। আমি মনে করি কবি শামসুর রাহমান ছিলেন দুই বাংলার ভেতরই একজন প্রধান কবি।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আপনার কি মনে হয় যে সাহিত্যের সমালোচনা সবাই হজম করতে পারে?</p>
<p>শহীদ কাদরী : এটা খুবই একটা সত্যি কথা। আসলে সত্যিকার অর্থে সাহিত্যের সমালোচনা কেউ সহ্য করতে পারে না। মনে আছে বটুকে (প্রয়াত সাহিত্যিক মাহমুদুল হক) যখন বললাম যে লেখায় কোন অহেতুক কোন চর্বি আনবি না, অতিরিক্ত কোন ঘটনার বর্ণনা দিবি না। বটু আমার সে কথায় কোন রকম রাগ না হয়ে তা সে নিজের লেখায় কাজে লাগিয়েছে। শামসুর রাহমান আমাদের সব কবিদের নেতা ছিলেন। আমাদের কবিতা সম্মন্ধে অনেক উপদেশ দিতেন। আমরাও তার উপদেশ কখনো শুনতাম কখনো শুনতাম না। সবচেয়ে বড় কথা তার কাছে আমাদের প্রত্যাশার মাত্রাটা ছিল অনেক। কিন্তু তিনি সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। তবে সাহিত্যের যথাযথ সমালোচনা মানেই হল লেখককে সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা। আমরা সে কাজটি অনেক সময়ই ঠিক ভাবে করতে পারি না।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : কবিতা অনেক ক্ষেত্রেই কল্পনানির্ভর আর বিজ্ঞান চলে যুক্তির উপর ভর করে। তাহলে কি বলবো কবিতার সাথে বিজ্ঞানের একটা চিরায়ত দ্বন্দ্ব লেগেই আছে?</p>
<p>শহীদ কাদরী: একসময় কবিতার লিখিত কোন আকার ছিল না। মানুষের মুখে মুখে কবিতা চর্চা হত। পরে মুদ্রণযন্ত্র এল। ইউরোপীয় রেনেসাঁর কবিতার উপর প্রভাব বিস্তার করলো। এদিকে বিজ্ঞান মোটামুটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলেও টেকনোলজি বিজ্ঞানকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে মানুষ মধ্যযুগীয় ঈশ্বর চিন্তা থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হল। তা হলে দেখা যাচ্ছে কবিতা আর বিজ্ঞান পাশাপাশিই সহঅবস্থানেই চলছে। দ্বন্দ্ব থাকবে কেন?</p>
<p>আদনন সৈয়দ: আপনার কি মনে হয় কবিতার পাঠক এখন আগের চেয়ে কমে গেছে?</p>
<p>শহীদ কাদরীঃ একসময়ে পেশোয়ারে একটা বাজার ছিল নাম কিচ্ছাখানি বাজার। পাগড়ী পরা পাঠানরা চা নিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিত এই কিচ্ছাখানি বাজারে। তাদের ঝুলিতে জমিয়ে রাখা যতরকম কিচ্ছা কাহিনী থাকতো তার সবই একজন আরেকজন কে শুনাতো আর রাতভর আসর কিচ্ছার আসর জমাতো। এটা ছিল এক ধরনের বিনোদন। এখন ফুটবল খেলা যেমন বিনোদন, কবিতার বই পড়াও তেমন একটা বিনোদন। এত হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: যদি কবি না হতেন তাহলে কী ধরনের পেশা বেছে নিতেন আপনি?</p>
<p>শহীদ কাদরী: স্রেফ বাউন্ডেলে হতাম। রাস্তা ঘাটে আড্ডা দিতাম আর দাউ দাউ করে ঘুড়ে বেড়াতাম।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আপনি নাকি আড্ডা দিতে যেয়ে বাড়ি থেকে প্রায়ই উধাও হয়ে যেতেন?</p>
<p>শহীদ কাদরীঃ একবার সাতদিন আড্ডা দিতে যেয়ে লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার বন্ধু আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ঢাকা কলেজে সদ্য জয়েন করেছেন। আবার ব্যাচেলর। তার বাসায় দিনের পর দিন আমাদের আড্ডা জমত। আড্ডা বসতো বিউটি বোর্ডিং, রেক্সে। কখনো কখনো রেষ্টুরেন্টে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিয়েছি। একসময় গভীর রাতে রেষ্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যেত তখন আমরা রাস্তায় হাটতাম আর আড্ডা দিতাম।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আড্ডার বিষয় কী ছিল?</p>
<p>শহীদ কাদরী: অবশ্যই লিটারেরী আড্ডা হত। তবে সাহিত্য ছাড়াও অনেক বিষয় নিয়েও আড্ডা চলতো।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আপনাদের আড্ডায় যাঁরা থাকতেন..</p>
<p>শহীদ কাদরী: সৈয়দ শামসুল হক, ফজল শাহাবুদ্দিন, শামসুর রাহমান, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সিকদার আমিনুল হক, মাহমুদুল হক কখনো কখনো আল মাহমুদ এরা সবাই থাকতেন আড্ডায়। শেষের দিকে আব্দুল মান্নান সৈয়দ, আসাদ চৌধুরী, রফিক আজাদসহ অনেকেই আমাদের আড্ডায় আসতেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: একজন সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে একজন লেখক, শিল্পী বা সাহিত্যিকের জীবনের পার্থক্যটা কোথায়?</p>
<p>শহীদ কাদরী: আমি আগেও বলেছি যে শিল্পী-সাহিত্যিকদের রক্তে একটা অস্থিরতা সবসময় থাকে। এঁরা সবসময় একটা অস্থিরতাকে কাঁধে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ান। এঁদের জীবন সাধারণ মানুষের জীবনের থেকে একটু আলাদা হয়। একটা অতৃপ্তি নিয়ে তাদের ঁেবচে থাকতে হয়।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: অতৃপ্তিটা কীসের?</p>
<p>শহীদ কাদরী: এই যে আমাদের জীবন এটাই কি সত্যিকারের জীবন? মোটেও না। এর বাইরেও আলাদা একটা জীবনসত্তা আছে। সেই জীবনটাকে খোঁজার জন্যই এই অতৃপ্তি। সেজন্যই আমার সবসময় মনে হত বোহেমিয়ান জীবনটাই হল বেটার লাইফ।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আপনিতো সেই ফেলে আসা আড্ডা থেকে অনেক দূরে? আড্ডাগুলোকে মিস করেন না?</p>
<p>শহীদ কাদরীঃ যদি সময় মত বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে নিশ্চয়ই আবার আড্ডায় বসতাম। অবশ্য আড্ডার জন্য চাই মধ্যাকর্ষণ শক্তি। সেই মধ্যাকর্ষণ শক্তি চলে গেলে আড্ডা আর জমে না।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: আপনি যে জায়গা গুলোতে আড্ডা দিতেন তারও চেহারার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ধরেন যদি আবার সুযোগ পেয়ে যান বাংলাদেশে এসে আড্ডা দেবার, পারবেন কী আবার আড্ডা জমাতে?</p>
<p>শহীদ কাদরীঃ আড্ডার কী কোন বয়স আছে? বন্ধুত্ব বয়সের সীমা মেনে চলে না। তবে এখনো মনে হয় আবার যদি সেই পুরনো বন্ধুদের সাথে ঠিক আগের মতই আড্ডা দেওয়া যেত! এখনতো আমি শারীরিকভাবেই অসুস্থ। তারপরও মাঝে মাঝে মনে হয় কাপড়-চোপড় পড়ে বাইরে কোথাও ধাই ধাই করে ঘুরে আসি।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: শুনতে পাই আপনার নাকি এক ভবঘুরে হোমলেস আমেরিকান কবি বন্ধু জুটেছিল। ঘটনাটা কী একটু খুলে বলবেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী: আমি তখন থাকি বোস্টনে। তার সাথে পরিচয় সেখানেই একটা কবিতার বইয়ের দোকানে। থাকতেন একটা হোমলেসদের শেল্টারে। প্রথম দেখে মনে হয়নি যে এই ব্যক্তিটি একজন কবি হতে পারেন। আমার সাথে পরিচয় হতেই বললেন যে তিনি একজন কবি এবং ওখানকার নামকরা একটা সাহিত্য ম্যাগাজিনে নিয়মিত কবিতা লিখেন। তারপরের সপ্তাহেই দেখি সত্যি সত্যি তার চারটা কবিতা সাহিত্য পাতায় জ্বল জ্বল করছে। ব্যাস, সেদিন থেকেই তার সাথে বন্ধুত্ব।</p>
<p>আদনান সৈয়দ: বাংলাদেশ থেকে কোন লেখক-সাহিত্যিক এলেই আপনি তাঁদের সাথে কথা বলতে ব্যাকুল থাকেন।</p>
<p>শহীদ কাদরী: বাংলাদেশের খবর জানতে চাই। বাংলাদেশের নতুন লেখকদের লেখা, তাদের চিন্তা-ভাবনা, মনন এসবের খবর নিতে চাই। এখন নতুন যাঁরা লিখছেন তাদের চিন্তা-ভাবনার সাথে নিজের চিন্তা-ভাবনার মিল অথবা অমিলগুলো খুঁজে বেড় করার চেষ্টা করি।</p>
<p>( নিউইয়র্ক, নভেম্বর ২০০৮)</p>
<p>দ্বিতীয় পর্ব<br />
কাব্যগ্রন্থ আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও প্রসঙ্গে<br />
বেশ কয়েকটা কবিতার খসড়া ইতিমধ্যেই করে ফেলেছি। খুব শিগগিরই এতে হাত দেব।</p>
<p>১৯৭৮ সালে দেশত্যাগ করার পর শহীদ কাদরী নিজেও ভাবেন নি যে তাঁর চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ কখনো আলোর মুখ দেখবে। “তাহলে কবিতা কি আর লিখবেন না?” শুধোলেই তার সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল, “ আরে দূর কবিতার কথা বাদ দাও, কবিতা লিখে আর কি হবে? ” কিন্তু একজন কবির ক্ষেত্রে সাধারণত যা হয়, ভীনদেশি আলো-হাওয়ায় ব্যস্ত জীবন-যাপন, দীপ্র আধুনিকতা, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বেহিশেবি আড্ডায় ডুবে থাকার হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও কবিতার কাছে তিনি ফিরে এসেছেন বারবার। কবিতার কাছে কবির এই নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ফসল দীঘ্র ত্রিশ বছর পর এবারের বই মেলায় প্রকাশিত কবি শহীদ কাদরীর চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ , “আমার চুম্বন গুলো পৌছে দাও”।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : আপনার অনেক কবি ভক্ত ধরেই নিয়েছিলেন যে আপনি বুঝি সত্যি সত্যি কবিতাকে নির্বাসন দিয়েছেন। কিন্তু তাদের এই ধারণায় ছাই দিয়ে আপনার চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ বের হল। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়াটি জানতে চাই।</p>
<p>শহীদ কাদরী : আমার এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো বিভিন্ন সময়ের লেখা। তবে বেশির ভাগ কবিতাই লেখা হয়েছে প্রবাসী জীবনের বিভিন্ন সময়ে। কখনো ভাবিনি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু কবিতা নিয়ে চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ বের হতে পারবে। বন্ধু জ্যোতির(কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত) উৎসাহেই গ্রন্থটি বের হল। তবে এ কথা ঠিক যে আমার একক প্রচেষ্টায় এই গ্রন্থ কখনো আলো মুখ দেখতো কিনা সন্দেহ। বন্ধু-বান্ধবদের উৎসাহ, নীরার(শহীদ কাদরীর স্ত্রী) উপর্যপুরি চাপে শেষপর্যন্ত আমি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলাম। গ্রন্থটি আলোর মুখ দেখল।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, এই তিনটি কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি চতুর্থ কাব্যগ্রন্থটির মুল্যায়ন আপনি কীভাবে করবেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী : এই মুল্যায়নের কাজতো পাঠকের, সমালোচকের। তবে এই গ্রন্থটিতে অনেক লিরিক্যাল কবিতা স্থান পেয়েছে যা আমার আগের কাব্যগ্রন্থগুলিতে স্থান পায় নি। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিন্তার পরিবর্তনতো আসতেই পারে। সেদিক থেকে এই কবিতাগুলোতে নিশ্চয়ই একটু ভিন্নতার ছাপ থাকবেই।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : তাহলে আমরা আশা করতে পারি খুব শিগগিরই কবি শহীদ কাদরীর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ আমাদের হাতে এসে পৌঁছবে?</p>
<p>শহীদ কাদরী : আমারো সেরকম ইচ্ছে। তবে জানোইতো, শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না, এর মধ্যে কবিতা লেখা সত্যি খুব কঠিন কাজ। তারপরও বেশ কয়েকটা কবিতার খসড়া ইতিমধ্যেই করে ফেলেছি। খুব শিগগিরই এতে হাত দিব।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : দীর্ঘ তিন দশক পর আপনার চতুর্থ কাব্য গ্রন্থটি বের হল। তা এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আপনার এই কাব্য গ্রন্থটি আপনার ভক্ত পাঠকরা কীভাবে নেবেন এ বিষয় নিয়ে কি চিন্তিত ছিলেন?</p>
<p>শহীদ কাদরী : দুশ্চিন্তাতো ছিলই আর তা এখনো আছে। আমার এক বন্ধু সেদিন জানালেন যে পাঠকরা নাকি গ্রন্থটি খুব ভালোবাসার সাথেই গ্রহণ করেছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আর সত্যি বলতে, আমিতো এখনো ভাবতে পারি না যে মানুষজন কবি শহীদ কাদরীকে এখনো এভাবে মনে রেখেছেন।</p>
<p>আদনান সৈয়দ : ’আমার চুম্বন গুলো পৌছে দাও’ গ্রন্থটির নামকরণ নিয়ে দুটো কথা। অনেকেই ভেবেছিলেন যে এটা বুঝি একটা রোমান্টিক কবিতার বই। এই কাব্য গ্রন্থটির মাধ্যমে আপনি কাকে আপনার চুম্বনগুলো পৌছে দিতে চান? কে সেই আপনার প্রিয়া?</p>
<p>শহীদ কাদরী : তুমি ঠিকই বলেছ। এই নাম থেকে এরকম একটা ধারণা হতে পারে তা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। তবে ’আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও’ কবিতাটিতেই কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরটা দেওয়া আছে। আমি আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দিতে চাই আমার প্রিয় স্বদেশকে। আমার দেশ হল আমার প্রিয়া, তাকেই আমার সমস্ত ভালোবাসা আমার চুম্বনের মাধ্যমে পৌছে দিতে চাই।<br />
(সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ৩/৯/২০০৯, নিউইয়র্ক, স্থান: শহীদ কাদরীর জ্যামাইকার বাসভবন)<br />
সূত্র: বাংলামাটি, মে ২০০৯</p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার'>আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a7%97%e0%a6%81%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%a6/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও'>আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও</a></li>
<li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%87/' rel='bookmark' title='Permanent Link: ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে যার মতো প্রবাহিত করতে চাইছে: ভাষাযোদ্ধা আব্দুল মতিন'>ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে যার মতো প্রবাহিত করতে চাইছে: ভাষাযোদ্ধা আব্দুল মতিন</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তারাশঙ্করের উপন্যাসে সাঁতার কেটেছি তো বিভূতিভূষণের উপন্যাসে ডুবসাঁতার কাটতে হয়েছে &#8211; দুটোই সানন্দ সন্তরণ: শওকত আলী</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%81/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%81/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 08 Mar 2010 10:59:14 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=464</guid>
		<description><![CDATA[সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মারুফ রায়হান
এখনকার বাংলা কথাসাহিত্যের পাঠকদের কাছে লেখক শওকত আলীর (জন্ম ১৯৩৬) নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত। জীবনকে গভীরভাবে দেখার এবং উপলব্ধি করার স্বাক্ষর তাঁর সকল রচনাতেই লক্ষ্য করা যায়। অতীতের জীবন যেমন প্রায় অনুপুঙ্খ ফুটে ওঠে তাঁর লেখায়, তেমনি বর্তমানের বাস্তবতাও বহুমাত্রিকভাবে তাঁর রচনায় ধরা পড়ে। তৃণমূলের অপরাজেয় সংগ্রামী মানুষদের যেন পাওয়া যায়, তেমনি নগরবাসী [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার'>আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মারুফ রায়হান</p>
<p>এখনকার বাংলা কথাসাহিত্যের পাঠকদের কাছে লেখক শওকত আলীর (জন্ম ১৯৩৬) নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত। জীবনকে গভীরভাবে দেখার এবং উপলব্ধি করার স্বাক্ষর তাঁর সকল রচনাতেই লক্ষ্য করা যায়। অতীতের জীবন যেমন প্রায় অনুপুঙ্খ ফুটে ওঠে তাঁর লেখায়, তেমনি বর্তমানের বাস্তবতাও বহুমাত্রিকভাবে তাঁর রচনায় ধরা পড়ে। তৃণমূলের অপরাজেয় সংগ্রামী মানুষদের যেন পাওয়া যায়, তেমনি নগরবাসী বিদ্রোহী তারুণ্যের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাহিনীও তাঁর রচনায় থাকে। আরও থাকে শোষক ও শোষিতের বহুমাত্রিক সংগ্রামের কথা। তাঁর কাহিনীতে ভালোবাসা ঘৃণা ক্রোধ পরতে পরতে চরিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়াকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলে।</p>
<p>শিক্ষা : শ্রীরামপুর মিশনারি স্কুল ও রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুল। কলেজ শিক্ষা : দিনাজপুরে, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জীবিকা : শিক্ষকতা, স্কুল ও কলেজ, ৩ বছর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ২৫ বছর। জেলা গেজেটিয়ার সম্পাদনা ৩ বছর। অধ্যক্ষতা : সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয় ৩ বছর। ১৯৯৩-অবসর। পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৯১), ফিলিপ্স পুরস্কার (২বার : ১৯৮৬, ১৯৯২), আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্মৃতি পুরস্কার, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর সম্মাননা ও গোলাম মোর্তজা স্মৃতি পদক।</p>
<p>মারুফ রায়হান : আপনার লেখালেখির সূচনাপর্ব এবং ক্রমশ লেখক হয়ে ওঠা সম্পর্কে জানতে চাই।</p>
<p>শওকত আলী : আমার লেখালেখির আরম্ভ বালক-বয়সে। যখন বই পড়তে পারি এবং লিখতে শিখেছি। বই পড়তে মজা লাগতো, আর পড়েছিও অনেকÑ যখন তখন, ফাঁক পেলেইÑ খেলাধুলার চাইতে বই পড়ে বেশি মজা পেতাম। হাতের কাছে বই পেয়েও যেতামÑ পত্রপত্রিকাও।</p>
<p>উত্তরবঙ্গের এক থানা টাউন রায়গঞ্জের ক্ষয়ে যাওয়া এক জোতদার পরিবারে জন্মÑ ক্ষয়ে যাওয়া বলছি এজন্য যে জমির আয়ে সংসার চলতো না। কিন্তু হলে কী হবে অনেক বই ছিলো বাড়িতেÑ পত্রপত্রিকাও আসতো। তাছাড়া বাড়ির কাছেই একটা পাবলিক লাইব্রেরি ছিলো, সেখান থেকেও বই আনতেন বাবা। তিনি ইংরেজি বাংলা দুই ভাষাতেই নানা বিষয়ের ওপর লেখা বই পড়তেন। আর মা পড়তেন শুধু বাংলা বই আর পত্রিকাÑ তাঁর আকর্ষণের বিষয় ছিলো গল্প আর উপন্যাস। স্কুলের সীমানা ছাড়ার আগেই বাংলা ভাষার লেখক-কবিদের নাম জানা হয়ে গিয়েছিলো। বঙ্কিম, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, মীর মোশাররফ, নজরুল, জসীমউদ্দীন, এঁদের নাম আর কিছু রচনার সঙ্গে তো পরিচয় হয়েছিলোই, তারপরও পরিচয় হয়েছিলো তারাশঙ্কর-বিভূতি, মানিকÑ এঁদের লেখার সঙ্গেওÑ এমনকি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সুবোধ ঘোষ, বনফুল, সমরেশ বসুÑ এঁদের লেখাও একেবারে অপরিচিত ছিলো না। শওকত ওসমানের নামও চেনা হয়ে গিয়েছিলো। বই পেতাম না, কিন্তু পত্রপত্রিকা তো পেতাম। তাছাড়া নামের মিল তো ছিলোই। আমার পরের ভাই ডা. ওসমানের নামও শওকত ওসমানের নাম থেকে নেওয়া। একই লেখকের নাম কাকতালীয়ভাবে দুই ভাইয়ের নাম হয়ে গেছে। আমাদের পরিবারে নাম নিয়ে আরও একটি সাদৃশ্যের ঘটনা আছে আমার বড় ভাইয়ের নাম রাখা হয়েছিলো মোহাম্মদ আলী। ওই সময় আলী ব্রাদার্সের (শওকত আলী ও মোহাম্মদ আলী) ভূমিকা ভারতের রাজনীতিতে খুব জোরালো ছিলো। তো আমার বড় ভাইয়ের নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলীÑ ওই ঘটনার ৫/৬ বছর পরে আমার জন্ম হলে আমার নামও রাখা হয় আলী ব্রাদার্সকে স্মরণ করে। তাতে ছোট ভাইয়ের নাম ধারণ করে আমার বড় ভাই, আর আমি ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমার মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয় বড় ভাইয়ের নাম।</p>
<p>তো যাক সে প্রসঙ্গÑ লেখা শুরুর কথা বলি। ঐ পড়তে পড়তেই আমার লিখতে ইচ্ছা করতো। তাই লিখতামও, কিন্তু কোনোটাই শেষ হতো না। তার আগেই ছিঁড়ে ফেলে দিতাম। কেউ জানতো না আমার এই খাতার পাতা নষ্ট করে লেখা আর ছিঁড়ে ফেলে দেওয়ার কথা। তবে মায়ের নজর এড়াতে পারিনি। তিনি দেখতেন, কিন্তু কিছু বলতেন না। আমার চোখে চোখে তাকিয়ে থাকতেন। মা মারা যান ১৯৪৯এÑ পেটের নাড়িতে ক্যান্সার হয়েছিলো। খুবই যন্ত্রণা হতো। রাতে ঘুমোতে পারতেন না। অন্য ছেলেমেয়ে কাউকে নয়, আমাকেই বলতেন গল্পের বই পড়ে শোনাতে। রাতের পর রাত জেগে শিয়রের কাছে বসে লণ্ঠনের আলোয় আমি মাকে বই পড়ে শুনিয়েছি। তারাশঙ্কর আর বিভূতিভূষণের লেখা মায়ের খুব ভালো লাগতোÑ ওঁদের প্রায় সব উপন্যাসই পড়া হয়ে যায়। মা ১৯৪৯ এর পহেলা রমজানে চিরবিদায় নেন।</p>
<p>মায়ের ঐ গল্প-উপন্যাসপ্রিয়তা আমার সাহিত্যরুচি ও লেখালেখির একটা কারণ হতে পারে বলে মনে হওয়াতেই প্রসঙ্গটা এখানে তুললাম।</p>
<p>কিন্তু লেখালেখি করে খাতার পৃষ্ঠা নষ্ট এবং ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা আমার ক্লাসের বন্ধুরা কেউ কেউ জানলেও তাদের এব্যাপারে কৌতূহলী হতে দেখিনি। আমার পাগলামির ঘটনা নিয়ে ওদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টাও ওরা কখনো করেনি। বই পড়া, লেখালেখি, বা নিজের মধ্যে ডুবে থাকার আরো একটা কারণ বোধ হয় এই যে, তখন চারদিকে সব কিছু টালমাটাল অস্থির, চারদিকে আতঙ্ক আর আশঙ্কা। ২য় মহাযুদ্ধ শেষ হচ্ছে। দুর্ভিক্ষের ছায়া যেতে যেতেও যায় নাÑ কখন যে দাঙ্গা হাঙ্গামা লেগে যায় ঠিক নেই। একদিকে স্লোগান ওঠে লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান তো অন্যদিকে আরো জোরে তার প্রত্যুত্তরে শোনা যায় ভারতমাতা কি জয়। এমন অবস্থার মধ্যেই দেশভাগ হয়ে গেলো। নোয়াখালি আর কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও হয়ে গেছে। খুব জোরে শোরে চলছে একদিক থেকে আর একদিকে পালানোর পালা।  বাইরে তাকালেই ভয় আর আশঙ্কা, তখন ঘরের দরজা জানালা যেমন তেমনি মনেরও দরজা জানালা বন্ধ করে রাখতে হতো। আর ওই ভয়, আতঙ্কের কথা লিখতে চেষ্টা করতাম। শেষ পর্যন্ত পারিনি; কিন্তু চেষ্টাটা করতাম।</p>
<p>১৯৫২ সালের মাঝামাঝি সময়ে জন্মভূমি ছেড়ে চলে আসতে হয়। মুসলমানদের নতুন দেশ পাকিস্তান-এর পূর্বাঞ্চলের জেলা শহরে দিনাজপুরে। সেখানেই ঠাঁই গাড়া হয়। ওখানকার কলেজেই পড়াশোনা চালু হয়ে যায়। বন্ধুও জোটে। তবে এরা যেন একটু বেশি ঘনিষ্ঠ- যাদের ছেড়ে এসেছি তারা সবাই বাড়িতে ডেকে নিয়ে যেতো না। আসতোও না আমাদের বাড়িতে। কী খাই, কোন বই পড়ি, কীভাবে থাকি এসব খোঁজ খবর নেওয়ার দরকারবোধ করতো না। এরা একেবারে উল্টো। এরা জেনে ফেলে যে আমি লেখালেখি করি। ক্রিকেটের মাঠে যাই বটে। কিন্তু ওরা খেলা দেখে আর আমি ওদের পাশে বসে বই পড়ি। ওদেরই চাপাচাপিতে কলেজের বার্ষিক সাহিত্য প্রতিযোগিতার অংশ নিতে হয়। প্রথম পুরস্কার পাওয়া গেলে সেই প্রবন্ধ স্থানীয় সাহিত্যপত্রিকায় তা প্রকাশের ব্যবস্থা করে তারাই, অবশ্য একজন স্যার তাদের সাহায্য করেছিলেন। ওদের মধ্যে কেউ কেউ বাসায় এসে আমার খাতা খুলে আমার অসমাপ্ত কবিতা হোক কি গল্প হোক, পড়তো। ওদেরই চাপে পড়ে ঢাকায় পত্রিকায় কবিতা পাঠানো হয়, গল্পও। কিন্তু দুটি কি একটা লেখা ছাপানো হয়েছিল। বাকিগুলো সম্পাদকদের ছাপার যোগ্য বিবেচিত হয়নি।</p>
<p>১৯৫৪ সালের প্রায় পুরোটাই জেলখানায় কাটে (সম্ভবত এপ্রিল-নভেম্বরে)। ওখানে গ্রামাঞ্চলের কৃষক আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপ এবং বন্ধুত্ব দুই-ই হয়- দু’চারজন খুবই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ওদের কাছেই তেভাগার নানান ঘটনার কথা জানতে পারি। ওদের সান্নিধ্য পাওয়াতেই জীবনের একটা বন্ধ দরজা যেন খুলে যায়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বি এ পরীক্ষা দিই এবং কোনো রকমে পাস করি। পরীক্ষার পর এবং রেজাল্ট বেরুবার আগে যেন কিছু দিন সময় পাওয়া যায়। এরই মধ্যে ফাঁক, সুবিধা এবং সঙ্গী পেলে চলে যেতাম গ্রামাঞ্চলে একেবারে ভেতরের দিকে। সেই অভিজ্ঞতাও আমাকে অনেকখানি তৈরি করে দিয়েছে। এমএ পরীক্ষার পরে গ্রামের দিকে গিয়ে স্কুল মাস্টারি করেছি। কলেজের মাস্টারি আরম্ভ করি ঠাকুরগাঁও-এÑ তেভাগার লড়াই যে অঞ্চলে হয়েছিল সে অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।</p>
<p>ওই রকম ঘোরাঘুরি করতে করতেই যা দেখি, যা শুনি, যা বুঝি সবই লিখতে ইচ্ছে করতো। লিখতামও কবিতা যেমন, তেমন গল্পও, ঢাকার পত্রিকাতে পাঠিয়েছি, কলকাতার পত্রিকাতেও। দুটো একটা ছাপাও হয়েছে। মনে পড়ে কলকাতার নতুন সাহিত্য পত্রিকায় গল্প ছাপা হয়েছিল, আর ঢাকার ইত্তেহাদ পত্রিকার সাপ্তাহিক সাহিত্যের পাতায় গল্প। তখনও লেখক বা কবি কারো দলেই পরিচয় হয়নি। তা হলো ১৯৫৫-তে যখন ঢাকায় এমএ পড়তে এলাম।</p>
<p>বাংলা বিভাগের একাধিক ছাত্রের তখন লেখক কবি-সাংবাদিক হিসেবে বেশ নাম যশ। তাদের তুলনায় আমার অবস্থা ছিল একেবারেই নগণ্য। কিন্তু তবু লেখালেখির সূত্রে আহসান হাবীব, হাসান হাফিজুর রহমান এবং সিকান্দার আবু জাফরের সঙ্গে পরিচিত হই এবং তাঁদের স্নেহ লাভ করি। তাঁরা আমার ওই সময়ের কাঁচা লেখাও পড়তেন এবং আমাকে আন্তরিকভাবে উৎসাহ দিতেন। আমার লেখা ওরা নিজে যেমন প্রকাশ করেছেন তেমনি অন্য সম্পাদকদের ছাপাবার জন্য বলেছেন। আর এইভাবেই আমার লেখক পরিচয়টা জানাজানি হয়ে যায়।</p>
<p>আসলেই আমি লেখক হতে পেরেছি কি না তা অবশ্য এখনও আমি জানি না।</p>
<p>মারুফ : লেখালেখির শুরুর দিকে কথাসাহিত্যে আপনার আদর্শ কে ছিলেন? কার কার রচনা আপনাকে অনুপ্রাণিত করতো? পরবর্তীকালে কি আপনার সেই সাহিত্যবিবেচনায় কোনো তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে?</p>
<p>শওকত আলী : কথাসাহিত্যে আদর্শ লেখক বলে কি কোনো সৃজনশীল লেখক থাকে? আমার মনে হয় না। একজন সৃজনশীল লেখকের লেখা একবার পড়লেই পড়া শেষ হয় না কারণ ঐ লেখা যতোবার পড়া যায় ততোবারই নতুন কিছু পাওয়া যায়- আর সেই নতুন জিনিসটা ভালো লাগতে পারে আবার খারাপও লাগতে পারে। আর আদর্শ শব্দটার একেবারে নিষ্কলুষ ভালো। যাকে কোনো লেখার জন্য মাথায় তুললাম, আবার তার অন্যকোনো লেখা পড়ে মনে কষ্ট লাগে অথবা হতাশ হই। তাই সৃজনশীল মানুষের সৃষ্টি মাত্রই আদর্শ হতে পারে না। কৈশোর বা যৌবনের প্রথম দিকে যাদের লেখা পড়তাম তাদের মধ্যে অনেকের লেখাই মনকে দখল করে নিতো কিন্তু সেই দখল স্থায়ী হতো না। বনফুলের গল্প পড়ে মুগ্ধ হয়েছি একরকমের তো সুবোধ ঘোষের গল্প পড়ে মুগ্ধ হয়েছি অন্যরকমের। তারাশঙ্করের উপন্যাসে সাঁতার কেটেছি তো বিভূতিভূষণের উপন্যাসে ডুবসাঁতার কাটতে হয়েছে দুটোই সানন্দ সন্তরণ। আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস পড়ার সময় তো দুপুরের ঠা ঠা রোদে হাঁটতে হাঁটতে সোনা রূপো কুড়িয়েছি। সর্বত্রই অভিজ্ঞতা নতুন থেকে নতুনতর। কাকে আদর্শ বলে মাথায় তুলবো? তুলতে হলে সবাইকে মাথার ওপরে তুলতে হবে আর অতো ভার মাথায় নিয়ে কি পথ চলা যায়? যদি ঘাড় ভেঙ্গে যায়? তাই আদর্শ বলে কাউকে গ্রহণ করতে পারি নি। বরং বলা যায় পথের সন্ধান দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের পথ সন্ধান একেজনের একেক দিকে। তাতে মুশকিল আরও বেশি। কার দেখানো পথে চলবো? তাই নিজের পথ খুঁজে সেই পথে চলার চেষ্টা করেছি। সেই পথে চলে কোথাও পৌঁছুতে পেরেছি কি না জানি না।</p>
<p>মারুফ : মুক্তিযুদ্ধকালে আপনি কোথায় ছিলেন? আপনার অনুভূতি কিরকম ছিল? তাৎক্ষণিকভাবে গণহত্যার কোনো সাহিত্যিক প্রতিবাদের উদ্যোগ কি গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছিল?</p>
<p>শওকত আলী : মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকের মতো আমিও ঢাকাতেই ছিলাম। একেবারে শুরুতে অর্থাৎ ২৭ মার্চে ঢাকা ছেড়ে সপরিবারে বিক্রমপুরে ছোট ভাই ওসমানের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেই। ২০/২৫ দিন থাকার পর আবার ঢাকায় ফিরে এসে নতুন বাসা ভাড়া করে বসবাস আরম্ভ করি। আবার যুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে ১৪ই ডিসেম্বর সপরিবারে ঢাকার বাইরে যাই, এবার সম্বন্ধীর শ্বশুরবাড়ী শ্রীনগরে। বেশিদিন থাকতে পারি নি, বিজয়োৎসব দেখার জন্য মন অস্থির হয়ে উঠেছিলো, তাই ১৮ তারিখেই ফিরে আসি। পাকিস্তানের সৈন্যদের আক্রমণ দেখেছিলাম ২৫ শে মার্চের রাতে আবার ২৬ শে মার্চের সকালে। তার ফলে সন্ত্রস্ত ছিলাম বিভ্রান্ত ছিলাম। বেঁচে থাকার চেষ্টাটাই প্রধান হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ঢাকা ছেড়ে যাবার আগে পর্যন্ত মনের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা সজাগ যেমন ছিলো তেমনি সক্রিয় হয়ে উঠেছিলাম। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে সাধ্যমতো সাহায্যের চেষ্ট করেছি। উদ্বেগ ছিলো দিনাজপুর মানে বাড়ির খবর পাচ্ছিলাম না বলে। পরে খবর পাই যে বর্ডারের ওপারে কেউ কেউ ওদের দেখেছে। কিন্তু ওদের সঙ্গে বাবাকে দেখেনি। উনি নাকি বর্ডারের ওপার যাননি। ১৬ই ডিসেম্বরে খবর পাই যে, বাবা পালিযে যেতে চান নি। যারা তাঁকে নিয়ে যাবার জন্য বোঝাতে গিয়েছিলো তাদের তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন কতোবার বাড়ি ঘর ছেড়ে পালাবো,  তোমরা যাও। আমি যাবো না। পাকিস্তান আর্মির মুখোমুখি হতে চাই আমি। পাকিস্তান আর্মি বাড়ির পাশের রাস্তায় গুলি করে মারে। না, সাহিত্যিক প্রতিবাদ যুদ্ধের সময় কীভাবে সম্ভব হতো? তখন তো পাকিস্তানের দালালরা লেখক কবি সাহিত্যিকদের খুঁজে বেড়াচ্ছে রেডিও টিভিতে পাকিস্তানের সপক্ষে কথা বলাবার জন্য। আর যুদ্ধ শেষ হলে তো প্রতিবাদ তো পথে পথেই করা হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে তখন লেখক, কবি, শিল্পীরাও ছিলেন। সাহিত্যিক প্রতিবাদ মানে নিশ্চয়ই সাহিত্য রচনার মাধ্যমে প্রতিবাদ। যা তাৎক্ষণিক ভাবে অনেকেই করেছেন। বিশেষ করে কবিরা কিন্তু অল্প কিছুদিন পরে প্রায় সবাই করেছেন।  আমিও গল্প লিখেছি উপন্যাসে হাত দিয়েছি যেটা কিছু পরে প্রকাশিত হয়েছে।</p>
<p>মারুফ : মুক্তিযুদ্ধোত্তরকালে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা আপনার লেখক জীবনে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল?</p>
<p>শওকত আলী : হ্যাঁ গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই হয়ে উঠেছিলো, বলা যায় এখনও হয়ে রয়েছে। অনেকেরই জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। বাঙালীর জাতীয়তার উপলব্ধি ও পরিচায়টি সুস্পষ্টতর হয়েছে এবং শিল্পী সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা নিজস্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে শিকড় সন্ধানী হয়ে উঠেছেন। অবশ্য ওটা শুরু হয়েছিলো ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকেই কিন্তু তখন এতো জোরালো ছিলো না। এখন যেমন জনগণের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে অতীতের বহু বিদ্রোহ এবং যুদ্ধকে যুক্ত করে দেখার চেষ্টা হচ্ছে আগে সে ভাবে দেখা হতো না। দেখা হতো বিচ্ছিন্ন ভাবে।</p>
<p>মারুফ : অনেকেই বলেন যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড় মাপের কথাসাহিত্য এখনও রচিত হয়নি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?</p>
<p>শওকত আলী : বড় মাপের সাহিত্য বলতে কী বোঝায়? যদি কালজয়ী সাহিত্য বোঝানো হয় তাহলে একটা জাতির জীবনে ৩০/৪০ বছর খুব একটা বেশি সময় নয়। আর যা রচনা হয়েছে তার মধ্যে কি কিছুই কালজয়ী হতে পারে না? এ প্রশ্নের নেতিবাচক উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন। সাহিত্য রচনায় বিষয় এবং অনুপ্রেরণা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তো মোটেও হ্রাস পায়নি বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও তো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড় কিছু এবং ভালো কিছু লেখার আশা অনেক লেখকই মনের ভেতরে লালন করেন।<br />
মারুফ : আপনি কি মনে করেন যে সার্থক কথাশিল্প সৃষ্টির জন্যে ব্যক্তির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রয়োজন?</p>
<p>শওকত আলী : হ্যাঁ অবশ্যই প্রয়োজন। বাংলা সাহিত্যে সার্থক বলে যেসব রচনার নাম উল্লেখ করা হয় সেসব কি সবই কাল্পনিক? আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে শুধুই কল্পনা করে গল্প বা উপন্যাস আমি লিখতে পারি না। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে সুদূর অতীতের ঘটনা ও মানুষজন নিয়ে কী ভাবে উপন্যাস লিখছে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে পারি যে হ্যাঁ কল্পনার সাহায্য আমাকে নিতে হয়েছিলো কিন্তু সেই কল্পনার ভিত্তিটা ছিলো বাস্তবতা। পটভূমির জায়গাটা বহু শত বছর পরে হলেও আমি নিজের চোখে একাধিক বার ঘুরে ঘুরে দেখেছি- দেখেছি  সেই সময়ের নানান ভাস্কর্য এবং স্থাপত্য মানুষের জীবন যাপনের নানান খোদিত চিত্র। আর সেই সময়ের ভিত্তিতে আমার কল্পনার জগতটি সৃষ্টি হয়েছে আর আমি লিখেছি। তাই আমার বিশ্বাস শুধুই কল্পনা করে জীবনধর্মী গল্প বা উপন্যাস লেখা যায় না।</p>
<p>মারুফ : আপনার একটি বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’। এই উপাখ্যান কীভাবে লিখলেনÑ এব্যাপারে পাঠকদের কৌতূহল রয়েছে। কিছু জানাবেন কি?</p>
<p>শওকত আলী : প্রাদেষে প্রাকৃতজন-এর উপাখ্যান রচনার পেছনে কাজ করেছে আমার দেখা ১৯৭১ এর ঘটনাবলী। ঐ সময় দলে দলে মানুষ শিশু বৃদ্ধ নারীপুরুষ মাথায় বোঝা নিয়ে চলছে আশ্রয়ের সন্ধানে। এমন দৃশ্য যেমন চোখে পড়েছে তেমনি আবার এমন দৃশ্যও চোখে পড়ছে যে রাতের বেলা লণ্ঠনের আলোয় চারদিকে তরুণরা বসে শত্র“ হননের পরিকল্পনা করছে। ঐ সব দৃশ্য মনের ভেতরে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলেÑ কতকাল ধরে শাসিত নিগৃহীত মানুষকে এইভাবে নিজ বাসভূমি ত্যাগ করতে হয়েছে। শত্র“র অস্ত্রাঘাতে প্রাণ দিয়েছে আবার একই সঙ্গে প্রতিরোধ সংগ্রামও এগিয়ে নিয়ে গেছে। কতোকাল ধরে এদেশের মানুষ অর্থাৎ তৃণমূলের মানুষ বহিরাগত শত্র“র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে ? শুধু কি বৃটিশদের বিরুদ্ধে নাকি মোগল শাসনের সময়? নাকি তারও আগে, সেনদের ব্রহ্মণ্যবাদী শাসন কালে বা তুর্কি শাসনামলে? তারও আগে শশাঙ্কের হত্যাযজ্ঞের ঘটনাও তো ইতিহাসে লেখা রয়েছে। কিংবা অশোকের সাম্রাজ্য বিস্তারের সময়? মনের ভেতরে জেগে উঠতে থাকা প্রশ্নের জবাব খোঁজার জন্য কিছু পড়াশোনা করতে হয়। একই সঙ্গে সেই সব প্রাচীন সংগ্রামের ভূমিতে যেতে হয়েছিলো। এসব ঐতিহাসিক এলাকায় ঘোরা ফেরা প্রাচীন নিদর্শনাদি দেখা আর পড়াশোনা এসবেরই সম্মিলিত ক্রিয়ার ফলে উপন্যাসখানির আর্বিভাব।</p>
<p>মারুফ : কোনো বিশেষ জনপদ লেখায় তুলে আনার জন্যে সরাসরি সেই এলাকায় কি ভ্রমণ করেন? মানুষের ইন্টারভিউ নেন? একটি উপন্যাস লেখার জন্যে আপনার প্রক্রিয়াটা কি?</p>
<p>শওকত আলী : হ্যাঁ এটা করতে হয়। যে জায়গা দেখিনি, মানুষের সঙ্গে জানাশোনা হয়নি- সে অঞ্চলের পটভূমিতে গল্প উপন্যাস কিভাবে লিখবো? তাই আমার লেখায় উত্তরবঙ্গের পটভূমি বারবার আসে।</p>
<p>মারুফ : একটি উপন্যাস লিখতে আপনি কিরকম সময় নেন? সবচেয়ে কম সময় লেগেছে কোন উপন্যাসটি লিখতে? আর সবচেয়ে বেশি সময়?</p>
<p>শওকত আলী:  কোন ঠিক নেই। তিন চার সপ্তাহ থেকে তিন চার মাস লাগে। কখনো তিন চার বছরও লেগেছে। একখানা উপন্যাস তো ১৯৮৮তে লেখা আরম্ভ করি তা এখনও শেষ করতে পারি নি। তার দু’টি অংশ পত্রিকায় ছাপা হয়ে গেছে তবু পুরোটা লিখে শেষ করতে পারি নি। সব চেয়ে কম সময়ের মধ্যে একটানা লিখে যাওয়া উপন্যাস আমার পক্ষে লেখা সম্ভব হয় নি। তাই দিনের হিসেবে আমার উপন্যাস রচনার সময়সীমা বলতে পারবো না।</p>
<p>মারুফ : আপনি কি অন্যদের লেখা এমন দুয়েকটি উপন্যাসের কথা আমাদের বলতে পারবেন যেগুলো আপনার ব্যক্তিজীবনে বড় ধরনের প্রভাব রেখে গেছে? একজন লেখক হিশেবেও বা কোন লেখাগুলো আপনাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে?</p>
<p>শওকত আলী : না এমন কোনো উপন্যাসের নাম করতে পারবো না যা আমার ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলেছে। আর একজন লেখক হিসেবে যে সব উপন্যাস পড়ে মন আলোড়িত হয়েছে সেগুলোর নাম করতে হলে দীর্ঘ লম্বা তালিকা দিতে হবে, যে তালিকার অধিকাংশই বিদেশী। তালিকাটা দীর্ঘ হওয়ার কারণ এক এক যুগে এক একজন মহিমান্বিত প্রতিভা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। রুশ ভাষার লেখক যেমন আছেন, তেমনি আছেন ইংরেজি ভাষার। তারপর জার্মান, ফরাসী, স্পেনিশ, গ্রীক, বিশ্বের প্রধান প্রায় সব ভাষাতেই যুগান্তকারী প্রতিভাবান লেখকের আবির্ভাব হয়েছে। সবার লেখা পড়তে পারি নি, তবে কিছু কিছু তো পড়তে হয়েছে। না পড়ে পারা যায় নি। এবং যেগুলো শেষ পর্যন্ত পড়ে শেষ করেছি সেগুলো অবশ্যই মনকে নাড়া দেওয়ার মতো, না হলে পড়ে শেষ না করে ছাড়ি না কেন?</p>
<p>মারুফ : আমাদের সমালোচনা সাহিত্য সম্পর্কে আপনার বক্তব্য জানতে চাইছি।</p>
<p>শওকত আলী : আমাদের সমালোচনা সহিত্য খুবই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে আমার ধারণা। না হলে যেসব রচনা অন্যভাষায় অনুদিত হয় বা অন্য দেশে পুরস্কৃত হয় সে সব রচনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা কেন দেখি না।</p>
<p>মারুফ : আঙ্গিকের পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?</p>
<p>শওকত আলী : আঙ্গিকের পরীক্ষা নিরীক্ষা নিয়ে মন্তব্য করার কিছুই নেই। নিজের শিল্পসৃষ্টির জন্য যে আঙ্গিক যথার্থ বলে বিবেচনা করবেন কথাশিল্পী সেটাই তিনি উদ্ভাবন এবং অনুসরণ করবেন। সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর প্রথম উপন্যসের যে আঙ্গিক, পরবর্তী উপন্যাসে কি একই ধরনের আঙ্গিক দেখতে পাওয়া যায়? জেমস জয়েস যে আঙ্গিকে তার ইউলিসিস লিখেছেন, সেই আঙ্গিকের অনুসরণে আরও উপন্যাস লেখা হয়েছে, কিন্তু স্ট্রীম অফ কনশাসনেস এর আঙ্গিক ইউলিসিস উপন্যাসকে যতখানি সার্থকতা দান করেছে তার কি তুলনা হয়?</p>
<p>মারুফ : সম্প্রতি বহুল উচ্চারিত দুটি টার্ম হচ্ছে ‘উত্তরাধুনিকতা’ এবং ‘যাদুবাস্তবতা’। কথাসাহিত্যে এদুটি বিষয় নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণের কথা বলুন।</p>
<p>শওকত আলী : উত্তর আধুনিকতা অভিধাটি শিল্প ও সাহিত্য বিচারের ক্ষেত্রে যেভাবে ব্যবহার করা হয়, তা আমি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারি না, এটা আমার অক্ষমতার কারণেও হতে পারে। আধুনিকতার সঙ্গে জীবনের বাস্তবতা এবং ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্য আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা বলে জানি। এখন যদি জীবনের বাস্তবতা থেকে উত্তরণ ঘটানো হয়, তাহলে থাকেটা কী, আমার ধারণায় আসে না। আর ব্যক্তির স্বাতন্ত্রকে যদি ছাড়িয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ব্যক্তির থাকেটা কী? তার অস্বিত্ব কি থাকে? উত্তর আধুনিকতা অভিধানটি দিয়ে বাস্তবতার মধ্যই কিছু বৈচিত্র্য সন্ধানের চেষ্টা বোঝানো যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতাকে ত্যাগ করা বোঝানো হলে তো তা একেবারেই দুর্বোধ্য হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সেই রকমই আধুনিকতার আর একটি ভিৎ হচ্ছে ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্য। সেটাও যদি ‘উত্তর আধুনিকতা’ ছাপিয়ে বা ছাড়িয়ে যেতে চায় তাহলে তা পৌছায় কোথায়? উত্তর আধুনিক লেখকদের কিছু লেখা হাতে এসেছে। কিন্তু খুব নতুন কিছু পেয়েছি বলে মনে হয় নি। বাস্তবতা আর অবাস্তবতার মাঝামাঝি একটা স্বপ্নকল্পনার মতো ব্যাপার বলে আমার মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় না যে শুধু এই আঙ্গিক দিয়ে মানুষের জীবনকে ধারণ করা সম্ভব হবে। জীবন ও জগৎকে ওই আঙ্গিক দিয়ে ধরা সম্ভব হবে। আর যাদুবাস্তবতার ব্যাপারটা তো মোটামুটি বোধগম্য। কারণ এটা বাস্তবতারই ব্যাপকতর উপলব্ধিজাত একটা ব্যাপার। এর প্রয়োগে শিল্পসৃষ্টিতে অবশ্যই নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।</p>
<p>মারুফ : আপনার ভেতরে কি অতৃপ্তি কাজ করে?</p>
<p>শওকত আলী : হ্যাঁ করে। যে কাজগুলো করেছি সেগুলো আরও ভালোভাবে করা উচিৎ ছিলো।</p>
<p>মারুফ : নতুনদের লেখা কি আপনি পড়েন। নতুনদের লেখা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ জানতে চাই।</p>
<p>শওকত আলী : নতুনদের লেখা কিছু কিছু পড়েছি এবং এখনও পড়ি কিন্তু বেশি না, দৃষ্টিশক্তি এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে। তবে একথা আমি সব সময়ই বলে থাকি যে নতুনদের দিকে আমাদের তাকাতে হবে এবং তাদের কাছেই আমাদের আশা এবং বঞ্চনার কথা পৌঁছে দিতে হবে। কারণ তারাই তো নতুন দিগন্তের দুয়ার খুলে দেবে।</p>
<p>মারুফ : অনেক লেখকেরই নিজের লেখা কোনো একটি উপন্যাস সম্পর্কে দুর্বলতা থাকে। আপনার কি আছে? একই সঙ্গে জানতে চাইছি আপনি নিজে আপনার কোন লেখাগুলোকে খুবই গুরুত্ব দেন।</p>
<p>শওকত আলী : প্রকাশের পর সব উপন্যাসের ব্যাপারেই মনে হতো, একটা কাজ শেষ পর্যন্ত করেছি। এখনো এমনই মনে হয়, কিন্তু কিছুদিন পরে আর তেমন মনে হয় না, অনেক উপন্যাসের নাম পর্যন্ত স্মরণ করতে পারি না। বোধহয় বার্ধক্যের জন্য। তবে পেছনে তাকিয়ে যখন দেখি, তখন মনে হয় না যে কোনো লেখা আমি অহেতুক লিখেছি। আসলে সব লেখারই, আমি মনে করি, কিছু না কিছু গুরুত্ব আছে।</p>
<p>মারুফ : আপনার লেখা কাহিনী নিয়ে নাটক হয়েছে। আপনি নিজে টিভিনাটক বা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখার কথা কি কখনও ভেবেছেন? সাহিত্য নিয়ে নাটক বা সিনেমা হওয়া প্রসঙ্গে কিছু বলুন। এর ফলে সাহিত্যের পাঠক কি কমে যায়?</p>
<p>শওকত আলী : হ্যাঁ, আমার উপন্যাস আর গল্প অবলম্বনে টিভি নাটক হয়েছে- সিনেমাও হয়েছে। কিন্তু সেসবের প্রশংসা শুনেছি বলে মনে পড়ে না। না, টিভি নাটক, বা চলচ্চিত্রের কাহিনী বা চিত্রনাট্য লেখার কথা সিরিয়াসলি ভাবি নি, এখনও ভাবি না। আমার সন্দেহ হয়, ও ধরনের কাজ আমাকে দিয়ে বোধহয় হবে না। আর টিভি বা সিনেমা গল্পের বা উপন্যাসের পাঠক কমিয়ে দেয় এটা বলা যায় না। ইংল্যান্ডের বা আমেরিকার বইয়ের বাজারে একটু খোঁজ নিলেই তা বোঝা যাবে।</p>
<p>মারুফ : লেখকের সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কমিটমেন্টের কথা আমরা বলে থাকি। আপনার লেখালেখির নেপথ্যে এই ব্যাপারটি কিভাবে ক্রিয়াশীল?</p>
<p>শওকত আলী : সামাজিক দায়বদ্ধতা তো আসলে জীবনের কাছেই দায়বদ্ধতা। ওটা প্রকৃত লেখক-শিল্পীর স্বভাবের ভেতরেই থাকে বলে আমি মনে করি।</p>
<p>মারুফ : বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত বাংলা ভাষার স্বকীয়তা ও পার্থক্য সম্পর্কেও কিছু বলুন।</p>
<p>শওকত আলী : কথাসাহিত্যের ভাষায় প্রভাব পড়ে সময় এবং পরিবেশের। পশ্চিমবঙ্গের কথ্য রীতি ওখানকার ভাষায় প্রভাব ফেলে চলেছে স্বাভাবিক ভাবেই। বাংলাদেশের ভাষাতেও তাই ঘটছে। হিন্দুস্থানির ‘দেখভাল’ এখন কলকাতার বাংলাতেও ঢুকে পড়েছে। তেমনি বাংলাদেশে ‘নাই’, ‘নেই’ দুটোই ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘এলো’র জায়গায় ‘আসলো’র ব্যবহার এখন আর চোখে লাগে বলে মনে হয় না। তাই সময় এবং পরিবেশ তো বটেই, তাছাড়া বিষয়, চরিত্র, পটভূমি, এসবও ভাষায় ছাপ ফেলেÑ বাকভঙ্গিতে যেমন, তেমনি শব্দ ব্যবহারেও। তাই দুই অঞ্চলের সাহিত্যের ভাষায় কিছুটা পার্থক্য এখনই চোখে পড়ে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনাতেই ব্যাপারটা দেখা গেছে বলে মনে হয়। তারপর তো সেই ধারা ধীরে ধীরে গোচরে অগোচরে বয়েই চলেছে। আমার তো মনে হয় এই পার্থক্য কথাসাহিত্যের ভাষাকে গভীরতরভাবে জীবন-সংলগ্ন করবে।</p>
<p>মারুফ : সারাজীবন লেখালেখিতে নিয়োজিত নিবেদিত থাকলেন। কখনো আপনার মনে এমন প্রশ্ন আসে কিনা যে গণদারিদ্র্যের এই দেশে বেশির ভাগ বঞ্চিত সাধারণ মানুষের কাছে এইসব লেখালেখির কার্যকারিতা কতখানি?</p>
<p>শওকত আলী : এখানে একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে। তা হলো দারিদ্র্য ক্ষুধা, অশিক্ষা থাকলে মানুষের দেহ এবং মন দুইয়েরই পূর্ণ বিকাশ হয় না। দেহমনে পূর্ণভাবে বিকশিত মানুষকে শোষণ যেমন করা যায় না, তেমনি শাসনও করা যায় না। তাই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর ওপর সাম্রাজ্যবাদের শোষণ ও আধিপত্য নেই, তারা নিজেরাই সাম্রাজ্যবাদী অথবা আধিপত্যবাদী শক্তি হয়ে বিরাজমান। তাই অনুন্নত দারিদ্র্য দেশের মানুষদের দেহমনের বিকাশের কথা ভাবতে হবে। দেহকে পূর্ণভাবে বিকশিত করার জন্য খাদ্য আর মনকে বিকশিত করার জন্য চাই জ্ঞান যার একটা বড় অংশ সাহিত্য। তাই দেশ যতো দরিদ্রই হোক, সাহিত্য রচনার পথ থেকে সরে যাওয়া মানে শোষণকে অব্যাহত হতে দেওয়া ছাড়া অন্যকিছু নয়। তাই আমি মনে করি বই পড়ার অভ্যাসকে যেমন বাড়িয়ে তোলা দরকার, তেমনি দরকার সাহিত্যচর্চাকেও বাড়িয়ে তোলা। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো ফল পাওয়া যাবে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবশ্যই সুফল পাওয়া যাবে।</p>
<p>মারুফ : তিনটি উপন্যাস একত্রে দুই মলাটের ভেতরে আপনি বন্দী করেছেন বার বার। সেই ‘দক্ষিণায়নের দিন’ থেকে হাল আমলের ‘নাঢ়াই’ পর্যন্ত। ‘নাঢ়াই’ তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা। আমরা লক্ষ্য করেছি যে তিনটি বই একসঙ্গে এক নামে বেরুলেও তার ভেতরে বিষয়বস্তু বা বক্তব্যগত সাযুজ্য সব সময়ে থাকে না। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করবেন?</p>
<p>শওকত আলী : ট্রিওলজির মধ্যে যদি পাঠক একটার সঙ্গে অন্যটার সাযুজ্য খুঁজে না পায় তাহলে সেটা লেখকেরই ব্যর্থতা বুঝতে হবেÑ প্রকাশিত গ্রন্থের ব্যর্থতা সংশোধনের কি উপায় আছে?</p>
<p>মারুফ : গ্রন্থ বাজারের দিকে তাকালে আমরা দেখি যে এখন ফিকশনেরই প্রাধান্য, ছোটগল্পগ্রন্থ খুব কমই বেরোয়। প্রতিষ্ঠিত লেখকরাও সাহিত্যের এই শাখাটিতে আগের মতো আর সময় দেন না। এরকম একটা অবস্থায় ছোটগল্পের ভবিষ্যৎ কি?<br />
শওকত আলী :  রোমান্স ফিকশনের প্রাধান্য আজকাল সব দেশেই দেখা যায়। তাই ও নিয়ে ভাবনাচিন্তার দরকার আছে বলে মনে হয় না। কারণ যারা গল্প লেখার লেখক তাঁরা ঠিকই গল্প লিখবেন আর যাঁরা গল্পের পাঠক তাঁরাও ঠিকই পড়বেন। পত্র পত্রিকার সংখ্যা তো বেড়েই চলেছে। গল্পের বই বেশি সংখ্যায় না বেরুলে কী হবে, পত্র পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাগুলোতে তো কম গল্প থাকে না।<br />
সূত্র: <a href="http://banglamati.net/July-09/interview.php" target="_blank">বাংলামাটি, জুলাই ২০০৯</a></p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0/' rel='bookmark' title='Permanent Link: আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার'>আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%81/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে যার মতো প্রবাহিত করতে চাইছে: ভাষাযোদ্ধা আব্দুল মতিন</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%87/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%87/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 05 Mar 2010 03:43:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=455</guid>
		<description><![CDATA[আব্দুল মতিন। কমরেড। দীর্ঘদিন বাম রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁর মূখ্য ভূমিকার কারণে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে ‘ভাষা মতিন’ বলে খ্যাত। ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের দুবালিয়া গ্রামে তাঁর জš§। জাত সংগ্রামী। শুধু ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ করেই নিষ্ক্রিয় থাকেননি তিনি। জীবন সায়াহ্নে এখনও স্বপ্ন রচনা করে চলেছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/03/abdul-matin.jpg"><img class="aligncenter size-full wp-image-456" title="abdul-matin" src="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/03/abdul-matin.jpg" alt="" width="267" height="401" /></a>আব্দুল মতিন। কমরেড। দীর্ঘদিন বাম রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁর মূখ্য ভূমিকার কারণে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে ‘ভাষা মতিন’ বলে খ্যাত। ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের দুবালিয়া গ্রামে তাঁর জš§। জাত সংগ্রামী। শুধু ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ করেই নিষ্ক্রিয় থাকেননি তিনি। জীবন সায়াহ্নে এখনও স্বপ্ন রচনা করে চলেছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ১৯৯৯ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নাসির আলী মামুন।</p>
<p><strong>নাসির আলী মামুন</strong>: মানুষের পেশার বিভিন্ন ধারা এবং সুযোগ থাকতে আপনি বাম রাজনীতিতে আসলেন কেন?<br />
<strong>আব্দুল মতিন</strong>: আমারও জীবনটা খুব দুঃখে শুরু। ১৯৩৩ সালে মাত্র আট বছর বয়সে মারা যান আমার মা। বাবার আর্থিক অবস্থা দিনহীন। মাসিক মাত্র পনের রুপি বেতনে তিনি চাকরি করতেন দার্জিলিংয়ের জলাপাহাড় ক্যান্টনমেন্টে। কেরানির চাকরি। ১৯৩২ সালে আমরা তিন ভাই ও মা সেখানে বাবার সঙ্গে বসবাস করি। নানারকম উপেক্ষা আর দুঃখ-কষ্টে বড় হতে থাকি প্রকৃতির মধ্যে। মানুষ দেখি, নানা পেশার সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। এদের সাথে কথাবার্তা বলে একটা সান্ত্বনা পেতাম। ভালো লাগতো সাধারণ মানুষ। শ্রমজীবী মানুষদের সবসময় আমি সম্মানের জায়গায় রেখেছি। আমি এন্ট্রান্স পাস করি ১৯৪৩ সালে দার্জিলিং গভ. হাইস্কুল থেকে। পাস করার পরে আমি দেখলাম যে এখানে তো অনেকদিন থেকেছি, বার-তের বছর; আমার নিজের দেশ এই সমতল ভূমি, এই গরিব দেশটাকে একটু দেখা দরকার। আমি দেশে আসি। হাল বাওয়া শিখি, নিড়ানি শিখি, নৌকাচালনা শিখি, সাঁতার শিখি। সাধারণ মানুষদের একটু দেখা-বোঝার চেষ্টা করি।<br />
<strong>মামুন</strong>: শুরুতে আপনার স্বপ্ন কী ছিল?<br />
<strong>মতিন</strong>: কৃষক হওয়াটাই আমার মোটামুটি একটা ইচ্ছে ছিল, হয়তো আর কিছু হতেও পারব না। আমি কোনোরকমে পাস করলেও করতে পারি। তারপরে বাবার ওপর নির্ভরশীল থাকব না। আমাদের কিছু জমি আছে। এই জমি-টমি চাষ করে সাধারণ জীবনযাপন করব। আমার পাস করারও তেমন সম্ভাবনা ছিল না। কিছুদিনের মধ্যে টেলিগ্রাম পেলাম। তৃতীয় শ্রেণীতে পাস করেছি, চলে আসো। ইতোমধ্যে আমার বাবার অবস্থা কিছু ভালো হয়েছে। তিনি বললেন, তুমি ভালো কলেজে পড়, সেন্ট জেভিয়ার্সে। হোস্টেলে থাক। আমাদের বাসা থেকে অনেক দূর। দেখলাম, এই অবস্থার মধ্যে থাকা আমার পোষাবে না! বললাম, আমাদের দেশ সমতলভূমিতে, সেখানেই যাই।<br />
আবার দার্জিলিং থেকে পাবনায় চলে এলাম। নদীভাঙনে আমাদের দুবালিয়া গ্রাম অনেক আগেই হারিয়ে যায়। তারপর যমুনায় জেগে ওঠা নতুনচরের শাইলজনা গ্রামে বসবাস শুরু করে আমাদের পরিবার। সেখানে কোনো কর্ম না থাকায় বাবা দার্জিলিং যেতে বাধ্য হন। ধুধু বালিয়ারচর প্রায় জনমানবহীন, আমার দেখা দরিদ্র মানুষগুলোর জীবন-সংগ্রাম আমাকে শিক্ষিত করতে থাকে। আস্তে আস্তে সেখানে মানুষজন সমবেত হয়। আমাকে তো কিছু পড়াশোনা করতে হয়। পাবনা ভালো লাগল না। সেখান থেকে চলে গেলাম রাজশাহী। ভর্তি হলাম রাজশাহী কলেজে। সেখানে দেখলাম বহু মুসলমান ছেলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে ভর্তি হয়েছে কলেজে। দার্জিলিংয়ে এত মুসলমান ছাত্র দেখিনি। তাদের কথাবার্তা শুনি, সকলেই পাকিস্তান সমর্থন করে! কেন তারা পাকিস্তান সমর্থন করে? মুসলমানদের রাষ্ট্র হলে ভালো হবে। পরে দেখলাম, আরে, পাকিস্তানের মধ্যে তো একটা সুযোগ আছে! পাকিস্তান হলে পরে আমরা তো পূর্বাঞ্চল হব। দুই অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান হবে। পূর্ব অঞ্চলে আমরাই হব শতকরা ছাপ্পান্নজন বা এরকম সংখ্যাগরিষ্ঠ। আমরা তখন বললাম, সুযোগ সুবিধা না পেলে পরে বলব, আমরা তোমাদের সাথে থাকছি না। আমাদের সাত-আট কোটি লোক যা হবে তা দিয়ে আমরা অনায়াসে একটা আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারব। একটা জনকল্যাণমূলক দেশ গড়ে তুলতে পারবÑএইটা মনে করে আমি তখন আর এর বিরোধিতা করলাম না। সেই হিসেবে মনে করলাম আগে পাকিস্তান হয়ে যাক তারপরে আমাদের বাংলার ব্যাপারটা এমনিতেই আসবে।<br />
পাকিস্তান হলো। এর মধ্যে আমি রাজশাহী থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করলাম ১৯৪৫ সালে, আর্টস গ্র“পে। তারপর ঢাকায় চলে এলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ পাসকোর্সে ভর্তি হলাম। থাকতাম ফজলুল হক হলে। খুব ভালো লাগল থাকাটা। আমি আস্তে-আস্তে এই বাংলাকে যাতে রাষ্ট্রভাষা করতে পারি এইভাবে আমাদের যাত্রা শুরু করার চিন্তা করি। অনেক লোকজনের সাথে পরিচয় হতে থাকে। আমি তখন সরাসরি রাজনীতিতে নামি নাই। অনেক পরে নামি। এই সিদ্ধান্তে আসলাম পরে যে মানুষের ভালো করতে গেলে এই সমাজটা পরিবর্তন করা দরকার। তো, কী সমাজ পরিবর্তন করব। যা দেখলাম, যে-ই বড় হয় সেতো আর সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে না। সে তখন বলে যে এই সমাজটাই বজায় থাকবে। তার স্বার্থটা বজায় থাকবে যদি সমাজটা পরিবর্তন না হয়। সুতরাং সমাজ পরিবর্তন করার পক্ষপাতি সে না।<br />
<strong>মামুন</strong>: রাজনৈতিক সংগঠন বা শক্তি ছাড়া সমাজের পরিবর্তন করতে চাইলেন!<br />
<strong>মতিন</strong>: হঠাৎ মনে হলো, এই যে অশিক্ষিত দরিদ্র মানুষ, এদেরই সমাজের পরিবর্তন চাওয়াটা স্বাভাবিক। যদি সমাজ পরিবর্তন করতে চায় এরাই করতে পারে। এরা তো একটা পরিবর্তনকামী বড় শক্তি। আমার মাথায় এল রাজনৈতিক সংগঠনের চিন্তা। আমি তখন ছাত্র, পাস করি নাই। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে যে-ই পার্টি সেটাই আমার করা দরকার।<br />
<strong>মামুন</strong>: রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে আপনার অভিজ্ঞতার একটা চিত্র তুলে ধরেন। সেদিন আপনি কী করেছিলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা উত্থাপন করেছেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে যার মতো প্রবাহিত করতে চাইছে। অনেকেই নিজেকে গ্লোরিফাই করার জন্য সত্যকে চাপা দিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। গাজীউল হক সাহেবও আজকাল পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা কথা বলেন। তিনি নেতা ছিলেন। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন হয়নি। অসত্য তথ্য দিয়ে তিনি ইতিহাসকে বিভ্রান্ত করছেন।<br />
আমি তখন ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছি, ১৯৪৯ সালে। থাকতাম ফজলুল হক হলের পাঁচ নাম্বারে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিু বেতনের কর্মচারীরা একটা আন্দোলন করেÑআমরা এত কম বেতন পাই আমাদের বেতন বাড়ানো দরকার। কর্তৃপক্ষ রাজি না। তখন তারা ধর্মঘট করে। তা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাদের সমর্থন করি। তারা একটা মিছিল বের করে। মিছিলে আমরাও যোগ দেই। সচিবালয়ে যাই মন্ত্রীর কাছে দাবি পেশ করার জন্য। তখন প্রধানমন্ত্রী নাজীমুদ্দিন সাহেব। সচিবালয়ের আগেই পুলিশ আমাদের আটকে দিল। আমি পুলিশের সাথে তর্কে লিপ্ত হলাম। বললাম, এটা স্বাধীন দেশ। কেন আমাদের দাবি পেশ করতে পারব না। আমরা যখন জোড় করে যেতে চাইলাম তখন আমাদের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানও ছিলেন।<br />
<strong>মামুন</strong>: তিনি তো তখন রাজনীতি করেন, পরিচিতঃ<br />
<strong>মতিন</strong>: তিনি আমার অনেক আগে থেকেই রাজনীতি করতেন। ওনার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনেক দিনের। আরো অনেক রাজনীতিক ছিলেন। মিছিল করার কারণে আমাদের গ্রেফতার করল। দুই মাসের ডিটেনশন দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হলো। আমি গ্রেফতার হওয়ার কিছু আগে সিএসপি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, পাকিস্তানের সেকেন্ড ব্যাচ। প্রথম প্রশ্নপর্ব ইংরেজি ছিল, একটা রচনা আড়াইশ নম্বর। আমি আড়াইশ নম্বরের ওই রচনাটা লিখলাম। একটা রচনা আড়াইশ! মানে এরা জানতে চায় ইংরেজি-টিংরেজি কিছু জানি কি না। আমি সেভাবেই একটা রচনা বেছে লিখলাম। ‘কাল্ট অব সুপারম্যান’। আমি আবার ‘কাল্ট’ শব্দের মানে নিশ্চিত জানতাম না। ভাবলাম যে কাল্ট বোধহয় কালচারের কাছাকাছি কোন অপভ্রংশ হবে। সেভাবেই একটা রচনা লিখলাম। লিখে চার ঘণ্টা পরীক্ষা শেষ করে ফজলুল হক হলের পাশে কার্জন হলে অভিধান খুলে দেখলাম এটার মানে তো অন্য! আমি বুঝতে পারলাম পাস করতে পারব না। সিদ্ধান্ত নিলাম বাকি পরীক্ষা দেব না। বারশ’ নম্বরের আরও পরীক্ষা ছিল আমি দিলাম না।<br />
জেলের মধ্যে একদিন আমাকে জানানো হলো, আপনি সিএসপিতে কোয়ালিফাইড হয়েছেন। আপনি এই কাগজে একটা সই দেন, আপনাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জেলখানার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলাম। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানও ছিলেন। একটা বড় ওয়ার্ডে সবাই ছিলাম। যখন বলা হলো সই করতে আমি দেখলাম, একটা জায়গায় লেখা আছে ‘আই শ্যাল সার্ব এনি গভর্নমেন্ট দ্যাট কামস্ টু পাওয়ার মোস্ট ওবিডিয়েন্টলি অ্যান্ড সাবসার্বিয়েন্টলি।’ মনে করলাম, সরকার আসবে জুলুম অত্যাচার করবে তাকে ওবিডিয়েন্টলি মেনে নেব! এটা কী রকম একটা দাসত্ব! এটা লিখে দেয়া হবে। এর ব্যতিক্রম করা যাবে না। এর চাইতে চাকরি না করাই ভালো। আমি সই করলাম না। জেলগেটের অফিস থেকে অবাক হওয়া জেল পুলিশ অফিসার আমাকে আবার ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিল। তারপর পনের-বিশ দিন পর টার্ম শেষ হলে আমি জেল থেকে বেরিয়ে আসলাম।<br />
<strong>মামুন</strong>: জেলে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আপনার কী ধরনের যোগাযোগ ছিল?<br />
<strong>মতিন</strong>: শেখ মুজিবকেও একই কারণে জেলে যেতে হয়েছিল। তখন সে ছাত্রলীগ করে। আটচল্লিশ সালের মার্চ মাসে তাঁর সঙ্গে আমি পরিচিত হই। তিনি কথাবার্তায় ভালোই ছিলেন। বেশ সাহসী। তিনি জেলে সবার সঙ্গে কথা বলতেন আর সাহস দিতেন। জেলের মধ্যে রাজনৈতিক কথা বলতে ভয় পেতেন না। তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দী সাহেবের শিষ্য। কলকাতায় বড়-বড় নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও ঘটনা আমাদের বলতেন। আমরা সবাই গ্রাম থেকে এসেছি। তিনিও গ্রামের ছেলে। কিন্তু পাকিস্তান হওয়ার আগেই তিনি কলকাতায় ছিলেন। বড় বড় নেতাদের সঙ্গে ঘুরেছেন। তার অভিজ্ঞতা আমরা শুনতাম। জেলের পুলিশরা তাঁকে ভয় পেত সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কারণে।<br />
<strong>মামুন</strong>: ১৯৪৮ সালে যখন জিন্নাহ ঢাকায় এলেন আপনাদের প্রস্তুতিটা কেমন ছিল?<br />
<strong>মতিন</strong>: আটচল্লিশ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে মাথায় টুপি ও সেরওয়ানি পরা জিন্নাহ সাহেব বক্তৃতা দেয়ার সময় যখন পাকিস্তানের একমাত্র সরকারি ভাষা উর্দু করার ঘোষণা দিলেন তখন প্রতিবাদ করতে চাইলে পাশে থাকা আমার সহপাঠিরা বিরত থাকতে বললেন। তবে অনেকেই সরবে সেদিন প্রতিবাদ করে এবং বাংলার পক্ষে রায় দেয়।<br />
এসময় আমাদের কোন রকম প্রস্তুতি ছিল না। তবে বাংলাকে যে আমরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দেখতে চাই এটা ছিল উপস্থিত সবার প্রাণের দাবি।<br />
২৪ মার্চ ছিল কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। জিন্নাহকে প্রধান অতিথি করলেন ভাইস চ্যান্সেলর। বহু কষ্টে ২০ টাকা যোগাড় করলাম সমাবর্তনের পোষাক নেয়ার জন্য। আমার মনে হয়েছিল ভাষা নিয়ে তিনি যখন সমাবর্তনে উর্দুর পক্ষে কথা বলবেন তখন প্রতিবাদ করব সবার সামনে। কার্জন হলে জিন্নাহ যখন উর্দুর পক্ষে বলছিলেন আমি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করি। জিন্নাহ সাহেব আমার দিকে তাকিয়ে, তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত লোকজনেরা সবাই তটস্থ। আমার কথার পরে সবাই আমাকে সমর্থন দিলেন। এমন অবস্থায় পড়লেন পাকিস্তানের জাতির পিতা অনুষ্ঠান শেষ না করে হলত্যাগ করতে বাধ্য হলেন! আমরা বাংলার পক্ষে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকি।<br />
<strong>মামুন</strong>: জেল থেকে বের হয়ে কী করলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: জেল থেকে দুই মাস পর বের হলে ভাইস চ্যান্সেলর তাঁর অফিসে আমাকে ডেকে পাঠালেন। ড. মুয়াজ্জেম হোসেন। তিনিও আমাকে একটা লিখিত বন্ডে স্বাক্ষর দিতে বললেন। আমি বললাম, সরকার আমাকে ছেড়ে দিয়েছে, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন, তাহলে আমাদের অপরাধটা কোথায়? আপনি তো জোর করে আমার কাছে আন্ডারটেকিং চাচ্ছেন। তিনি বললেন আমি অতো কথা শুনতে চাই না, তোমাকে আন্ডারটেকিং দিতে হবে আর ডিসিপ্লিন মানতে হবে। সেই ডিসিপ্লিন তো আজকাল ইউনিভার্সিটিতে দেখছি, কি ডিসিপ্লিনে চলছে! এই অবস্থায় আমি বললাম এই অন্যায় বন্ড আমি মানতে পারব না। আমাকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করল।<br />
এই তিন বছর বহিষ্কার হওয়ার কারণে আমার কোনো কাজ থাকল না। বাড়িতে জানালাম না। আমি চলে গেলাম সিরাজগঞ্জে, যমুনা নদীর চরে। আমি ভাবলাম কে জানবে, তিন বছরের বহিষ্কৃত জীবন এখানে থেকে কেটে যাবে। ১৯৫০ সালে একবার ঢাকায় এলাম। একটা রেস্টুরেন্টে বসে চা খাচ্ছি, কয়েকজন বলছে, আরে ভাই ছাত্ররা ভাষা আন্দোলন করল, আটচল্লিশ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলন। এতবড় আন্দোলন, আমরা তাদের সমর্থন দিলাম। মিছিল করলাম। সেইটা হঠাৎ কেন বন্ধ হয়ে গেল। ছাত্ররাও তো আর কোনো কথা বলে না বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার। বাংলা যদি রাষ্ট্রভাষা না হয় আমরা তো একেবারে অশিক্ষিত থেকে যাব। আমরা চাকরি-বাকরিও পাব না, আমাদের কোনো উন্নতি হবে না।<br />
কথাগুলো শুনে আমার মনের মধ্যে দারুণ শিহরণ হলো। তাইতো, ছাত্রদের ওপর এরা এত আশা করছে, অথচ ছাত্ররা কোনো ভূমিকা পালন করছে না। এর কয়েকদিন পর দ্বিতীয় বার্ষিকী। ১৯৪৮ সাল, তারপর ১৯৪৯ এবং ১৯৫০ সালঃ ১১ই মার্চ। সেখানে সভা হচ্ছে। তো আমি গেলাম সেখানে, আগে আমি কখনও বক্তৃতা করিনি। ওরা বলছে, আটচল্লিশ সালে আমরা এতবড় আন্দোলন করেছি, এই করেছি সেই করেছি। সেই অতীতে কী করেছি সেইসব কথা। কিন্তু কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। সভাপতির কাছে গিয়ে বললাম যদি অনুমতি করেনÑআমি কি দুইটা কথা বলতে পারি। তিনি বললেন, খুব সংক্ষেপে বলেন। আমরা তাড়াতাড়ি মিটিং শেষ করে দিব। কে সভাপতি ছিলেন আমার অতো মনে নাই। তিনি ছাত্র। আমি বললাম, আমার কথা অতি অল্প। এসব কথা না বলে ভবিষ্যতে যাতে আমরা আন্দোলন করতে পারি মানুষ এটা আশা করছে। আমরা যদি মানুষের আশা পূরণ করতে পারি, আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি তাহলে এটা বিরাট আন্দোলন হবে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হলে আমাদের মর্যাদা হবে, মূল্য হবে। সেইটা করি সকলে মিলে। এই কথা বলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা প্রস্তাব গ্রহণ করল। তারা বলল, ওনার প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করেছি ওনাকে আহ্বায়ক করেন। আমি অহ্বায়ক নির্বাচিত হলাম ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি তো তখন ছাত্র না, বহিষ্কৃত?<br />
<strong>মতিন</strong>: ছাত্র না, কে জিজ্ঞেস করে! ইউনিভার্সিটি বহিষ্কার করেছে বলে ছাত্ররা কিন্তু তা গ্রহণ করছে না। আহ্বায়ক হয়ে আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে কাজ আরম্ভ করলাম। তখন পুলিশের অতো নজরদারি ছিল না। আমার ক্লাস ছিল না। খাব কী, চলব কী করে! একটা টিউশনি করতাম চল্লিশ টাকার।<br />
<strong>মামুন</strong>: কোথায় করতেন টিউশনি?<br />
<strong>মতিন</strong>: এই ঢাকায় করতাম। আমার সেই সময়কার ছাত্র কামাল হোসেন। পরে প্রখ্যাত আইনবিদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার এক মামা আমার বন্ধু ছিলেন। তিনিই টিউশনিটা ধরিয়ে দিলেন। আমি প্রথমদিন গিয়ে দেখলাম একজন সুশ্রী তরুণ। জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কোন সাবজেক্ট ভালো লাগে। সে বলল, ইতিহাস ভালো লাগে। তো ইতিহাস পড়েছ। হ্যাঁ, অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া। সেন্ট গ্রেগরির ছাত্র। তখন আমি বললাম, দেখি তোমার বইটা। দেখলাম মোটা বই। সবটা তুমি পড়েছ। বললো, হ্যাঁ। আচ্ছা। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ কবে হয়েছে বলতে পার। একটু চিন্তা করে বলে দিল। আরও কিছু প্রশ্ন করলাম, সবই তার জানা। বললাম, তুমি তো ভালোই পড়াশোনা করেছ। দেখো তোমাকে তো আমি পড়ালে কোনো লাভ হবে না। খামাখা তোমার টাকাটা নষ্ট করব কেন? তুমি এমনি ভালো রেজাল্ট করবা। দশজনের মধ্যে তোমার স্থান হতে পারে। ও বলল, আপনি এসে গল্প করবেন। আমার তিনমাস আরও আছে ম্যাট্রিক পরীক্ষার। আমি মোটামুটি পড়ে ফেলেছি।<br />
কামাল হোসেন ইলেভেন্থ হয়েছিল। ওর বাবা বলল, ইন্টামিডিয়েটে ভালো করবে। পরে ইন্টারমিডিয়েটে প্রথম হয়েছিল। তারপরে আমি যখন জেলে, একজন পুলিশ ওয়ার্ডে এসে বলছে এক ব্যারিস্টার আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছে। এটা সম্ভবত ১৯৬২ সাল হবে। আমি জেলগেটে গেলাম। আমার পায়ে ধরে সালাম করল একজন ইয়াংম্যান। বলল, আমি ব্যারিস্টারি পাস করেছি। আপনি কেমন আছেন। আমি আপনার পক্ষে একটা কেস করব। আমি বললাম, কী কেস করবা। বলল, একটা রিট পিটিশন করব। আমি বললাম, রিট পিটিশন দরকার হবে না। আমি যা দেখছিÑএখানে বোধহয় তখন আইউব খাঁ আসছেন। তিনি চীনের সঙ্গে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং করছেন। তো চীনের সঙ্গে যদি এটা হয়, তাহলে কমিউনিস্টদের ধরে রাখবে না। এটা চেঞ্জ হয়ে যাবে। তবুও বলা যায় না, তো তুমি করতে পার। ও করার আগেই জেল থেকে আমি ছাড়া পেলাম।<br />
যেটা বলছিলাম, ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হতে পেরে নিজের ওপরে সাংঘাতিক একটা আস্থা এলো। আমি তো আহ্বায়ক। হলে হলে গিয়ে ছাত্রদের সংগঠিত করতে থাকি। বেশিরভাগ ছাত্র সমর্থন করে। কেউ কেউ বাংলা ভাষার গুরুত্ব বুঝতে না পেরে বিরোধিতা করেছে।<br />
<strong>মামুন</strong>: ১৯৫২ সালে আপনারা কী করলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় দেখলাম যে আমাদের যারা ভাষা আন্দোলন করছিঃ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়েছে।<br />
<strong>মামুন</strong>: ৬৬ জনকে নিয়ে?<br />
<strong>মতিন</strong>: না, ওখানে ছিল জনা চল্লিশেক, উনচল্লিশজন। মওলানা ভাসানী ছিলেন, আতাউর রহমান ছিলেন, কাজী গোলাম মাহবুব কনভেনার। আমি ইউনিভার্সিটি কমিটি অব অ্যাকশনের পক্ষ থেকে একজন মেম্বার ছিলাম।<br />
<strong>মামুন</strong>: শেখ মুজিব ছিলেন না কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ হলে তাতে যোগ দেয়। তখন তিনি জেলে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাঙালির ইতিহাসের সর্বকালের গুরুত্বপূর্ণ যে ঘটনাটি বাহান্নর ভাষা আন্দোলনÑতাতে তিনি সরাসরি যুক্ত হতে পারেননি। জেলে ছিলেন। ছাত্ররা আন্দোলন করেছে। জাতীয় নেতারা সমর্থন দিয়েছে। কমিটিতে তাদের নাম ছিল।<br />
<strong>মামুন</strong>: তারা সক্রিয় ছিলেন না?<br />
<strong>মতিন</strong>: মওলানা ভাসানী বাদে কেউ অনিবার্য সাড়া দেননি। কমিটির অনেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। শুধু তাদের নাম থাকত কমিটিতে। এখন এসব কথা বলতে গেলে অনেকে পছন্দ করবেন না, বলবে আব্দুল মতিন আবার কী বলে! আমি আন্দোলনের শুরু থেকে ভেতরে এবং সামনের কাতারে ছিলাম। এখন অনেকে মিছা কথা বলে, সাক্ষাৎকার দেয়। বিভিন্ন জেলায় দেখা যাচ্ছেÑ ভাষা আন্দোলন করেছে এমন দাবি করছে। এদের বেশিরভাগকেই আমরা দেখি নাই।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি মওলানা ভাসানীর দল করতেন। হয়তো সেকারণে তাঁর প্রতি পক্ষপাত আপনার?<br />
<strong>মতিন</strong>: মওলানা ভাসানী শুধু আমার নেতা ননÑ তিনি এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সর্বহারা মানুষদের নেতা। এত ত্যাগী নেতা আমাদের কালে আর দেখিনি। তিনি শুধু ভাষা আন্দোলনকে সমর্থন দেননি, এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেবের চ্যালা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, তিনিও মওলানা সাহেবকে কোনদিন অবজ্ঞা করেননি। আওয়ামী লীগের খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের বইটা আপনারা পড়েন নাই! পড়লে বুঝবেন মওলানা কত বড়মাপের জাতীয় নেতা ছিলেন। অনেক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, জš§ দিয়েছেন। ‘ভাসানী যখন ইউরোপে’ পড়ে দেখবেন পশ্চিম তাঁকে কীভাবে মূল্যায়ন করত।<br />
<strong>মামুন</strong>: তারা তো তাঁকে ‘প্রফেট অব ভায়োলেন্স’ খেতাব দিয়েছিলঃ<br />
<strong>মতিন</strong>: দিয়েছিল। আবার ফুলের মালা দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে নাই। শেখ মুজিবুর রহমান কোনোদিনই প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করেন নাই। তিনি জানতেন মওলানা ভাসানীর মতো নেতা না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত হতো না! এত ত্যাগ আর কে করেছে এই দেশে?<br />
<strong>মামুন</strong>: সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মূল্যায়ন এখন কীভাবে করেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: আমাদের ছাত্রদের আন্দোলনকে তারা আরও বলিষ্ঠ করেছেন।<br />
<strong>মামুন</strong>: কিন্তু বললেন যে কেউ কেউ ছিলেন নিষ্ক্রিয়!<br />
<strong>মতিন</strong>: আমরা যে ভাষা আন্দোলন শুরু করলামঃ ওদের দলীয় যারা, তারা চাচ্ছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করে সরকারের আদেশ মেনে চলা। আমরা বললাম, সরকারের আদেশ মানার কোনো কারণ নাই। তারা অন্যায়ভাবে আদেশ জারি করেছে। আমরা এই আদেশ মানব না। আমাদের দাবি আমরা অ্যাসেম্বলি অভিমুখে যাব, জগন্নাথ হলের কাছে। সেইখানে আমাদের দাবি তুলব। তাদের বলব, তোমরা তো একটা প্রভিন্সিয়াল অ্যাসেম্বলি, তোমরা কী আইন পাস করবা। পাকিস্তানের মেম্বার হিসাবে তোমরা গণপরিষদের কাছে বলো, তোমরা আমাদের ভাষা আন্দোলনকে সমর্থন কর। আমরা চাই, বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হোকÑ এই মর্মে তোমরা একটা প্রস্তাব পাস কর। তারপরে আমরা দেখব।<br />
এই সব দাবি-দাওয়া নিয়ে অ্যাসেম্বলিতে যাওয়ার আগেই মেডিক্যালের কাছে গুলি চলল। ২১ ফেব্র“য়ারি। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হলো।<br />
<strong>মামুন</strong>: বেশ কয়েক বছর আগে জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সরদার ফজলুল করিমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ভাষা শহীদ বরকত পুলিশের ইনফরমার ছিলেন’। আপনি শুনেছেন এটা?<br />
<strong>মতিন</strong>: শুনেছি। আব্দুর রাজ্জাক সাহেব কী করেছেন? তিনি কোথা থেকে কেন এই ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছিলেন জানি না। তবে স্ট্যান্টবাজি করাটা তাঁর চরিত্রে ছিল। আমাদের দুর্যোগ মুহূর্তগুলোতে তাঁকে কেউ পায়নি। তিনি সবসময় আড়ালে থেকেছেন। তাঁর মতো মানুষ জাতিকে কত কিছু দিতে পারত।<br />
<strong>মামুন</strong>: তাঁকে নাকি একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই তথ্য দিয়েছিলেন।<br />
<strong>মতিন</strong>: একজন পুলিশ এরকম তথ্য দিলেই তিনি জাতির সামনে তা তুলে ধরবেন? বিচার বিশ্লেষণ না করেই! একটা নতুন দেশ, নতুন জাতির প্রতিষ্ঠার লগ্নে তাঁর মতো একজন বাঙালি মুসলমান দৃষ্টান্তপূর্ণ অবদান রেখে যেতে পারতেন। তিনি হুকো ফুঁক দিয়ে সারাজীবন পার করে গেলেন! বাস্তব কোনো কাজ করতে পারলেন না।<br />
<strong>মামুন</strong>: কারা ভাষা সৈনিক?<br />
<strong>মতিন</strong>: ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন তারা সবাই যেমন মুক্তিযোদ্ধা, তেমনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় যারা সমর্থন দিয়েছিলেন তারা সকলে ভাষাসৈনিক! আর যদি বিশ্লেষক বা গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে উত্তর দিতে হয় তাহলে বলতেই হয়, ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যারা যুক্ত ছিলেন শুধু তারাই ভাষা-যোদ্ধা।<br />
<strong>মামুন</strong>: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ না স্বাধীনতা যুদ্ধ?<br />
<strong>মতিন</strong>: অবশ্যই স্বাধীনতা যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ তো বিশাল ব্যাপার। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সকল সমস্যা ও শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতি যেদিন মুক্ত হবে সেদিন বলতে পারেন আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছি।<br />
<strong>মামুন</strong>: তাহলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলছে<br />
<strong>মতিন</strong>: মুক্তিযুদ্ধ এখনও চলছে। সেদিনই সত্যিকার মুক্ত হব আমরা, যেদিন দরিদ্র মানুষদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব। কৃষকদের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। তাহলে কিসের মুক্তিযুদ্ধ!<strong>মামুন</strong>: ১৯৫২ সালের ফেব্র“য়ারিতে পুলিশের গুলিতে যারা শহীদ হলেন তাদের কাউকে আপনি চিততেন?<strong>মতিন</strong>: পরিচয় ছিল না।<strong>মামুন</strong>: আপনি তো তখন ছাত্রদের নেতাঃ<strong>মতিন</strong>: ভাষা শহীদদের কেউই ফোরফ্রন্টের লোক ছিলেন না। আপনি বদরুদ্দীন উমর সাহেবের বইটা পড়ে দেখবেন। ওতে সব লেখা আছে।মামুন: ঠিক আছেঃ আচ্ছা।<br />
মতিন: তারপরে তো আমি জেলে গেলাম। আমাদের দশ জনের নামে ওয়ারেন্ট।<br />
<strong>মামুন</strong>: আর নয়জন কারা ছিলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: নয়জনের মধ্যে অলি আহাদ একজন। কাজী গোলাম মাহবুব এবং পরে মওলানা ভাসানী অ্যারেস্ট হলেন। তোয়াহা সাহেব ছিলেন। খন্দকার ইলিয়াস এরা কেউ ছিলেন না।<br />
<strong>মামুন</strong>: কোথায় গেলেন গ্রেফতারের পর?<br />
<strong>মতিন</strong>: আমাদের আটজনকে রিমান্ডে নেয়া হলো। কোথায় কীভাবে কী করেছি এরকম জেরা ও প্রশ্ন করল। আমাকে আর অলি আহাদকে একসাথে অনেক প্রশ্ন করা হলো।<br />
<strong>মামুন</strong>: সেটা কোথায়, মিন্টু রোডে?<br />
<strong>মতিন</strong>: না, ওই সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স অফিস। সদরঘাটের কাছে বুলবুল একাডেমির অফিসে। ওইখানে আমাদের তিনদিন রাখল। আমাকে ও অলি আহাদকে একসময় সেপারেট করল। আমি তখন পার্টি বিলং করি না। রাজনৈতিক কোনো বড় নেতাকে জানিও না। সত্যি কথা বললাম তাদের। আন্দোলন করছি তা জোড়ালোভাবে বললাম, ধরা যখন পড়েছি যা হয় হবে। পুলিশ আমার সব কথা বিশ্বাস করল না। তাদের সন্দেহÑ কমিউনিস্টদের নির্দেশে বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছি কি না।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি তো কমিউনিস্ট হতে চেয়েছিলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: এখনও আছি। আমার তো মনে হয়, দে আর নট প্র্যাকটিক্যাল। দেশের অবস্থা মানুষ একরকম ভাবে, আর এরা আরেকরকম ভাবে। আর অন্যের ওপর নির্ভর করে। এই রাশিয়াতে কী হয়েছে, চীনে কী হয়েছে এটার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করে।<br />
নির্ভর তো করতে হবে দেশের জনগণের ওপর। তবুও কমিউনিস্টরা স্যাক্রিফাইসিং পিপল। এটা দেখতাম। জেলে থাকতে আমি বুঝলাম, কোনো পরিবর্তন আনতে গেলে এই সাধারণ মানুষই করবে। সুতরাং সাধারণ মানুষদের রাজনীতি করতে গেলে যে পার্টিÑ সেটা কোন পার্টি হতে পারে? তখন আমি সিদ্ধান্তে আসলাম মুসলিম লীগ বা আওয়ামী লীগ এই সমস্ত বড়লোকের পার্টিঃ এরা তো এই সমাজটাকেই বজায় রাখবে। এই করে ঊনপঞ্চাশ সনে আওয়ামী লীগ হয়েছে, এখনও তারা তাই করছে। আওয়ামী লীগের লোকেরা, মানে এক একজনের কী যে অবস্থা! ঢাকাতে এক একজনের চার-পাঁচতলা বাসা, আবদুস সামাদ আজাদÑওনারও পাঁচতলা বিল্ডিং। এইরকম বিল্ডিং নাই এমন কোনো আওয়ামী লীগ নেতা নাই। এই যে ফুলে-ফেপে উঠেছে তারা, আমাদের সেটায় আপত্তি নাই। হও তোমরা। কিন্তু দেশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করবে, তাদের খাওয়া জুটবে না, তাদের কোনো শীতবস্ত্র নাই, এই যে বন্যা হয়ে গেল তাদের কোনো জমি নাই। তারপরে খাসজমিগুলো তারা দিয়ে দিচ্ছেÑসেই জমিঅলাদেরকেই। এই অবস্থায় মানুষের তো ভালো হয় না। যেরকম আওয়ামী লীগ, সেরকম বিএনপি, সেরকম জাতীয় পার্টি বা জামাতীরাÑতাহলে পাবলিক কোথায় যাবে? জনগণ শেষপর্যন্ত আন্দোলনেই যাবে।<br />
আমি সবসময় সাধারণ মানুষদের পক্ষেই থেকেছি। কোনো চাকরি-বাকরিও করি নাই। আমার দুইটা মেয়ে, বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা দুজনে এই বাড়িতে আছি। গত মাসে বহু কষ্টে এই বাড়ির ভাড়াটা দিয়েছি। আমি ভাবছিলাম আর বোধহয় বাড়িটায় থাকা যাবে না। একটা ছোট-মোটো ঘর ভাড়া করতে হবে। সেখানে দেড়-দুই হাজার টাকায় এক রুম পাওয়া যায়। জনকণ্ঠ পুরস্কারটা পেয়ে আপাতত বেঁচে গেছি। কোনোদিন কেউ আনুষ্ঠানিক সম্মান দেয়নি।<br />
<strong>মামুন</strong>: রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাননি বলে ক্ষোভ আছে?<br />
<strong>মতিন</strong>: না না, এরা কেন শত্র“কে পুরস্কার দেবে? এই রাষ্ট্রটা তো এদের। এরা যাদের স্বার্থের বিরোধী মনে করেÑতাদের এরা দিতে চায় নাকি! সেই জন্যই জনকণ্ঠের এটাকে খুব ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। আমার যদি কোনো স্থান থাকে এবং সমাজ তা না দেয়, আমি তো কিছু করতে পারি না।<br />
<strong>মামুন</strong>: ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে, এটা স্বাভাবিক মনে করেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: এটা খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রকৃত ইতিহাসকে ঘুরিয়ে-পেচিয়ে যে যার মতো করে নিচ্ছে, দেখছি। আমাদের ইতিহাস বিকৃতির একটা ধারা আদিকাল থেকে চালু আছে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এখনও অসুস্থ। এটাকে সেবা করা দরকার।<br />
<strong>মামুন</strong>: বলছিলেন বদরুদ্দীন উমর সাহেবের বইটা পড়তে। নাকি অন্য কোনো ইঙ্গিত দিতে চাইছেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: তিনি অনেক খেটে কাজটি করেছেন। তার পরিশ্রমের তুলনা হয় না। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে জাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কোনো জায়গায় ফাঁক রয়ে গেছে। তিনি যদি সরাসরি আন্দোলনের সঙ্গে সামনের কাতারে যুক্ত থাকতেন তাহলে তাঁর বইগুলো আরও মূল্যবান হতো। তাঁর বাবা আবুল হাশিম সাহেব পণ্ডিত মানুষ ছিলেন, কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।<br />
<strong>মামুন</strong>: ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস আপনারা লিখলেন না কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: যারা ভাষা আন্দোলন করেছিলেন তারা কেউ কেউ তো লিখেছেন। কিন্তু নিজেকে সামলাতে পারেননি। আমি বলতে চাইছিলাম নির্মোহ থেকে ইতিহাস লেখাটা হয়নি। বদরুদ্দীন উমর সাহেব সেদিক থেকে মোটামুটি সফল হয়েছেন।<br />
<strong>মামুন</strong>: রাজনীতিতে কীভাবে আসলেন এবং চূড়ায় উঠতে পারলেন না কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: মন্ত্রী বা কোনো পদে ওঠার জন্য আমি রাজনীতিতে আসি নাই। কাজেই কোনো চূড়া স্পর্শ করার অভিপ্রায় ছিল না। ১৯৫৩ সালে চিন্তা করলাম, একটা সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করতে হবে। তখন থেকে আমি কমিউনিস্ট পার্টিভুক্ত আছি।<br />
<strong>মামুন</strong>: সংগঠনটির নাম কি?<br />
<strong>মতিন</strong>: পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি। চীন মস্কোপন্থিরা সব এক জায়গায় ছিলাম। মওলানা ভাসানী কমিউনিস্ট পার্টি করতেন না। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের। তবে মণি সিংহ, খোকা রায় এরা ছিলেন।<br />
<strong>মামুন</strong>: পার্টির প্রধান কারা ছিলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: কমরেড মণি সিংহ, খোকা রায় এরা। এরা ছিলেন বুর্জোয়ানির্ভর একটা বাম দল। ধনীকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কমিউনিস্ট পার্টি মানে গরিবের দল। দুস্থ লোকের পার্টি। সে হিসেবে তারা গরিবদের কথা বলবেঃ তা না করে ধনীক শ্রেণীর স্বার্থ দেখত। বুর্জোয়াদের লেজুড়বৃত্তি করত তারা। এবং দেখেন, তা প্রমাণও হয়েছে। আজকে ৫০ বছরের মধ্যে তারা এক টুকরা ঘাসও তুলতে পারে নাই। গণমানুষের জন্য কোনো কাজ করতে পেরেছে এমন পরিচয় নাই। কিছুই করতে পারে নাই।<br />
কেন পারে নাই? পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপ্লব করতে না পারলেওঃ নেপালে বিপ্লব করতে পারে নাই তো সো হোয়াট, সেখানে কমিউনিস্টরা একটা মর্যাদা নিয়ে আছে। আমাদের প্রতিবেশি পশ্চিম বাংলায়, তারাও তো বিপ্লব করতে পারে নাই, কিন্তু তারাও মর্যাদা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাশিয়াতে বিপ্লব করেছিল। বিপ্লব আবার ব্যর্থ হয়েছে বা সেখানে আজকে বুর্জোয়ারা ক্ষমতায় এসেছে, তাতে কি হয়েছে! চীনে সফলও হতে পারে আবার নাও হতে পারে। কিন্তু সোভিয়েতে সমস্ত মানুষের একটা করে বাড়ি দিয়েছিল, এটা কি সোজা কথা! প্রত্যেকটা লোক শিক্ষিত হতে পেরেছিল। একটা নিরাপত্তা ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে এরা সেই আদর্শ ত্যাগ করল, তারপরে আমলা হয়ে গেল। টাকা-পয়সা বাণিজ্য ব্যক্তিগত করতে গিয়ে এই যে এখনকার অবস্থা! এখন কোনো মান-সম্মান নাই, মর্যাদা নাই। তাদের কেউ মূল্য দেয় না।<br />
তো পৃথিবীটা ক্রমেই সামনের দিকে যাচ্ছে। আপনে ভালো জানেন, আপনে একটা মডার্ন টেকনোলজির সাথে আছেন; দেখছেন তো পৃথিবীটা কোথায় যাচ্ছে! ক্রমেই উন্নতির দিকে যাচ্ছে। মানুষের ওপর অত্যাচার, মানবতার ওপর অত্যাচার এটা কমে আসছে।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি কোন আলামতে এই কথা বললেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: দেখছেন না মানুষ কত সচেতন হয়েছে! মানুষ এসব অত্যাচার বেশিদিন সহ্য করবে না। এবং সমস্ত মানুষের গণতন্ত্রের জয় হবে। এটা আমি বুঝতে পারছি অভিজ্ঞতা থেকে এবং এইটার জন্যই সংগ্রাম করছি। আমি সন্তুষ্ট যে আমার কর্তব্য পালন করেছি।<br />
<strong>মামুন</strong>: ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টিতে আপনি সকল বামপন্থির সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু পরে লাইন পরিবর্তন করলেন কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: এটা ১৯৬২ সালেঃ চীন ও রাশিয়ার মূল তফাৎটা ছিলÑ রাশিয়া মনে করেছে যে একটা বিপ্লব করতে হবে পরিবর্তনের জন্য। তারা করল ১৯১৭ সালে। তারপর থেকে সকলেই মনে করল রাশিয়ার পথেই বিপ্লব হবে। কিন্তু চীন যখন আসলোঃ তারা ১৯২২ সালে পার্টি করল। তারপর আস্তে আস্তে বড় পার্টি হয়ে গেল। চিয়াং কাইশেকের সঙ্গে তার মতবিরোধ ঘটল ১৯২৭ সালে এবং এরপরে এলাকা গঠন করে সংগঠিত হয়ে বাহিনী করল এবং চিয়াং কাইশেককে ফরমোজায় তাড়িয়ে দিল।<br />
চীনের মাও সেতুং প্রথমেই বলেছিল, দেখ তোমাদের সমাজ আর আমাদের সমাজ এক নয়। তোমাদের সমাজ পুঁজিবাদী সমাজ হয়ে যাচ্ছে। আর আমাদেরটা এখনও সামন্তবাদী সমাজ রয়ে গেছে বা আধা সামন্তবাদী হতে পেরেছে। সুতরাং আমার দেশের মধ্যে সমাজতন্ত্র এখনই একধাপে করা যাবে না। আমার এখানে একটা পিপলস ডেমোক্রেসি, ডিকটেরশিপ অব দ্যা পিপল। এখানেই তফাৎ হল।<br />
আমার তখন ওই চীনের পথটাকে সঠিক মনে হলো। তারপরে, যারা রাশিয়াঅলাদের পছন্দ করত, তারা রুশপন্থী হয়ে গেল। দুই ভাগ হয়ে গেল। তখন মণি সিংহ আমাদের বললেন, যেহেতু বনিবনা হচ্ছে না আপনারা চীনপন্থি কোনো পার্টি করতে পারেন। আমরা রুশ লাইনকে সঠিক মনে করছি, আমরা এই পার্টিতেই থাকতে চাই। থাকেন আপনারা। আপনাদের সাথে থাইকা আমাদের বিপ্লব হবে না। আমরা আলাদা হয়ে যাব।<br />
<strong>মামুন</strong>: কমরেড মণি সিংহের দল আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলেন কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: তারা কেন যে আন্ডারগ্রাউন্ডে গেল তা তো বুঝি না। সরকার তো তাদেরকে বলে নাই। নিজে নিজে আন্ডারগ্রাউন্ডে গেল। পাকিস্তান হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে কতগুলো ভুল পলিসি-টলিসি নিল, ‘ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায় লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়’Ñ এইসব স্লোগান ভারতীয় পার্টির মতো করে দেওয়াতে পাকিস্তান সরকার সুযোগ পেল, এদেরকে জেলে নিল। তখন পার্টি আন্ডারগ্রাউন্ডে গেল। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতে থাকতে মাটির ওপরে আর আসতে পারল না। এখন যদিওবা আসছে, মানুষ তাদের চেনেও না। তাদের কোনো স্বীকৃতি নাই। তারা কোনো বিপ্লবের পক্ষে কাজ করে নাই।<br />
<strong>মামুন</strong>: এক সময় আপনারাও তো আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: চীনপন্থিরা ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের জন্য। পরে আমরা দেখলাম আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে কাজ করা যাবে না। তখন নির্বাচনের চেষ্টা করলাম। আমি দুইবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওয়াকার্স পার্টি থেকে। শুধু আমারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয় নাই। বার হাজার, আরেকবার সাড়ে বার হাজার ভোট পেয়েছিলাম। আমার তো টাকা-পয়সা নাই। খরচ না করতে পারলে এদেশে কেউ ভোট দেয় না।<br />
<strong>মামুন</strong>: ১৯৭০ সালে আপনারা নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলেন যখন বাঙালি জাতি এর পক্ষে ছিল।<br />
<strong>মতিন</strong>: সেই নির্বাচনে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল হটকারী। জনগণ চাচ্ছে নির্বাচন কর, দেশ স্বাধীন কর। আমরা ঐটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনারা ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: ভুল সিদ্ধান্ত মানে চিন্তা অনুযায়ী ভুল হয়তো। মুল্যায়নটা হবে বা হয় কিসের ওপরেঃ আমি হয় নিজের শক্তিকে বেশি করে বা কম করে দেখার ফলে হয়। যথাযথভাবে দেখলে পরে সিদ্ধান্ত সঠিক হয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে সঠিক কাজটি করেছিল।<br />
<strong>মামুন</strong>: মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের দল চীনের সিদ্ধান্তের কারণে বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে সমর্থন দিতে পারেনি, নিষ্ক্রিয় ছিল।<br />
<strong>মতিন</strong>: স্বাধীনতার তিরিশ বছর পরেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখনও চলছে। কে বলে আমরা মুক্ত হয়েছি? আপনি যে অভিযোগ করলেন ১৯৭১ সালে আমরা কিছু করিনি। আমাদের পার্টি খুবই সক্রিয় ছিল। আমরা আর্মির সাথে লড়াই করেছি। তোয়াহা সাহেব তার এলাকায় নোয়াখালীতে ফাইট করেছেন। কয়েক জায়গায় সম্মুখ যুদ্ধও করেছেন তিনি। কোনোদিন প্রকাশ্যে আহাজারি বা দাবি করেন নাই যে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। প্রকৃত দেশপ্রেমিকের মতো তিনি পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।<br />
আমাদের এলাকায় উত্তরবঙ্গে আমরা ফাইট করেছি। ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। পাকবাহিনীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যুদ্ধ করেছি। আওয়ামী লীগের বড় নেতারা আমাদের খবর জানতেন। তাজউদ্দীন আমাদের ত্যাগের কথা জানতেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতাকে তাদের একমাত্র অর্জন করে অন্যদের করলেন উপেক্ষা। সব পদক খেতাব নিয়ে গেলেন তারা। যুদ্ধ তারা একাই করেছেন বোঝালেন শেখ সাহেবকেও। জাতীয় চিন্তার ফাটল তারাই ধরিয়েছেন। আমরা আওয়ামী লীগের অত্যাচারের বিরোধিতা করেছি। কোথাও আমাদের এতটুকুও জায়গা দেয়া হয় নাই। আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে নির্মমভাবে বিনা বিচারে তারা হত্যা করেছে। এখনও এই হীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।<br />
এই দেশটা কি শুধুই আওয়ামী লীগের? মওলানা ভাসানীকে মুছে ফেলার চেষ্টাও ছিল। শেখ সাহেব জানতেন তিনি আসলে কার শিষ্য। সোহরাওয়ার্দী নয়, আসলে মওলানা ভাসানীই তার গুরু। মেহনতি মানুষের এমন বিশাল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এশিয়া আফ্রিকায় বিরল। ভাসানী ছাড়া বাঙালি মুসলমানদের বিকাশ হতো না।<br />
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন দেশ স্বাধীন হলো আমরা দেশের ভেতরেই ছিলাম। তারা সব ভারত থেকে এসে বড়াই করা শুরু করল। কিন্তু দেশের মধ্যে থেকে পাকবাহিনীর অস্ত্র ছিনিয়ে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যোদ্ধা আমরা। আমরা তো এখানে ছিলাম। আর্মিরা আমাদের মা-বোনদের অত্যাচার করেছে। গুলি করে মেরেছে। গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। এসবের মধ্যে আমরা যুদ্ধ করেছি। ভারতে আমাদের দু’চারজন কর্মী যখন ট্রেনিং ক্যাম্পে গেছে তাদেরকে ট্রেনিং না দিয়ে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়েছে।<br />
<strong>মামুন</strong>: মাওলানা ভাসানীও ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।<br />
<strong>মতিন</strong>: মাওলানা ভাসানী তখন এখানে, তার বাড়িতে, বিন্নাপুরে আগুন লাগিয়ে দিল। তো মওলানা ভারতে গেলেন। তারও তো কিছু দ্বৈতচরিত্র ছিল। হি ওয়াজ প্যাট্রিয়ট নো ডাউট। লিডার হিসাবে ভাসানী বা মুজিবÑ কারোরই অ্যাডভান্স চিন্তা ছিল না। ভাসানীই হোক আর আওয়ামী লীগঃ আমরা কৌশল গ্রহণ করলাম ভারতে যাব না। আমরা এখনও মনে করি, ভারতে না গিয়ে আমরা কোনো ভুল করিনি।<br />
<strong>মামুন</strong>: একাত্তর সালে চীন আমাদের স্বীকৃতি দিল না। কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?<br />
<strong>মতিন</strong>: এটা তো ভুল বটেই। পরে তাদেরকে আমরা বলেছি কেন আপনারা এটা করেছিলেন। তারা বলেছে, দেখো আমরা যেটা মূল্যায়ন করেছি আমাদের মূল্যায়নটায় এখনও অটল আছি। তখন আমরা মনে করেছি পাকিস্তান রাষ্ট্র হয়েছে, পাশে বড় রাষ্ট্র ভারত। ভারত যাতে আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এই অঞ্চলে তা আমাদের দেখতে হয়েছে। এইটা তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনারা কি রাজনৈতিক লাইনের কারণে পিকিং থেকে অর্থকড়ি পেতেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: আমরা পেতাম না। সবরকম প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে লড়াই করতে হয়েছে আমাদের। মস্কোপন্থিরা মাসে মাসে মাসোহারা পেতেনÑএই সোভিয়েত পতনের আগের দিন পর্যন্ত। বাংলাদেশে তারা ছিলেন মস্কোর বেতনভুক্ত রাজনেতিক কর্মচারী!<br />
শেখ সাহেব জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন। তাজউদ্দীনের সঙ্গে তাঁর কনফ্লিক্ট হয়েছিল। কারণ তাজউদ্দীন ইন্দিরা গান্ধীর খাস লোক হিসেবে গ্রো করেছিলেন। শেখ মুজিবের এত ভারত প্রীতি হওয়ার অভিলাষ ছিল না। তিনি মনে করতেন একটা স্বাধীন বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু স্বাধীন ভূমিকা পালন করতে হলে তার একটা স্বাধীন সেনাবাহিনী থাকা দরকার। কিন্তু তিনি রক্ষীবাহিনী করতে গেলেন। বড় একটা ভুল করলেন।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনারা আত্রাইতে কী করতেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: আত্রাই ছিল আমাদের গোলা-বারুদের ঘাঁটি। সেখানে কাজ করতাম আমরা কৃষক দিনমজুরদের নিয়ে। আমাদের বহু দেশপ্রেমিক কর্মীকে মুজিব আমলে গোপনে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে আত্রাইতে আমাদের সাথে কয়েকবার সরকারী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। সম্ভবত জুন মাসে গুলিবিনিময়কালে যখন পিছু হটছিলাম আমরা, আমার ডান পায়ে রাইফেলের গুলি লাগে এবং নাটোরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় হাতিয়ারসহ ধরা পরি আমি। আমার জেল হয়ে যায়। মুজিবের মৃত্যুর প্রায় ২ বছর পর ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাই।<br />
<strong>মামুন</strong>: দুই বাংলা এক হতে পারে?<br />
<strong>মতিন</strong>: আমরা তো বাংলা ভাগ করতে চাইনি। ওরাই তো চলে গেল। ঐযে বলল, বাংলায় যেসব জেলায় হিন্দু মেজরিটি সেইসব জেলা নিয়ে আমরা ইন্ডিয়াতে থাকব। তোমাদের সঙ্গে থাকব না। তারা চলে গেল। এখন তারা বুঝতেছে আমরা তো কেন্দ্রের পাত্তা পাচ্ছি না। এখন তারা চিন্তা করছে। যদি তারা চিন্তা করে মনে করে, ধর্ম যাই হোক, আমরা তো সবাই বাঙালি। একই ভাষা।<br />
আমি ইন্ডিয়াতে গেলে পরে তো তাজ্জব হয়ে যাই, আমাদের মতই বাংলা বলছে। আমাদের কাছে শিখে তো তারা বাংলা বলছে না। তাদের এটা মজ্জাগত ভাষা। সেভাবে এক ভাষা এক জাতি ভেবে যদি জনগণ বলে বা চায় তাহলে এক হতে অসুবিধা থাকতে পারে না। বাঙালি জাতি যখনÑ তখন এক হওয়াই তো উচিৎ মনে করি।<br />
<strong>মামুন</strong>: তখন ওরা ডোমিনেট করবে না?<br />
<strong>মতিন</strong>: ডোমিনেট তো করবেই, যদি আমরা শিক্ষা ও রাজনীতিতে অ্যাডভান্স না থাকি। রাজনীতিতে তারা পশ্চাদপদ অবস্থানে।<br />
<strong>মামুন</strong>: তাই কী!<br />
<strong>মতিন</strong>: বটে। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি। তারা কি করতে পেরেছে?<br />
<strong>মামুন</strong>: কিন্তু যখন এক হয়ে যাবেন, তখন কাজ করবে বুদ্ধিবৃত্তিটাঃ<br />
<strong>মতিন</strong>: সেই জন্যই তো অমর্ত্য সেন বলছেন, হাড়-মাংস যারা চিবাইয়া খাইতেছেঃ এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। মূলকথা, এই পুরনো শোষণের ব্যবস্থাধীন যেসব রাষ্ট্রÑ সে রাষ্ট্রব্যবস্থা আর চলবে না। এ-ধরনের রাষ্ট্র জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তো চলবে না। জনগণকে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, চাকরি দিতে হবে, খাবার দিতে হবে। মর্যাদা দিতে হবে। আমি মনে করি বাঙালিদের এক হওয়া দরকার।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি নিজে একাত্তর সালে গুলি চালিয়েছেন, কোথায়?<br />
<strong>মতিন</strong>: হ্যাঁ। সেটা আরিচা নগরবাড়ী, এখানে ফাইট হয়েছিল। রাতে হয়েছে, দিনে হয়েছে। একাত্তরের এপ্রিল মাসে নগরবাড়ীর ঐপারে যমুনা নদীর তীরে ওখানে হঠাৎ করে শুনলাম পাক আর্মির লোকেরা একটা ক্যাম্প করেছে ডাব বাগানে। ওখানে অনেক নারিকেল গাছ-টাছ ছিল। ওখান থেকে পাঁচ মাইল দূরে নগরবাড়ী আর্মিদের বড় ক্যাম্প। তাদের কাছে ইনফরমেশন আসছেÑএই নদী দিয়ে বাঙালি সৈনিকদের একটি দল ভারতে যাবে। তখন ওরা এটাকে আটকাবে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এটা তো পাকবাহিনী না, আমাদের বাহিনী। যেই আমরা নদীর কাছে ওদেরকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গেছি এই সময় পাকবাহিনী অ্যাটাক করল ওদের। ওই ডাব বাগানে। ওরা চারজন মারা গেল এবং পাক আর্মিরা পালিয়ে গেল। ভারতে যাওয়ার জন্য তারা ছিল মোট বাইশজন। যাওয়ার পথে এমন একটা ঘটনায় বেশ ধাক্কা খেলেন তারা। ওরা আমাদের পাঁচটা রাইফেল গুলিসহ দিলেন।<br />
যারা মারা গেলেন তাদের পকেট থেকে আইডি কার্ড পাওয়া গেল। সেখান থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে স্বজনদের বরিশাল ও খুলনায় চিঠি দিয়ে জানালাম আপনাদের অমুক লোক যুদ্ধে মারা গেছেন। তাকে আমরা সাধ্যমত দাফন করেছি। কোনো সময় যদি সুযোগ হয় এখানে এসে দেখে যেতে পারেন। তাঁদের সম্মানজনক মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাঁদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বটে। কিন্তু দেশের জন্য তারা অবদান রেখে গেলেন। এইভাবে চিঠি পাঠিয়ে দিলাম।<br />
আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে, আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমার ভাই যমুনার কাছে একটা বাড়িতে রাইফেলের নল পরিষ্কার করছিল। এরমধ্যে নগরবাড়ী থেকে খবর পেয়ে পাকবাহিনী এসে আক্রমণ করল। তাকে আর্মসসহ ধরল এবং অনেক অত্যাচার করে হত্যা করেছে। তার ডাকনাম ছিল মনু। শাজাদপুরের গ্রাম থেকে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। তখন তার বয়স প্রায় পঁচাত্তর। তাকে মারে রাজাকার-আলবদররা। যুদ্ধ করে পাক আর্মি মেরে তাদের হাতিয়ার ছিনতাই করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কোনো এক জায়গায় দুই রাত থাকতে পারি নাই। জায়গা বদল করতে হয়েছে। পাক আর্মি সবসময় আমাদের ভয়ে তটস্থ থাকত।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি এখন কী করেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: কৃষক সংগঠন, কৃষক সমিতি করি। আর কিছু লেখার চেষ্টা করছি। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এসেছি। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ লিখেছি। অনেক তথ্য ভুলে যাই। এটার জন্য প্রচুর গবেষণার দরকার। বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে অনেক সময় পার করতে হয়েছে। আমার জীবনটা অত সহজ ছিল না। জীবনের প্রত্যেক বাঁকে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে।<br />
<strong>মামুন</strong>: হক-তোয়াহা-মতিন-আলাউদ্দীন গলাকাটা রাজনীতি করেন, আপনাদের সম্পর্কে এটা কেন বলা হয়?<br />
<strong>মতিন</strong>: এটা হল কমরেড চারু মজুমদারের লাইন, খতম করা। গণশত্র“ খতম কর। আমি মনে করি ওটা ছিল ভুল লাইন। আমি ওটা সাপোর্ট করি নাই। কিন্তু পার্টি করেছিল। এই সিদ্ধান্তটা সত্তরের দিকে আরম্ভ হয়েছিল পূর্ববাংলায়। হটকারী কোনো পলিসি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কৃষক ছাড়া এখানে কিছু করা যাবে না। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে হলে আগে কৃষকদের সংগঠিত করতে হবে।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনি মনে করেন বিপ্লব হবে এদেশে?<br />
<strong>মতিন</strong>: নিশ্চয়ই। হতেই হবে। এত ব্যবধান! এত অত্যাচার, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন আসতেই হবে।<br />
<strong>মামুন</strong>: আপনারা বিপ্লব করতে পারলেন না কেন?<br />
<strong>মতিন</strong>: আমরা হয়তো অযোগ্য! আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি। দেশ স্বাধীন করেছি আমরা সকলে। এখন আপনারা বিপ্লব করবেন। তরুণরা কোথায়? কেন তারা কৃষকদের কাছে যেতে পারছে না আপনার কাছে আমার প্রশ্ন।<br />
<strong>মামুন</strong>: অনেক সময় নিলাম। আরেকদিন এসে কথা বলে যাব।<br />
<strong>মতিন</strong>: আসবেন, আসবেন। যদি বেঁচে থাকি।<br />
সূত্র: <a href="http://www.notundhara.com/content/2010/02/13/news0221.htm" target="_blank">নতুনধারা, ফেব্রুয়ারী ২০১০</a></p>


<p>Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
</ol></p>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://boirboi.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমি নিজেকে স্বাধীন মনে করি না: যতীন সরকার</title>
		<link>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://boirboi.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 05 Mar 2010 03:00:15 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://boirboi.com/?p=451</guid>
		<description><![CDATA[নতুনধারা: রাজনীতি বা বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা না করলে আপনি কি হতে চাইতেনঃ
যতীন সরকার: বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা না করলে তো আমি মানুষই হতে পারতাম না।
আপনি কি নিজেকে স্বাধীন মনে করেনঃ
-স্বাধীনতার জন্য আকাক্সক্ষা করি ও প্রয়াস চালাই, নিজেকে স্বাধীন মনে করি না।
আপনার প্রথম প্রেম আর বর্তমান প্রেমের মধ্যে তফাৎ কীঃ
-প্রথম প্রেম স্বতস্ফুর্ত, পরবর্তী প্রেম বিচারসম্মত।
এক বাক্যে সত্য শব্দের অর্থ [...]


Related posts:<ol><li><a href='http://boirboi.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d/' rel='bookmark' title='Permanent Link: হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী'>হাজার হাজার বিনোদনের মাঝে মানুষ যে খুব কষ্ট করে কবিতার বইয়ে মগ্ন থাকবে তা কিন্তু আমার মনে হয় না: শহীদ কাদরী</a></li>
</ol>]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/03/Jatin-Sarkar.jpg"><img class="aligncenter size-full wp-image-452" title="Jatin Sarkar" src="http://boirboi.com/http://boirboi.com/wp-content/uploads/2010/03/Jatin-Sarkar.jpg" alt="" width="338" height="451" /></a>নতুনধারা: রাজনীতি বা বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা না করলে আপনি কি হতে চাইতেনঃ<br />
যতীন সরকার: বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা না করলে তো আমি মানুষই হতে পারতাম না।<br />
আপনি কি নিজেকে স্বাধীন মনে করেনঃ<br />
-স্বাধীনতার জন্য আকাক্সক্ষা করি ও প্রয়াস চালাই, নিজেকে স্বাধীন মনে করি না।<br />
আপনার প্রথম প্রেম আর বর্তমান প্রেমের মধ্যে তফাৎ কীঃ<br />
-প্রথম প্রেম স্বতস্ফুর্ত, পরবর্তী প্রেম বিচারসম্মত।<br />
এক বাক্যে সত্য শব্দের অর্থ কীঃ<br />
-‘অস’ ধাতু থেকে জাত ‘সৎ’ শব্দের অর্থ ‘যা আছে’, তাই যা আছে থাকে ও চলে তাই সত্য।<br />
মানুষ না হলে আপনি কী হতে চাইতেনঃ<br />
-আমার ইচ্ছার ওপর কোনো কিছু হওয়া নির্ভর করে না, মানুষ না হলে আমি ইচ্ছাই করতে পারতাম না।<br />
হঠাৎ এক কোটি টাকা পেলে কী করবেনঃ<br />
-এরকম দিবাস্বপ্ন আমি কখনোই দেখি না।<br />
দ্বীপান্তরে গেলে কোন বইটি সঙ্গে নেবেন<br /